গথর বহু

সাপ পেপসি সস

প্রকাশ করেছেন-_

শ্রীন্ববোধচন্ত্র মজুমদার

দেব সাহিতা-কুটীর প্রাইভেট লিমিটেড ২১, ঝামাপুকুর লেন,

কলিকাতা

হাতভঙলবর ১৯৩৩১

ছেপেচছেন_

এন্‌. সি. মজুমদার

চি লেখকের অন্ান্ত পুস্তক ১৪ ঝামাপুকুর লেন, বলীদের গল্প, ছোটদের খেল! কলিকাঁতা_৯ বায়াম, ভারাঁনে দিন,

ভাগ্যের লিখন

টি ১০ পপ পরস্পর হর এর ** শম্প ছা

₹স্গ

স্রীমতী 'অমিতা সবিতাঁকে দিলাম

গখনর ধু

এক

মাঘ মাসের ছুজয় কনকনে শীত হলেও কানপুরের অধিবাসীদের ব্যস্ততার অন্ত নেই। ব্যবসার বিরাঁট কেন্দ্র বলে এমনিতেই কানপুরে ব্যস্ততা লেগেই আছে, তার ওপর অস্কীর সীর্কীসের নিরন্তর গরম বিজ্ঞাপনে বাঁসিন্দারা চঞ্চল হয়ে উঠেছে। স্কুলকলেজের ছেলেরা আশায় উদগ্রীব, কেননা, এত বড় এবং বিচিত্র সার্কাস আর কখনও ভাঁরতের মাটিতে পদার্পণ করেনি। সার্কাসটায় জাঁতিবর্ণনিবিচারে জগতের যত সেরা খেলোয়াড় জড়ো হয়েছিল এবং ভারতীয় খেলোয়াড়েরও তাতে অভান ছিল না, এই ছিল তার বিশেষত্ব।

ছেলের দল দিন গোনা আরম্ভ করেছিল তাদের সে দিন গোন' শেষ হয়ে এক রাত্রে সার্কাসের খেলা আরন্ত হল। দর্শকের ঠেসাঠেসি ভিড়ে অত বড় বিরাট তীবুটা কানায় কানায় ভরে গেল। যাঁরা টিকিট না পেয়ে,নিরাশ হয়ে বাইরে ধাড়িয়ে ছিল, তাঁদের দিয়ে বোধ করি অমন তিনটে তীবু পূর্ণ হতে পারত।

বাটায় কাটায় সাড়ে ন'্টার সময়ে খেলা শুরু হোঁল ঘোড়ার খেলা, ধন্রশিক্ষিত নানা পশুর নানা রোমাঞ্চকর কারদাঁনি, জিমনাস্টিক ইত্যাদি দেখতে দেখতে অত বড় বিরাট জনসংঘের ছেলে বুড়ো প্রত্যেককে মাতিয়ে দিলে দু'জন মাঁলাবারী জোয়ান ঢালু তারের ওপর যা কৌশলময় খেলা দেখালে তা বিচিত্র হতেও বিচিত্র! এমন খেলা কেউ কখনও দেখেনি খেলা একেবারে জমজমাট হয়ে উঠল

পথের বন্ধু

দর্শকেরা প্রত্যেকে ভাবছে, এমন খেলা দশবার দেখলেও বোধ হয় আশ মেটে না। সার্বাসটা তখন যেন একটা দৈত্যপুরীতে পরিণত হয়েছে। যে এনে খেলা দেখায় সেই যেন একটা নৃতন দৈত্য

এমন সময়ে একজন ভীমাকার ভারতীয় খেলোয়াড় মথমলের পর্দা সরিয়ে খেলার আঙিনায় এসে মাথা নুইয়ে দর্শকদের অভিবাদন জানালে সার্কীসের কর্তা তার পরিচয় দিলে, “ইনি ভানু নিও পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বলী, সবশ্রেষ্ঠ ব্যায়ামবীর সারা জগতকে মুগ্ধ করে ইনি স্বদেশে এসেছেন ॥”

হাজার হাজার দর্শক মুগ্ধ নিম্পলক দৃষ্টিতে ভানু জিং-এর পানে চেয়ে রইল। ভানু প্রভাতসূের মতই নয়নাভিরাঁম। তার নগ্ন দেহে বীরোচিত মাংসপেশীর অদ্ভুত সমন্বয়ের সে কি 'অসীম সৌন্দর্য! সে স্থির হয়ে দাড়িয়ে ছিলো, তার নিশ্চল মূত্তি ভাক্করের স্ব্ন বলে বৌধ হচ্ছিল, যেন কোনও দেবতা মানুষের মুত্তি ধরে সামনে এসে দাড়িয়ে রয়েছে দর্শকদের মুগ্ধ দৃষ্টির শীরব প্রশংসার প্রত্যুন্তরে ভানু সিং মু হেসে আবার তাদের অভিবাদন করলে এই সামান্য একটু নড়াঁচড়ায় তার উদ্ভ্বল সমুন্নত দেহের পেশী তরঙ্গায়িত হয়ে উঠল।

আঙিনার মাটিতে একটা শতরঞ্চি পাতা তারপর লে এসে তার ওপর শুয়ে পড়ল। অনুচরেরা ধরাধরি করে বিরাট একটা কাঠের সাঁকো৷ এনে ভানুর বুকের ওপর রাখলে সে নিজেই ইতিপূর্বে একটা নরম ছোট গদি রেখেছিল বুকের ওপর; সাঁকোটা তার ওপর রাখা হল। ঘণ্টার শব্দ শুনে দর্শকেরা চোখ ফেরাতে দেখলে, 'অতিকায় একটা হাতি গজেন্দ্রগতিতে এগিয়ে এসে সাঁকোটার এক প্রান্তে ফাড়াল। তারপর ভানু হাত তুলে হাঁতিটাকে

পথের বন্ধু

ইশার! করলে আজ্ঞাবাহী দাসের মত হাতিটা ধীর-পায়ে সাঁকোর ওপরে উঠে মাঝখানে দীড়াল। ভানুর বুকের ওপর বিপুল চাঁপ দিয়ে সাঁকোটা মাটি থেকে উঠে গেল ভানু তখন চেপটে গিয়ে মাটিতে মিশিয়ে গেছে যেন তার মাথা পা দুটো দেখা যাচ্ছে, শরীরের বাকীটা যেন আর নেই। হাঁতিটা শ্থির হয়ে দড়াতেই দর্শকদের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে ভানু বক্তৃতা আরশ করে দিলে। সে অমানুষিক কীতি দেখে দর্শকেরা বোবাঁর চেয়ে বোবা হয়ে গেল। এমন কীতি কখন স্বগে হয়নি, দৈত্যপুরীতেও ঘটেনি ; ঘটেছে কেবল মানুষের এই পৃথিবীতে, আর, ঘটিয়েছে পৃথিবীর কোটি কোটি মৃত জীবিত লোকেদের মাঝে একমাত্র এই ভানু সিং। হাতিটা চলে যেতে সীকোট! তুলে নেওয়া হল এবং চকিতে উঠে দাড়িয়ে স্মিতমুখে ভানু সিং চারিদিকে ঘুরে ঘুরে মাথা নত করে অভিবাদন করতে লাগল। মনে হচ্ছিল সে যেন কিছুই করেনি, একটুখানি শুয়ে ছিল শুধু প্রশংসার উৎসাহের বিপুল করতালি চিকার-ধ্বনিতে কানপুর শহরট! সে রাত্রে কেপে উঠেছিল।

তারপর যা ঘটল তা। অভাবনীয় ঘটনা দর্শক কেন, সার্কাসের লৌকেরাও বোধ করি সে রকম কোন ঘটনা আশা করেনি হাতির খেলার পর এক দীর্ঘকায় জার্ধীন আঙিনায় এসে দীড়াল। ম্যানেজার তার পরিচয় দিলে, “এই হার্নীন রেমার্ক, পৃথিবীর সব চেয়ে বড় মুষ্টি- যুদ্ধের মাঝারি ওজনের ওস্তাদ দর্শকদের মাঝে কেউ যদি রেমার্কের সঙ্গে তিন রাড লড়তে সক্ষম হয় তাহলে সার্কীসের পক্ষ থেকে তাঁকে পাঁচশ টাকা পুরম্কীর দেওয়া হবে। রেমার্ক অজেয়, আজ প্স্ত একে কেউ পরাজিত করতে পারেনি |”

রেমার্কের কোমরে বিজয়ী বীরের গুটি তিন স্বর্ণথ চিত পেটি শোভা

পথের বন্ধু

পাচ্ছিল। সে সেগুলো খুলে উচু করে তুলে ধরে ভাডা ভাঙা ইংরেজিতে বলে উঠল, “কে পেটিগুলো পরবার অধিকার পাবার সাহস রাখ, এগিয়ে এস। আমি পেটিগুলো বাজি ধরলুম।” ক্ষণ- কালের জন্য চারিদিকে স্তব্ধতা বিরাজ করতে লাগল, আর, রেমার্ক সেই হৃত-তোলা অবস্থাতেই ্রাড়িয়ে ঈীড়িয়ে অবজ্ঞার হাসি হাসতে লাগল। তাতে কত জোয়ান ছেলের বুক যে নিষ্ষল রোষে ফুলে উঠল তা বলা যাঁয় না। হঠাঁ আঙিনা-ঘের! ড্রেস সার্কল থেকে শালুর নীচু বেড়া লাফিয়ে পার হয়ে কালো ইংরেজি পোশাক-পরা একটি ছোকরা তরমার্কের সামনে প্রসন্নযুখে এসে দীড়াল এবং মাথা ইষৎ নমিত করে বললে, “আমি তোমার চ্যালেঞ্জ মেনে নিচ্ছি, কিন্তু আমাকে দশ রাউণ্ড লড়বাঁর অধিকাঁর দিতে হবে। বাড়ী থেকে লড়বার সাঁজ আনাতে আমার মিনিট দশেক লাগবে ।”

রেমার্ক তার কীধের ওপর একটা হাত রেখে বললে, “সাবাস্‌, ছোকরা ! কিন্তু দশ পাঁক লড়বাঁর জন্য তুমি বেচে থাকবে তো ?”

দর্শকেরা কোলাহল করে উঠল ম্যানেজার ঘোষণা করলে, “কানপুরের জন্ীব রাঁয় রেমার্কের সঙ্গে দশ পাক ঘুষি লড়বে ।” তা শুনে দেশী দর্শকেরা “বাবুসাহাঁব কী জয়” বলে চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করতে লাগল কেউ বললে, “সাবাস হিন্মত,” কেউ বললে, “সাবাস জওয়ান !”

দেখতে দেখতে খেলার আঙিনার মাঝখানে খোঁটা পুতে, দড়ি ঘিরে মুষ্টিবদ্ধের আখড়া তৈরী হয়ে গেল। আখড়ার জমিতে ক্যান্বিশের চাদর পাতার সঙ্গে সঙ্গে লড়বার শ্বল্প-বাস পরে সঞ্জীব একজন সাহেবের সঙ্গে সেখানে এল তার দেহ শাল গাছের মত মজবুত হলেও সে বাঁলক। দর্শকেরা অবাক হয়ে ভাবতে লীগল, কি

পথের বন্ধু

করে ছোকরা রেমার্কের মত একজন পাকা ওস্তাদের সঙ্গে লড়তে পারে! অনেক ইংরেজ গোরার দল সে রাত্রে সার্কাস দেখতে এসেছিল। তারাও বক্সি-এর নামে উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল ! ইংরেজের হাজার জাত্যভিমান থাঁক, মুষ্টিযুদ্ধের বেলায় সেটা উবে যাক্স। ছু'জন গোরা জোওয়ান এগিয়ে এসে সঞ্জীবের সাহীষ্যকারী (58007005 ) হবার অনুমতি প্রার্থনা করলে জপ্জীব স্ীকার করতেই তার! তাকে তোয়ালে দিয়ে গা রগড়ে দিয়ে তার হাতে দত্তানা পরিয়ে দিলে। জপ্জীব আখড়ীয় টুকে নিজের কোণটায় একটা খু'টি ধরে দীড়িয়ে জুতোর তলায় রজন ঘষতে লাগল তারপর সে যখন হাত-পা ছুড়ে শরীর গরম করে নিচ্ছে, সেই সময়ে গায়ে ড্রেসিং গাঁউন জড়িয়ে রেমার্কও এসে আখড়ায় প্রবেশ করলে সে সঞ্জীবের দিকে চেয়ে একটু মুচকি হেসে বললে, “তুমি তাহলে মারা যাবে বলে মনস্থির করেছ! কি বল?” জগ্জীবও একটু হাসলে, সে কথার কোন উত্তর দিলে ন!।

আখড়াটার বাঁইরে ছু'জন বিচারক এসে বসল, আর রেফারী হল একজন ইংরেজ কর্নেল। সঞ্জীব নিজের কোণে টুলে বসে তাঁর সঙ্গী সাহেব গোরা ছুটোর সঙ্গে কথা কইছিল এমন সময়ে ঢং করে ঘণ্টা বেজে উঠল আর সঙ্গে সঙ্গে রেফারী হাক দিলে, 45590785 081” দু'পক্ষের সাহায্যকারীর। দড়ির ঘেরাটা! গলে বাইরে চলে গেল এবং সঞ্জীব রেমার্ক এক লাফে আখড়াঁর মাঝখানে এসে ফ্াড়াল। চলতি কায়দা অনুসারে রেফারী তাঁদের দু'জনকে কিছু উপদেশ দিলে। তারপর দুই যোদ্ধ। করমর্দন করেই একলাফে সরে দ্ীড়িয়ে পরস্পরকে লক্ষ্য করতে লাগল

শিকারী কোন জন্তু যেমন কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাড়িয়ে

১০ পথের বন্ধু

শিকারের গতিবিধি লক্ষ্য করে সন্পজীবও তেমনি আখড়ার মাঁব- খানে স্থির হয়ে ফদীড়িয়ে রেমার্কের নড়াচড়া লক্ষ্য করতে লীগল। অল্প কিছু সময় তাদের পধবেক্ষণে কাটল। হঠাৎ রেমার্ক বিছ্যদ্গতিতে এগিয়ে এসে সগ্তীবের দাঁড়ি লক্ষ্য করে একটা বিরাট ঘুষি চালিয়ে দিলে জঞ্জীব কিন্তু চক্ষের নিমিষে রেমার্কের বা পাশে সরে গিয়ে তাঁর ঘুষিটা ব্যর্থ করে ঝা হাতে তার চোয়ালে একটা প্রচণ্ড ঘুষি বসিয়ে দিয়ে দূরে সরে গিয়ে স্থির হয়ে দীড়াল আর বিপুল জনতা খুশী হয়ে কোলাহল করে উঠল ঘুষিটায় অবশ্য রেমার্কের কোন ক্ষতি হল না, কিন্তু ছোট একট! ছেলের হাতের মার খেয়ে তার মুখ ক্রোধে লভ্ভায় লাল হয়ে গেল। কিন্তু অভিজ্ঞ কোন যোদ্ধা কখনও ক্রোধে আত্মসংঘম হারায় না, সে বেশ জানে যে তাহলে মার খেতে এবং হারতেও হয় রেমার্ক তখনি নিজেকে সামলে নিয়ে সতর্ক হয়ে গেল। তারপর ওদের প্রথম পাঁকের বাকী সময়টা মারের ফাঁক খোঁজাতেই কাটল। পাঁক শেষের ঘণ্টা বেজে উঠতেই ছুই যোদ্ধা নিজের নিজের কোণে গিয়ে দড়ির ওপর ছুই বাহু বিস্তার করে দিয়ে বসল

প্রথম পাকেই ছুই প্রতিপক্ষ বোধ করি পরস্পরকে কতকটা বুঝে নিয়েছিল, কেননা ছিতীয় পাকটা আরম্ত হতেই জঞ্ভীব আত্মরক্ষার ভাবটা ত্যাগ করে আক্রমণের ফাক খুজতে লাগল দু'জনেই ছু'চারটে ঘুষি চালালে কিন্তু সেগুলো। বাতাসের গায়ে গিয়ে লাগল, কোন কাজের হল না। সঞ্জীব সমুখ পানে ঝুঁকে পড়ে লড়ছিল, তাঁর ব্যুহে ফাঁক পাওয়া যাচ্ছিল না। রেমার্কের একটা ধাপ্পার চালে ভুলে সে সরে যাবার জন্য একটু সোজা হতেই রেমার্ক

পথের বন্ধু ১১

প্রচণ্ড বেগে আক্রমণ করে সঞ্জীবের দেহের ওপর ঘুষির প্লাবন বইয়ে দিলে। জঞ্জীব কোন রকমে তার পাল্লা ছাড়িয়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেল বটে কিন্তু তার ঠোঁট কেটে ঝরবর করে রক্ত পড়তে লাগল, তাতে তার দাঁড়িটা লাল হয়ে গেল। তার অনুত্তেজিত মুখের মৃদু হাসিটা দেখে দর্শকেরা বুঝলে যে সে ছেলেমানুষ হলেও সহজে দমে যাবার বা হার মানবার পীত্র নয় সে রেমার্কের আরও ছু একটা আক্রমণ পীয়তাঁড়ায় কাটিয়ে দিয়ে কতকটা সামলে গিয়েছিল। হঠা সঞ্জীব তীর বেগে তার প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে দু'হাতে তার ওপর ঘুষি বৃষ্টি করতে লাগল। অস্থুবিধা বুঝে রেমাক একবার সঞ্জীবকে জড়িয়ে ধরলে, কিন্তু পেটে পীজরায় গোটা কয়েক প্রচণ্ড ঘুষি তাঁকে খেতে হল। সে পিছনের দিকে হটে গেল, সেই সঙ্গে তাঁর চোয়ালের ওপর একটা বিষম ঘূষি এসে পড়ল। তাতে সেই জার্ান বীরের সাদ মুখে খানিকটা কালশিটের পৌঁছ লেগে গেল। সঞ্জীব তাকে এমনি করে বাগে পেয়ে আক্রমণ বিষম করে তুললে, আর রেমার্ক সরতে সরতে একেবারে আখড়ার দড়ির ওপর গিয়ে পড়ল জঞ্জীব বধিত বিক্রমে আক্রমণ করতেই পাঁক-শেষের ঘণ্টা বেজে উঠে সে বাঁজিটা শেষ করে দিলে নিজের নিজের কোণে ফিরে যেতেই ছুই যোদ্ধাকেই তাদের সাহায্যকারীরা ভিজে স্পঞ্জ দিয়ে মুছিয়ে দিলে ওদিকে উৎসাহিত দর্শকেরা বালকবীরের বীরত্বে যুগ্ধ হয়ে কলরব করতে লাগল

তারপর তৃতীয় পাক থেকে অপ্তম পাক পধন্ত যুদ্ধটণা আর তেমন ঘন বা প্রচণ্ডভাবে হল না। দ্বিতীয় পাকের পর থেকেই রেমার্ক যথেষ্ট সাবধান হয়ে গিয়েছিল। সঞ্জীবের তরফ থেকেও তেমন কোন জোরাঁলে! আক্রমণ হল না। রেমার্কের ব্যুৃহ একেবারে

১২ পথের বন্ধু

নিরেট নিশ্ছিদ্র, তাতে ফাঁকের নামগন্ধও ছিল না। মুগ্টিযুদ্ধে ধাপ্লাবাজি একটা বড় কৌশল সঞ্জীব দু'চারবাঁর রেমার্ককে ধাপ্লা দেবার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সে পাকা ওস্তাদ, ধাপ্লায় ভূলল না। ছু'জনেই মাঝে মাঝে পরস্পরের দেহের ওপর ঘুষি মারছিল, কিন্তু সে সব গায়ে মাখবার মত ঘুষি নয়। অষ্টম পাকের গোড়াতেই ধাপ্পা দিতে গিয়ে সঞ্জীব রেমাকের কাছে মার খেলে সুতরাং তার রেমারের শেষ আক্রমণের অপেক্ষা করা ছাঁড়া গত্যন্তর রইল ন1। বুদ্ধটায় তখন আর প্রথম ছুটো পাকের উত্তেজন' ছিল না

নবম পাকে কিন্তু সুদ্ধটা অন্য এক রূপ ধারণ করলে ঘণ্টা বাঁজার সঙ্গে সঙ্গে রেমার্ক সিংহ্বিক্রমে সঞ্ভীবকে আক্রমণ করলে এবং সে আক্রমণের প্রচ্জ গতিতে সে অভিভূত হয়ে গেল। জগ্জীব বার বাঁর প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ধরে ক্রি করবার চেষ্টা করছিল, কিন্কু চতুর জার্শীন তাতে ধরা না দিয়ে সপ্ভীবের দেহের ওপর অবিরাম ঘুষি বৃষ্টি করে গেল। নবম পাকটায় রেমার্কের জিত সুস্পষ্ট হয়ে গেল।

শেষ পাকে জগ্জীবকে অতিশয় ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। রেমার্ক বা হাতে প্রচণ্ড গতিতে সঞ্জীবের চোয়াল লক্ষ্য করে ঘুষি চালাতেই সে মাথা নীচু করে ঘুষিটা৷ এড়িয়ে গেল এবং ঘুষিট তার মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে ব্যর্থ হল। তাতে রেমার্কের দেহের ভারসাম্য নব্ট হল এবং সে টাল সামলাতে ন। সাঁমলাতেই সঞ্জীব তার হাতের ফাঁক দিয়ে তার চোয়ালে ডান হাতের একট! ভয়ানক ঘুষি চালিয়ে দিলে। তাতে সেই জার্নীন ওস্তাদ ছিটকে গিয়ে ক্যান্িশের চাদরের ওপর পড়ল। দর্শকের দল বিপুল হর্কোলাহলে সঞ্জীবের জয়ধ্বনি করে উঠলো এবং রেফারী ওপর দিকে ডান বাটা তুলে এক, দুই, তিন করে সময় গুনতে লাগল। আট পর্যস্ত গোন।

পগের বন্ধ ১৩

হতেই কিন্তু রেমার্ক এক লাফে দ্ীড়িয়ে উঠে সম্ভীবকে আক্রমণ করলে ছুই যোদ্ধাই এই শেষ মুহূর্তে যুদ্ধের ফলাফল নির্ণয় করতে কৃতসংকল্ল হয়েছিল ; কিন্তু ঘোরতর যুদ্ধের মাঝখাঁনেই ঢং করে ঘণ্টা বেজে উঠে সব শেষ করে দিলে। যুদ্ধের ফল সমাম-সমান হলেও সঞ্ভীবের পক্ষে সেটা অতিশয় শ্রাঘার বিষয় বলে জনতা তাকে করতালি দিয়ে, শিস্‌ দিয়ে, চিৎকার করে অভিনন্দন করতে লাগল ; সে জয়ধ্বনি আর যেন থামে না। রেমার্ক এশিয়ে এসে দু'হাতে সপ্ভীবের ছুটি হাত ধরে সাদরে বললে, “সাবাস, রাঁয়। খুব কম লোকই আজ পরধন্ত আমার সঙ্গে দশ বাঁউণ্ড লড়তে পেরেছে তোমার সঙ্গে লড়ে আমি খুশী হয়েছি। মনে কোরো মা যে তোমাকে ছেলেমানুষ আর অনভিজ্ঞ ভেবে আমি আলগা দিয়ে লড়েছিলুম, আমি লড়েছিলুম পুরো দমে এখন তোমার কাছে হারতেও আমার লঙ্ভা নেই। তুমি আমার সমান সমান যোদ্ধা ।”

সার্কাসের কর্তা তখনি একট থলে করে বাঁজির টাঁকাটা! এনে হাজির করলে কিন্তু সঞ্জীব শৌখিন লড়িয়ে, তাঁর নগদ টাকা নেবার জো নেই। তাছাড়া! সে ধনীর ছেলে। সে টাকাট! নিলে না। সার্কাসের তরফ থেকে টাকাটা সপ্তীবের কলেজের খেলার ফাঁণ্ডে দান কর! হল।

কানপুরের বিখ্যাত উকিল, তারাপদ রায়ের কনিষ্ঠ পুত্র সপ্তীব। তার বড় ভাই আগ্রা কলেজের অধ্যাপক ; মেজ ভাই বাপের সঙ্গে

কানপুরেই ওকালতি করে ; সেজ ভাই এলাহাবাদে মিওর কলেজে

১৪ পথের বন্ধু

এম. এ. পড়ত। যে সময়ের কথা বলছি জগ্তীব তখন কানপুর কলেজের প্রথম বাধিক শ্রেণীর ছাত্র তার আঠারো! বছর বয়স হলেও দেহের উৎকর্ষের গুণে তাকে বয়মের চেয়ে বেশ বড় দেখাত। তারাপদবাবু অত্যন্ত শৌখিন লোক ছিলেন। শখগুলো মর্দন অর্থাৎ পুরুষৌচিত। সকল শখের মধ্যে ছুটি অন্যগ্তলোকে ছাড়িয়ে উঠেছিল। প্রথমটি ছিল ঘোড়ার শখ। তিনি নিজে উৎকৃষ্ট ঘোড়সওয়ার ছিলেন এবং তীর সব কয়টি ছেলেও বেশ ভাল সওয়ার ছিল। বাড়িতে নানা জাতির পালোয়ান পোষা তার দ্বিতীয় শখ। তারাপদবাবু নিজে ভাল কুস্তি লড়তে পারতেন সেকালে অঞ্চলে ভদ্রসমাজে এসব চলতি রীতি ছিল। এই সব জর্জগুণে সপ্ভীবও সর্ববিধ ব্যায়ামে নিপুণ হয়ে উঠেছিল যে সাহেবটি সঞ্জীব-রেমার্কের যুদ্ধের সময়ে সপ্ভীবের সাথী ছিল, তাঁর নাম গার্লযগু। সে মুগ্টিযুদ্ধের ব্যবসাঁদার বড় ওস্তাদ। সপ্তীবের এই দিকে বেশী ঝোঁক ছিল বলে তারাঁপদবাঁবু গার্যগুকে মাইনে দিয়ে বাড়িতে রেখেছিলেন ছাত্র ওস্তাদের খুব ভাবও ছিল, এবং গাল্যগ সধত্বে সন্ত্রীবকে নিজের সকল বি্ভা দান করেছিল বল! বাহুল্য যে, সন্ভীব নিভর্খক এবং ছর্দীস্ত ছেলে। কোন অসমসাহসের কাজ করতে পেলে তাঁর আর আনন্দ ধরত না। তাই বক্সিং-এর মত তাদের আস্তাবলের সব চেয়ে বদমায়েশ ঘোড়াগুলো। বশ করতে তার খুব ভাল লাগত। সপ্ভীব সকল খেলাধুলৌতেও এমন পারদর্শী ছিল যে সে সাধারণ প্রতিযোগিতীয় প্রায় সব কঠিন প্রয়াসলভ্য পারিতোধিকগুলে৷ গত দু'বছর থেকে জয় করে আনছিল।

সপ্ভীবকে রেমার্কের এত ভাল লেগেছিল যে ছু'দিনেই সে তর সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব করে নিলে। অস্কার সার্কাস কানপুরে দিন বার

ছিল। প্রত্যহ এসে রেমার্ক সপ্ভীব গাল্যগ্ের সঙ্গে মুষ্টিযুদ্ধ অভ্যাস করত। নে অনেকদিন পৃথিবী-বিখ্যাত যুষ্টিযোদ্ধা, জ্যাক জন্সনের কাছে শিক্ষানবিসি করেছিল। রেমার্ক সপ্ভীবকে রোজ বলত, “তোমাকে কিছুদিন কাছে পেলে আমি আমেরিকান কাঁয়দা- কৌশল শিখিয়ে দিতে পারি 1” গার্লযগু ইংরেজ কথ! সকলেই জানে যে ইংরিজী কায়দার চেয়ে মুষ্টিবুদ্ধের মাফিনী কায়দাটা অনেক শ্রেষ্ট। কানপুরের খেলার পর অস্কার সার্কামের কলকাতায় যাবার কথা। একদিন রেমার্ক তাঁরাঁপদবাবুর কাছে প্রস্তাব করে বসল, “সপ্ভীবকে আমার সঙ্গে কলকাতা পর্যন্ত যেতে দিন, যতটুকু পারি আমি তাঁকে শিখিয়ে দিয়ে যাই” জঙ্জীবের নিরতিশয় আগ্রহ দেখে তারাপদবাবু সম্মতি দিলেন, বলে দিলেন যেন দিন বারোর বেশী কলকাতায় না থাকে সঞ্জীব অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে রেমার্ক গার্ল্যণ্ডের সঙ্গে কলকাতায় চলে গেল। ৭৫ সঃ নর স&

গড়ের মাঠে অস্কীর সার্কাসের একটা ছোট শহরের মত বিরাট তাবুটার দরজায় রেমার্কের ছবির পাশেই সপ্ভীবেরও ঘুষি-বাগানো ছবি ঝুলতে লাগলো তার নাম হল, 1) [0701000৮710 [7101)667, অর্থাৎ অনামা লড়িয়ে। চারিদিকে বিজ্ৰীপন ছড়াল যে রেমার্কের সঙ্গে লড়বার পারিতোধষিক ছীড়া এই অনীম! লড়িয়েকে পরাজিত করে যেকেউ পাঁচশো টাকা পুরক্ষীর নিতে পারে। কথাটা রা হয়ে গেল যে এই নামহীন লড়িয়ে বেশ ছেলেমানুষ তার কারদানি দেখবার জন্য কলকাতার দর্শকের! উদ্গ্রীব হয়ে উঠল।

কানপুরের মত কলকাতাতেও প্রথম রাত্রিতে সার্কাসে আশাতিরিক্ত ভিড় হল। লাটসাহেব থেকে আরম্ত করে কলকাতার

১৬ পথের বন্ধু

গণ্যমান/ আামান্য, ইংরেজ, ভারতীয়, পাঁশি, ইহুদী কেউ যেন আর বাকী রইল না। খেলার পর্যায়ে যথাসময়ে রেমার্ক আঙ্গিনায় এসে দ্ীড়াল, এবং কানপুরের সেই রাতের মত নিজের সোনার পেটিগুলো মাথার উপর তুলে ধরে সে ঢালাও চ্যালেগ্ড দিলে কিন্তু কলকাতায় তাঁর ভূবনজৌড়া খ্যাতিটা অবিদ্িত ছিল না। যুদ্ধের আহ্বানে সাড়া দেওয়া দূরে থাক, কেউ কোথাও একটা টু শবও করলে না। স্থতরাং রেমার্ক বাধ্য হয়ে গাল্যণ্ডের সঙ্গে লোক-দেখানো যুদ্ধ করলে তারপরেই করতালির তুফানের মাঝে সগ্ভীব এসে আঙ্গিনার মাঝে দাড়িয়ে মাথা নুইয়ে শুইয়ে জনতাকে অভিবাদন করলে রেমার্ক তার হয়ে গম্ভীর স্বরে চ্যালেগ্ দিলে। খানিকক্ষণ বিরাঁট তীবুটা থমথমে হয়ে রইল। তারপর একটি হষ্টপুষ্ট ফিরিঙ্গী যুবক আঙ্গিনার ভেতর লাঁফিয়ে এসে আহ্বানটা স্বীকার করলে কলকাতার ফিরিজী সমাজে কেল্লীর গোরার দলে মুগ্টিষোদ্ধার অভাব ছিল না।

যুদ্ধ আরস্ত হতেই সপ্ভীব ক্রমাগত ধাপ্লার চাল দিয়ে নবাগতের বুদ্ধি পরীক্ষা করতে লাঁগল। প্রথম পাঁকটায় তারা কেউ কাউকে ছুলেও না। প্রতিপক্ষকে বুঝে নিয়ে দ্বিতীয় পাকের গোড়াতেই সঞ্ভীব তাঁকে সিংহবিক্রমে আক্রমণ করলে চকিতে তার দক্ষিণ মুষ্টি নবাগতের দুই বাহুর ফাঁক দিয়ে সজোরে গিয়ে তার চিবুকে আঘাত করলে। পায়ের আড্রুলের ওপর ভর দিয়ে সঞ্জীব নিজের দেহের সব ভারটা যেন সেই প্রচণ্ড ঘুষিটায় যোগ করে দিলে। তার প্রতিপক্ষ চোখে সরষে ফুল দেখে গোটা কয়েক পাক খেয়ে সশব্দে ধরাশায়ী হল। অবশেষে তার সাহায্যকারীর! তাকে তুলে নিয়ে গেল।

রোমাঞ্চিত সঞ্জীব দেখলে, টেরিয়র কুকুর যেমন লাফালাফি করে খেল! করে ছুটো। বাঘও তেমনি খেলায় মেতে উঠলো

পথের বন্ধু ১৭

তারপর প্রতি রাত্রে সঞ্জীবের বিপক্ষেরা তার কাছে হারতে লাগল; তাদের তিনটে করে পাকও টিকল না। দিনে দিনে যেমন সপ্ভীবের আঁত্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পেতে লাগল, স্থানীয় মুঠিযোদ্ধাদের তাঁকে হারিয়ে দেবার জেদটাঁও তেমনি খুব বেড়ে গেল। ফলে সঞ্জীবকে অনেকগুলি বিপক্ষের সঙ্গে লড়তে হয়েছিল, কিন্তু তাতে তাঁকে কোনই বেগ পেতে হমনি

সাকাঁমের খেলা শেষে জপ্তীব রেমার্ক গার্লাণ্ডের সঙ্গে বাসায় ফিরে আসত অপ্রম রাত্রে তার কোন আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে পরদিন সন্ধ্যা পৰন্ত «কবাঁর কথা ছিল। সপ্ভীব সার্কাস থেকে বেরিয়ে পড়ল প্রথমে তার ট্যাব্সিতে যাবার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু খোল! মাঠের শীতটুকু তার এমন “মঞ্টি লাগল যে, সে খানিকটা হাটতে মনস্থ করলে নিন রাস্তা একটা মোড়ে পদশব্দ শুনে সে পিছনে চেয়ে দেখলে যে অদূরে একটা ইংরেজের মত লৌক আসছে। তাকে তারই মত পথচারী মনে করে সপ্ভীব অলস গতিতে নিজের গন্তব্য পথে চলতে লাঁগল। রাত্রি তখন একটার কাছাকাছি। প্রথমটা ভাল লাগলেও তার "মার হাটতে ইচ্ছা করছিল না কোন চলন্ত যাহৌক-কিছু একটা গাঁড়ি পবার আশায় সে চারদিকে দেখতে লাগল ছু'চারখানা ট্যাব্সি তার পাঁশ দিয়ে বেরিয়ে গেল, কিন্তু কোনটাই আরোহিশৃন্য নয়। এক একবার তার সার্কীমের বাসায় ফিরে যেতে ইচ্ছ৷ হল, কিন্তু তখন সে এত দুরে এমে গেছে যে বাস! আঁত্ীয়ের বাড়িটা সমান-সমাঁন দূরে স্মৃতরাং আন্বীয়ের বাড়ির জন্ধানে সে ওয়েলিংটন স্্রীটের দিকে যেতে লাগল

পেছনের লোকটার কথা সপ্ভীব ভুলেই গিয়েছিল। মে এতক্ষণে

এগিয়ে এসে সন্জীবকে ধরে ফেলে জিত্ৰীসা করলে, “আপনার কাছে

১৮ পথের বন্ধু

দেশলাই আছে কি?” জগ্ীব বললে, “না, সরি ।” সে ছৃশ্চার পা এগিয়ে যেতেই যেন জাছুমন্ত্রে কোথা থেকে উদয় হয়ে একটা অন্য লোক তাড়াতাড়ি এসে অকারণে তাকে সজোরে ধাঁকা মেরে মুখ ফিরিয়ে হোহে। করে হেসে উঠল লোকটা ময়লা কাঁপড়পরা একটা তামাটে ফিরিঙ্গী। এই অভদ্র ব্যবহারে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে সঞ্লীব বা হাতে সজোরে লোকটার নাকের উপর প্রবল একটা ঘুষি মারলে সে দু'হাতে নিজের যুখ চাপ। দিয়ে “মাই গড়” বলে আঁতকে উঠে ফুটপাখের ওপরেই শুয়ে পড়ল। ঠিক সেই মুহূর্তে সেই পূর্বেকার লোকটা তার হাতের মোটা লাঠিট। দিয়ে নঞ্জীবের মাথার ওপর আঘাঁতঃকরলে সপ্ীব জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। তারপর সে-ছু'জন লোক তাকে তুলে অন্ধকার একটা গলির মুখে নিয়ে ফেতেই একটা সাহেবচালিত মোটরগাড়ি ভেতর থেকে এগিয়ে এল সপ্ধীবকে গাড়িটাঁয় তুলে তারাও লাফিয়ে উঠে পড়ল এবং চকিতের মধ্যে গাঁড়িটা মুখ ঘূরিয়ে আবার নয়দানের পানে জ্রতবেগে উধাও

হয়ে গেল

তিন

জ্ঞান ফিরে আসতে সঞ্জীব দেখলে সে একটা ছোট কামরায় অপরিসর শয্যায় শুয়ে আছে। তার গায়ের ওপর কে যেন বেশ যত্র করেই থান ছুই বিলাতী কম্মল ঢাকা দিয়ে গেছে তার শয্যার বিপরীত দিকে আর একটা অপরিসর শুন্য শয্যা তাতে যে কেউ শুয়েছিল তা বেশ বোঝা যায়। তার মনে হুল, যতক্ষণই সে কামরায় থাক না কেন, একা ছিল না তার অদেখ! সঙ্গী বোধ হয় কিছু আগে

পথের বন্ধ ১৯

পর্যন্ত এই ঘরেই ছিল। দেওয়ালের খানিকটা ওপরে একটা কীচ- টাকা গোল জাঁনলা দিয়ে কামরাটায় দিনের আলো এসে পড়েছে। জানলাটা দেখে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে উঠে বসতেই তার মাথার ভেতর দপদপ করে উগল। সপ্জীব মাথায় হাত দিয়ে দেখলে একটা জায়গা টিপি হয়ে ফলে আছে, কিন্তু তেমন বেদনা নেই সেখানে তার গত রাত্রির কথা মনে পড়ে গেল। কিন্তু সেসব অগ্রাহ্ করে অত্যন্ত আগ্রহসহকারে সে চারদিকে দেখতে লাগল; মনে হুল যেন তার খরট। স্থির নয়, একটা গতিশীল বাড়ির অংশ সেটা সপ্জীব হঠাৎ ভাবলে, ঘটনাচক্রে সে কোন জাহাঁজের যাত্রী হয়ে পড়েনি তো £ উত্তেজিত হয়ে উঠে পড়ে সে বন্ধ দরজাটা খুলতেই তার চোখের সমুখে সীমাহীন ঘোলা জলরাশি ভেসে উঠল অবাকৃ হয়ে সে সেই জল দেখছিল, এমন সময়ে একজন ইউরো গায় তার ঘরে এল এবং হাসি- মুখে বললে, “গুড মমিং, রায় এত সকীলেই উঠে পড়েছ ?” তাকে দেখবা মীত্র সঞ্পলীবের মনে হল, লোকটা গত রাত্রের সেই ধর্মতলার পথচারী তাঁকে আঘাত করা চুরি করে আনার সঙ্গে এই লোকটার সম্পর্ক আছে ভাবতেই সপ্জীবের মন ক্রোধে ভরে গেল ুগ্টি দৃ়বদ্ধ ভল। সেই সঙ্গে তার মাথার টিপিটাও দপদপ করে উঠল

লোকটা! বোধ হয় তাঁর মনের কথা বুঝতে পেরেছিল। মে অক্জীবের কীধে হাত রেখে হেসে বললে, “তোমাকে আমার অনেক কথা বলবার আছে। কিন্তু তার আগে বাইরে এসে ফীড়াও, ভোরের বাতাসে আরাম বোধ করবে 1” তার কথার কোন উত্তর ন! দিয়ে সঞ্জীব এগিয়ে গিয়ে রেলিং-এ ভর দিয়ে ফরীড়াল। দুরে তখনও তটভূমির ঘন সবুজ রেখা স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছিল, খানিক

পথের বন্ধ

সেই দিকে চেয়ে থেকে লে।কটাকে জিজ্ঞাসা করলে, “ওটা কোন্‌ দেশ %” সে বললে “তোমার বাংল! দেশ।” অপলক দৃষ্টিতে সম্ভীব সেই দূরসধগীরী তটভূমির দিকে চেয়ে রইল ; চোঁখ দুটি তাঁর অশ্রু ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল। নিমেষের মধ্যে রেখামাতটুকুতে পর্যবধিত স্বদেশের মায়া, বাপ, মা, ভাঁই, ভগ্লী, বন্ধুবান্ধব প্রভৃতির মুত তার চোঁখের সমুখে ফুছে উঠে তার অন্তরে হাহাকার জাগিয়ে দিলে। মায়ের স্েহের কোল তখনও খেন দূরের তটভূমিতে মূর্ত হয়ে তাঁকে প্রগাট সেহে আজান করছে বিদেশী, অচেনা সঙ্গীর সামনে সে কোন দুর্বলত! প্রকাশ করলে না বটে কিন্তু তার চোখে তখন জল টলটল করছিল চোঁখ ফেরাঁতে গোপনে ছু'ফোটা অশ্রু তার গাল বেয়ে পড়ল, যেন বিদায়বেলার প্রণামের ক্ষণের বুকভাঁঙা হাহাকার অশ্রু হয়ে মায়ের পা দুটিকে অভিষিক্ত করে দিলে প্রবল বাতাস বোধ করি সে ছু'ফৌটা চৌখের জল বহন করে বঙ্গোপসাগরের অগাধ জলে মিশিয়ে দিয়ে বাংলা মায়ের চরণ বিধৌত করে দেবার মত আরও স্থপবিত্র করে দিলে

সপ্তীবের সঙ্গী এতক্ষণ চুপটি করে রেলিংএ হেলান দিয়ে ঈ্ীড়িয়ে পাইপ টানছিল। অদ্ুরে গোটাকয়েক ডেক-চেয়ার সাজান ছিল, সে ছু খান! তুলে এনে বললে, “এসে বস, রায়, তোমার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে” জঙ্জীব বসে পড়ে তার দিকে চাইলে লোকটা বলতে আরম্ত করলে, “আমার নাম অটে! হেঙ্গলার। অস্কার সার্কাসের মত আমিও হেঙ্গলার সার্কাসের মালিক এবং অস্কারের প্রবলতম শক্র আমরা এখন যে জাহাঁজটায় চলেছি সেটা একটা জাপানী মালবাহী কার্গো বোট। শ্যাম দেশ হয়ে এটা মালয়ে যাবে, সেখানে আমর সেলাঙ্গরে নেমে পড়ব, কারণ আমার সার্কাস এখন

পথের বন্ধু ২১

সেখানে খেলা দেখাচ্ছে তোমাকে আমি খুব বড় একটা মতলব করে ধরে এনেছি তোমাকে না হলে আমার চলবে মা। সব বলবার আগে একটা কথা বলে রাখি যে আমার ওপর বিরক্ত হয়ে তোমার ক্ষতি বই লাভ নেই। তাহলে প্রথমতঃ কথ! কইবাঁর সঙ্গী পাবে না, কেন না এই জাহাঁজটায় আমি, জাহাজের ক্যাপ্টেন ফার্ট এঞ্জিনিয়ার ছাড়া আর কেউ ইংরেজী জানে না, তোমাদের দেশের কোন ভাষা জানার কথা তো ছেড়েই দাও দু'জন ইংরেজী জাঁনা লোক আমার অনুমতি ভিন্ন তোমার সঙ্গে কথাও কইবে না।

“এখন আাপল কথাটা বলি। আমার সার্কাস যাতে সব বিষয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সার্কাস হয় আমি সেই চেষ্টাই করি। কিন্তু ছটো কারণে আমার অভিলাষ পুরণ হচ্ছে ন॥ ভগ্নানক বাঁধা হয়েছে। প্রথম, অস্কীর সার্কাসের ভানু সিং। তাঁর মত পুথিবীতে আর একজনও নেই। তাকে আম টাকার লোভ আর প্রাণের ভয় দেখালেও কোন রকমেই বাগে আনতে পারিনি দ্বিতীয় কারণ, হার্শান রেমাক তাকে আয়ত্তে আনা সহজ নয়। কারণ, সে শুধু অস্কারের 'আম্মীয় নয়। অস্কীর তাকে প্রভূত অর্থ দেয়। তার ওপর হার্ণীন আমার চিরশক্র |

“জার্মানিতে এখন রেমার্ক ম্যাক্স স্মেনিং ছাড়া বড় মুষ্টিযোদ্ধ। নেই। ম্যাক্স কৌন দলের নয়! অর্থের প্রতিও তার তেমন লোভ নেই। সে সমগ্র জার্নানজাতির জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সম্মান আহরণ করবার তপস্থা করছে তাকে আমরা ছোট কিছুর লোভ দেখিয়ে হ্বালাতন করি না।

“আমার নিজের দল থাকলেও অস্কার সার্কানকে অনুসরণ করে

২২ পথের বন্ধু

বেড়ান আমার একটা বাতিকে দীড়িয়ে গেছে ওদের সঙ্গে সঙ্গে আমিও কানপুরে গিয়েছিলুম | সর্বত্র রেমার্কের অবিসংবাদী জয় দেখে আমি হিংদায় ভূলে মরি। কিন্তু তৌমার বুদ্ধ দেখে আমি সত্যই অত্যন্ত খুশী হয়েছিলুম কারণ তুমি তাঁর সঙ্গে সমান হয়ে তার বিজয় মুকুটের খানিকট। তুবড়ে দিয়েছ অপর কেউ হয়ত ভাঁবতে পারে যে তোমাকে ছেলেমান্রষ দেখে রেমাঁক দয়ার্দ হয়ে টিলে দিয়ে লড়েছিল। কিন্তু আমি জানি ঘে সেটা এক ফৌঁটাঁও সত্য নয় রেমার্ক কখনও কাউকে দয়া করে না। সিংহ তার হিং স্বভাব হয়ত বা! কখনও ভূলতে পারে, কিন্তু রেমার্কের কোষ্ঠীতে ওরকম কিছু নেই। তাই সেদিন থেকে তোমার ওপর আমার নজর পড়েছিল তারপর কলকাতীয় আমি তোমাকে আরও বাজিয়ে দেখবার স্থযৌগ পেলুম। যে ক'জন প্রতিদ্ন্দী সেখানে তোমার সঙ্গে লড়েছিল তার সব আমার বাছাই করা লৌক আমি টাক! দিয়ে কলকাতার আর রেলের সব ক'জন নামজাদা মুষ্টিযোদ্ধাকে তোমাকে পরথ করতে পাঠিয়েছিলুম | তাঁদের পরাজয়ে আমি যেমন একদিকে খুশী হয়েছিলুম তেমনি আমার বেশ ভয়ও হয়েছিল যে তুমি যদি রেমার্কের সঙ্গে অস্কার সার্কাসে থেকে যাঁও তাহলে আমার ছুরবস্থার আর সীমা থাকবে না, চিরদিন অস্কারের গৌরব দেখে আমাকে ভ্বলেপুড়ে মরতে হবে আমি জানি যে তুমি পয়সাঁওয়ালা লৌকের ছেলে, হয়ত সার্কীসে ভিড়ে গিয়ে জীবন কাটান তোমার লক্ষ্য নয়। কিন্তু আমি কোন ঝুঁকি নিতে রাজী হলুম না। কে জাঁনে তোমার সার্কাসে থেকে যাবার লোভ হবেকিনা! তা ছাড়াও একটা কথা আছে তোমার অসাধারণ প্রতিভা কলেজের বই এবং ভবিষ্যতে উকিল ব্যারিষ্টীরের গাউন দিয়ে চাঁপা দেবার মত অবহেলার জিনিস নয় বছরে বছরে ছু'চার হাজার

পথের বন্ধু ২৩

উকিল হয়; তোমার মত লড়িয়ে পঞ্চাশ বছরেও একজন হয় না। তোমাকে এনে এক হিসেবে আমি তোমার তোমাদের দেশের পুরুষাঁলির উপকার করেছি তোৌমাঁকে চুরি করতে আমাকে মোৌংর! কাজ করতে হয়েছে তার জন্য এবং তোমীকে আঘাত করবার অপরাধের জন্য আমি মাফ চাইছি ওটা অজ্ঞান করবার জন্য কায়দার আঘাত, তাতে কোন জখম হয় না।

“এখন আমি চাই যে তুমি আমার দলে থেকে একদিন রেমার্ককে নিপাত করবে তোমার ওপর আমার এত আশা, এত ভরসা এই জন্য খে আজ পর্যন্ত তুমি ছাড়া তাঁর সামনে আঁর কেউ টিকে থাকতে পাঁরেনি। স্থতরাঁং বলতে গেলে তোমাকে আমি সমস্ত পৃথিবীটা খুঁজে যোগাড় করেছি। এখন দুটো জিনিসের মধ্যে একটা তুমি বাছাই করে নিতে পার, আমার বন্ধুত্ব ভবিষ্যতের শ্রীবৃদ্ধি ; কিংবা, আমার শক্রত' একান্ত নিধাতনের ভ্বালাময় জীবন। তোমাকে আমি ছাঁড়ছিনে, কথাটা বেশ জেনে রেখ তোমাকে কাজে না লাগাতে পারি, সেও ভাল। তোমাকে আমি বাইরে ছেড়ে দিচ্ছিনে। বন্দী করে রেখে অঙ্গে সঙ্গে নিয়ে বেড়ান আমার কথাটা বেশ সাফ করে বুঝে আর ভেবে দেখে পরে উত্তর দিও সম্মতি যদি তুমি দাও তাহলে আনন্দ রাখবার আমার আর জায়গা থাকবে না। তোমার ঘরে বাঝ্সগুলৌর ভেতর তোমার প্রয়োজনীয় কাঁপড়-জামা যথেষ্ট পরিমীণে পাবে। বক্সি-ংএর সাঁজ-সরগ্জামও অনেক আছে। তুমি একটু সবল হলেই এই জাহাজেই তৌমার ট্রেনিং আবস্ত করা যাবে, কি বল? এখন চল, খেয়ে আসা যাঁক।”

হেঙগলীরেব কথা শুনে সপ্ভীব অবাক হয়ে রইল। শখের খাতিরে কলকাতা বেড়াতে এসে সে যে এমন একটা চক্রান্তের

২৪ পথের বন্ধু

জালে জড়িয়ে যাবে, সে কথা সে স্বপ্জেও ভাবতে পারত না। কিন্তু তার বিষাদময় চিন্তার ভেতরেও কথাটা মনে করতেও সঞ্জীবের আনন্দ বোধ হচ্ছিল যে হেঙ্গলারের মত গুণগ্লাহ” মানুষও তার জন্য এমন লোভী হয়ে উঠেছে। কিন্তু রেমার্কের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়। সপ্ভীবের পক্ষে অসম্ভব কথা, কারণ সে তার গুরু হয়ে গিয়েছে তখন তাছাড়া, জবরদস্তির সামনে যে মাথা নোয়ায় মে কাপুরুষ। সপ্ভীবের একগুয়ে প্রকৃতি জবরদস্তির কথাটা! মনে করে সে দাতে দাত চেপে চোয়াল শক্ত করলে যাহোক, আপাতিত সে মনোভাব গোপন করাই স্থির করলে পরে দেখা যাবে কি হয়।

হাঁতমুখ ধুয়ে নিজের কামরায় এসে কাপড়-জামা বদলে সঞ্জীব তণ্তির নিশান ফেললে তার কামিজ ইত্যাদি অধোবামগুলে! ময়লা ঘর্মীক্ত হয়ে তাকে এতক্ষণ পীড়া দিচ্ছিল। খানিক পরে হেঙ্গলার এসে তাকে জাহাজের অফিনরদের খানা-কামরায় নিহুম্প গেল। খাবার দেখতেই সে অতান্ত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল। সে রুটিতে মাখন লাগাবার উদ্ভোগ করতেই হেঙ্গলার বাধা দি বলল, “না রায়, মাথন, জ্যাম বা অন্য মিষ্টি খাওয়া তোমার বন্ধ। এখন থেকেই খাওয়ার সম্বন্ধে তোমাকে উচিত নিয়ম মেনে চলতে হবে ।” হেঙ্গলারের হুকুমের স্বর, যেন সগ্ত্ীব তার ক্রীতদাম বা আসবাব হয়ে গেছে।

গার্ল্যণ্ড কখনও কখনও তাকে মিষ্টি, মাখন খেতে নিষেধ করনত বটে, কিন্তু কোনদিন তার কারণট! বলে দেননি | বাসে বিষয়ে কোন কড়া নিয়মেরও প্রবর্তন করেনি সঞ্জীব বিরক্ত হয়ে হেঙ্গলারকে জিত্ভীসা করলে, “তাহলে খাঁব কি £”

পথের বন্ধু ২৫

হেঙ্গলাক্ ভোঁজনে রত ছিল। সে টেবিল থেকে একট ছোট ন্যাপকিন নিয়ে মুখ মুছে বললে, “দুধ, রুটি, প্রচুর ফল; খাবার ভাবনা কি ?”

ছুপের ওপর সঞ্জীবের কৌন কালেই টান ছিল ন' বরং বিতপশ ছিল। তা ছাঁড়া হেঙ্গলারের হুকুম তার ভাঁল লাগল না। €স হেঙঈগলারের দিকে চেয়ে বললে, “তোমার কথা আমি মানছিনে ; আমি ছুদ্পোষ্য শিশু নই। খেতে হয় আমি নিজের খুশিতে খাব ।”

জাপানী অফিসরের! নীরবে তাদের দু'জনের পানে চেয়ে রইল

সঞ্ভীবের কথার উত্তরে হেঙ্গলার নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে জ্যাম, মাখন ইত্যাদির পাত্রগুলো সরিয়ে নিয়ে দুধের পেয়ালা! আগিয়ে দিলে সপ্গ্ীবের তখন ক্ষিধেয় পেট ভ্রলছে, সে খাওয়ার ওপর রাগ করতে পারলে না। হেঙ্গলারের নির্দেশ অনুযায়ী খেতে লাগল তাঁদের এই গ্রথম সংঘষণে হেল্গলারেরই জৈত হল

চার প্রথম রাত্রিতে হেঙ্গলার সঞ্জীবের কামরায় শুয়েছিল, তরপর তার শয্যার মত সে-ও প্রায় অদৃশ্ট হল। দিন-রাত্রির মধ্য হেঙ্গলার খানিকটা বাধাধরা সময়ে তাঁর সঙ্গে থাকত, সঞ্জীবের সময় কাঁটাবাঁর জন্য সে তাকে মুষ্টিযুদ্ধের নানা বই, পত্রিকা সাধারণ খানকয়েক উপন্যাস দিয়েছিল খোল! সমুদ্রের হাওয়ায় দেখতে দেখতে সপ্ভীবের

টি পথের বন্ধ

মাথার ব্যথা দেহের প্লানিটা চলে গেল। দিন ছু'তিন এক রকম নিঃসঙ্গ অবস্থায় কাঁটিয়ে একদিন প্রভাতে সঞ্জীব ডেকের ওপর পায়চারি করছিল, হুঠাঁ এক জায়গায় একটা জাপানী নাবিককে দেখে তার সঙ্গে আলাপ করবার অদম্য ইচ্ছা হল। কীহাতক আর মানুষ মুখ বুজিয়ে থাকতে পারে ! নানা বই পড়ে সে ছৃ'চারটে জাপানী কথা কুড়িয়ে পেয়েছিল, একটু এগিয়ে গিয়ে সেই লোকটাকে বললে, “ও হাঁয়ো গজাইমাঁশ |” বাকাটা ম্তুপ্রভাতজ্ঞাপক, ইংরেজী গুভ মনিং-এর মত। নাবিকট! আশ্চ্ধ হয়ে তার মুখের দিকে একটু চেয়ে থেকে মুদুস্থরে গ্ত্যভিবীদন করলে, “গজাইমাঁশ !” তারপর দ্রুত ভাষায় কি একটা বলে গেল। সঞ্জীব তার কথার একবর্ণও না বুঝতে পেরে আত্মপরিচয় দেবার হিসেবে বললে, “ওয়াটাকুশি ইগ্ডিয়া জিন” _আঁমি একজন ভারতবাপী। নাবিকটা তার চেপটা গোল মুখে একটু হাসি মাখিয়ে আবার গড়গড় করে কি বলে গেল; তার অনেকগুলো শব্দ ভাঙা বিকৃত বাংলা বলে মনে হলেও সপ্ভীব তার কৌন অর্থ বৌধ করতে পীরলে না হঠীৎ তাঁর মনে হল যে বিদেশী নাবিকদের চাটগীয়ের লশকরদের যথেষ্ট সাহচর্য মিলে থাকে হয়ত এই জাপানীটার ভাষা সেই লশকরদেরই ভাঁষা এবং জাহাজটায় হয়ত দু'চারজন চট্টগ্রামের লোক থাকতে পারে উৎসাহিত হয়ে সপ্ভীব তখন ভীবতেও পাঁরলে না যে তাঁর কানপুরে জন্ম-কর্ম, সে খাঁটি বাংলা ভাষাটাই ভাল করে বোঝে না, তা চাটশেঁয়ে বাংলা বুঝবে কি! নাবিকটা তখন ডেক বুরুশ করার কাজে ব্যস্ত ছিল। মোজা বাংলা কথায় সঞ্জীব তাকে জিজ্ঞীসা করলে, “জাহাজটায় কোন লশকর আছে কি?” তৎক্ষণাৎ তার পেছন দিক্‌ থেকে ইংরেজীতে উত্তর এল, “না, নেই কোন লশকর ।” ঘাড় ফিরিয়ে সঞ্জীব দেখলে যে তার

পথের বন্ধ ২৭

পিছনে হেঙ্গলীর ঈীড়িয়ে রয়েছে তার প্রশ্নের “লশকর” কথাটা বুঝে হেঙ্গলীরই একটা আন্দীজী উত্তর দিয়েছে।

হেঙ্গলীর বললে, “এ তোমার কথার খেলাপ করা, রায়। তোমাকে আমি কারও সঙ্গে কথা কইতে নিষেধ করেছ্লুম কাজটা মআাপশ্ডিকর

সপ্ভীব জ্বলে উঠে উত্তর দিলে, “তোমাকে আমি কথা দিলুম কবে, যে কথা রাখলুম না? আমি তৌমার তীবেদার নই !”

হেঙ্গলার তার কীধে হাত রেখে বললে, “কেন মিছে ঝগড়া করছ, রায়? ঝগড়া বাধিয়ে তোমার সুবিধা চবেনা। তোমার ছেলে- মান্ুষী গৌ-টা ছাড়ো»

সপ্ভীব কীধ নীচু করে হেঙ্গলারের হাত সরিয়ে দূরে সরে যেতে যেতে বললে, 4139০ 5০8 ৬/0156 1 যা খুশি তোমার করতে পার। আমি তোমার কোন কথা পুনব তা ভুলেও মনে কোর না।”

হেঙ্গলার হঠাৎ শিস্‌ দিয়ে ওঠে, যেন বা ঘোর অবজ্ঞাভরে ক'ধ ছুটো ঝাকিয়ে উত্তর দিলে, “ছোকরা, আমার এই হাত দিয়ে আমি বাঘ-সিংহও বশ করে থাকি, তোমার একগুয়েমি সারাতে আমার দেরি লাগবে না|”

অপ্তীব আর কোন কথা না বলে বিরক্ত 'ও ক্রুদ্ধ হয়ে নিজের কেবিনে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলে।

সপ্ভীবের অন্তর্ধন হবার সংবাঁদট! পরদিন দুপুর বেলা অস্কীর লার্কাসে প্রচারিত হল। ফোঁট উইলিয়ামের কয়েকজন খেলুড়ে অফিসার সেদিন হীর্ণান সঞ্জীবকে কেল্লার গোরাদের এক ঘরোয়।

২৮ পথের বন্ধু

টুর্নামেন্টের জন্ত নিমন্ত্রণ করতে এসেছিল হার্শান এধরনের নিমন্ত্রণ সাধারণতঃ নিত না। কিন্তু কতকটা সপ্ভীবের জন্য গার্লাখের পীড়াপীড়িতে সে যেতে রাজী হল এবং অফিসাঁরগুলির সঙ্গে কথা কইবার জন্য সঞ্জীবকে তার আঙ্মীয়ের বাড়ি থেকে ডেকে পালে লোক ফিরে এসে যখন খবর দিলে যে সঞ্জীব রাত্রে জলেখানে যায়নি, গার্লাগড হার্ধার দু'জনে উত্কন্ঠিত হয়ে উঠল এবং অফিসারদের টেলিফোনে পাকা কথা দেবার কথ! বলে তারা সপ্জীবের গোৌঁজে বেরিয়ে পড়ল

তার নিখোজ হবার সঙ্গে কোন দুর্ঘটনার ধোগ আছে ভেবে তারা দু'জন কলকাতার প্রধান প্রধান হাসপাতালে খোঁজ নিলে সেখানে কোন খবর না পেয়ে তারা আরও উৎকন্টিত হয়ে পুলিসে খবর দিলে রেমার্ক গাল্যগ্ুড সপ্তীবের জন্য তাঁরাপদবাবুর কাছে সম্পৃভাবে দায়ী ছিল। তাঁকে কি করে এমন বিশ্রী সংবাদটা দেওয়া যায় তা ভেবে তারা খুবই হাস্ডির হয়ে উঠল। অবশেষে কোন কুল-কিনারা না পেকে দু'জনে যুক্ত করে মস্ত এক টেলিশ্রীমে তারাপদবাবুকে সব জানালে তিনিও তার করে জানালেন যে খত টাকাই লাগুক না কেন সঞ্ভীবকে উদ্ধার কর! চাই-ই চাই। তার কানপুরের বাড়িতে কান্নাকাটি পড়ে গেল। রেমার্ক গার্ল্যগুকে সাহাধ্য করবার জন্য সপ্পীবের মেজ ভাই অভয় কলকাতায় এল এবং তার খোজে কয়েকজন ডিটেকটিভ লাগান হল।

ডিটেকটিভের] হাসপাতাল বাথানায় গেল না! কলকাতার যে সব যুগ্রিযোদ্ধারা সপ্্ীবের কাছে হেরেছিল তাদের পাকড়াও করে তার! খবর বার করলে যে একজন জার্নান ধনী তাদের সপ্তীবের সঙ্গে লড়বার জন্য নিযুক্ত করত। একথ। শুনতেই রেমার্ক লীফিয়ে উঠে

পথের বন্ধ তি

বললে, “এ তাঁহুলে হেঙ্গলার ছাড়! আর কেউ নয়।” হোটেলে হোটেলে খবর নিতে জান! গেল যে যেদিন অস্কার সার্কাস কলকাতা আসে সেইদিন হেঙ্গলারও চৌরঙ্গীর একটা হোটেলে এসে ওঠে এবং সঞ্জীব যেদিন নিখোঁজ হয় জেই সন্ধ্যাতেই সে হোটেলের হিসেবপত্র ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে।

রেমারক বললে, “হেঙ্গলার যখন গেছে, তখন সে ভারতবদ ছেড়েই চলে গেছে। এই আন্দাজ করে তারা জাহাজের তল্লাশ করলে, সে রাত্রে কোন কোন্‌ জাহাজ কলকাতার বন্দর ছেড়ে গেছে তারপর দেখা গেল যে একট! জাপানী কার্গো বোটে তারা গেছে মালয়ের দিকে কার্গো বোট হলেও তাতে কয়েকজন প্রথম শ্রেণীর যাত্রীর স্থান ছিল। সেটার যাত্রীর তালিকায় শুধু হেঙ্গলীর জঞ্জীবের নাম আছে। পালিয়ে যাবার কয়েকদিন আগে থেকে হেঙ্গলার সে জাহাঁজটায় ছুটো বার্থ নিয়ে রেখেছিল। বেশ বোঝা গেল যে ওই দিন, ওই জময়ে সঞ্জীবকে যেকোন উপায়ে লৌপাঁট করার বিষয়ে হেঙ্গলীর কুতসংকল্প হয়েছিল

সার্বাসের মালিক অস্কার রেমার্ক হেঙ্গলীর সার্কাসের গতিবিধি কতকটা জানত মালয়, সিঙ্গীপুর, ইন্দৌচীন, হুংকং, ফিলিপাইন দ্বীপ ইত্যাদিতে সেবার হেঙ্গলার সার্কাসের খেলা দেখাবার কথা। অভয় গার্ল্যণ্ড মালয় যাবার জন্য প্রস্তুত হল, কিন্তু রেমার্ক যাবার জন্য ব্যগ্রা হলেও অন্কীর তাঁকে ছুটি দিতে সম্মত হল না। অনেক অনুরোধের পর মে বললে যে তার সার্কাস কয়েকদিন পরে যখন বার্শ। যাবে তখন সে রেমার্ককে কিছুদিনের ছুটি দিতে পাবে।

রি পথের বঙ্ধু

কিল্জু মালয় যাত্রী জাহাজ পেতে তাদের কয়েকদিন দেরি হয়ে গেল যখন তারা কলকাতা থেকে রওনা হল তখন হেঙ্গলাঁর সঞ্জীব দশদিনের পথ এগিয়ে গেছে।

হেঙ্গলার চালাক লোঁক। জন্তীবকে নিয়ে একদিনের জন্য সেলাঙ্গরে নেমে, তার সার্কামের ম্যানেজারকে নানা হুকুম পরামর্শ দিয়ে সে একেবারে সিঙ্গাপুরে গিয়ে হাজির হল। সে মনে মনে আচ করেছিল থে তাদের অনুসরণ করে রেমীর্কের ব| সপ্ভীবের বাড়ির কারও আসা বিচির নয় তাঁরা গোপনে সেলীঙগরে গিয়েছিল, অনুসরণকারী কেউ এলে তাদের খবরও জানবে না, বিশেষ যখন সে দেখবে যে রাতের পর রাত হেঙ্গলার সার্কাসের নিয়ম মাফিক খেলা চলছে, হেঙ্গলার সেখানে উপস্থিত না থাকলেও তার কোন ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

সিঙ্গাপুরে নিউ ওয়ার্ড নামে কুস্তি বঞ্ি-ংএর মত প্রতিযোগিতা- মূলক খেলার একটা পাঁকা আড্ডা আছে। তাতে কিন্তু বেশী করে ুষ্টিযুদ্ধের দঙ্গল হয়ে থাকে তার কারণ জেখানকার চীনে অধিবানীরা ুষ্টিযুদ্ধের ভাবী ভক্ত তারা মুষ্টিযুদ্ধ করতে যেমন, দেখতেও তেমনি ভালবাসে এবং দেখবার জন্য দ্ল-দরিয়া হয়ে পয়সাও খরচ করে। বেশ মোটা বাঁজির টাকা পাওয়া যাঁয় বলে নানা দেশের, নানা জাতির ুগ্টিযোদ্ধারা সিঙ্গীপুরে লড়তে আদে।

সঞ্ভীবকে নিউ ওয়ার্৮-এ ভিড়িয়ে দিয়ে আবার পরীক্ষা করা এবং পরোক্ষভাবে তাকে পেশাদারী মুষ্তিযুদ্ধে পাকা করে নেওয়া হেঙ্গলীরের মতলব ছিল জগ্ীব মনে মনে ঠিক করেছিল যে মন খুলে না লড়ে সে হেঙগলারের বিরুদ্ধাচরণ করে তাকে জব্দ করবে।

পথের বন্ধু ৩১

কিন্তু হেলা মানুষ বা জন্তু ছুইয়েরই মন বেশ ভাল করে বুঝত। সে সপ্ভীবের জন্য একটা ছয় রাউণ্ডের ছোটখাট যুদ্ধ পাকা করে ফেললে সে খবর পেয়ে সঞ্জীব আগুন হয়ে উঠল। দে হেঙ্গলারকে বললে, “িড়তে হয় তুমি লড়োগে যাঁও, আমি প্রাণ গেলেও লড়ছিনে |”

সঞ্জীব যে সহজে লড়তে রাজী হবে না সে কথা হেঙ্গলার বেশ জানত কিন্তু কথাও বেশ জানত যে, মে একবার লড়বার উন্মাদনা উপভোগ করেছে, যার খ্যাতির সাধ আছে সে কখন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না; একটু তাতালেই মে লড়াঁর নামে তেতে ওঠে সে চালাকি করে সপ্ভীবকে একটুও খোশামোদ না করে তার প্রতিপক্ষ চিয়া বক্‌ গী'র অজঙ্র স্ৃখ্যাতি করতে লাগল সে বললে, “বক গী সাধারণ লড়িয়ে নয়। তাকে আজ পর্যন্ত কেউ হারাতে পারেনি, বরং ব্রিটিশ নেভি'র ব্রেক, দিলোনের পেরেরা, বোম্বাইয়ের কূপারের মত বিচক্ষণ মুষ্টিযোদ্ধারা তার কাছে বেদম হার হেরেছে ফিলিপাইনের অমন যে পাঞ্জো ডিলা, তার বড় ভাই এবং মুষ্টিযুদ্ধের সাথী আলেক ডিলা বক্‌ গী'র সঙ্গে কাম রেশ সমান-সমান হয়েছে” এই রকম নানা কথা বলে সে সপ্ভীবকে উত্তেজিত করলে শেষে উঠে যাবার সময় টিগ্ননী করে গেল, “ভংলই হল, রায়, মে তুমি লড়বে না। লড়লে যে একট! পাঁকও তাঁর কাছে টিকে থাকবে তা আমি মনেও করি না। আমি কেবল তোমাকে একজন ভাল লোকের সঙ্গে লড়বার স্তযোগ করে দিতে চেয়েছিলুম |”

সপ্ভীবের মনে উচ্চাশীর অন্ত ছিল না। নিউ ওয়ার্ডের নাঁম তার অজানা নয়। মে জানত যে সেট! মুষ্টিযোদ্ধাদের তীর্থস্থান আমেরিকার শিকীগোয় যেমন ম্যাঁসিভন ক্ষোয়ার গার্ডেনসের

৩২ পথের বন্ধ

আখড়ায় লড়া যার-তার ভাগ্যে হয় না, প্রাচ্যের নিউ ওয়াল্ড লড়তে পীওয়াও তেমনি সৌভাগ্যের কথা সেখানে গিয়ে লড়ার সঞ্ভীবের একটা বড় সাধ ছিল সেরারে বিছানায় শুয়ে শুয়ে তার কল্পনা উদ্দাম হয়ে উঠল সিঙ্গাপুরের সব সুযোগ তার হাতের কাছে। তার মনে দেহে শক্তি পট্ুত্বের প্রথর অনুভূতি তার ওপর সম্প্রতি সে বেমার্কের শিক্ষকতায় অনেক শিখেছে অনেক উন্নতি করেছে বক্‌ গী”র মত প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ধ করে সে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে উপলঙ্গি করবে না-ই বা কেন ? মে অনুভব করতে লাগল নে রেমীর্ক তাঁকে দূর্ধর্ষ অজেয় করে দিয়েছে যত সে এই সব ভাবে তত তার মন দৃ় হয়ে ওঠে হেঙ্গলার ওস্তাদ লোক, সে ঠিকই বুঝেছিল যে শক্তিমানের সম্মান-স্পৃহাটাকে নাড়া দেওয়ার চেয়ে আর কিছু দিয়ে তাকে অধিকতর উত্তেজিত করা যায় না।

পরদিন সকালে হেঙ্গলারের সঙ্গে দেখা হতেই সপ্ভীব বললে, “আমি বক্‌ গী'র সঙ্গে লড়ব, তুমি সব ঠিক কর ।”

হেঙ্গলার উৎসাহিত হয়ে সজোরে তাঁর পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললে, “সাবাস, রায়! এই তো চাই! একেই বলে স্থবুদ্ধি! তুমি যদি চীনেটাকে হারাতে পার, আমি তোমাকে হাজার টাক উপহার দেব ।”

পাচ খেলার ব্যবস্থা করার ওস্তাদ হেঙ্গলার তখন ঝকমকে বিজ্ঞাপন দিয়ে সারা দেশটাকে ছেয়ে ফেললে সম্জীবের নাম গোপন করে তার নূতন নামকরণ হল, 'ব্যাটুলিউ কিড'। প্রকাশ হল যে তার

পথের বন্ধু ৩৩

জন্মভূমি সিংহল দ্বীপে বিজ্ঞীপন, খবরের কাগজ ইত্যাদিতে সঞ্জীবের ছবি ছাপা হল বটে, কিন্তু সে ছবিতে জপ্জীবের মুখ একটা চোখ-ঢাকা মুখোস দিয়ে ঢাকা রইল তাতে কেউ কিছু মনে করলে না, বরং লোকে এই মনে করে উত্তেজিত হয়ে উঠল থে, এই নূতন লড়িয়ে ছোঁকরা বড় ঘরানার ছেলে, সে নিজের পরিচয় কারও কাছে দিতে চায় না। মুষ্টিযুদ্ধে বা খেলার অন্যান্য ক্ষেত্র এরকম ঘটন! অনেক বার ঘটেছে অনেক সময় দেখাও গেছে যে যাঁরা এমন করে আত্মগোপন করে লড়ে তার সত্যই এমন সমীজ শ্রেণীর মানুষ, যাদের পক্ষে পেশাদার মল্লের সঙ্গে প্রকাশ্টভীবে লড়াঁটা অতিশয় নিন্দার্হ। জপ্ভীবকে রহস্যময় করে তুলে হেঙ্গলার তার বেশ কদর বাড়িয়ে দিলে

হেঙঈগলার অনেক চেষ্টা করেছিল যাতে সপ্ীবের ছবি খবরের কাগজে ছাপা না হয়, কিন্তু অনেক ভেবেও সে অন্য কোন উপায় খুঁজে পেলে না, কাঁরণ লড়িয়েদের ছবি না ছাপ। হলে দর্শকদের আকধণ করা অসম্ভব কথা সিঙ্গাপুরের খবরের কাগজ ভাঁরতবসে খায় না, সেদিকে হেঙ্গলারের কোন ভয় ছিল না। কিন্তু মালয় দেশের সর্বত্র ওখানকার সংবাদপত্রগুলো ছড়িয়ে যায়। হেঙ্গলারের ভয় ছিল যে যদি কেউ তাদের অনুসরণ করে মালয়ে আসে তাহলে তারা এই খবরের কাগজ দিয়ে সপ্ভীবের সন্ধান পেয়ে যাবে। কাজেই, যত তাড়াতাড়ি সপ্তব হাতের ব্যাপারটা চুকিয়ে দিয়ে তার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় সরে পড়বার মতলব ছিল। অবশ) সঞ্জীব কথার কিছুই জানত না। হেঙ্গলার এই হিসেব করে এত কাণ্ড করেছিল যে, সগ্জীব নামজাদা কাউকে হারালে এবং নিজের কৃতিত্বের দ্বারা কিছু মোটা রকম টাঁকা

৩৪ পথের বন্ধু

রোজগার করলে সহজেই সে হেঙগলারের বশীভূত হয়ে যাবে; তখন আর কোন লুকোচুরি করবার বা সাবধান হবার কারণ থাকবে না।

হেঙ্গলার ইচ্ছা করলে সন্জীবের বিপক্ষে একট! বাজে প্রতিপক্ষ খাঁড়! করে তাকে ঠকাত্তে পারত, কিন্তু তাতে তার নিজের কোনই লাভ হত না! তার লক্ষটা খুব বড়, সন্ভ্রীবকে দিয়ে রেমার্ককে খর্ব করা বক্‌গী সত্যই উঁচু দরের যোদ্ধা হেঙ্গলার সম্ত্ীবকে তার ক্ষমতার বিষয়ে অনেক প্রমাণ দিয়েছিল। অবশ্য নঞপ্ডীব ষে তাকে হারাতে পারে সেটা হেঙ্গলারের আন্দাজ আশা। তার আন্দাজে খুব বেশী ভুল হবার কারণ ছিল না, কারণ হেলা বিশেষজ্জের চোখ দিয়ে দু'জন যোদ্ধারই শক্তি নিরূপণ করেছিল দুজনে যদি সমান-সমানও হয় তাহলেও সেটা সম্ভীবের পক্ষে বেশ প্রশংসার কারণ

সঙ্লীব দিনে দিনে এত উত্তেজিত হয়েছিল যে মুখ ঢাকা দিদে লড়বার প্রস্তাবেও জে কোনই আপত্তি করেনি হেঙ্গলীর তাঁকে হোটেলে নজরবন্দী করে রেখেছিল উত্তেজনার বশে সে তার ঘরের দরজায় ছু'জন রাক্ষুসে চেহারার মুলাটো রক্ষী দেখেও রাগ করেনি সে যে বন্দী, কথা মনে পড়লেই সে মনে মনে বলত, “দাড়াও হেঙ্গলার সাহেব, আগে ব্যাপারটা চুকিয়ে নিই, তারপর তোমাকে বোঝাঁব যে তুমিই বা কত বড় জার্শান ঘুঘু আর আমিই ব! কি ধরনের বাঙালীর বাচ্চা 1”

ইওরোপায় এবং নিখ্ো অথবা কোন অশ্দেত জাতির সংমিশ্রণে ঘষে বিচিত্র একট জাতির উৎপত্তি হয়েছে তাঁকে মুলাটো৷ বলে। যুলাটোদের মাথায় ঘি নেই, তা না থাক তাদের অসাধারণ গাঁয়ের

পথের বন্ধু ৩৫

'জারের কন্ত নেক উদাহরণ পাওয়া খাঁয়। সমুদ্রের কিনারায় অনেক বন্দরে ইওরোগীয় হোটেলে মদ বেচবার ঘে দোকান বা বার থাকে তাতে গোরা সৈনিক এবং বেশী করে গোরা নাবিক এালাসীদের মাভড। হয় অত্যাচার বা মাতলামি তারা৷ করেই। কোঁটেলের মালিকেরা তাদের তাড়াতে পুলিসের সাহাধ্য আর কতই নিতে পারে, নিজেরাই মাইনে দিয়ে মাতাল খেদাবার লোক বাখে। এই তাড়ানে দরোয়ানগুলোর নাম “চাকার আউট” (00710162 (10)। বেশ শক্ত কাজ। সাধারণত মুলাটো এবং নিগ্রোরা সে কাজটা করে। তীরা প্রা সকলেই আগে পেশীদীর মুগ্িযোদ্ধা এবং কুস্তিগীরের কাজ করে প্রৌট বয়সে মদের আড্ডার তাড়ানে দরোয়ান হয়। সপ্ভীবকে আটকে রাখবার জন্য হেঙ্গলার ছু'জন ভীমদর্শন মুলাটে। দরোয়ান নিধুক্ত করেছিল। লোক ছুটো৷ বোধ করি কেবল তাঁদের হাতি দিয়ে ছুধ-কলা দিয়ে ভাত চটকাবার নত সঞ্জীবকে চটকে মেরে ফেলতে পারত হেঙ্গলার সঞ্জীবের কাছে এসে বসলে মুলাটো দু'জন খাবার