প্রকাশক £ ডি. এম. লাইব্রেরী ৪২, বিধান সবণী কের্ণওয়।লিশ ট্রট ) কলিকাতা-৬

প্রকাশ আশাবণ ১৩৩৫

মুদ্রাকর ঝ্ীতাবরাপদ বস্মু কমাপিয়াল প্রিন্টারস্‌ ৬৩এ, হরি ঘোষ ট্রট, কলিকাতা

মুল্য -- তিন টাকা

আমার সাহিত্যজীবনের প্রথম পথপ্রদর্শক দারদামহাশয় ৬গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়ের চরণে

লল্ল্রিজ্ ভিনট্িপ

পুল্ষ চরিত্র মন্মধ -- জনৈক মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক কালী -_ মন্মথর বন্ধু বিমল -_ সঙ্গীতজ্ঞ উদ্দারচেতা যুবক দেবপ্রসাদ -- ব্যবসায়ী ধনী যুবক সমর _- "নবোদয়" ক্লাবের সেক্রেটারী,

দেবপ্রসাদেপর বন্ধু

বীরেশ্বর নিতাই 1 -_- “নবোদয়' ক্লাবের সভ্যগণ গোপাল রণবীর -_ সঙ্গীতপ্পিয় ভদ্রলোক

গিরিধারী -- দেবপ্রসাদের ভৃত্য

সরা চলিত্র

দেবপ্রসাদের মা শ্যামলী ( মন্সথবাবুর কন্যা! )

বাংলাদেশে নাট্য আন্দোলনের যতট1 সাড়। ততটা উপেক্ষিত নাট্যকারেরা। পত্রিকাগুলি নাটক ছাপাতে উৎসাহী নন। প্রকাশকদের নাটক ছাপাবার আগ্রহের অভাব। পাঠকেরা নাটক পড়তে চান না। নাট্যসংস্থাগুলি নাটক মঞ্চস্থ করতে গিয়ে শিলীদের থেয়াল দর্শকদের রুচির তাগিদে দিশাহারা হয়ে পড়েন। এই সব মিলিয়ে নাট্যকারদের অবস্থা করুণার উদ্রেক করে।

তাই স্বেহাগ” লিখে চুপচাপ বসেই ছিলাম। এমন সময় বন্ধুবর শ্রীসস্তোষ কুমার বন্থ নাটকটি নিয়ে গেলেন বিশ্বরূপা বর্তৃপক্ষ আয়োজিত গিরিশ নাট্য প্রতিযোগিতায় (৫ম বর্ষ) অভিনয় করার জন্ত। এই প্রতিযোগিতায় 'বেহাগ' শ্রেঠ নাটকের সম্মান লাভ করে। এবং নরদরবারী সংস্থ। শ্রেষ্ট সংস্থ। হিসাবে গিরিশ চ্যালেঞ্জ শীন্ড লাভ করে।

এই প্রসঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে প্রথমেই মনে পড়ে প্রখ্যাত অভিনেত শ্রীনজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা নাটকটিকে সম্পাদ্দন। করে, পরামশ দিয়ে সর্বপ্রকারে নিরলসভাবে সাহায্য করে তিনি এই সম্মান লাভে সাহায্য করেন। এই নাটকে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে শ্রীমতি প্রতিমা পাল শ্রে্া অভিনেত্রী বলে বিবেচিত হন তারাহ্থন্দরী চ্যালেঞ্জ শীন্ড লান্ত করেন। শ্রেষ্ঠা নায়িকার সম্মানও পান শ্রীমতি পাল। গীতিচারণ শ্রীসত্যেশ্বর মুখোপাধ্যায়, এই নাটকে সঙ্গীত পরিচালন! করে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এই স্ব মোট ছয়ুটি বিষয়ে প্রথম স্থাপ অধিকার করে।

কৃতজ্ঞতা শ্বীকার করি প্রীসত্যেশ্বর মুখাছ্দি শ্রীঅনিল দত্তের নিকট যারা বেহাগের গানগুলি লিখে দেন।

সর্বশেষে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি শ্রীতারাপদ বস্থ মহাশয়ের নিকট যিনি এই নাটকটি ছাপাবার সকল প্রকার?দায় গ্রহণ করেন।

বহুপ্রকার ক্রটী সত্তেও নাটকটি বদি নাট্যমোদীদের আনন্দ দিতে

পারে তবেই শ্রম সার্থক নিমাই চাদ বন্দোপাধ্যায়।

বিশ্বরূপা নাটা-্উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিষদ আয়োজিত গিরিশ নাট্য প্রতিযোগিতায় শ্রীনিমাইচাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বেহাগ' নাটকটি যখন প্রথম পুরস্কার লাভ করল তখন এই নাটকটির প্রতি নাট্যমোদী স্থধী সমাজের দুটি বিশেষভাবে আক্ষ্ট হ'ল। এই নাটকের অভিনয় পরিচালন খুবই প্রশংসনীয় হয়েছিল সন্দেহ নেই, বিশেষ করে নায়িকার ভূমিকায় প্রতিমা পালের অভিনয় দেখে সকলেই অভিভূত হয়েছিলেন, কিন্ত শুধু সেজন্যই এই নাটক প্রথম পুরস্কারের মধ্যাদায় ভূষিত হয় নি। নাটকের অস্তনিহিত তাবের আবেদন ন1 থাকলে কোনো নাটকের অভিনয়ই বিচারক দর্শক সমাজের স্বীকৃতি লাভ করতে পারে না এবং “বেহাগ' নাটকের সাফলোর মূলেও এর নাটাগুণের দ্বতঃচ্ফৃর্ত আবেদন ছিল।

আজ্লকাল অধিকাংশ নাটকের মধ্যেই আমরা বিশেষ বিশেষ শ্রেণীগত টাইপ চরিত্রের রূপই দেখি, জটিল অস্তঙ্ঘপ্ৰময় পূর্ণ মানবিক চরিক্র দেখি ন। সেজন্ত নাটাচবিত্র সম্বন্ধে আমার্দের কৌতুঃল অনিশ্চয়তা- জনিত মানসিক উত্তেজনা তেমন দেখ! যায় না। কিন্তু আলে*চা নাটকে নাট্যকার খন্দজটিল চরিত্র হ্ুট্টি করে আমাদের রসোদ্ধীপন। যথে& বধিত করেছেন। সঙ্গীত সাধনায় যে মেয়েটি আত্মনিয়োগ করেছিল বিবাহের পরে স্বামীর আদেশে সেই সঙ্গীতের জগৎ থেকে বিদায় নিয়ে সে কিরূপ মানসিক নির্যাতনের মধ্যে দিন কাটিয়েছে নাট্যকার তার একটি মর্শম্পর্শা চিত্র তুলে ধরেছেন। শিল্পের গ্রতি অচ্ছরাগ এবং স্বামীর প্রতি আ'ন্ুগত্য এই দুই বিষম ভাবের জাঘাতে জর্জরিত হ'য়ে অবশেষে মেয়েটি কিরূপ শোচনীয় ট্রাজেডি বরণ ক'রে নিল নাটকে তাই পরিষ্ফুট হয়েছে, নাটকটির বহুল প্রচার কামন৷ করি।

জঞ্জিত কুমার ঘোষ। উমেশ দত্ত লেন, লেকচারার বাংল! ড্রামা টেগর লিটারেচার কলিকাকা৬ রবীন্দ্র ভারতী ইউনিতারসিটি।

শ্বেজ্হাঙ্গ --2( ০)১--. প্রথম অঙ্ক

প্রথম দৃশ্য

1 মন্মথ বাবুর বাড়ি। রেডিওতে শ্ঠামলীর গান হইতেছে মন্সথবাবু তন্ময় হইয়া! গান শুনিতেছেন। ]

গীত |

গিরিধাপী চরণ দরশন ভিখারী মীর! চলে ব্রজধাম হো! গয়ে মীর! বাউরী পুকারে রহি কাহ! গিরিধারী মীরাকে প্রভু গিরিধারী ণাগর কাহা হাম গুণধাম।

[গান শেষ হইল--কালীবাবুর প্রবেশ ]

মম্থ। এই যে কালী, কোথায় ছিলে? মার গান হখান! শুনলে?

কালিবাবু। শ্যামলী মায়ের গান না শুনে কি থাকতে পারি?

মম্ঘ। কেমন শুনলে?

4 বেহাগ

কালিবাবু। আমি তোমাকে বলে রাখছি মম্বথ, শ্বামলী একদিন বিশ্ব জোড়। নাম করবে।

মন্ধ। অত আশ! আমার নেই। সারা জীবন এই সাধনাট। রেখে যেতে পারলেই আমি খুশী। তুমি তো জান কালী কি কষ্টের মধ্যে মা আমার এই সাধনাটা রেখেছে। কোথায় এক কলোনীতে পড়েছিলাম হয়ত সারা জীবন সেই ভাবেই কেটে যেত যদি দেবদূতের মত বিমল ন৷ গিয়ে পড়ত। তারই চেষ্টায় মার আমার এত নামধাম।

কালিবাবু। শুধু বিমলের চেষ্টায় কথা বলনা, শ্যামলীও কম খাটে নি। আমি তে! দেখেছি। হাসিমুখে সংসারের যাবতীয় কাজ করে তার মধ্যে সময় করে চা রেখে চলেছে। আর গলাখানি ঈশ্বর যা দিয়েছেন।

মন্থ। তোনরা আশীর্বাদ কর কালী। যেন ওর সাধনার পূর্ণ মূল্য পায়। হ্যা ভাল কথ! ওদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল আর ?

কালিবাবু। হ্থ্যা, দেখা হয়েছিল।

মন্ঘথ। কিছু বলে?

কালিবাবু। বল্লে,_বল্লে বড় রোগ!

মম্ধ। রোগা! আমি জানতাম।

কাপিবাবু। দেখ, মন্মথ, যেখানে সেখানে হট করে ওর সম্বন্ধ তুলে, ওকে দেখান আমি পছন্দ করি না।

মন্মঘ। কিন্তু মেয়ের বিয়ে তো দিতে হবে। কালে। মেয়ে আমার। আমার কি অত বাছবিচার করলে চলে?

বেছাগ

কালিবাবু। তাই বলে ঘে কোন মাটিক পাশকি ফেল, দেড়শ, ছশ টাকার কাজ করে অমনি একটা ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিলেই হোল?

মন্ঘ। কিন্তু কালী, আমার অর্থের সংগতি নেই। মেয়েও সুন্দরী নয়। কি করব বল?

কালিবাবু। তাই বলে যেখানে সেখানে সম্বন্ধ করতে হবে? না হয় বিয়ে হবে না।

মন্মথ। বাব! হয়ে যদ্দি মেয়েকে পাত্রস্থ না৷ করতে পারি, তাহলে আমার তো! নরকেও স্থান হবে না।

কালিবাবু। নিজের নরক বাঁচাতে গিয়ে মেয়েকে নরকে ফেলে যাবে সে কি ভালো?

মন্থ। কিন্তু যদি ওকে সংসারী না করে যেতে পারি, যদ্দি সংসারী না৷ হয় তবে সব কিছুর মধ্যেও যে ওর জীবনট। বুথ! হয়ে যাবে না, কালী বিয়ে ওর দিতেই হবে| কিন্তু কোথায় যে দেব। একট! ছেলে কি পাওয়। যাবে না যে ওর গুণটা দেখে ওকে ঘরে নিয়ে যাবে।

কালিবাবু। তেমন ছেলে নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু তোমার যে দেরী সহ্য হচ্ছে না।

মন্থ। বাপের মন কালী। ভগবানের ওপর সব ছেড়ে দিয়ে, হাত পা! গুটিয়ে বসে থাকি কি করে বল?

কালিবাবু। তাই বলে হটছট করে ছেলে ধরে এনে তুমি মেয়ে দেখাতে যেও না। তারপর শ্যামলী বড় হয়েছে। তার নিজেরও একটা মতামত আছে।

বেহাগ

মন্নঘ। শ্যামলীর মতামত! হায় কপাল। গান ছাড়া অন্থ কিছু কি সে ভাবে?

কালিবাবু। তবেই দেখ, এমন মেয়েকে হয়ত তুমি এমন ছেলের গলায় ঝুলিয়ে দেবে যে নাকি গানটান ভালবাসে না।

মন্থ। পাগল, গান ভালবাসেনা এমন লোক কেউ আছে নাকি! তারপর শ্তামলীকে যে বিয়ে করবে- নিজের মেয়ে বলে বলছিনা--ওকে ভাল না বেসে পারে না। কিন্তু সব গুণ ওর রূপের অভাবেই চাপা পড়ে গেল। এমন পোড়া দেশ, যত শিক্ষাদীক্ষাই থাক না কেন রূপো ছাড়া কিছু চেনে না।

স্ামলীর গ্রবেশ।

এই যে মা এসে গেছে।

শ্টামলী। বাবা শুনেছ?

মন্মঘ। বা শুনব না। বেশ হয়েছে।

শ্যামলী। কোন গানটা ভাল লাগল কালী জ্যাঠা?

কালিবাবু। ছুটোই অপূর্ব হয়েছে, মা।

শ্টামলী। সে তো আমার সব গানই আপনাদের ভাল লাগে। না, না তার মধ্যে কোনটা?

কালিবাবু। মুক্কিলে ফেলল মা। তবে বোধ হয় ভঙ্গনটাই বেশী ভাল লাগল, ন! মন্মথ?

মন্থ। আমার তো ভঙ্জনটাই ভাল লেগেছে বেশী। কিন্ত তুমি কি একা এলে?

৫বহাগি র্‌

শ্যামলী। হ্যা, আর কে আসবে?

মন্ঘথ। কেন বিমল যায় নি?

শ্যামলী। না তো। এবার বিমলদার সাথে দেখ! হলে গ্রচণ্ড ঝগড়া করব।

মম্মথ। বিমল তো! কখনও না এসে থাকে না। তবে বোধ হয় কোথাও আটকে পড়েছে শরীর কেমন আছে কে জানে?

শ্যামলী জ্যাঠা একটু চা খাবে?

কালিবাবু। রাত হলে! 'এখন আবার--। না, থাক, তুমি কাপড ছেড়ে একটু বিশ্রাম কর তো আগে।

শযামলী। বারে ট্যাক্সি করে তে। এলাম। আবার বিশ্রাম করার দরকার কিসের? আমি এক্ষুনি চায়ের জল চড়িয়ে আসছি

ভিতরে চলিয়। গেল।

কালিবাবু। বল তে! মন্মথ, এমন মেয়েকে কি যেখানে সেখানে বিয়ে দেওয়া যায়?

মন্থ। ইচ্ছা তো করে ভাল ঘরে দিতে, কিন্তু পাচ্ছি কোথায়? বেশী তো চাই না, কিছু মোটামুটি ভাল আয়, একটু নিঝ্কাট সংসার, স্বাস্থ্যবান ছেলে। কিন্তু ওরা যে অনেক কিছু চায়। লেখাপড়া, গান বাজনা, স্বাস্থ্য, রূপ আর টাকা। এতগুলো আমি কোথায় পাব? মাঝে মাঝে কি মনে হয় জান ওর বুঝি আর বিয়ে হবে না।

বেহাগ

কালিবাবু। না, হবে না। কালো মেয়ের আর বিয়ে হয় না? তুমি একটু কম করে ভাব দেখি। আর শোন, এসব কথা ওর সামনে তুল না। তাতে কষ্ট পাবে, বুঝেছি? মন্মথ। হুঃ। (বলিয়া চুপ করিয়া রহিল )

স্টামলীর প্রবেশ।

শ্যামলী ওকি। সবচুপৰরে বসেকেন? ওঃ আচ্ছ। বা কেন তুমি আমার বিয়ে বিয়ে করে পাগল হচ্ছ? তুমি তোমার অন্ধ ভালবাসায় মেয়ের রূপ না দেখতে পার ; কিন্ত লোকে কি বলে এই কালো কুৎসিৎ মেয়েকে ঘরে নিয়ে তুলবে? বল কালীজ্যাঠা তাই না?

কালিবাবু। কিন্ত মা গুণের কি কদর নেই?

হটামলী। (হাসিয়া) আছে। বই এর পাতায় আর বলার সময! বাবা তুমি চেষ্টা কোরে! না। আমি বেশ আছি। ভগবান করুন গানের চর্চা যর্দি আমাদের বজায় থাকে আমার আর কিছুরই প্রয়োজন হবে না। আমি স্বখেই থাকব।

মন্মথ। কিন্তু মা, বিয়েটাও যে দরকার।

শ্যামলী না হলেও অচল নয়। কিন্তু যদি এমন ঘরে বিয়ে হয় যারা গান ভালবামেনা হয়ত বিয়ের পর গান আমার বন্ধ হয়ে যাবে। উঃ! না না সে আমার সহা হবে না। আমি তাহলে পাগল হয়ে যাব। যাক এখানে করে আনব, না ভিতরে বসে গল্প করতে করতে খাবে।

বেহাগ

কালিবাবু। চল মন্মঘ। ভিতরেই যাওয়া যাক। (উভয়ে দরজা তেজাইয়া৷ ভিতরে গেল। কিছুক্ষণ পরে দরজার কড়া নাড়ার আওয়াজ। মন্থর প্রবেশ দবজ। খুলিয়া )

মন্মথ। কে, কাকে চাই।

নেপথ্যে এট। কি শ্যামলীর বাড়ী।

মন্থ। হ্্যা।

[ নেপথ্যে তিনি কি বাডীতে আছেন? ]

মন্থ। হ্্যা। ভিতরে আম্মন। (সমর দেবপ্রসাদের প্রবেশ) আপনারা বন্ুন। রেডিও ষ্টেশন থেকে এইমাত্র ফিরল

সমর আমরাও ভাবছিলাম যে দেখা হবেনা।

মম্মধ। আপনার কোথা হতে আসছেন?

সমর। আমরা পাইকপাড়ায় থাকি বিমলদার কাছ থেকে আসছি আমরা***

মন্ঘ। বিমল মানে বিমল চাটুজ্দে? (সমর ঘাড় নাড়িল ) বিমল ভালো আছে তো?

সমর হ্যা, আজ সকালেই তো তার সাথে কথাবার্ত! হয়েছে। এখানে আসবারও কথা আছে।

মম্থ। ও। শ্যামলীর সাথে রেডিও স্রেশনে যাবার কথা ছিল। কিন্তু যায় নি। তাই ভাবছিলাম অন্ুস্থ হয়ে পড়েছে কি না? আপনারা একটু বসুন শ্যামলী এখনই আসছে।

শ্যামলী (নেপথ্যে ) বাবা--।

মন্ধথ। যাই মা। একটু

বেহাগ

সমর হ্যা, আপনি যান আমাদের জন্য ব্যস্ত হতে হবে না, আমরা বসছি। ( মন্মথ ভিতরে চলিয়া গেল।)

সমর মনে হচ্ছে শ্টামলীদেবীর বাবা |

দেবপ্রসাদ মনে হচ্ছে।

সমর। সব কথাবার্তা তো আমিই করলাম। তুমি সাক্ষীগোপালের মত বসেছিলে। এবার শ্ঠামলী দেবীর সাথে কথাবার্তী সব তুমি বলবে আমি চুপ করে বসেথাকব।

দেবপ্রসাদ। না, না সে আমি পারব না।

(শ্তামলীর প্রবেশ )

হ্টামলী। নমস্কার। (উভয়ে দাড়াইয়া প্রতি নমস্কার করিল। শ্যামলী কয়েক সেকেও্ড দেবপ্রসাদের দিকে ষুগ্ধ দৃিতে চাহিয়া রহিল।)

সমর। আমরা আসছি বিমলদার কাছ থেকে

শ্যামলী বসুন, তিনি কোথায়?

সমর। এখানে আসবার কথা আছে।

শ্যামলী। তিনি নিজে না এসে, আপনাদের পাঠালেন?

সমর। কারণ প্রয়োজনটা আমাদের

হ্টামলী। ওঃ বলুন।

সমর। পাকপাড়াতে “নবোদয়' বলে আমাদের একটা ক্লাব আছে। আগামী ১ল! মার্চ তার বাংসরিক অধিবেশন সেই উপলক্ষ্যে আমরা ছুদিন ছুটে ফাংশান করছি। সেইজন্যেই আপনার কাছে আগা।

বেহাগ শ্যামলী সেই ফাংশানে আমাকে গাইতে হবে, এই তে|1 সমর। না, শুধু গাওয়া না, আর একট!1 কাজ আছে। শ্যামলী কিন্ত গান ছাড়া আমি তো আর কিছু পারি না। সমর। আগে শুনেই নিন। শ্যামলী। আচ্ছা বলুন। সমর। আমরা এবার একটা নতুন জিনিষ করব ঠিক করেছি। প্রথম দিন ছেলেমেয়েদের একট। গানের প্রতিযোগিতা হবে, দ্বিতীয় দিন জলসা।

শ্যামলী। খুব ভালে! কথা।

সমব। সেই প্রতিযোগিতায় তিনজন বিচারক থাকবেন। তাদের মধ্যে আপনি একজন।

হ্যামলী। আমি বিচারক! এসব কে ঠিক করেছে?

সমর। আমরাই ঠিক করেছি।

শ্তামলী। না, না আমি বিচারক হব কি? আমার বিচার কে করে তার নেই ঠিক, আর আমি হব বিচারক না, না দেখুন, আপনার! অন্য কাউকে ঠিক ককন।

দেবপ্রসাদ। আমরা ঠিক করে ফেলেছি।

শ্যামলী না, না, না।

(বিমলদার প্রবেশ। )

বিমল। এই যে তোমরা এসে গেছ। কি 'না না, করছিলি?

35 বেহাগ

শ্যামলী আচ্ছা! বিমলদা! এসব কি ব্যাপার

বিমল। কেন, ব্যাপারের কি আছে!

ব্ামলী। আমি হব গানের কমপিটিশনের বিচারক! তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে?

বিমল। না, এখনও হয়নি। তবে বেশী না নাকরলে হয়ে যেতে পারে৷ সেদিন অন্ত কোন প্রোগ্রাম নেই তো। কই দেখি ডাইরিটা। ( ডাইরী দেখিয়া ) না, নেই। অতএব ঠিক আছে। তুমি সেদিন বিচারক।

শ্টামলী। বিমলদা, দোহাই তোমার আমাকে অমন করে বিপদের মুখে ফেল না।

বিমল। ঠিক আছে। সেসব আমি বুঝব এখন।

শ্যামলী আচ্ছা শুনুন, আপনাদের তো ছুটে! প্রস্তাব। একট| বিচারক হওয়া, আর একট! পরদিন গানের আসরে গান গাওয়া আমন আধাআধি একট! রফা করা যাক।

দেবপ্রসাদ। দেখুন, আধাআধি রফায় আমি রাজি নই। আমি হয় পুরোটাই চাই, না হলে দরকার নেই।

শ্যামলী তবে, তবে আমাকে বাদই দিন।

দেবপ্রসাদ। না, আপনাকে আমাদের চাইই। হলে ফাংশান বন্ধ হয়ে যাবে।

শ্বামলী। বারে। আমার জঙ্ঘে ফাংশান বন্ধ করে দেবেন?

সমর। 'তা পারে। আপনার গানের ভীষণ ভক্ত কিনা।

শ্যামলী কিস্ত। দেখত বিমলদা কি ফ্যাসাদ।

বেহাগ ১১

বিমল। ফ্যাসাদ তো তুই বাধাচ্ছিস। সমর তোমরা যাও। প্রথম দিনের ফাংশানে গান গাইবে?

দেবপ্রসাদ। ব্যস এই তো হয়ে গেল।

বিমল না, না হয়ে গেল নয়। এরপর একদিন এসে কখন নিয়ে যাবে, ঠিক করে যেও। আর আআড ভান্সও করে যেও। আমি ঠিক করে দিলাম বলে বিন! পয়সায়-_-

দেবপ্রসাদ। না, না সেতবটেই। ২1৪ দিন পরে এসে আমি ঠিক করে যাব।

বিমল হ্যা, সেই ভাল। বেশ এবার তোমরা তাহলে যেতে পার। বাবস্থা তো ঠিক হয়ে গেল।

সমর আচ্ছা, আমরা তাহলে এবার-_-

শ্যামলী আচ্ছা! আম্মুন। (নমস্ক'র করিয়া উভয়ের প্রস্থান ।)

হ্যামলী। আচ্ছা, বিমলদা এটা কি হোল?

বিমল। কেন?

শ্যামলী মহা ফ্যাসাদ হবে। কি করতে কি করে বসব। দেখতো কাণ্ড

বিমল। ভয় পাবার কিছু নেই। শ্যামলী তোমাকে অনেক উ'চুতে উঠতে হবে। অনেক কিছু করতে হবে। ভয় পেয়ে পেছিয়ে গেলে তো ওঠা যায় না। চিরকালই কি রেডিওতে ছুটে! গান, ছুটো রেকর্ড, কয়েকট! ফাংশানে গান গেয়ে কাটবে? গানের ভিতর যত কিছু আছে সব তাতে €তোমায় যেতে হবে। সবের মধ্যেই তোমায় ঢুকতে হবে।

শ্যামলী কিন্তু তুমি তে! কখনও গানের কোন ব্যাপারেই

১২ বেহাগ'

এগিয়ে যাও না। ফাংশানে তুমি গাও না, তুমি রেকর্ড করাও না, রেডিওতে দাও না। গানের প্রতিযোগিতায় তুমিও তো! বিচারক হতে পারতে

বিমল। আরে আমার কথা আলাদা আমি যেদিন আসরে নামব সেদিন একেবারে শিখরে গিয়ে ববব। দেখন! সেদিন এল বলে।

শ্যামলী সব সময় ঠাট্টা ভাল লাগে না, বিমলদ!।

বিমল। ঠাট্টা নয়। লক্ষ যাবার ব্যবস্থা প্রায়'পাক। করে এনেছি তারপর দেখিস যাক্‌ এখন একটু চা খাওয়াবি?

শ্যামলী। তা না হয় খাওয়াচ্ছি। কিন্তু-_-

বিমল। কোন কিন্তু নেই। এতো! সামান্ত ব্যাপার এমন একদিনও তে! আসতে পারে যেদিন আরো বড় বিচারক তোকে হতে হবে। তার জন্তেও প্রস্ততি দরকার তারই একট! ছোট ধাপ। আমার উপর বিশ্বাস রাখতে দেখি।

শ্যামলী। তা, তাতো আছে।

বিমল। বাস্‌ তাহলেই হবে। এবার ওঠ, চা-টা কর।

[ শ্যামলী যাইতে যাইতে থমকিয়া ধাড়াইয়া ]

শ্যামলী আচ্ছা বিমলদা, ওই ফসর্ণমত সুন্দর চেহার! 5দ্রলোক ওকে আগে কোথাও দেখেছি?

বিমল। বারে! তা আমি কি করে বলব। কেন বলত?

হ্যামলী। না এমনি দরজাটা বন্ধ করে দিয়েভিতরে এস। বাবা আর কালী জ্যাঠা ভিতরে আছেন।

(ভিতরে চলিয়া! গেল, দৃশ্য পরিবর্তন )

দ্বিতীয় দৃশ্য

[ক্লাব ঘর। বারের বলিয়া আছে। নিতাই নাষে একটি ছেলের প্রবেশ]

বীরেশ্বর। এস নিতাই।

নিতাই। একি! আর কেউ আসে নি এখনও?

বীরেশ্বর। সবাই তো তোমাদের মত। তোমাদের এক একটিকে নিয়েই তো! সবাই। সুতরাং নিজেকে বিচার করলেই সবাইএর ধরণ বোবা যাবে। তা তোমাদের আর কি বলব, সেক্রেটারীই সময়ে আসে না।

নিতাই সমরদার সাথে রাস্তায় দেখা হোল, আসছেন।

বীরেশ্বর। বলি হা! হে নিতাই, ফাংশানের হিসাব পত্তরটা মোটামুটি বলতে পার?

নিতাই। বাঃ বেশ বল্লেন তো! আপনি.জানেন না তো আমর! জানবো কোথ। থেকে?

বীরেশ্বর দেখ, এসব কথার কোন মানে হয় না। 'তুমিও এখানকার মেম্বার আমিও মেম্বার; তোমাদের সেক্রে- টারী ও। সে জানবে অথচ আমি জানব না; তুমি জানবে না। এর কোন মানে হয়?

নিতাই। তাতে! বটেই। হিসাবট। তৈরী করা উচিৎ

বীরেশ্বর। তা সেটা আগে হয় নি কেন? সবই কি আমার মনে করে দিতে হবে? এরপর লোকে যদি বলে

১৪ বেহাগ

হারে নেতাই এই ফ্যাংশানটায় কটা স্থ্ুটের পয়সা হোল? কি জবাব দেবে বাপু? লোকে যদি সন্দেহে করে তবে তাদের তো! দোষ দিতে পারি না।

নিতাই। না, সে তে! বটেই তবে সমরদা যখন এর মধ্যে রয়েছেন-_

বীরেশ্বর। নিতা্, ছেলেমানুষ তোমরা ছুনিয়ায় কতটুকু দেখেছ? অনেক দেখেছি হে, অনেক দেখেছি এর নাম টাকা পয়সা টাক! পয়স! দিয়ে ছেলে বাপকে বিশ্বাস করে না, বাপ ছেলেকে বিশ্বাস করে না। স্বামী বিশ্বাস করে বাক্সের চাবি স্ত্রীর হাতে তুলে দেয় না। আর এই রাম, শ্টাম, যোদো, মেধো সমরদাকে বিশ্বাস করবে ! বিশ্বাসটা সোজ। কথ। নয় হে।

নিতাই তা তে। বটেই। সমরদা আম্মুক বলব।

বারেশ্বর। বলবে বৈকি। না হলে সব কথাই যদি আমি বলি, সমর আবার কি ভাববে! হাজার হোক বন্ধু লোক।

(গোপালের প্রবেশ )

বীরেশ্বর। এই যে গোপাল, এস।

গোপাল আর এস। এদিকে ব্যাপার শুনেছে তো? নিতাই। ব্যাপার! কিসের?

গোপাল আর কিসের।

বীরেশ্বর। আর বলতে হবে না, ওতো আমি জানি

বেহাগ ১৫

গোপাল জানতে ?

বীরেশ্বর। জানতৃম না! বাবা ঘাসে মুখ দিয়ে তো আর বয়স বাড়েনি। আমি আগেই জানতুম। নিতাইকে তো সেই কথাই বলছিলাম

গোপাল আমি জানতুম। নেহাৎ ফাংশানটায় গোলমাল না হয় তাই তখন চুপ মেরে গিয়েছিলুম !

বীরেশ্বর। এই! আমারও এই কথা: ফাংশানটায় গোলমাল না বাধে তা তোমাকে বললে কে?

গোপাল। আমাকে বলে অনন্ত।

বীরেশ্বর। অনস্ত! অনন্ত আবার কি বললে?

গোপাল। অনস্তকে সুধীর বাবু বলেছেন।

বীরেশ্বর। সুধীর বাবু বলেছেন? নাও আর এক ফ্যাসাদ।

নিতাই। ফ্যাসাদের কি হোল? আপনি তো! জানতেন বল্লেন।

বীরেশ্বর। আঠ থাম তো বাপু। ন্ুধীর বাবু কি বলেছেন তাই বল।

গোপাল। কি আবার, বলেছেন যে পাড়ার ছেলে তোমরা, তোমাদের সাথে আমার অন্য অন্বন্ধ। তা বলে তোমর! শুধু একজনকে নিয়ে হৈ হৈ করবে; আর আমরা অনাহুতের মত মুখ বুজে বেড়াব বলি আমাদেরও তো৷ একটা গ্রে আছে।

বীরেশ্বর। নিশ্চয়ই আছে। আলবং আছে। ফাংশানে

বেহাগ

বিচারক যেন এক! শ্যামলীদেবীই এসেছে হু, এতো! আমি জানতুম।

নিতাই। কিন্তু আপনি তে! অন্য কথা বলছিলেন

বীরেশ্বর। আঃ থাম তে! বাপু। কথাটা! সমরকে বলো।

গোপাল। বলব বৈকি! তারা শ্যামলীদেবীকে নিয়ে হৈ হৈ করবেন, গাড়ি করে নিয়ে আসা দিয়ে আসা তার পেছন পেছন ঘুরে বেড়ান_-কত কি। আর সব যেন কেউ না।

নিতাই তা সে তো সমরদা নন, দেবুদাই-_

বীরেশ্বর। থাম তো৷ দেখি। দেবুই করুক আর সময়ই করুক বদনাম তো আমাদের সবাই এর।

গোপাল। তবে! বরং বদনামট! আমাদের বেশী। দেবুর পয়সা আছে, বড়লোক লোকে তাকে তো৷ বলতে সাহস করবে না। বলবে আমাদেরই আর দেবুরও বুঝি না, ওই মেয়েটার পেছনে ঘুর-ঘুর করার কি যে আছে'

বীরেশ্বর। বুঝবে, ধীরে ধীরে সব বুঝবে।

গোপাল। সে আমার বুঝে দরকার নেই। কিন্তু এই বদনামটা1! মিছিমিছি আমাদের ঘাড়ে চাপল এরপর কোন কিছু করতে গেলে আর কি ওদের সাহায্যে পাওয়া যাবে।

( সমরের প্রবেশ 1)

বীরেশ্বর এই যে সমর, শোন? শোন আমাদের কথাতো। গায়ে লাগেনা, এবার সামলাও

€বেহাগ ১৭

সমর। কেন কি হোল আবার ?

দেবপ্রসাদ। তোমাদের দেবুর কাণ্ড

সমর। দেবুর কাণ্ড! কি করেছে?

গোপাল। ওই যে শ্যামলীদেবীকে নিয়ে হৈ হৈ করা। সুধীরবাবু ক্ষেপেছেন

সমর। ওঃ।

বীরেশ্বর। ও? ব্যাস হয়ে গেল। বলি তাদের মান সম্ভ্রম নেই? শ্যামলীদেবীকে ঘন ঘন চা খাওয়ান, নিয়ে আসা, নিয়ে যাওয়া শ্যামলী যেখানে যাচ্ছে, উঠছে তোমরা তার সাথে সাথে উঠছ, বসছ। আর অন্ত সবাই যেন বানের জলে ভেসে এসেছেন। বলি তাদের কি প্রেষটিজ নেই একটা তার মনে করবে না।

সমর দেখ বীরু নিন্দে কর! স্বভাব যাদের-_

গোপাল। নিন্দে করা স্বভাব মানে! কি বলতে চাও তুমি! স্ৃধীর বাবুর নিন্দে কর! স্বভাব তোমাদের বদি এই ধারণাই থাকে তবে তাকে আনলে কেন ?

সমর। সে কথা নয়। তবে স্ুধীরবাবুর যে দোষটা! একটু আছে, সেট! তুমি অস্বীকার করতে পার না।

গোপাল বা% বা বাঃ দোষ হলো ন্ুধীরবাবুর অপূর্ব। অন্যায় করলে তোমরা, কোথায় সে অন্যায়টা মাথ! হেট করে স্বীকার করে নেবে, তা নয় উল্টে স্ুধীরবাবুর দোষ !

সমর। কিন্ত দেবু এমন কিছু করেনি যার জন্যে

দেবব্রত দেবু তোমার বন্ধু, তুমি তো! একথা বলবেই।

১৮ বেহাগ

কিন্তু তুমি কিছু বল আর নাই বল লোকের মুখ তো আর চাপা থাকে না।

সমর। কেকি বলে না বলে-_

গোপাল। ম্ত্ধীরবাবু কে কি হয়ে গেল--বাঃ!

বীরেশ্বর। থাক্‌ থাক্‌ নিয়ে চটাচটি করে তো আর লাভ নেই। একট। অন্যায় যখন হয়ে গেছে।

সমর। অন্যায় হয়নি। শ্যামলীদেবী এই প্রথম এলেন আমাদের ফাংশানে। তারপর মহিল!। আর স্ুধীরবাবু ঘরের লোক। ম্ৃতরাং__

বীরেশ্বর। সেটা অবশ্য ঠিক। শ্যামল দেবী যখন মহিলা তা যাকগে স্ুধীরবাবুর কাছে একবার গিয়ে ব্যাপারটা ন! হয় বুঝিয়ে বলে এস যে এটা দেবুর ব্যক্তিগত ব্যাপার। ওর সাথে আমাদের জড়ানে! উচিৎ নয়। কি বল হে গোপাল। তাহলেই তে। মিটে যায়, কেমন?

গোপাল। জানি না, তোমরা! যা ভালো বোঝ কর। আমার কাজ খবরট! পৌছে দেওয়া ব্যস্‌ আমি উঠলাম।

বীরেশ্বর। উঠলাম কিহে! এই তে। এলে।

গোপাল। না, ন'টার শোতে টিকিট কাটা আছে। বীরেশ্বর। তাহলে কাল একবার এসো। একটা ঠিকঠাক করে--।

গোপাল সেতোমর! যা হয় কর।

[ প্রস্থান? বীরেশ্বর। গোপাল রেগে গেছে।

বেহাগ ১৯

সমর। যাকগে।

বীরেশ্বর। কথ! বলতে নেই সমর। তুমি সেক্রেটারী মানিয়ে বুঝিয়ে চলতে হবে তবে স্ুুধীরবাবুরও একটু দোষ আছে। সে যাই হোক। একদিন গোপালকে সঙ্গে নিয়ে বলে এস। সময়ে অসময়ে লাগে তো। কারে সাথে অকারণে মন কষাকষি করে লাভ কি? তা তোমার এত দেরী হলো?

সমর আসছিলাম ঠিক সময়েই ওই লেমনেড ওয়ালার হিসাব নিয়ে একটু গোলমাল ছিল। সেটা মিটিয়ে এলাম আর কেউ আসেনি?

বীরেশ্বর। তবে আর বলছি কি। জাতের কিছু হবে না। সব তাতে লেট। সকালে উঠবে লেটে, ক্লাবে আসবে লেটে, এমন কি মরবে তাও লেটে। তারপর নিতাই কি বলছিলে যেন।

নিতাই। ইয়ে মানে সমরদা-অনেকদিন হয়ে গেল। এবার-ওই-_

সমর--কী?

নিতাই। না মানে হিসেবটা।

সমর। কিসের? ফাংশানের !

বীরেশ্বর। সেদিন কে যেন, কে যেন, বোধ হয় সদানন্দ- বাবু। নাঃ বোধ হয় জগদীশবাবু নাঃ। হ্যা, হ্যা মিঃ দাস, মিং দাস।*'মিঃ দাস কি?

সমর। হাক গে, যাই হোক ব্যাপারটা কি?

বীরেশ্বর। হা, তাতে কি এসে বায়। সে বলছিলো!

২০ বেহাগ

ওহে বীরেশ্বর ফাংশানের কি রকম খচর-পত্তর হলো ? আসলে প্রশ্নটা কি বুঝেছে সমর? আসল প্রশ্নটা! হচ্ছে, ওহে তোমরা কর্মকর্তারা কে কি রকম সরালে 1? আরে আমরা চালের ভাত খাই, বুঝি।

সমর হিসেবটা করে ফেলতে হবে।

বীরেশ্বর। এখনও করনি? দেখ তো কাণ্ড!

সমর। করবকি? এক গাদা টাক! দিয়েছে দেবপ্রসাদ অবশ্য কিছু টাক! ফেরৎ দিতে পারবো

বীরেশ্বর। দিও পরে। আগে হিসেবটা করে নাও। বোঝ না পাবলিকের কাজ। বারভূতের মাথা একেবারে শয়তানের রাজত্ব কোথা থেকে কি কথ! উঠবে। আরে আমর! তো তোমাকে চিনি এক কাপ চাও ফাণ্ডের পয়সায় খাও না। কিন্ত পাবলিক যেকি বস্ত দেবা জানস্তি কুতো মনুষ্যাঃ |

নিতাই। দেবুদার টাকাট। শোধ দিতে হবে?

বীরেশ্বর। আমিও ভাই ভাবছিলুম

সমর। না, না যতটা পারি শোধ দিয়ে দেব। বিপদে আপদে চেয়েছি তাই দিয়েছে

বীরেশ্বর। দেবে বৈকি। দেবেনা? টাকা পয়সা আছে, প্রাণে শখ আছে। টাক! দেবে না? হা হে দেবপ্রসাদ আজ- কাল গান শিখছে নাকি ?

সমর। গান!

নিতাই। দেবুদা গান শিখছে?

বেহাগ ২১

বীরেশ্বর। জানি না ঠিক। তবে আজকাল নাকি ঘনঘন শ্যামলীদেবীর বাসায় যাতায়াত করছে। তাই ভাব- ছিলাম--।

সমর না, না, সে এমনি

বীরেশ্বর। এমনি! এমনি মানে। পৃথিবীতে এমনি কিছু হয়? কি হে নিতাই তোমাদের বিজ্ঞানে কি বলে? এমনি কিছু হয়? প্রতিটি ঘটনার পেছনে কাধকরণ সম্বন্ধ থাকে। তোমাদের শ্যামলীদেবী কোকিল-কোন্টি হতে পারেন কিন্ত--।

সমর আঃ! বীর একজন ভদ্রমহিল! সম্বদ্ধে ওরকম আলোচন! কর! উচিৎ নয়।

বীরেশ্বর। গায়ে লাগলো 1? তোমাদের নিয়ে হয়েছে মহা ফ্যাসাদ।

সমর। কিন্তু গানের তুলনা হয় না। আর কত সরল বল তো।।

বীরেশ্বর। গানটি যে ভালো জানে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই তবে সরল না কি বললে বুঝতে পারি নি।

নিতাই। না, ন1 খুব সরল গ্রকৃতির। একটুও দেমাক নেই।

বীরেশ্বর। হতে পারে, অস্বীকার করছি না। মানে বলছি আমরা ওট! বুঝবার সুযোগ পাইনি ঘারা নিকটে ছিল তারাই ওটা বুঝবে ।*-"তাহলে তুমি বলছ দেবু গান শিখছে না?

সমর। না, না।

বেছাগ

বীরেশ্বর। তাহলে শ্টামলীর বাড়ীতে ঘনঘন যাতায়াতের কারণ কি? এটা ভাবা দরকার

সমর আহা! বল্লাম তে! গান ভালোবাসে, তাই

বীরেশ্বর। সব যুক্তির কোনে মানে হয় না। সেক্সগীয়র বলেছে যে গান ভালবাসে না সে মানুষ খুন করতে পারে। আমরা যখন মানুষ খুন করিনি, তখন নিশ্চয়ই গান ভালবাসি কীবাসিনা?

নিতাই নিশ্চয়ই বীরেশ্বর। কিন্তু কই আমরা তো শ্ামলীদেবীর বাড়ী

যাচ্ছি না। কিহেনিতাইযাচ্ছি?

নিতাই। কই নাত।

বীরেশ্বর। তবে? আমার গান ভালে! লাগে বলে বাড়ী পর্যস্ত ধাওয়া করতে হবে যুক্তির কোন মানে হয়? ধর কলকাতায় লক্ষ লোকের বাস। বালক, বালিকাও গান গালবাসে না এমন খুনে সব নিয়ে ধর ৫* লক্ষ: আচ্ছা ষাট লক্ষই ধর, ঠিক আছে ৭* লক্ষই ধর না, কেমন 1 এই ৭০ লক্ষ বাদ দিলে থাকছে ১০ লক্ষ কেমন? এই দশ লক্ষ গান ভালবাসা লোক যদি এই ৫০৬০ জন : আচ্ছা! ধর ১** জন গায়ক গায়িকার বাড়ীতে যাতায়াত আরম্ভ করে- ওরে সর্বনাশ, কী ভয়াবহ কাণ্ড।

নিতাই। বীরুদার হত আজগুবি কথা

বীরেশ্বর। আজগুবি কথ! হোল? শ্রেফ অঙ্ক। কিহে সমর বলনা, আজগুবি ?

বেহাগ ২৩

সমর নাঃ তা নয় তবে দেবপ্রসাদ--

বীরেশ্বর। তা সে যাগগে। বড় লোক মানুষ, খেয়াল হয়েছে খেয়াল চরিতার্থ করে নিক। তবে বিপদ না বাধায়।

সমর বিপদের আবার কি আছে !?

বীরেশ্বর না, বিপদের কিছু নেই। তবে আর্টিস্ট হচ্ছেন জনসাধারণের সম্পত্তি, ধর তোমাদের দেবপ্রসাদবাবু যদি তাঁকে নিজস্ব সম্পত্তি করবার বাসনা মনে মনে পোষণ করেন তবে একটা ভয়াবহ কেমিক্যাল রিয়্যাকশন হতে পারে এবং সেটা স্থখের নাও হতে পারে।

সমর। যাগগে তার ভাবনা! সে ভাবুক। ( বিমলের প্রবেশ ) আরে বিমলদ| আম্মন, আন্মুন

বীরেশ্বর। কি সৌভাগ্য আমাদের বস্তুন।

নিতাই সমরদা আমাদের তরফ থেকে বিমলদাকে একট! ০০০ ০0: 1129171 দেওয়। উচিৎ

বীরেশ্বর। কোন মানে হয় না। বিমলদ। কি আমাদের পর? কি বলুন বিমলদা 1

বিমল। ফাংশানটি যে ভালোয় ভালোয় মিটে গেছে সেইটেই আমাদের সকলের বড় থ্যাক্কমা। কি বলহে সমর।

সমর। তাঠিক। কবে যাচ্ছেন আপনি?

বিমল। ঠিক নেই। একদিন হট করে চলে গেলেই হোল।

সমর। কবে ফিরছেন আবার !?

বিমল। তাও ঠিক নেই।

বেহাগ

বীরেশ্বর। কোন মানে হয়, ঠিক নেই মানে?

বিমল ঠিক নেই মানে, ইচ্ছে আছে ১৪ বছর ওখান থেকে একেবারে কিছু একটা হয়ে তারপরে ফিরব। একটা সঙ্গীত সম্রাট টভ্রাট উপাধি না নিয়ে আর ফিরছি না

নিতাই আচ্ছি! বিমলদা, আপনি ফাংশানে গান না কেন?

বিমল। ফাংশানে গাইবার মত বিছ্বে এখনও হয়নি বলে।

নিতাই। যাঃকি যে বলেন।

বিমল। দেখ, গান বাজনা লোকে শেখে দশজনকে শোনাবার জন্তে থিয়েটার যেমন লোককে দেখাবার জন্যে। ্বতরাং ষদি শিখেই থাকি তবে সবাইকে শোনাব না কেন? শুনতে চাওয়াও যেমন তোমাদের দাবী শোনাতে চাওয়াও তেমনি আমাদের দাবী। শেখ! হয়ে গেলে যদি তোমরা তখন শুনতে না চাও বা শোনাতে ন! দাও তবে “আমাদের দাবী মানতে হবে" বলে ঝাণ্ডা নিয়ে বেরিয়ে পড়ব। কিন্তু কি শোনাব ? আগে শিখেই নি।

বীরেশ্বর। উহঃ পরিক্ষার হোল ন!।

বিমল। আসলে কি জান? আসলট! পোক্ত করে নিতে চাই। যাতে কৃপা প্রার্থী না হতে হয়। শোনাব কি আগে শিখে আমি।

নিতাই। তখন কি আর আমাদের চিনবেন ?

বিমল। হা হাঃ হাঃ।

বেহাগ ২৫

সমর। সেদিন শ্যামলীদেবী গানে মাত করে দিয়েছেন। যেমন গলা, তেমনি দরদ, তেমনি সুক্ষ কাজ।

বীরেশ্বর। যা বলেছ। দরদট! যেন উথলে পড়ছিল

বিমল। আমি বলে রাখছি সমর তোমরা দেখে নিও একদিন কত বড় নামকরা গায়িকা হবে গানের ভিতর দিয়ে অমর হয়ে থাকবে

বীরেশ্বর। যদি এর মধো হট করে একটা বিয়ে থানা করে বসে।

বিমল। না তাতে বিশেষ ক্ষতি হবে না। অবশ্য বলাও যায় না। তারপর দেবপ্রসাদের খবর কি? র্লাবে আসে তো?

বীরেশ্বর মাঝে, মাঝে। আজকাল-_। [ সমর ইঙ্গিত করিল বীরু চুপ করিয়া গেল। ]

বিমল। আরে সেদিন--বোধহয় পরশু ওকে শ্বামলীর ওখানে দেখলাম

বীরেশ্বর। দেখলেন না? সেইটিই তো আমি বলতে যাচ্ছিলাম। কোন মানে হয় না।

বিমল। শ্যামলীর গানের বড় ভক্ত হয়ে পড়েছে।

বীরেশ্বর শ্যামলীর ও।

বিমল। হ্যা। আচ্ছা দেব্প্রসাদের বংশে কারও গান বাজনার শখ ছিল কি?

সমর। শুনি নি। বীরেশ্বর বংশে এই প্রথম ঢুকবে মনে হয়।

বিমল। দেবপ্রসাদ বিয়ে থা করেনি না?

২৬ বেহাগ

সমর। না।

বীরেশ্বর এইবার করবো করবো হয়েছে

বিমল! ঠিকঠাক হয়েছে নাকি?

বীরেশ্বর ঠিক ঠিকঠাক হয়নি, বলছিলাম যে ব্যবসায় স্থিতি হয়ে বসেছে বয়স হয়েছে আর মনে যখন গানের রঙ ঢুকেছে তখন [ সকলে হাসিয়া উঠিল ]।

সমর। বিমলদা, একটু চ! খাবেন ?

বিমল। এত রাত্রে? না, আর আমাকে এবার উঠতে হবে। আবার কবে দেখা হবে কে জানে, সবার সাথে একটু দেখাশোনা করে নিতে হবে তো। উঠি কেমন? [ উঠিয়া দাড়াইল ]

সমর | চিঠি টিঠি দেবেন।

বিমল। ওটি বলতে পারছি না। অভ্যাসট! প্রায় নেই বললেই চলে খোজ খবর পাবে। খবরের কাগজে নামটাম বেরুবে তো। [ হাসিয়। উঠিল ]

[ বিমল বাহির হইয়! গেল। সকলে দরজ। পর্যস্ত আগাইয়৷ দিল। ]

নিতাই। একটা অদ্ভুত লোক বিমলদা, না?

সমর। বড় খাটি লোক।

বীরেশ্বর খাঁটি লোক মানে? দেবগ্রসাদের ব্যাপারটা কেমন দেখ চট করে বুঝে নিয়েছেন

সমর। দেবপ্রসাদ তোমার ঘাড়ে ভূতের মত চেপে বসেছে

৫বহাগ ২৭

বীরেশ্বর। তোমাদেরও চাপত। কিন্তু তোমরা একেবারে কোলে টেনে নিয়েছ যে।

দেব্প্রসাদের প্রবেশ।

বীরেশ্বর। আরে দেবু যে, এস, এস, এস।

দেবপ্রসাদ। আপ্যায়নট! বড় বেশী হচ্ছে যেন।

বীরেশ্বর। হবে না, তুমি আজকাল গণ্যমান্ ব্যক্তি

দেবপ্রসাদ | কবেথেকে?

বীরেশ্বর যবে থেকে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে ওঠা বসা, ঘোরাফেরা করছ।

দেবপ্রসাদ। ওহোঃ-_.

সমর। বাঁকা কথা ছাড়া সোজা কথ বীরেশ্বর বলতে পারে ন1।

বীরেশ্বর। সমর তোমার সোজা কথাটা যে আমার বাকা কথার থেকে মারাত্বক দেখ সোজা আমরা কি আর বলতে জানি না, জানি ; তবে কি জান তোমরা! কাজ কর্মগুলে! করোই এমন বাক! আমাদের সাধ্য কি যে তাকে সোজা করে বলি।

দেবপ্রসাদ। কেন বাপু, বাক কাজ আর কি করলাম?

বীরেশ্বর। ওই, ওই আর এক বিপদ। মনেওহয় ন! কাজটা বাকা ত৷ বাপু আজকাল রোজ সন্ধ্যায় কোথায় যাওয়া হয়।

দেবপ্রসাদ। অফিসে থাকি, এখানে আসি, বন্ধুবাদ্ধবদের বাড়ি ষাই ; যেমন আগে যেতাম

২৮ বেছাগ

বীরেশ্বর | বন্ধু-বান্ধব বলতে কাকে কাকে মীন 'করছ? যাঁকগে সোজা কথায় বলি ।--কি বলব?

সরোজ। বল না।

বীরেশ্বর। বলি শ্যামলীদেবীর ওখানে যাও না?

দেবপ্রপাদ। এই কথা? যাই বইকি।

বীরেশ্বর ঘন ঘন যাও?

দেবপ্রসাদ ঘন কি পাতল! জানি না, তবে যাই।

বীরেশ্বর। একদিন যেতে না পারলে মন ছটফট করে? [ দেবু হাসিয়া! উঠিল ] হাসি নয়। বাপু অনেক দেখেছি, অনেক জেনেছি-_

সরোজ। বটে! কতবার প্রেমে পড়েছ হে?

বীরেশ্বর। এই দেখ কথায় কথায় আজগুবি সর কনর্লুসন টান। মানে দেখে দেখে জেনেছি আর কি?

দেবপ্রসাদ তারপর ?

বীবেশ্বর না, তাই বলছিলাম যে প্রেমে পড়ার লক্ষণ টক্ষণগুলো আমরা বুঝি

দেবপ্রসাদ যাঁক, তাহলে বুঝে ফেলেছ। কিন্তু আমি

নিজে তে। কিছুই বুঝতে পারছি ন|।

বীরেশ্বর ওই তে! রোগের বড় লক্ষণ আর সবাই বুঝবে কিন্তু তূমি বুঝবে না।

সরোজ। থাক, বীরেশ্বর, সব আলোচন। থাক। সব' ওদের ব্যক্তিগত ব্যাপার আমরা কেন---

বীরেশ্বর না, না ব্যক্কিগত ব্যাপার তো বটেই, তবে-_-

বেহছাগ ২৯

দেবপ্রসাদ। তবে শোন বলি বীরেশ্বর, তোমরা যা ভাবছ তানয়। শ্যামলীর সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। হয়ত আমার তরফ থেকে আগ্রহটা একটু বেশীই হয়েছে। কিন্তু শ্যামলী সবের অনেক উর্ধে। তার কাছে শুধু গান আর গান। গান ছাড়া অন্ত কোন জ্ঞান নেই তার। সেই বুহ ভেদ করে তার মনের কাছে এগুনে! সাধ্য কি।

বীরেশ্বর। তাইতো বলছি যে মিছিমিছি ওদিকে আর এগিও ন1।

দেবপ্রসাদ। কিন্তু বীরেশ্বর মুস্কিল কি জান! যেখানে যত বাধ সেখানে মনের আকর্ষণও তত বাড়ে। জিদের ব্যাপার 'কিনা।

সরোজ। বিশেষ করে তোমার পক্ষে

দেবপ্রসাদ। [ হাসিয়া ] তাই বটে।

বীরেশ্বর। আকর্ষণটাকে এবার তবে কমাও।

দেবপ্রসাদ। কমাব কিহে? আমি তো বাড়াব ভাবছি। "ওর ওই গানের সাথে আমি একটা ডুয়েল লড়ব ঠিক করে ফেলেছি দেখিকে জেতে কেহারে?

সমর। কি বলছ তুমি দেবপ্রসাদ।

বীরেশ্বর। পুরুষ মানুষের মত কথাই বলছে। মন যখন একজনকে দিতে চেয়েছে তখন বাধা কেন মানবে একেই বলে পুরুষ সিংহ

দেবপ্রসাদ। তুমি যাভাবছ ঠিক তা নয় বীরেশ্বর। মন দেওয়া! নেওয়ার ব্যাপার ট্যাপার কিছু নেই। ঈশ্বর টির

৩০ বেছাগ সময় ওকে ছুটো জিনিষ দেয় নি। এক রূপ আর এক প্রেম।

বীরেশ্বর। বলকি! প্রেম ছাড়া কি মানুষ হয়।

দেবপ্রসাদ। থাকলেও সে ফন্তু ধারার মত অদৃশ্য)

বীরেশ্বর। তাকে খুড়ে বের কর। যে জলে পিপাসা মেটে না সে জলের সার্থকতা কোথায় ?

সরোজ। ঠিক বলেছ। একটা মোক্ষম কথা বলেছ বীরেশ্বর যে জলে পিপাসা মেটে না, সে জলের সার্থকতা কোথায়।

[ সকলে হাসিয়! উঠিল] মঞ্চ ঘুরিল।

তৃতীয় দৃশ্টয।

[ বিমলের বাড়ী। বিমল যাইবার আয়োজন করিতেছে শ্যামলী বসিয়!। ]

বিমল। মুখ গোমড়! করে বসে থাকিস না-_কথ! বল।

শ্টামলী। বিমলদা আমার ভারী খারাপ লাগছে।

বিমল তবে কি তুই চাস আমি লক্ষৌ যাওয়া বন্ধ করে এখানে বসে থাকব ?

শ্যামলী না, তা বলছি না। কিন্তু আমার ভয় করছে বিমলদা

বিমল। ভয় করছে! কিসের ভয়?

্যামলী। আমার যেন মনে হচ্ছে তুমি চলে গেলে আমার গান বন্ধ হয়ে যাবে।

বিমল। সব ছেলেমানুষীর কোন মানে হয় না।

স্যামলী। হয়ত হয় না। কিন্তু সত্যিই আমার তাই মনে হচ্ছে।

বিমল। তোর তো সব তাতেই ভয়। প্রথম রেডিওতে প্রোগ্রাম করবার সময় ভয়ে তো৷ কান্নাকাটি আরম্ভ করেছিলি মনে আছে? তারপর রেকর্ড করার প্রোগ্রাম তো একবার ক্যান্সেল করতে হোল কিন্তু এখন আর ভয় করে?

শ্যামলী তা করে না কিন্তু---।

বিমল। এতে আর কিস্তর কিছু নেই। প্রথম প্রথম অনেক কিছুতেই অমন ভয় ভয় করে; পরে সব ঠিক হয়ে যায়।

৩২ বেহাগ

শুধু একটা কথা মনে রাখবি তোকে অনেক বড় হতে হবে। অনেক উঁচুতে উঠতে হবে। দেখবি তাহলে সব ভয় কেটে যাবে

শ্যামলী সব বুঝতে পারছি বিমলদা কিন্ত--

বিমল। আমি যখন শিখি আমার তো৷ কেউ ছিল না। কোন দাদাই আমাকে সাহায্য করেনি। কত বাধা এসেছে কত হছধোগ এসেছে কিন্তু আমি একট! সত্য ঠিক করে রেখে- ছিলাম যে আমাকে শিখতে হবে। ঈশ্বরের দয়ায় আজ তাই তো কিছু শিখেছি।

শ্যামলী বিমলদা আজ তোমাকে সেই কাহিনী বলতেই হবে।

বিমল। কোন কাহিনী ?

শ্টামলী। কেন ফাংশানে গাঁও না, কেন তুমি রেডিওতে গাঁও না, কেন তুমি রেকর্ড কর না।

বিমল। বলেছি তো! গুরুর আদেশ নেই।

শ্তামলী। কে সেই গুরু যিনি তোমাকে এত কঠিন আদেশ দিয়েছেন? কেন দিয়েছেন? তুমি কি কখনও বাইরে গাইতে পারবে না?

বিমল। পারব। লক্ষৌএর শিক্ষা যদি পূর্ণ হয়, গুরু যদি বলেন তাহলেই পারব।

শ্টামলী। কিন্তু কাহিনী আজ তোমাকে বলতেই হবে

বিমল। ফিরে এসে বলব।

হযামল। না, আজই বলতে হবে।

বিমল আজই |

বেহাগ ৩৩

ব্টামলী | হ্যা।

বিমল। বেশ তবে শোন। কিন্তু কথ! দে কাউকে বলবি না।

শ্যামলী কাউকে বলব না, বিমলদা-_-কথ। দিচ্ছি-_

বিমল। সে আজ প্রায় ৮৯ বছরের কথা। কেবল একটু একটু গানের চর্চ। শুরু করেছি। যে শোনে সেই বাহবা দেয়। কিন্ত ভাল গুরু মিলছিল ন1 যে যু করে শেখাবে একদিন রাত প্রায় গোটা এগারট! হবে--একটা বস্তীর পাশ দিয়ে যেতে যেতে শুনি কে একজন তন্ময় হয়ে ঠৃংরি গেয়ে চলেছেন আর চার পাচজন তাকে ঘিরে বসে আছে থমকে দাড়িয়ে পড়লাম মনে হল বড় সাধারণ লোক নয় গান শেষ হলে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম উনি কে! বললে ওস্তাদ আমীর খা। সঙ্গে সঙ্গে বুড়ো বলে উঠল, “ওস্তাদ নহি, ওস্তাদ নই, শিরফ আমীর খা।” শুনে একটু অবাক হলাম, নামটাও শোনা কিন্তু ওই বস্তিতে ওইভাবে ঠিক তেমন যেন মনে ধরল না। অথচ যা শুনছি তাও ভূলতে পারছিলাম না। পরের দিন ২৪ জনকে জিজ্ছেস করলাম সবাই একবাক্যে বল্লে, হ্যা, ওস্তাদ এখনও বেঁচে আছে। তবে আজকাল আর গায় না, কাউকে শেখাও না। এমন কি কোথায় ষে থাকে তা কেউ জানে না।*

্টামলী। বল কি! অমন একজন গুণী লোক অথচ লোকে জানে না তিনি কোথায় থাকেন।

বিমল। তাই হয় রে, তাই হয়। লোকের চোখের আড়াল থেকে তুমি সরে যাও তোমাকেও ভূলে বাবে তারপর

৩৪ বেহাগ

শোন্‌, একদিন রাত্রে তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হলাম, বল্লাম শিখতে এসেছি।” বুড়ো! তো! রেগেই অস্থির যাচ্ছে তাই বলে গালাগাল দিতে শুরু করলেন। কিন্তু আমি কি নডি, বসেই রইলাম শেষে বিরক্ত হয়ে বল্লেন, বেশ রাজি, শেখাব, কিন্তু এক শতে। হাতে যেন স্বর্গ পেলাম। ভাবলাম এমন কি আর শত দেবে বুড়ো, বল্লাম “রাজি “গানের নামে শপথ কর”--তাই করলাম

*্টামলী। কি সে শত?

বিমল। শত কোনদিন কোন জনসভায় বা সভায় গাইতে পারব না, রেডিওতে বা রেকর্ডে গান দিতে পারব না।

শ্যামলী বল কি বিমলদা! এত বড় শে তুমি রাজি হলে?

বিমল হলাম, তখন শেখবার আনন্দে মশগুল ওটা ভাবিই নি। তারপর থেকে সুরু হোল শিক্ষা শ্যামলী, একট! ছেলে যার গানের কোন জ্ঞানগম্যি নেই তাকে নিয়ে বুড়ো আহার নিদ্রা ত্যাগ করে পড়ে রইল

শ্যামলী নিশ্চয়ই, তোমার মধ্যে তিনি কিছু পেয়েছিলেন না হলে অমন করে শেখাবেন কেন? |

বিমল। জানি না, তবে প্রায়ই তারিফ করতেন। এই ভাবে এক বছর কেটে গেল। তারপর থেকে বুড়ো যেন কেমন গম্ভীর হয়ে গেলেন। শেখাবার সে উত্তেজনা আর নেই, এমন কি মাঝে মাঝে ভূলও হতে থাকল একদিন সাহস করে জিজ্েস করলাম “ওত্তাদ তোমার কি হয়েছে? জবাব দিলেন

বেহাগ ৩৫ না। ২।৩ মাস কাটল। আবার একদিন জিজ্ঞাসা করলাম “ওস্তাদ তোমার কি হয়েছে প্রথমে বলতে চান না আমিও ছাড়ব না। বারবার জিদ করতে থাকলাম বলবার জন্যে শেষে বুড়ো! হাউমাউ করে কেঁদে ফেল্লেন। বল্লেন, বেট! তোকে ষে প্রতিজ্ঞা করিয়েছি আমাকে ফিরিয়ে দে। বল্লাম, “ওস্তাদ তাই কি হয়? বলেন কেন হবে না। আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিস আমি ফিরিয়ে নিচ্ছি ।” বল্লাম, “কিন্ত ওস্তাদ গানের নামে আমি প্রতিজ্ঞা করেছি। সেকি করে ফেরাব?' এরপর তিনি মার কোন কথা বল্লেন না।

স্যামলী। তারপর-_

বিমল। এই ভাবে কয়দিন চলল। আমি রেওয়াজ করে যাই। মাঝে মাঝে হয়ত একটু দেখিয়ে দেন। কিন্তু বেশীর ভাগ সময়ই চুপচাপ শুয়ে থাকতেন। এই ভাবে কিছুদিন থাকার পর অস্থুখে পড়লেন। ডাক্তার ডাকা হোল কিন্তু রোগ সারবার লক্ষণ বে গেল না। ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হতে লাগল একদিন বোঝ! গেল তিনি আর সুস্থ হয়ে উঠবেন না। ডাক্তারেও আশ! ছেড়ে দিয়ে গেলেন। এই সময় একদিন আমি পাশে বসে আছি। হঠাৎ আমার হাত ছুটো জড়িয়ে ধরে বল্লেন, গ্বিমল আমার উপর মেহেরবাণী কর, বেটা, আমি যে শাস্তিতে মরতেও পারছি না। আমায় তুই মুক্তি দে। “তাকে বল্লাম, ওস্তাদ আমার কোন কষ্ট হচ্ছে না। তুমি বুথ! অশান্তি ভোগ করছ কেন?

শ্ামলী। সত্যিই তোমার কষ্ট হত না?

বেহাগ

বিমল হোত না আবার। শুধু মৃত্যুপথ-যাত্রীকে সাম্তবনা দেবার জগ্যে বল্লাম, কিন্তু বল্লে হবে কি! গুরুজী বল্লেন, বেটা কষ্ট হয় কিন সে তুই আমাকে বোঝাবি? আমি জানিরে আমি জানি। শুধু নিজের উপর নিজের অভিমানে তোর আমি কি সর্বনাশ করে গেলাম। তোর সার! জীবন আমি নষ্ট করে দিয়ে গেলাম। তোর সব শিক্ষা মাটি হয়ে গেল। এই সব বলে বুভো৷ হাউমাউ করে কেদে ফেলল আর কেবল বলে, বেটা দয়া কর। তোর কথ! তুই ফিরিয়ে নে। আমায় শাস্তিতে মরতে দে।” দেখে নিজেরই কষ্ট হতে থাকল অথচ এদিকে গ্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে। শেষে আর থাকতে পারলাম না। বললাম, ওস্তাদ তুমি যাতে শাস্তি পাও সেই আমার বড় কর্তব্য। আমি তোমায় কথ! দিচ্ছি-_শিক্ষা শেষ হলে আমি আবার লোক-সমাজে গান গাইব। কিন্তু তার আগে নয়। শুনে বৃদ্ধের কি আনন্দ। বারবার বলতে লাগল, “বেটা তুই আমাকে মুক্তি দিলি, তুই আমাকে মুক্তি দিলি। এই বলতে বলতে ধীরে ধীরে আমারই হাতের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়জেন। সে ঘুম আর ভাঙ্গে নি।

শ্যামলী (কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া) বড় অদ্ভুত তো--|

বিমল। অদ্ভুতই।

হ্যামলী। কিন্তু তবে তুমি কেন গাও না?

বিমল শিক্ষা তো আমার সম্পূর্ণ হয় নি।

স্ামলা। কেউ কি জোর করে বলতে পারে যে

বেহাগ ৩৭ শিক্ষা তার শেষ হয়েছে? তুমি তোমার ওস্তাদকে ধোকা দিয়েছ

বিমল। না রে শিক্ষার হয়ত শেষ নেই। কিন্ত একটা সময় নিশ্চয়ই আসে যখন কিছু শিখেছি বলে মনের মধ্যে একটা তৃপ্তি আসে। আমার মনে হচ্ছে লক্ষৌ গেলে অন্ততঃ সেটুকু শিক্ষা আমার হবে আর তারপরই আমি গাইতে পারব।

শ্যামলী বিমলদা তোমার গাইতে না পারার জন্য কষ্ট হয়না?

বিমল। প্রথম প্রথম কষ্ট হোত না। শেখার আনন্দে মশগুল হয়ে থাকতুম। কিন্তু পরে কষ্ট হোত।

শ্তামলী। আমি হলে পারতৃম না। গাইতে না পারলে আমি পাগল হয়ে যাব। কিন্তু বিমলদ! তোমার গুরুজীর অদ্ভুত প্রতিজ্ঞা করাবার কারণ কি!

বিমল। কি জানি, সেকথা তিনি আমায় কখনও বলেন নি। আমিও জিজ্ঞাসা করিনি। কিন্তু শ্যামলী কাউকে গান শোনাতে না পারায় যে