দর্মন পাম

(4 টিআ2298 ০6 (০630679] 0৯128199019175 )

ট। চ67768]1

ইন্দুভুষণ মজুমদার,

০০ 996ছ91815 €:০1165০5 10970০18775 ১০

সোল ভিষ্টরিবিউটার্স-_

আশুতোষ বুক স্টল বুকসেলার্স পাবলিশার্স ৯০বি, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড, কলিং ২৬)

মৃজ্র-+ভ-উকাসআউ-ব্সৃজ।

প্রকাশক শ্রীশচীন্দ্রনাথ সাহা ১৯৮২১, হাজর রোড ( ভট্টাচার্য হাউস) কলিকাতা-২৬

(0:05911506 [২6527৬০০105 00০ 01011813615 ) পরিবধিত পরিমাজিত দ্বিতীয় সংস্করণ

১৩৬৬ সাল

মেসার্স তারকনাথ প্রেস, ২নং ফড়িয়াপুকুর স্ত্রী, কলিকাতা-৪ হইতে গ্রীবিমপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক মুক্রিত।

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

বিভিন্ন কলেজের অধ্যাপকবৃন্দ ছাত্রছাত্রীগণ “দর্শন প্রসঙ্গ” বইটিকে সাদরে গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়াই এত শীপ্র এই পুস্তকের দ্বিতীয় সংস্করণ বাহির হইতে পারিল। তাহাদিগকে আমার ধন্যবাদ জানাই আর আস্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই আমার শিক্ষক শিক্ষিকা বন্ধুগণকে ধাহারা এই পুস্তকের উন্নতিকলপে আমাকে নানা বিষয়ে উপদেশ দিয়! বাধিত করিয়াছেন তাঁহাদের উপদেশ এবং ছাত্রদের আগ্রহেই [00561905 এবং 0080060 নামে একটি নূতন অধ্যায় সন্নিবেশিত করা হইল। আর এক কথা। পুস্তকের প্রথম সংস্করণে লিখিয়াছিলাম “দর্শনশাস্ত্রের বিষয়বস্তগুলি যেরূপ ভাবে এই গ্রন্থে বিস্াস্ত করা হইয়াছে তাহা অভ্যস্ত ব্যক্তির পক্ষে কিঞ্চিৎ অসঙ্গত বলিয়' প্রতীয়মান হইতে পারে, তাহা আমি স্বীকার করি। সাধারণতঃ প্রত্যেক গ্রন্থকারই জ্ঞান-তব্ব দিয়া তীশাদের পুস্তক আরম্ভ করেন; তারপরে অন্তান্ত তত্ব ব্যাখ্যা করিয়া ভগবততত্‌ দিয়া শেষ করেন। এই পুস্তকে আমি ইহার ঠিক বিপরীত পন্থা অবলম্বন করিয়াছি; ভগবত্তত্ব দিয়া আরম্ভ করিয়া জ্ঞান-তত্বে শেষ করিয়াছি ইহার কারণ আছে। জ্ঞান-তত্ব একটু শুষ্ক জটিল, অথচ অন্যান্য তত্ব খুবই চিত্তাকর্ষক ; সেইজন্য শুষ্ক জটিল বিষয় দিয়া পুস্তক আরম্ত না করিয়া ভগবৎ-তত্ব দিয়া পুস্তক আরম্ভ করিয়াছি। চিত্তাকর্ষক বিষয় সমূহ আলোচনা করিতে করিতে ছাত্রেরা ষখন দর্শনশাস্রের পদ্ধতি বিষয়বস্তুর সহিত কিঞ্চিৎ পরিচিতি লাভ করিবে, তথন জ্ঞান-তত্ব আলো৮ন' করা তাহাদের পক্ষে আর বিশেষ অগ্রীতিকর হইবে না ক্বলিযা আমার বিশ্বাস ।” বল! বাহুল্য, এইরকম এক নূতন বিপরীত পদ্ধতি অবলঘ্ধন করাতে আমার মনে যথেষ্ট ভয় সংকোচ ছিল; আমার সহকর্মী অধ্যাপকবৃন্দ কি ভাবে ইহা গ্রহণ করিবেন! এই অনভ্যন্ত পন্থা! হয়ত তাহারা অন্থমোদন করিবেন না। কিন্ত বহু সহকর্মী শিক্ষকের নিকট হইতে যে চিঠি পাইয়াছি তাহাতে আমার এই সংকোচ আজ কাটিয়া গিয়াছে তাহারা লিখিয়াছেন যে এই পদ্ধতি অবলম্বন করিয়া তাহারাও বেশ ভাল ফল পাইয়াছেন। তাহাদের এইপ্রকার চিঠি পাইয়৷ আমি যে খুবই উৎসাহিত হইয়াছি, তাহা! বলাই বাহুল্য। জীবনের &৩ পরিশ্রমই আজ সফল হইয়াছে বলিয়া মনে করিতেছি

]9920118 0:911955 হু. ভূ, মভুমদার [09210661105

শুভ স্নগ্গ

তদের মাতদেকীর শ্বীচলরণে

সুচীপত্র

প্রথম খণ্ড ভগবণ-তত্তব

প্রথম অধ্যায় ১। নিবীশ্বরবাদ ১৭ জডবাদ নিবীশ্বরবাদ নিতর টি | ডি খগুন। দ্বিতীয় অধ্যায় ২। ইঈশ্বরবাদ *" - ৯__-২০

ঈশ্ববেব অস্তিত্ব প্রমাণ 1. 0081000910951081] 4১150107620 []. 00091099105) 4১190106176 1107 25150199109] 4৯1 5001006106 [৬. 1015) /5501060৮ ৬, £৫05001 | উপসংহার

তৃতীয় অধ্যায়

৩। ঈশ্ববেব স্ববপ (৪৮016 ০£ 0০৫ ) *** ২০--৩২ 1. 00190061510) 1] 101-0061917) 111 70150006151) (1) 00191001791 ৮1০00900615] (10215109) (11): £5950506 14101900615 (09100061১10) (01) 09200066604 018011)61900 (91060761)61510) | ঈশ্ববেব অ। প্রকাশ | চতুর্থ অধ্যায় ৪| নশ্বব জীবজগৎ , ৩২-_৪৫ মানুষের চিন্তা ঈশ্ববেব চি্প। মান্তষের ট্ছ ঈশ্ববের ইচ্ছা ইচ্ছা-স্বাধীনতা। নঈশ্ববেব গুণ|বলী। ভগবত চেতনা (74106 0:০0- 8০300519699) | সগুণ ঈশ্বব (0515008] (3০9) ঈশ্বর ব্রহ্ম (03০94 ৪0৫ 0০ /১০50100)

দ্বিতীয় খণ্ড 2 অধ্যাত্ম-ত

পঞ্চম অধ্যায় €| মন শবীর | ৮০, ৮০, ৪৬---৫৯ [.1006198001010197) (10690291059 ) ঘা. 000291013911510)

[]]. 10165-5905191151)697 17081170920 1৬. [98791161190 (9010029) ৬, 1412061181150) ৬], 501015০60৬6 1065189200৬], 00৮16০61৩ [06811900 (0656) ষষ্ঠ অধ্যায় ৬) আত্মার স্বরূপ ৫৯---৭২ 1, ০0100609] 961€ 171, 9616 1], [9591190 961 আত্মা চেতনা উপসংহার

|

1৮০

সপ্তম অধ্যায় আত্মার অমরত্ব ইচ্ছ! স্বাতন্ত্র্য ৮৯, , ৭৩-_-৯৩ ইচ্ছা-ন্বাধীনতা! (5£5650100, ০£ 9111) | নিয়তিবাদ নারির রা | নিয়তিবাদ স্বাধীন্তাবাদ-_যুক্তি যুক্তি খণ্ডন। উপসংহার আত্মার অমরত্ব (10227015115 ০6 8০৩1)- যুক্তি যুক্তি খণ্ডন অনস্ত আদর্শ আত্মার অমবত্ব জন্মান্তরবাদ।

অষ্টম অধ্যায় ৮। মনেব উৎপত্তি **" "** ৯৩--১০৩ 2, 006900017, 1৬16০19101081 17৬০10৮1010 | 111, 761601051- 081 ৮৬০11100 1 দেহ আত্মা। 7:00615626 6৬০1300 তৃতীয় খণ্ড প্রীণ-তন্তব নবম অধ্যায় ৯। প্রাণের উৎপত্তি ৮, ১১, ১০৪-_-১১৮ প্রাণ যন্ত্র (1516 200 11201১170১5 ) | যন্ত্রবাদ প্রাণবাদ (46০15910191) 2190. ৬16911510) | যন্ত্রবাদেব ব্বপক্ষে প্রাণবাদের স্বপক্ষে প্রাণের উৎপর্ভি-_131956106819 "19601 & 41926156588 16019 [১ 0580০0, (হ্যটিবাদ)]]. 16০19191081 17০10002 (যান্ত্রিক বিবর্তন ) [যয 70616091951091 7৬০1০৫০, ( উদ্দেশ্টমূলক বিবর্তন )। উপসংহার দশম অধ্যায় ১৭। প্রাণীর উৎপত্তি ( পূর্বাভাষ ) ** ১১৮--১৩১ ঢু. 01658619211, ১601)9101091 [৮০10০:_ডারউইনেব স্তর; জীবন সংগ্রাম, দৈহিক পরিবর্তন বংশান্গতি ডারউইন লামার্কের মত-পার্থক্য এবং সমালোচনা [1]. 06160192159) ৬০160, একাদশ অধ্যায় ১১। প্রাণীর উৎপত্তি ( পরিশিষ্ট ) "** **, ১৩১-_-১৪৫ উদ্দেশ্য কারণ ( চ08] 08056 )1 উপসংহার 85 07616০01059 121501959--7%61009] 80 11066109) 11161591985 £ 1000618510% [৬০106102981 116159105%---সমালোচনা) 110৬2165001 6০1021015105 | 0:62656 £৬০1081017 (36172502) সমালোচনা চতুর্থ খণ্ড জড়-তন্ত দ্বাদশ অধ্যায় ১২। পরমাণুবাদ (৬9611911510) ** *** ১৪৬. -8৫৮

১6000107160 | £15000010 200605 | পরমাণুর 111090৮61 20 4106108, 1 095000105109] 17৮০1300--সম লোনা

১৪

১৫

১৭

১৮

1৩/০

ত্রয়োদশ অধ্যায় “স্থান” প্রসঙ্গ (106 51901510091 908০6) ** ১৫৮--*১৭১ হু. 00190০601৬5 ৬1০৬--00160015 800 /55010066 11. 50115০655 ৬15৬; 908০০ 261০2100091 & 00100270881 117, 19100982 ৬1০/--910906 £ £৯-1102 1৬০ 06561190 ৬1০৬ | উপসংহার |

চতুর্দশ অধ্যায়

“কাল” প্রসঙ্গ (0156 01:09)01600 ০0৫ 01006) *** ১৭১--১৮১ 1. 09016০৮0৬৬০ ৬15৬7 1], 9010160০0৬০ ৬16৬; 11006 757০6008] 2190 00900619051 111, 193022৬15৬7 | [৬,

72561191) ৬1০৬ | “1২০৪১ 2190 “[২9001381+? | পঞ্চম খণ্ড 2 মুল-তত্তব পঞ্চদশ অধ্যায় 14050511911512) 200 10698119107 *** ১৮২ --১৪৯৪

যয 01015115800 (086510195115010 2 45600015100) 01019115100 (9717160911800 : 10010901510) ) 11, [00918500 (4808০0106)) [00911902 (00001619198] ) 111, 0৫001500 (4১098560) ) [75176105159 )) 110171500 (05000156 2 1210021001061512 )

যোড়শ অধ্যায় আদর্শ মূল-তত্ব ( ৬৪)৪ 2100 [২6210 ) ৮** ১৯৪--২০৭ [8০৮ 00051968 & ৬৪1৩ 000500606 আদর্শ বিচার ৬৪1০৩ ]09210706--90101500০ (ভাবগত ), 0৮1০০৮%০ (বস্তুগত )। ৬৪]০ :--07%010910 8100 11000007510 1 ৬৪1০ 8190 1২621169 আদর্শের বাস্তবিকতা উপসংহাব

সপ্তদশ অধ্যায়

সত্য মূল-তত্ব (1780) 204 [5811 )) *** ২০৮---২২৩ 2, 001005519010061)05 11)601% ; বাস্তব সত্ব মানসরূপ। [া. 10055008600 10155915 111, 9০180516005 206075 [৬, 0:91)6161905 €01)5019 ; সঙ্গতি বা সংহতি সমালোচন।

ষষ্ঠ খণ্ড ভ্ঞান-তত্ব (8721566090198)) অষ্টাদশ অধ্যায় জ্ঞানের উৎপত্তি (02151) ০£ 70)0/1598৩ ) *** ২২০--২৩৪ চ:209103900 8100. 1২20101291150 ], [২8001981150 ( বুদ্ধিবাদ ) 1], 70911101809 (অভিজ্ঞতাবাদ )। 0816051520 ( 0906) জ্ঞানস্ত্র ( 08055011655 ) | উপসংহার

॥+

উনবিংশ অধ্যায়

১৯। অনুশীলন পদ্ধতি (160,945 ০£ 10191193005) *** ২৩৫-_২৫১ ঢু. 10080090502 7 20100911500 [00210086150 11, 90600101510 3 সত্য £--অজ্ঞাত অজ্ঞের []][. 00০51 766০৭ (বিচারবাদ ) [৬, 101915000 7৮16000. ড, 10100100109] )1০0০৭ 100611606 800 [00010 | উপসংহার

বিংশ অধ্যায় ২০ | জ্ঞানের বিষয়বস্তু (0২6911900 2170. [062113109) **. ২৫২---২৬৬ [০900197 7২521150) | 901500150 [২5811910 (10018 )। মুখ্যগুণ গৌণগুণ। [২61652005610681190) 7 সমালোচনা ০01160০61৬০ 106911500) (361]5125 )7 সমালোচনা (991151500) ) 1 1817091) [19069115009 1 0৮)০০৮৬০ 10691157) (176851 )। একবিংশ অধ্যায় ২১। জ্ঞান স্যত্র (10805901199 ) রি রা ২৬৭-_--২৮৪ ভ্রব্য-তত্ব (505080০শ ) | হিউমের মতবাদ ( /৯-90986811011 ) 3 ক্যাণ্টেব মতবাদ (১ 0101011) 1 কার্যকাবণ-তত্ব (0:548811 )। হিউমের মতবাদ ( /৯-১95661101$) ; ক্যাণ্টের মতবাদ (£৯-202 )। 501582005 200 (5210158110 দ্বাবিংশ অধ্যায় ২২। 70321076190 210. 110105161)02 *** **. ২৮৫__*০১ 9001565 0 8705/16056 | 100210960৮--01016 01 100৬/16056 | 00990966168 01595150900) 810 €008150657150105 | 11706161006 10 (5195915080100 800 001095190051151109 | [002100626 2100 01002126 1 0045106106 8180 1062161005, তয়োবিংশ অধ্যায় ২৩। উপসংহার ৮০, ** ৩০১-_-৩১৯

50017800821 06 9০9161006৪ ঈগ বিজ্ঞান__(৪) উহাদের বিষয়বস্ত (২) উহাদের দৃষ্টিবিন্দু (৩) বিজ্ঞানের মূলতত্ব (৪) দর্শনের অর্তদৃষ্টি। 1901193002৬ ৪00 2+160901055105 1 10101198091) 90৫ [18660901055 1 [20150610001985 200 1,010 1 দর্শনের সংজ্ঞা দার্শনিক চিন্তার উৎপত্ভি।

চর্ম ওএক্নঙ্ষঃ প্রথম খণ্ড

ভগ্গবৎ-তত্ত (1165 7১:010197) 01 00৫)

অশ্হ্ম আঞ্যাজ্জ

নিরীখরবাদ জড়বাদ নিরীশ্বরবাদ 71816571511878 & 80091510 )

জ+ন্গকাল বিজ্ঞানের যুগ, সহজে কেহ পাবষাধিক জগতের অস্তিত্বে বিশ্বাস করিতে চাহে না ; কারণ উহ] ইন্জিয়গ্রাহ বিষয় নহে যেমন ধর, জীবাত্মা পরমাজ্মার কথা। জীবাজ্মাকে আমরা কেহ দেখিতে পাই না, পরমাত্মাকে আমরা! কেহই স্পর্শ করিতে পারি না, অর্থাৎ কোন ইন্দ্িয়ের দ্বারা আমরা ইহাদ্দিগকে প্রত্যক্ষ করিতে পারি না; সেইজন্য স্বভাবত:ই আমরা ইহাদের অন্তিত্বে সন্দেহ করিয়া থাকি তবে বলা বাহুল্য, প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায় নহে ; প্রত্যক্ষ না৷ করিতে পারিলেও অনুমানের সাহায্যে আমব অনেক বিষয় অবগত হইয়া থাকি। অতীতে ভারতবর্ষের অবস্থা কেষন ছিল তাহা আজ আমর! কেহই প্রত্যক্ষ করিতে পারি না বটে, কিন্তু বহু শ্রুত দৃষ্ট বস্তর উপর নির্ভর করিয়া আমর! ভারতবর্ষের অতীত গৌরবের কথা অনুমান করিতে পারি। সেইরূপ জীবাজ্ম। পরমাত্মা যদিও ইন্দ্রিয়গ্রাহ বন্ধ নহে, যদিও আমরা ইহাদ্দিগকে দেখিতে বাস্পর্শ করিতে পারি না, তবুও আমরা বহু বুক বিচারের সাহায্যে ইহাদের অস্তিত্ব অন্থমান করিতে পারি। এইভাবে অনেকেই ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বান কবেন। কিন্তু শাখের করাত ছুই দিকেই কাটে, অন্থমানের দ্বার! ঈশ্ববের অস্তিত্ব যেমন প্রমাণ করা যায়, অনুমানের দ্বার! তাহার অস্তিত্ব আবার তেমন অপ্রমাণও করা যায়। জড়বাদিগণ তাহাই করেন।

জড়বাদিগণ বলেন যে এই জগতে ঈশ্বরের কোন স্থান নাই। তাহারা বলেন ঈশ্বরের প্রয়োজন কি? এই বিশ্বনিয়। স্থ্টি কবিবাব জনা যদি" কোন

ভগব২-তত্ব

সত্বার প্রয়োজন হইয়া থাকে, তবে আমাদের অগুপরমাণু দোষ করিল কি? উহাদের সাহায্যেই আমর! হ্ষ্টিতত্ব ব্যাখ্যা করিতে পারি, ভগবানের অস্তিত্ব কল্পনা করিবার কোন প্রয়োজন হয় না। কুর্য-চন্দ্র গ্রহ-নক্ষত্র, নদ-নদী, পর্বত-প্রান্তর সমন্তই জড় পদার্থ; অসংখ্য পরমাণুর সমন্বয়ে ইহারা! নংগঠিত হইয়াছে ধাহারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন তাহারা বলেন যে এই সকল পরমাণুর সংযোগের জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন ; তিনিই এই সকল পরমাণু নানাভাবে সংযুক্ত করিয়। স্র্ষ-চন্দ্র গ্রহ-নক্ষত্র প্রভৃতি স্থষ্টি করিয়াছেন কিন্তু জড়বাদিগণ ঈশ্বরে বিশ্বাম করেন ন!; তাহারা বলেন, পরমাণুগুলি আপনা আপনিই সংযুক্ত হইতে পারে? ইহাদের সংযোগ সাধনের জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন নাই। প্রত্যেক পরমাণুর নিজ নিজ গুণ বা ধর্ম আছে; এই অন্তনিহিত গুণ বা ধর্ম অনুসারে তাহারা ক্রিয়া করে, পরকীয় পরিচালনার অপেক্ষা রাখে না ইহাকে প্রাকৃতিক নিয়ম বলে এইবপ প্রাকৃতিক নিয়মের বশীভূত হইয়া পরমাণুগুলি অনন্তকাল ধরিয়! দিকেদিকে ছুটিয়া চলিয়াছে ; যখন মিলিত হইতেছে তখন পরস্পরের স্বভাব অনুযায়ী তাহার! যৌগিকপদার্থে পরিণত হইতেছে £ আর যখন বিচ্ছিন্ন হইতেছে তখন নিজ নিজ অন্তনিহিত তেজের প্রভাবেই তাহার। বিচ্ছিন্ন হইয়! পড়িতেছে। বাহির হইতে কেহ উহাদ্দিগকে জোর করিয়া মিলিত করিতেছে না, বা' জোর করিয়া ভাঙ্গিয়! দিতেছে না; ইহার্দের মিলন ভাঙ্গন, গতি স্থিতি, স্পন্দন উত্তেজন--সবই প্রকৃতির নিয়মে সংঘটিত হইতেছে। এই ভাবেই জগৎ স্থষ্টি হইতেছে; শুধু জড় জগৎ নহে অধ্যাত্ম জগৎ স্ষ্টির মূলেও রহিয়াছে এই সকল অণুপরমাণুর ক্রিয়। প্রক্রিয়া অর্থাৎ এই সকল পরমাণু হইতে সূর্য চন্দ্র গ্রহের ন্যায় শুধু যে অচেতন পদার্থ উৎপন্ন হইতে পারে, তাহা নহে; যনও আম্ম।র ন্যায় সচেতন পদার্থেরও উদ্ভব হইতে পারে এবং উদ্ভবহ্ইয়। থাকে অতএব চেতন অচেতন সকল পদার্থেরই মূলে আছে এই নব জড় উপকরণ; ইহারাই নানাভাবে সংগঠিত হইয়া নানাবিধরূপে আবির্ভূত হইতেছে ইহাকে বিশ্তদ্ধ জড়বাদ ( 21965191157) ) বলে ; ইহাতে ঈশ্বরের কোন স্থান প্লাই।

সমালোচন। জড়বাদকেই অনেকে বৈজ্ঞানিক ষতবাদ বলিয়া বর্ণনা করেন। কিন্তু ইহা! যতই বৈজ্ঞানিক বলিয়া প্রতীয়মান হউক না কেন, ইহাকে সর্বান্তঃকরণে গ্রহণ করিতে অনেকেই আজকাল প্রস্তত নহেন। ইহার প্রধান কয়েকটি ক্রটির কখ। আমর। উল্লেখ করিতেছি প্রথমতঃ, আমরা জিজ্ঞাসা করি, জড়

নিরীশ্বরবাদ

পরমাণু হইতে জড় পদার্থ উৎপন্ন হইতে পারে বটে, কিন্তু জড় পরমাণু হইতে অধ্যাত্ম পদার্থ উৎপন্ন হইতে পারে কি? স্ুর্ধ চন্দ্র গ্রহ নক্ষত্র প্রভৃতি সবই জড় পদার্থ; আর আমাদের অণু-পরমাণুও জড় পদার্থ অতএব এই সকল অণু-পরমাণুর সংযোগে স্থর্য চন্দ্র গ্রহ প্রভৃতির উদ্ভব হওয়া যে সম্ভব, তাহা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু মন আত্মা তো জড় পদার্থ নহে ইহার অব্যাত্ব

পদার্থ; ইহাদের সহিত জড় পদার্থের কোন প্রকার সাদৃশ্ত নাই। তাহা হইলে জড়পদার্থ হইতে কেমন করিয়া! ইহাদের উত্তব হইতে পারে? জড়বস্তর স্থান- ব্যাপ্তি আছে, আত্মার কোন স্থান-ব্যাঞ্তি নাই; আত্মার স্থখ-ছুঃখ বোধ আছে, জড় বস্তর সুখ-দুঃখ বোধ নাই ; আত্মার মধ্যে চেতনা আছে, জড়বস্তর মধ্যে চেতনা নাই, ইহা সম্পূর্ণ অচেতন। এক কথায় চেতন অচেতন পদার্থ ইহারা সম্পূর্ণ বিপরীত প্রকৃতির পদার্থ। তাই বিবর্তনবািগণ বলেন যে জড় পরমাণু হইতে জড় পদার্থ উৎপন্ন হইতে পারে বটে, কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী মন ব' চেতনার উদ্ভব হইতে পারে ন|।

দ্বিতীয়তঃ, জড়বাদিগণের বিশ্বস্ন্টির ব্যাখ্যা সম্ভবপর বলিয়া গ্রহণ কর৷। কঠিন। তাহারা বলেন পরমাণু অসংখ্য ; অনন্তকাল ধরিয়া ইহারা অসীম বিশ্বে ছুটিয়া চলিয়াছ্ে ; কখনও একত্র মিলিত হইতেছে, কখনও বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইতেছে, আর কখনও বা বিক্ষোরিত হইয়া প্রলয়ন্কর অবস্থার সৃষ্টি করিতেছে ইহাদের ক্রিয়া-ফলেই হূর্য চন্দ্র গ্রহ নক্ষত্র, নদ নদী পর্বত প্রান্তর প্রভৃতি যাবতীয় পদার্থ আপনা-আপনিই স্ষ্ট হইতেছে। কিন্তু আমরা জিজ্ঞানা করি-_একটি সামান্য ঘড়ি যখন আপনা-আপনি স্ষ্ট হইতে পারে না, তখন এই হৃর্য চন্দ্র গ্রহ তারাই বা আপনা-আপনি সৃষ্ট হইবে কেমন করিয়া? ধর, যে সব মাল মশল! দিয় একটি ঘড়ি নিষ্ত হয়, যেমন কাচ, কাটা, স্প্রিং স্টিল প্রভৃতি জিনিষ সবই অনস্ত আকাশে ঘুরিয়া বেড়াইতেছে। তাহা! হইলেই কি ইহারা আপনা-আপনি সংযুক্ত হইয়া একটি সুন্বর ঘড়িতৈ পরিণত হইতে পারিবে ? ঘুরিতে ঘুরিতে কাচ আসিয়! কাটার সহিত সংযুক্ত হইতে পারে, তাহা আমরা স্বীকার করি; এবং স্টিলও ঘ্ুরিতে থুরিতে শ্প্রি-এ পরিণত হইতে পারে, তাহাও আমরা মানিতে রাজী আছি। কিন্ত তাই বলিয়া! কি এতগুলি বিভিন্ন গিনিষ এমনভাবে সংযুক্ত হইতে পারে যাহার ফলে একটি সুন্দর ঘড়ি উৎপন্ন হইতে পারে? উহা কি সম্ভব? ঘড়ির বিভিন্ন অংশের মধ্যে যে শৃঙ্খলা সামঞস্য আছে--উহার উৎপতি হুইল «কেমন করিয়!? এক্ষেত্রে কোথাও কোন কারিগরের প্রয়োজনীয়তশ রা

দর্শন প্রসঙ্গ

সবই আকম্মিক ঘটনা-প্রবাহে স্ঙি হইতেছে-_ইহা কি সম্ভবপর ব্যাপার ? ঘড়ির বিভিন্ন অংশের মধ্যে যে শৃঙ্খল] সামগ্ুস্য লক্ষ্য করি, তাহা অপেক্ষা, অদ্ভূত শৃঙ্খল। সামগ্রস্য দেখিতে পাই স্ৃর্য চন্দ্র গ্রহ নক্ষত্রের মধ্যে।

যে আশ্চর্য শৃঙ্খল! নিয়মান্ুবতিতা সহকারে এই সকল বিশাল গ্রহ উপ- গ্রহ নিরন্তর আবর্তন করিয়া চলিয়াছে, তাহ! ভাবিলে আমরা অবাক হইয়! যাই। উহাদের এই অদ্ভূত শৃঙ্খল পারম্পরিক সামঞ্জস্য আমসিল কোথ! হইতে? তাই দার্শনিক পণ্ডিত বলেন ষে ঘড়ি নিমাণের জন্য যেষন কারিগরের প্রয়োজন, এই বিশ্বজগৎ নির্মাণের জন্যও তেমন স্ট্টিকর্তার প্রয়োজন; অর্থাৎ ইহাদের কোনটিও আপনা-আপনি স্ষ্ট হইতে পারে না, প্রত্যেকেরই স্প্টির মূলে আছে কোন এক মননশীল কর্তার মানসিক নিয়ন্ত্রণ আর একটি উদ্দাহরণ দেওয়! যাউক। ইংরাজী ভাষায় £ হইতে 2 পর্যন্ত ২৬টি অক্ষর আছে; অসংখ্য কার্ডে এই অক্ষরগুলি অসংখ্যবার লিখিয়া আকাশে উড়াইয়া দিলাম। এখন মনে করা যাউক, এই কার্ডগুলি অনন্তকাল ধরিয়! অসীম আকাশে উড়িতে লাগিল এবং নানাস্থানে ইহারা নানাভাবে পরম্পরের সহিত সংযুক্ত হইতে লাগিল কখন 4, টব, এবং 0 আসিয়া সংযুক্ত হইল এবং একটি শব্দ স্যষ্টি করিল, যেমন 4041 এইভাবে বিভিন্ন অক্ষরের আকম্মিক সংযোগে বিভিন্ন শব্দের সৃষ্টি হইতে পারে, তাহা আমরা স্বীকার করি; এমন কি, ইংরাজী অভিধানের প্রত্যেকটি শবই এইভাবে স্যগ্ই হইতে পারে, তাহাও আমরা ষানিতে পারি কিন্তু তাই বলিয়া কি এইভাবে চ৪1:80156 ].০$৮- এর ন্যায় একখানি স্থৃচিস্তিত কাব্য রচিত হইতে পারে? মোটেই না; অথচ কাব্যখানি অসংখ্য শব্দের সমষ্টি ব্যতীত আর কিছুই' নহে; ইহার প্রত্যেকটি শবই অভিধানে পাওয়া! যাইবে কিন্তু তাহা হইলে কি হয়? শব্বগুলির আকম্মিক সমন্বয়ে কাব্য রচিত হইতে পারে না; ইহার জন্য এক মননশীল কবির প্রয়োজন--যিনি শব্দগুলি নির্বাচন করিবেন এবং কোন এক সুচিত্তিত পরিকল্পন। অনুযায়ী উহাদের সমন্বর সাধন করিবেন। তাই আমরা বলিতে চাই যে, পরমাণুগুলিকে অনন্তদেশে অনন্তকালের জন্য ভাসিয়া বেড়াইতে দিলেই স্্য চন্ের-সৃষ্টি হইতে পারে না। এইসব অদ্ভুত জিনিসগুলি সৃষ্টি করিতে হইলে পরমাণুগুলিকে কোন এক পূর্বনিিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে পরিচালনা করা দরকার এই প্রকার পরিচালনার জন্য কোন এক মননশীল কর্তার প্রয়োজন তাহাকেই সাধারণ ভাষায় ঈশ্বর বল] হয়।

তৃতীয়তঃ, জড়বাদিগণ বলেন যে ধাহারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন তাহারা

নিরীশ্বরবাদ

ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করিতে পারেন না; শুধু ভাবাবেশে তাহারা! ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানিয়! লয়েন। ইহা! হয়ত ঠিক ক্িন্ত জড়বাদিগণই কি সব জিনিষের প্রমাণ দ্রিতে পারেন? তাহারাও অনেক তত্ব মানিয়া লইয়াছেন, কিন্ত প্রমাণ দেন নাই; যেষন তাহারা বলেন যে, অনাদিকাল হইতে পরমাথুগুলি বি্যমান আছে কিন্ত ইহার প্রাণ কি? বোধ হয় প্রমাণ দেওয়] সম্ভব নহে বলিয়াই তাহারা এই প্রসঙ্গে কোন আলোচন। উত্থাপন করেন নাই 9 শুধু মানিয়া লইয়াছেন যে অনাদিকাল হইতে পরমাণুগুলি ক্রিয়া করিতেছে কিন্তু ইহারা তে। অচল জড় পদার্থ; ইহার। ক্রিয়া করে কেমন করিয়া? ইহাদের মধ্যে গতি আসে কোথ। হইতে? ইহারা কি করিয়া স্থান হইতে স্থানান্তরে ছুটিয়। চলে? অতএব শুধু পরমাণু নাই ? উহার নিজন্ব চলৎ-শক্তি আছে, তাহাও মনিয়া লইতে হইবে; এবং সঙ্গে সঙ্গে আরও মানিয়া লইতে হইবে যে অনন্তকাল অনন্ত দেশ বলির স্বতন্ত্র জিনিষ আছে, নতুবা পরমাথুসমূহ কোথায় ক্রএ। করিবে এবং কখনই বা ক্রিয়। করিবে? ইহা হইতে স্পষ্ট বুঝা যাইতেছে যে, জড়বাদিগণ শুধু পরমাণু তন্বই মানিয়া লয়েন নাই, তৎ- সংশ্লিষ্ট আরও অনেক তত্ব তাহার মানিয়া লইযাছেন। এমতাবস্থায় ঈশ্বর- বাদিগণ বলিতে পারেন যে, যি এতগুলি তন্বই বিনা প্রমাণে মানিয়া লইতে হয, তবে ঈশ্বর-তত্ব যানি! লইলে ক্ষতি কি? বরং ইহাতে লাভ এই যে, এক্ষেত্রে আমবা একটিমাত্র তত্বের নাহাযো জগংস্ষ্টি ব্যাখ্য। করিতে পারি, জড়বদিগণের ন্যায় বহু তন্বেব সাহায্য লইতে হয় না। যে ক্ষেত্রে একটিমাত্র তত্বের দ্বারাই স্থষ্ভাবে ব্যাখ্যা করা যার, সেক্ষেত্রে বহু তন্ব স্বীকার করিবার প্রয়োজন কি? নিরীশ্বরবাদের যুক্তি (81061-118915110 81218100979 (৪)

উপরোক্ত সমালোচনার উত্তরে কেহ হয়ত বলিতে পারেন যে, জড়বাদ অগ্রাহথ করিলেই যে ঈশ্বরবাদ গ্রহণ করিতে হইবে এমন কোন মানে নাই জড়বাদিগণ যে ভাবে বিশ্বস্ষ্টি ব্যাখ্যা করেন, তাহা হয়ত ভূল; কিন্তু তাহা হইলেই কি বলিতে হইবে যে ঈশ্বরবাদিগণ যে ভাবে বিশ্বস্্টি ব্যাখ্যা করেন, তাহাই ঠিক ? উহাদের ব্যাখ্যাও তো ভূল হইতে পারে। নিরীশ্বরবাদিগণ তাহাই বলেন? তাহারা বলেন যে নৈনগিক জগতে যে নব ক্রটিবিচ্যুতি আছে এবং নৈতিক জগতে যে সব পাপ অন্ত।য় আছে, সে সব দেখিলে ঈশ্বরের অন্তিত্বে বিশ্বাস করিতে আমাদের মন চাহে ন।। এখন নিরীশ্বরবাদিগণের এই যুক্তির মবিশছ ব্যাখ্যা দেওয়া যাউক।

ভগবৎ-তত্ব

নৈসগ্লিক জগতে প্রথমতঃ নৈসর্গিক জগতের দিকে লক্ষ্য করা যাউক। ভূমিকম্প, প্লাবন»

অতিবুষ্টি, অনাবৃষ্টি-_-এসমন্ত তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে (৪5:51 55119) কত অসংখ্য জীবজন্তর যে কি ভীষণ ছূর্গতি, হইতেছে তাহা বর্ণনা কর।| যায় না। তখন স্বভাবতঃই সন্দেহ হয় ছুনিয়াৰ কি ঈশ্বর বলিয়া কিছু নাই? সত্যই যদি ঈশ্বর থাকিতেন, তবে তাহার পক্ষে এই সকল অমঙ্গল নিরাকরণ কর। কি সম্ভব হইত না? অমঙ্গলের যেন শেষ নাই; শুধু তো অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি নহে, জরাব্যাধি, অকাল মৃত্যু প্রভৃতি নৈনগিক ঘটনাও কি আমাদের কম অমঙ্গল সাধন করিতেছে ? কেবল অকাল সৃত্যুতেই সংসারের যে কত ক্ষতি হইতেছে-_তাহা একবার ভাবিয়া দেখ তো।' কত অসাধারণ শক্তিসম্পন্ন মানুষ হঠাৎ দুর্ঘটনায় মৃত্যুমুখে পতিত হইতেছে; অথচ তাহারা দীধকাল জীবিত থাকিলে নংসারের কত উপকার করিতে পারিতেন। এই সকল অমক্লের কথ চিন্তা করিলে ভগবানের অস্তিত্বে বিশ্বাস করিতে ইচ্ছা করে কি?

ইহার উত্তরে আমাদের ছুইটি কথা বলিবার আছে। (১) আমর! যে দৃষ্টি- বিন্দু হইতে বিচার করি তাহ] নিতান্তই সংকীর্ণ পরিমিত। আমর। কতটুকু দেখিতে পারি ব! বুঝিতে পারি? বন্যায় বা ভূমিকম্পে জীবজন্তর যে খুবই অনিষ্ট হয়, তাহাতে সন্দেহ নাই; কিন্তু উহা আপাততঃ অনিষ্টকর হইলেও ভবিষ্ততে যে মঙ্গলকর নহে, তাহার প্রমাণ কি? স্থদুর ভবিষ্যুতে উহার ফলাফল কি হইবে-_-তাহা কি আমরা বর্তমান মূহুর্তে প্রত্যক্ষ করিতে পরি? অথচ এই প্রকার সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিবিন্দু হইতে বিচার না! করিতে পারিলে আমাদের নিদ্ধান্ত যে ভূল হইতে পারে, তাহাতে কোনই সন্দেহ নাই। একটি সামান্য উদ্দাহরণ লওয়! যাউক | দুইশত বংসর আগে আমাদের ভারতবর্ষের ইতিহাসে বে সব প্রলয়স্কর ঘটন1 ঘটিতেছিল- তদানীন্তন লোকের। কি তাহার ফলাফল সম্যক উপলব্ধি করিতে পারিতেছিলেন? বর্তমানের দৃষ্টিবিন্দুতে তখনকার অনেক ঘটনাই আজ আমাদের নিকট বিশেষ তাৎপর্যমূলক এবং মঙ্গলজনক বলিয়া প্রতিভাত হয়; কিস্ত তখনকার লোকেরা কি এইভাবে বিচার করিতে পারিয়াছিলেন? নিশ্চয়ই ন1; তখন তাহাদের নিকট যাহ অমঙ্গলজনক বলিয়। প্রতীয়মান হইয়াছিল তাহা সত্যই অমঙ্গলজনক বলিয়া তাহার! সিদ্ধান্ত করিয়া- ছিলেন৷ কিন্তু উহা! তো ঠিক নহে। মোটকথ!, আমরা আমাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ সংকীর্ণ অভিজ্ঞতার দিকে লক্ষ্য রাখিয়া! চিন্তা করি ; কিন্তু ঈশ্বর তো! এইভাবে

দর্শন প্রসঙ্গ

চিন্তা করিতে পারেন ন1; তাহাকে লমগ্র বিশ্বের দিকে চাহিয়া, সকলের মঙ্গলের কথা চিন্তা করিয়া এবং ভূত ভবিষ্যৎ বর্তমানকালের সঙ্গে সামন্ত রাখিয়া কাজ করিতে হয়। সেইজন্য আমাদের ন্যায় নিকটদৃষ্টি লোকের পক্ষে ঈশ্বরের কার্যকলাপ বিচার কর! সহজ নহে, বোধহয় সম্ভবই নহে ঈশ্বরের কার্ধকলাপ অখণ্ড; কিন্তু আমর! উহাকে কালের মধ্যে খণ্ড খণ্ড করিয়া বিচার করি; তাই আমাদের সিদ্ধান্ত সংকীর্ণ অপূর্ণ না হইয়! পারে না। (২) আর এক কথা; ঈশ্বর অসীম, কিন্ত তাহার হৃষ্টপদার্থ সবই সসীম। তাহার এই ্ৃষ্টপদার্থের মধ্যে বহু দোষ-ত্রটি আছে, তাহা আমর স্বীকার করি; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ইহাও আমরা বলিতে বাধ্য যে যাহ! স্থষ্ট পদার্থ তাহা কখনই ক্রুটিহীন হইতে পারে না। কারণ স্থষ্ট পদার্থ মাত্রই সীম, সসীষম মানে ক্ষুদ্র, সীমাবদ্ধ, অপূর্ণ; তবে অপূর্ণ জিনিষ কি করিয়। পূর্ণ (6605০) হইতে পারে? ইহা! অসম্ভব, ইহার মধ্যে দোষ-ক্রটি থাকিবেই। একমাত্র ঈশ্বরই পূর্ণ ঘটিশৃন্য, তাহার মধ্যে কোন প্রকার দোষক্রটি থাকিতে পারে না, তিনি ছাড়। আর সবই ক্ষুদ্র, সীমাবদ্ধ অপূর্ণ এই সব ক্ষুদ্র পদার্থও যদি ঈশ্বরের ন্যায় ক্রটিশূন্য হয়, তাহা হইলে ঈশ্বরের সহিত ইহাদের পার্থক্য থাকে কোথায়? তখন ইহারাও এক একটি ঈশ্বর হইয়1 যায়। কিস্ত তাহা তো সম্ভব নহে। অতএব পাথিব জগতের ক্রটিবিচ্যুতি দেখিয়। আমাদের কিছুমাত্র বিচলিত ব। আশ্চধান্বিত হইবার কারণ নাই। কারণ, ক্ষুদ্র জিনিসের মধ্যে ক্ুদ্রত্ব থাকিবে, সসীম জিনিষের মধ্যে অপূর্ণতা থাকিবে, ইহাই তো স্বাভাবিক; ইহাতে ঈশ্বরের দোষ কি আছে? মনে রাখিতে হইবে, ঈশ্বরও অসাধ্য সাধন করিতে পারেন না; তিনিও তিন আর তিন যোগ দিয়! সাত করিতে পারেন ন।। সেইরূপ, তিনিও সীম জিনিষ ্ষ্টি করিয়! তাহাকে অসীমের ন্যায় পূর্ণতা সম্পন্ন করিতে পারেন না। সসীম সৃষ্টি করিলেই উহাকে সনীমের ন্যায় অপূর্ণ করিতে হয়, এবং তাহাই করা হইয়াছে ইহাতে আশ্চর্য হইবার কি আছে? নৈতিক জগতে

এতক্ষণ আমরা নিরীশ্বরবাদিগণের প্রথম যুক্তির কথ আলোচন]1 করিলাম এধন আমরা তাহাদের দ্বিতীয় যুক্তির কথ! আলোচনা করিব প্রথম যুক্তিতে ঙাহারা প্রাকৃতিক জগতের ক্রটিবিচ্যুতির (05151 5115) কথ! বলিয়াছেন; উহার ফলে জীবজন্তর অশেষ ছুর্তোগ দুর্গতি দেখিয়। তাহারা বিচলিত হইয়াছেন দ্বিতীয় যুক্তিতে তাহারা নৈতিক জগতের দিকে লক্ষ্য করিয়াছেন

ভগবৎস্তত্ত

নৈতিক জগৎ যানে মানুষের কাধকলাপ; পশ্তদের কার্কলাপ নহে, বা নৈসগিক ঘটনাবলীও নহে নৈসগিক ঘটনা, যেমন বন্যা বা ভূমিকম্প - এইসব ঘটনাবলীর মধ্যে নীতি-ছুর্নীতির কোন প্রশ্ন নাই; আর পশুদের কার্যাবলী, উহাদের সন্বন্ধেও কোন নৈতিকতার প্রশ্ন উঠিতে পারে না। টনতিক প্রশ্ন ওঠে যানুষের কার্ধাবলী সম্বন্ধে ; তাহাদের কার্যে যে অনেক কিছু অন্যায়, অবিচার অত্যাচার আছে-_তাহাতে কোনই সন্দেহ নাই ; মানুষের ক্রুরতা, নীচতা পাপ প্রবণতা দেখিলে অবাক হইয়া! যাইতে হয়। পশু মিথ্যা কথা বলে না, মিথ্যা কথা বলে যান্ুষ ; মানুষ চুরি করে, হত্যা করে, এমন কোন অসৎ কাজ নাই যাহা সে করিতে পারে না বা! করে না। তাহা হইলে স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে__-এই অসত্যের, এই পাপের (70181 ঢ৮115 ) উদ্ভব হইল কোথা হইতে? বাহার! ঈশ্বরে বিশ্বানী তাহারা বলেন যে, পৃথিবীর নবই ঈশ্বর স্থ্টি করিয়াছেন ; ঈশ্বর ব্যতীত কোন জিনিষেরই উদ্ভব হইতে পারে ন|। তাহ] হইলে তাহাদিগকে স্বীকার করিতে হইবে যে পাপেরও মূল কারণ ঈশ্বর ; তিনিই মানুষের মনে পাপের বীজ উপ্ত করিয়াছেন। অতএব মানুষের পাপ কাজের জন্য তিনিও কিঞ্চিৎ দায়ী; এই দায়িত্ব তিনি কিছুতেই এড়াইতে পারেন না। তাই নিরীশ্বরবাদিগণ বলেন যে, এই প্রকার পাপাচারী ঈশ্বরে বিশ্বাস করিয়া লাভ কি? যিনি ছুনিয়! হইতে অন্যায় অত্যাচার দূর করিতে পারেন না, বরং অন্যায় অত্যাচারের কারণ রূপেই বিরাজ করেন_-তাহাকে মানুষ পূজা করিবে কেন?

ইহার উত্তরে ঈশ্বরবাদদিগণ বলেন যে, ঈশ্বর পাপ স্থষ্টি করেন নাই, তিনি মান্য শ্য্টি করিয়াছেন। তিনি ইচ্ছা করিলে মানুষকেও পশ্তর মতন সৃষ্টি করিতে পারিতেন বটে, কিস্ত তাহ! হইলে আরো কতকগুলি পণ্ড সৃষ্ট হইত মাত্র, মানুষ হৃষ্টি হইত না। মানুষ সৃষ্টি করিতে হইলে তাহাকে পণ্ড হইতে ভিন্ন করিয়া ব্য্টি করিতে হয়| ঈশ্বর তাহাই করিয়াছেন। পশুদের বুদ্ধি-শক্তি নাই, ইচ্ছা-স্বাতন্ত্্যও নাই ; তাই তাহার! ভাবিয়া চিন্তিয়া স্বাধীন- ভাবে কোনও কাজ করিতে পারে ন!; তাহার প্রকৃতির হাতে পুত্তলিকার ন্যায় সাহজিক প্রবৃত্তি বশে কাজ করে। কিন্তু মানুষ তাহা করে না; তাহার চিন্তা- শক্তি আছে. ইচ্ছা-স্বাতন্ত্যও আছে; তাই সে ভাবিয়া চিত্তিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করে। এইখানেই পশ্তদের সহিত মানুষের পার্থক্য এই পার্থক্য বজায় রাখিতে হইলে মানুষকে ইচ্ছান্বাধীনতা দিতেই হইবে এইখানেই মুশকিল যদি যান্ষকে স্বাধীনতা ন। দেওয়া হয়, তবে তাহার নহিত পশুর কোনই প্রভেদ থাকে না;

ঈশ্বরবাদ

আর যদি স্বাধীনতা দেওয়া] হয়, তবে তাহাকে পাপ করিবার স্বাধীনতাও দিতে হইবে; নতুবা স্বাধীনতার কোন অর্থই হয় ন!। শুপু পুণ্য কাজ করিবারই ক্ষমতা! থাকিবে, পাপ কাজ করিবার ক্ষমতা থাঁকিবে না, উহাকে তো স্বাধীনতা বলে না। এমতাবস্থায় ঈশ্বর কি করিবেন? আমরা পূর্বেই বলিয়াছি, ঈশ্বরও অসাধ্য নাধন করিতে পারেন না; তিনি মানুষকে স্বাধীনতা দিবেন, অথচ পাপ করিবার ক্ষমতা দ্রিবেন নীঁউহা তো সম্ভব নহে। অতএব মানুষের টনতিক দৃর্গতি দেখিয়া! ঈশ্বরের প্রতি দোষারোপ করার কোন অর্থ হয় না। আর এক কথা। মানুষ ভূল করিবে, দোষ করিবে, অন্যায় করিবে-_ইহা! তো খুবই ম্বাভাবিক। এইভাবে ভুলক্রটির মধ্য দিয়াই সে উন্নতি করিতে পারিবে নতুবা, যে মানুষ ভূল করে না সে কখনও “মানুষ” হইতে পারে না। মানুষ হইতে হইলে তাহাকে বারে বারে পড়িতে হইবে, আবার বারে বারে ইঠিতে হইবে ; ছুঃখের সহিত দৈন্তের সহিত তাহাকে সংগ্রাম করিতে হইবে তবেই তো তাহার সুপ্ত শক্ত বিকশিত হইবার স্থযোগ পাইবে ; নতুবা সে “যে ভিষিরে ছিল সেই তিমিরেই” রহিয়া যাইবে যাহাকে কোনরূপ প্রলোভনের সম্মুখীন হইতে হয় না, বা প্রাকৃতিক দুধোগের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করিতে হয় না, যাহার জীবন পথে কোনরূপ বিপদ আপদ নাই, তাহার চরিত্র গঠনের কোন সম্ভাবনাই নাই। চরিত্র গঠনের জন্য পদে পদে প্রতিবন্ধকতা চাই; কারণ, প্রতিবন্ধকত। ন। থাকিলে আমর! চেষ্টা করি না, আর চেষ্টা না করিলে যে রত্ব পাওয়া যায় নাঁ_ তাহা বলাই বাহুল্য। অতএব আমরা উপরে যেসব প্রাকৃতিক নৈতিক প্রতিবন্ধকতার কথ উল্লেখ করিয়াছি--তাহাকে ঈশ্বরের অভিশাপ না মনে করিয়া! ঈশ্বরের অবদান মনে করা উচিত; কারণ এইসব প্রতিবন্ধক আছে বলিয়াই আমরা আমাদের স্ুপ্ত শক্তি জাগ্রত করিবার স্থযোগ পাইতেছি।

দ্বিভভীজ জম্যাল্স ঈশ্বরবাদ

নিরীশ্বরবাদিগণ যাহাই বলুন না কেন, সাধারণ লোকে সকলেই ঈশ্বরে বিশ্বাম করেন। আদিমযুগে বা বর্তমান যুগে যেদিকেই লক্ষ্য করি না কেন, আমরা এমন কোন মানব সমাজের খবর পাই না যেখানে কোন না কোন প্রকারের ধর্মজ্ঞান নাই। ধর্মজান--অর্থাৎ ঈশ্বর সম্বন্ধে কিছু না কিছু ধারণ! সকলেরই আছে; এমন কি যাহাদিগকে আমরা আদিম বা! অসভ্য বলিয়া মনে

১০ দর্শন প্রসঙ্গ

করি তাহারাও বিশ্বাস করে যে এই জগতের এক কর্তা বা নিয়স্তা আছে। এই সষটিকর্তা বা ঈশ্বর সম্বন্ধে তাহাদের ধারণা হয়ত স্পষ্ট নহে? তাহাকে পুজা করা অপেক্ষা তৃগ্ করাই হয়ত তাহাদের লক্ষ্য; কিন্তু তবুও স্বীকার করিতে হইবে যে তাহার৷ একেবারে ধর্ম জ্ঞানহীন নহে, তাহারাও ইশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে।

কেহ কেহ বলেন যে সাধারণ মানুষের এই প্রকার ধর্মজ্ঞানের মূলে আছে কতিপয় স্বার্থান্ধ ব্যক্তির শঠতা। যেমন চার্বাক বলেন যে ব্রাহ্মণ পূজারীগণই নিজ নিজ স্থার্থসিদ্ধির জন্য মানুষকে বেদে ঈশ্বরে বিশ্বান করিতে শিক্ষা দিয়া গিয়াছেন ; কারণ ঈশ্বরের পূজা না৷ করিলে তাহাদের ব্যবসা নষ্ট হইয়া যায়। ইহা ষে একেবারে বাজে কথ1--তাহা বলা যায় না; ইহার যধ্যে যথেষ্ট সত্যতা আছে। অনেক ধর্মধাজক এবং ধর্মগোষঠীর কথ। জানি যাহারা মানুষকে ধর্মান্ধ বানাইয়া নিজ নিজ স্বার্থ সিদ্ধি করিয়! গিয়াছেন এবং বহুক্ষেত্রে এখনও করিতেছেন আফিং খাওয়াইয়1 মানুষকে যেমন মোহগ্রস্থ কর। হয়, ধর্মীমৃত পান করাইয়াও তাহাকে তেমন অন্ধ অজ্ঞ করিয়! রাখা হয়। সত্যিকারের ঈশ্বর না থাকিলেও এক মিথ্যা ধারণার স্থষ্টি করিয়া, নরকের ভয় এবং স্বর্গের লোভ দেখাইয়াও মানুষকে যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করানো যান তাহা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু তবুও আমরা জিজ্ঞাসা করি- ছুনিয়ায় সর্বত্রই কি এইরূপ করা হইয়াছে? কোন এক যুগে বা কোন এক সমাজে যাহ! হইয়াছে--সকল সমাজে এবং সকল যুগেই কি তদ্রপ হইয়াছে? ইহা সম্ভব নহে; অথচ আমরা দেখিতেছি যে পৃথিবীর সর্ধত্রই লোকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে; ঈশ্বরে বিশ্বান করে না এমন লোকের সংখ্যা নিতান্ত অল্প। এমত অবস্থায় আমরা যদি বলি যে মানুষের ধর্ম-বিশ্বাসের মূলে স্বার্থাঙ্ধ ব্যক্তির মিথ্য! প্ররোচনা ব্যতীত আর কিছুই নাই-_তাহা হইলে মোটেই সঙ্গত হয় না।

মোটকথা মাুষের ধর্মবিশ্বাস এত ব্যাপক যে ইহার মূল অন্ুসন্ধান করিতে হইলে শুধু বাহ্‌ কারণের দিকে লক্ষ্য করিলেই চলে না, ইহার অন্তনিহিত কারণও লক্ষ্য করিতে হইবে। এক কথায়, শুধু বাহির হইতে চার্প দিয়া এই বিশ্বাস স্বষ্টি কর] যায় না; ইহার মূলে যে অন্তন্নিহিত কারণ বিদ্যা আছে, তাহাও লক্ষ্য করিতে হইবে। প্রত্যেক ষান্থষের মনেই এষন কয়েকটি ভাব আছে, যাহা তাহাকে স্বভাবতঃই ধর্মপ্রবণ করিয়। তোলে? তাই শুধু অপরের প্ররোচনায় নহে, নিজের আন্তরিক প্রেরণাতেও সে ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বান করিতে চাহে। এখন আমরা এইরূপ দুইটি অস্তনিহিত কারণের উল্লেখ করিব

ঈশ্বরবাদ ১১

যাহার প্রেরণায় মানুষ নিজে ইচ্ছা! করিয়াই ঈশ্বরের আস্তত্বে বিশ্বান করে, অপরেরু-্ডয়ে বা লোভে নহে।

প্রর্থমতঃ নির্ভরতা বোধ £661105 01 1)610970067866 )। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই যে নির্ভরত। ৰোধ আছে, উহা হইতেই সাধারণতঃ ধর্মজ্ঞানের উদ্ভব হইয়া থাকে ঝড়, বণ ব্যাং ভূমিকম্প প্রভৃতি নৈষ্গিক বিপদের নিকট মানুষ নিজেকে নিতান্তই দুর্বল অসহায় বলিয়! মনে করে; সে যতই শক্তিমান হউক না কেন, ইহাদের সন্মুখে তাহার সমস্ত শক্তি কোথায় যেন অন্তহিত হইয়া যায়। তারপরে, যখন জরা” ব্যাধি অবশেষে ম্বৃত্যু ঘনাইয়া আনে তখন সে স্পষ্ট উপলঞ্ধি করে যে যা স্ত নিতান্ত তুচ্ছ নগণ্য . তখন সে ধান্ুষ অপেক্ষাও অধিকতর শক্তিসম্পন্ন কোন দেবতার কথ চিন্তা না করিয়! পারে না। ইহাই তাহার ঈশ্বর; তাহার সমস্ত বিপদে আঁপদে একমান্ধ এই ঈশ্বরই তাহাকে রক্ষ! করিতে পারেন। অতএব ঈশ্বরের উপর নির্ভর করা ছাড় তাহার আর উ*।৭ শ।ই, তাই সে আকুল চিত্তে তাহার সাহায্য প্রার্থন। করে। ইহাকে ধর্মভাব বলে , আমাদের নির্ভরতা বোধ হইতে ইহার উদ্তব। ৫র্তীয়তঃ নৈরাশ্টবোধ (559)176 01 [া718081190)| ক্যাণ্ট ইহার উপর অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করিয়াছেন তিনি বলেন যে আমরা সাধারণতঃ বিশ্বাস করি যে, মানুষ নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী সখ বা! ছুঃখ ভোগ করে; যে সৎকাজ করে সে স্থখভোগ করে, আর যে অসতকাজ করে সে দুঃখভোগ করে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে আমর। কি দেখি? আমরা অনেক সময়েই দেখি, যে লোক আজীবন সৎকাজ করিল এবং পরের উপকার করিধ। জীবন অতিবাহিত করিল, সে হয়ত শেষ জীবনে খুবই কষ্টে পড়িয়াছে; আর যে লোক চিরকাল অনৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করিল এবং অনতভাবে জীবণ যাপন করিল, নে শেষ পর্যন্ত বেশ স্থখেই জীবন কাটাইয়া গেল, তাহার কোন দু:খ কষ্ট হইল না এই সব দেখিরা আমাদের মন স্বভাবতঃই খুব ক্ষুব্ধ হইয়া ওঠে কি রকম বিচার? নাধুলোক তাহার সৎকাজের পুবস্কার পাইবে না? আর অসাধুলোক কোনরূপ শান্তি পাইবে ন।? ইহা তো! গুরুতর অন্যায় ইহার কি কোনরূপ প্রতিকার নাই? কিন্ত কে প্রতিকার করিবে? সংসারে যেদিকে তাকাই সেদিকেই দেখি এই অন্যায় অবিচার অগ্রতিহত গতিতে বহিয়া চলিয়াছে। মানুষের পক্ষে ইহা প্রতিরোধ করা সম্ভব নহে, অথচ অবিচলিত চিত্তে ইহা! সহ করাও আমাদের পক্ষে সহজ নহে আমাদের মন তখন নৈরাশ্টে ভরিয়া ওঠে; তখন মনে হয় মানুষ অপেক্ষাও নিশ্চয়ই এক শক্তিশালী কেহ আছেন ধিনি কিছুতেই

১২ ভগবত-তত্

এই অন্যায় সহ করিবেন না। তিনিই আমাদের ঈশ্বর; তিনি কাহারও প্রাতি কোন প্রকার অবিচার হইতে দিবেন না, প্রতে)কের কৃতকর্মের যথাযথ ফল তিনি প্রদান করিবেন। অতএব আজ সংসারে যাহাই ঘটুক না কেন-_ঈশ্বর একদিন সব ঠিক করিয়৷ দিবেন

এইভাবে মানুষ ঈশ্বরের কথ। চিন্তা করিয়া থাকে তবে এখানে একটি বিষয়ে সাবধান করির! দেওয়! দরকার আমরা আমাদের দুর্বলতা অপূর্ণতার জন্য ঈশ্বরের কথ। চিন্তা করি বটে, কিন্তু ইহা হইতে আমরা যদি অনুমান করি যে সত্যই ভগবান বলিয়৷ কেহ আছেন, তবে খুবই ভূল হইবে কয়েকটি উদাহরণ দিয়! কথাটি বুঝানো যাউক খ্রীষ্টানদের বড়দিনে ইউরোপে নানা- প্রকার উৎসব অনুষ্ঠিত হইয়| থাকে ; এই উৎসবের একটি প্রধান অনুষ্ঠান ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য উপহার দেওয়া সকালে ঘুম হইতে উঠিয়া তাহার দেখে, থলি ভন্তি উপহার বিছানায় পড়িয়। আছে। তাহাদের বিশ্বাস বুদ্ধ 92105. 01895 আনিয়া এই নব উপহার রাখিয়। গিয়াছেন। সেইজন্য ঘুষাইবার পূর্বে তাহারা সকলেই এই স্লেহ-প্রবণ বৃদ্ধের কথা চিন্তা করিয়া থাঁকে এবং তাহার নিকট হইতে নানারূপ উপহার পাইবার কাষনা করিয়া থাকে আমর! জিজ্ঞানা করি__তাহারা! নকলেই 981)58 00195-এর কথা চিন্তা করে বলিয়াই কি বুঝিতে হইবে যে সত্য সত্যই তাহার কোন অস্তিত্ব আছে? বস্তৃতঃ 52109 01845 বলিয়া শিশুদের কোন বন্ধু নাই; তাহাদের পিতামাতাই তাহাদের জন্য গোপনে উপহার রাখিয়া যান। অথচ শিশুরা ভাবে 927708 0185০-এর কথা) কিন্তু বাস্তব জগতে ইহার কোন অস্তিত্ব নাই, ইহার অন্তিত্ব আছে শুধু কল্পন। জগতে সেইরূপ, রাতে একাকী শ্মশানের নিকট দিয়া যাইবার সময় আমরা সকলেই ভূতের ভয়ে অভিভূত হইয়া পড়ি। এইভাবে ভূতের কথা চিন্তা করি বলিয়াই কি স্বীকার করিতে হইবে যে সত্যই জগতে ভূত আছে? মোটেই না; কারণ আমর। যাহা! কল্পনা করি তাহা নব সময়ে বাস্তব সত্য নাও হইতে পারে ; ইহার জন্য স্বতন্ত্র প্রমাণের প্রয়োজন নেইরূপ আমাদের দুর্বল মুহূর্তে আমর! ঈশ্বরের কথা চিন্তা করি বটে, কিন্ত সত্যই ঈশ্বর আছেন কি না! প্রমাণ করিবার জন্য যথাষথ যুক্তি দেখাইতে হইবে আমরা এখন এইনকল যুক্তির কথা আলোচন। করিব।

ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ পাশ্চাত্য দর্শনে সাধারণতঃ চারিপ্রকার . যুক্তি প্রদর্শন করা হয়; যথা

দর্শন প্রসঙ্গ ১৩

0০950901098102] £১1601002170 01000198108] 4১150176170 61591961081 /1:501002106 এবং 100151 4১150002120 7 হিন্দুদর্শনে আর একটি যুক্তির উপরে খুব গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যথা শব্দ বা &80:০115 আমরা একে একে এইগুল ব্যাখ্যা করিব।

1. 09570)019£10971 72070601

বিজ্ঞানের একটি অবশ্ঠ স্বীকার্ষ তত্বের নাম কার্ধকারণ সম্বন্ধ (08521 [.০19007) | এই কার্যকারণ সন্বন্ধের উপরেই 0998010£1081 4১16- 1067) প্রতিষ্িত। পৃথিবীতে যে কোন ঘটনাই ঘটুক না! কেন, তাহার নিশ্চয়ই কোন “কারণ আছে; বিনা কারণে কোন কার্ধের উদ্ভব হওয়া সম্ভব নহে। আজ জলপাইগুড়ি সহর জলে প্রাবিত হইয়া গেল--এই প্লাবন “কাধ' (6:£65০6) ; অতএব নিশ্চয়ই ইহার কোন “কারণ (0%556) আছে? ইহার কাবণ' ₹নস্তা নদীতে বন্যা আসিয়াছে কিন্তু তিন্তা নদীতে আজ এত বন্যা আসিল কেন? ইহার কারণ, হিমালয়ের পাদদেশে অতিবুষ্টি হইয়াছে আবার হিমালয়ে আজ এত বৃষ্টি হইল কেন? ইহারও কারণ আছে; বঙ্গোপসাগর হইতে মেঘ আসিয়া জমা হইয়াছে এইভাবে কারণ হইতে কারণাস্তরে চলিয়া যাইতে পারি। কিন্তু কতদূর যাইব? যদি পর পর শুধু চলিতেই হয়, তবে আমাদের চিন্তার মধ্যে অনবস্থা দোষ (]7610166 12£1538) আসিয়া জোটে কিন্তু উহা তো সঙ্গত নহে অতএব কোন এক বিন্দুতে আনিয়া আমাদিগকে থামিতেই হইবে উহাকে আমরা আদি কারণ বা যূল কারণ বলিতে পারি; এই প্রথম কারণের কোন কারণ নাই। জগৎ ব্যাখ্যা কারবার জন্যও এমন একটি আদি কারণ স্বীকার কর! প্রয়োজন। নতুবা আমরা যদি ক্রমাগত কারণের পর কারণ অন্বেষণ করিয়া নিরন্তর শুধু চলিতেই থাকি, তাহা হইলে আমরা কখনই কোন স্থির সিদ্ধান্তে আসিয়া পৌছিতে পারিব না। স্থির সিদ্ধান্তে পৌছিতে হইলে জগতের এক আদি কারণে আসিয়া! থামিতেই হইবে এই._আদি কারণের কোন কারণ থাকিতে পারে না!) ইহাই আমাদের ঈশ্বর এইভাবে জগৎ ব্যাখ্যা করিতে গিয়া উহার আদি কারণ বা ঈশ্বরের আস্তিত্ব স্বীকার করাকে 080581 416010676 বলে

সমালোচন1। ইহাকে আমর! সবল যুক্তি বলিয়া গ্রহণ করিতে পাৰি না। প্রথমতঃ এই যুক্তিতে যানিয়! লওয়া হইতেছে যে আদি কারণ বা ঈশ্বরের কোন কারণ নাই। কিন্তু কেন নাই? ঈশ্বরকে যদি স্বয়স্ু বলিয়া

১৪ ভগব-তত্তব

যানিয়া লইতে হয়, তবে জগৎকেও স্বয়ু বলিয় মানিয়া লওয়া যাইতে পারে। তাহা হইলে আর ইহার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ছটিবার প্রয়োজন কি? যদি স্বীকার করিতে হয় যে জগতের কোন কারণ আছে, তাহা হইলে বলিতে হইবে যে তথাকথিত আদি কারণেরও নিশ্চয়ইকোন কারণ আছে; হঠাৎ থাষিয়া যাইবার কোন অর্থ হয় না। দ্বিতীয়তঃ, যদি আদি কারণের অন্তিত্ব মানিয়া লওয়া হয়, তাহা হইলেও মুশকিল আছে। মানিগনা লইলাম যে জগতের এক আদি কারণ আছে, এবং উহা হইতে জগৎ উদ্ভূত হইয়াছে। তাহা হইলে স্বীকার করিতে হইবে যে ঈশ্বরের জীবনে এমন এক মুহূর্ত ছিল যখন তিনি একাকী কারণরূপে বিরাজ করিতেন, তাহার কার্য অর্থাৎ জগৎ তখনও সৃষ্ট হয় নাই। কিন্তু উহা! তো সম্ভব নহে। কার্য কারণকে আমরা এইভাবে পৃথক করিয়। স্বতন্ত্র ভাবে দেখিতে পারি না? উহার! বস্ততঃ একই জিনিষের দুইটি দিক। যেমন ধর, জল হইতে বাষ্প নির্গত হইতেছে ; এক্ষেত্রে জল কারণ এবং বাষ্প “কার্য কিন্তু যখন বাম্প নাই, তখন কি আমরা জলকে “কারণ বলিতে পারি? জলকে আমরা তখনই “কারণ বলি যখন দেখি ইহা হইতে বাম্প নির্গত হইতেছে; অর্থাৎ বাম্প ছাড়া কারণ থাকিতে পারে না। আবার কারণ ছাড়াও বাম্প থাকিতে পারে না; সত্যই তো জল ন1 থাকিলে বাম্প আসিবে কোথা হইতে ?. অতএব আমর। যখন বলি যে ঈশ্বরই জগতের আদি কারণ, তখন বুঝিতে হইবে যে, এই জগৎও তখন তাহার সঙ্গে একত্র বিরাজ করিতেছিল “কারণ রাপে ভগবান থাকিলে “কাধ দ্ধপে জগং-ও থাকিতে বাপ্য ; জগৎ ব্যতীত ভগবানের একক অস্তিত্ব সম্ভব নহে অতএব আমর! বলিতে পারি যে সৃষ্টির পূর্বে তাহার কোন স্বতন্ত্র সত্তা ছিল না। তৃতীয়তঃ মানিয়া লইলাম যে স্ষ্ির পূর্বেও আদি কারণরূপে ভগবান একাকী বিদ্যমান ছিলেন, এবং কোন এক শুভ মুহুর্তে তিনি তাহার এই একাকীত্ব পরিহার করিয়া বিশ্বজগৎ কুষ্টি করিলেন। কিন্তু এই প্রকার কল্পনাতেও মুশকিল আছে। তিনি তো একাকী ভালই ছিলেন, তবে বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করিতে গেলেন কেন? তাহা হইলে কি বুঝিতে হইবে যে তিনি যখন একাকী ছিলেন তখন তিনি পূর্ণ ছিলেন না? ত্বাহার মধ্যে অভাব অপূর্ণতা ছিল বলিয়াই'কি তিনি এই বিশ্বজগৎ স্থষ্টি করিলেন? তাহা হইলে স্বীকার করিতে হইবে যে ঈশ্বরের জীবনেও উন্নতি অবনতি আছে; স্ট্টির পুর্বে তিনি অপূর্ণ ছিলেন, সৃষ্টির পরে পূর্ণতা প্রাপ্ত হইলেন। কিন্ত ঈশ্বরের সম্বন্ধে কি এই প্রকার কথ! 'প্রযোজ্য ?

ঈশ্বরবাদ ১৫

11. 02001061051 410 077610%.

আমর! পূর্েই বলিয়াছি যে মানুষ মাত্রই ঈশ্বরের কথা চিন্তা করিয়া খাকে। শিক্ষিত অশিক্ষিত, সভ্য অসভ্য, আদিম আধুনিক সকল মানুষের যনেই ঈশ্বরের সম্বন্ধে একটি ধারণা আছে। কেহ মনে করেন ঈশ্বর পরম কারুণিক, কেহ মনে করেন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান; কেছ মনে করেন ঈশ্বর সর্বগুণাধার ; আর কেহ মনে করেন তিনি নিগুণণ, দয়া মায়া, করুণ। প্রভৃতি কোন গুণই তাহার মধ্যে আরোপ করা যায় না। এইভাবে নানা, লোকে তাহার সম্বন্ধে নানাভাবে চিন্তা করিয়া থাকেন কিন্তু একটি বিষয়ে নকলেই একমত ; নকলেই বলেন ঈশ্বর পূর্ণ (72650 , তাহার মধ্যে কোনরূপ অপূর্ণতা ( [706700600,) থাকিতে পারে না। এই পূর্ণতা-বোধ হইতেই অনেকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করিতে চাহেন ইহাকে 070০- 1051021 /১711861) বলে তাহারা বলেন_ আমরা ধাহাকে 72:00 বা পূর্ণ নগ্গিপ্নন্ি, তাহার যদি কোন অস্তিত্ব না থাকে, তাহা হইলে তাহাকে পূর্ণ বলা যায় কেমন করিয়1? ঈশ্বরের যত গুণই থাকুক না কেন, তাহার যদি অস্তিত্বই না থাকিল, তকে আর তাহার রহিল কী? ধাহার অস্তিত্বই নাই, তাহাকে ঢ০::65০€ বলা যায় কেমন করিয়া? অতএব, যেহেতু আমর! সকলেই ঈশ্বরকে ০০:০০ বলিয়া মনে করি, সেই হেতু স্বীকার করিতে হইবে যে তাহার অস্তিত্বও নিশ্চয়ই বিদ্যমান আছে।

সমালোচনা। এই প্রকার যুক্তির উপর আমরা বিশেষ কিছু গুরুত্ব আরোপ করিতে পারি না। আমি যনে করিতেছি যে আমার পকেটে দশ টাকা আছে, তাহা হইলেই কি বলিতে হইবে যে সত্যই আমার পকেটে দশ টাকার অস্তিত্ব আছে। তর্কের খাতিরে মানিয়া লইলাম যে আমর! সকলেই ঈশ্বরকে চ০:5০% বলিয়া মনে করি; তাহা হইলেই কি বুঝিতে হইবে যে, তিনি সত্যই বাস্তব জগতে বিদ্যমান আছেন? আমরা এইটুকু বলিতে পারি যে, যখন আমরা ঈশ্বরকে 21:০০ বলিয়া মনে করি তখন তাহার অন্তিত্বও আছে বলিয়া ধারণা করি। কিন্ত ধারণা! করা এক জিনিষ, আর বাস্তব জগতে বিদ্যমান থাকা আর এক জিনিষ আমরা ধারণ! করিতেছি যে ঈশ্বর আছেন; তাহা হইলেই কি বুঝিতে হইবে যে সত্যই তিনি বিদ্যমান আছেন? ইহা! যোটেই |

নী * [81601061981 576 20067) আমরা পৃথিবীর স্্টিকৌশল দেখিয়া অবাক না৷ হইয়া! পারি না। প্রজাপতি

১৬ দর্শন প্রসঙ্গ

মধুসংগ্রহের জন্য ফুলে গিয়া বলে; তাহার পাখার রংএর সঙ্গে ফুলের রংএর কি অদ্ভূত সাদৃশ্ত! ফলে তাহাকে প্রজাপতি বলিয়া চিনিয়া ফেলা খুবই কঠিন হয়। এইভাবে সে তাহার শক্রর দৃষ্টি হইতে সহজেই আত্মগোপন রুরিতে পারে পাখির হাড়গুলি দেখ, কি পাতল। এবং উহাদের ওজন কত কম। কারণ তাহাকে আকাশে উড়িতে হয়, সেইজন্য ভূচর জন্তর ন্যায় তাহার অস্থিগুলি ভারী নহে আবার দেখ, যে সব পশ্ড দুর্বল, তাহাদের দোড়াইবার শক্তি প্রবল; নতুবা! তাহারা শক্রর হাত হইতে নিজদিগকে রক্ষা করিতে পারিত না এই অদ্ভুত শৃঙ্খলা-সৌকর্ধ দেখিলে আমাদের স্বভাবতঃই মনে হয় যে, দুনিয়ায় নিশ্চয়ই এক কুশলী ঈশ্বর আছেন যিনি বিভিন্ন বস্তর মধ্যে এক স্থপরিকল্পিত সামঞ্রন্য বিধানপূর্বক বিশ্বন্থট্টি করিয়াছেন

সমালোচনা আমাদের মতান্ুসারে এই যুক্তিও বিশেষ সবল নহে আমর! স্বীকার করি যে, বিশ্ব-হুনিয়ায় এইরপ শৃঙ্খল সামগ্জন্যের বহু উদাহরণ পাওয়া! যাইতে পারে ; কিন্ত অন্য প্রকার উদাহরণও তো বহু মাছে। জাপানে যেখানে কোটী কোটা লোকের বান--৫সখানে আগ্নেরগিরি বা ভূমিকম্পের এত উৎপাত কেন? সাহারায় জল নাই কেন? সেখানে জল থাকিলে কত লোকের উপকার হইত অতএব শুধু সাম্জস্ত্ের উদাহরণ খুঁজিলে হইবে না» অসামব্রস্তেরও উদাহরণ দেখিতে হইবে তখন আর ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার কর। খুব সহজ হয় না। তখন মনে হয় ঈশ্বর বলিয়! কেহ থাকিলে ছুনিয়ায় এইরূপ অন্যায় অবিচার মোটেই সম্ভব হইত না।

[ড় 11079] 87607109121

আমাদের নৈতিক জীবনের আদর্শ প্রসঙ্গে এই যুক্তি উপস্থাপিত করা হয়। উদ্দাহরণ দিয়া ব্যাখ্যা করা যাউক। শিল্পী যখন ছবি অঙ্কন করেন তখন তিনি তাহার মনের পুরোভাগে একটি আদর্শ ধরিয়া রাখেন। তাই তিনি শুধু ছবি অঁাকিয়াই ক্ষান্ত হন না; সেই ছবিটি তাহার আদর্শ অনুযায়ী হইয়াছে কি না- তাহাও বিবেচনা করেন। সেইরূপ, আমরা যখন ছবি দেখি বা কবিতা পড়ি, তখন শুধু দেখিয়াই বা পড়িয়াই আমরা ক্ষান্ত হই না, কবিতাটি স্থন্দর হইয়াছে কি না, ছবিটি মনোহর হইয়াছে কিনা তাহাও বিচার করি। এইরূপ বিচারের জন্য এক মানদগ্ডের প্রয়োজন ; ইহাকে আমরা সৌন্দর্য বিচারের মাপকাঠি বলিতে পারি। এই আদর্শের সহিত তুলনা! করিয়া আমর! ছবিটিকে স্থন্দর বা অস্থন্দর বলি। মানুষের নৈতিক ক্রিয়া সন্বন্ধেও ঠিক এই কথা প্রযোজ্য; তাহার ক্রিয়া-প্রক্রিয়া শ্ধু লক্ষ্য

ঈশ্বরবাদ ১৭

করিয়াই আমরা ক্ষান্ত হই না? উহা সং কি অসৎ ন্যায় কি অন্যায়_ তাহাও বিচার করি। এক্ষেত্রেও আমর! মনের পুরোভাগে এক নৈতিক আদর্শ ধরিয়া রাখি, এবং সেই আদর্শের সহিত তুলন! করিয়া আমরা মান্ধষের কাজকে উচিত বা অনুচিত বলিয়া বিবেচনা করি যে কাজ আদর্শ অনুসরণ করে তাহাকে আমরা ভাল কাজ বলি; আদর্শের যত নিকটে পৌছিতে পারে_ততই ভাল আব যে কাজ আদর্শ হইতে বহুদূরে থাকে, অর্থাৎ আদর্শকে অনুসরণ করে না, তাহাকে আমরা খারাপ কাঁজ বলি।

তাহা! হইলে দেখ। যাইতেছে যে নৈতিক আদর্শের প্রভাব আমাদের জীবনে অপরিষেয়, উহার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়াই আমরা আমাদের জীবন পরিচালিত করিতে চেষ্টা করি। এখন প্রশ্ব হইতেছে এই-যে নৈতিক আদশের কথা বল! হইতেছে, উহা বাস্তব সত্য (001০০+৫56 ), না আমাদের কল্পনাপ্রস্থুত মানসিক তথা মাত্র (986150015 )। যদি বল! হয় যে উহা আঁ £ মাননসিক কল্পনা মাত্র, তাহা হইলে প্রশ্ন করা যাইতে পারে ষে, এইরকম এক মিথ্যা কল্পনাব দ্বারা আমাদের নৈতিক জীবন পরিচালিত হয় কেমন করিয়া? যে আদর্শ অন্ুসরণ করিয়া আমরা জীবনকে শুধু স্ুষ্ট- ভাবে পরিচালনা করি, তাহাই নহে, জীবনকে মহৎ, পবিত্র উন্নত করিতে পারি, সেই নৈতিক আদর্শকে একেবারে অলীক কল্পনা বলিয়া! উড়াইয়া। দেওয়া যায় কি? তাহা তো সম্ভব নহে। সেইজন্য অনেকে বলেন যে, যেহেতু আমাদের জীবনকে মিথ্যা বলিয়া উড়াইয়া দেওয়া যায় না, সেইহেতু জীবনের আদর্শকেও মিথ্যা বলিয়া! কল্পনা করা যায় শা; ইহাকে আমর! সত্য বলিয়া ত্বীকার করিতে বাধ্য। তাহারা আরও বলেন যে, এই আদর্শকে যখন আমরা সত্য বলিয়! স্বীকার করিয়! লই, তখন ঈশ্বরের অস্তিত্বও আমরা স্বীকার করিতে বাধ্য কারণ ঈশ্বর বলিতে আমরা তো কোন অদ্ভুত জিনিষ বুঝি না, ঈশ্বর বলিতে আমরা বুঝি মানব জীবনের এক সর্বোত্তম আদর্শ ধাহার মধ্যে আমাদের সকল আশা ভরস। সকল আকাজ্কা প্রার্থনা পু্তীভূত হইয়া জীবন্তরূপ গ্রহণ করিয়াছে। ঈশ্বর এই আদর্শের প্রতীক ব্যতীত আর কিছুই নহেন। অতএব আদর্শ সত্য হইলে, ঈশ্বরের অস্তিত্বও সত্য হইতে বাধ্য

সমালোচনা_এই যুক্তিও আমরা বিনা দ্বিধায় গ্রহণ করিতে পারি না। কোন এক আদশ'কে লক্ষ্য করিয়া আমরা আমাদের জীবন পরিচালিত করিতেছি বলিয়াই ষে সেই আদশের বাস্তব অস্তিত্ব স্বীকার করিতে হইবে-_-এষস কোন

৮.

১৮ ভগবৎ-তত্ব

অর্থ নাই; উহা! তুল হইতে পারে, মিথ্যাও হইতে পারে অতএব আগে উহার বাস্তবিকতা৷ প্রমাণ করিতে হইবে, তারপরে অন্তকথ|। দ্বিতীয়তঃ এই যুক্তিতে নতিকতার প্রতি অতিশয় গুরুত্ব আরোপ করা হইয়াছে; কিন্তু সকলেই হয়ত ইনতিক জীবনের এতাদৃশ প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করিবেন না। যীনুধুই জগতে প্রেমের বাণী প্রচার করিয়া গিয়াছেন ; কিন্ত তাহার কোটি কোটি শিস্ত কামানের গুলিতে এবং বোষার আগুনে তাহার সেই বাণী পুড়াইয় পুড়াইয়া দিতেছেন ; অর্থাৎ তাহারা ইহার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন না অতএব তাহাদের নিকট এই প্রকার যুক্তির যে বিশেষ কোন মূল্য থাকিতে পারে না-_-তাহা বলাই বাহুল্য নৈতিক জীবনের সত্যই যে বিশেষ কোন সার্থকতা আছে-_তাহার প্রমাণ কি?

[ এখানে বলিয়া রাখা ভাল যে আমরা উপরোক্ত নৈতিক যুক্তিকে মোটেই উপেক্ষা করিতেছি নাঃ এবং উপেক্ষা করিতে পারিও না। অধ্যাপক কানিংহামের মতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করিবার পক্ষে ইহাই সর্বাপেক্ষা প্রধান যুক্তি, এবং আমরাও উহ! স্বীকার করি। সেইজন্য আমর! এখানে ইহা অগ্রাহ্য করিতেছি না; আমরা শুধু বলিতেছি যে ইহা প্রমাণ সাপেক্ষ ব্যাপার, অর্থাৎ ইহা! গ্রহণ করিবার আগে একটি কথা প্রমাণ করা দরকার প্রমাণ করিতে হইবে যে আমর। উপরে যে আদর্শের কথা বলিয়াছি, উহা! নিছক কবি-কল্পনা নহে, উহ! কঠোর বাস্তব সত্য'। উহা] আমার বা তোমার খেয়ালের উপর নির্ভর করে নাঃ আমাদের মানব জীবনে এষন এক শিষ্ট্য আছে যাহার প্রভাবে উহার সত্যতা স্বীকার করিতে আমরা যেন বাধ্য যোটকথা, প্রথমেই আমাদিগকে এই আদর্শের বাস্তবিকতা প্রমাণ করিতে হইবে; প্রমাণ করিতে হইবে যে, আদর্শ (1991) হইলেও ইহ] কাল্পনিক