আঁ উড ভুলা হলাজ্ছিভ্তস্ত লন স্ব স্লু প্রা

এ. মুখার্জী আ্যাণ্ড কোং (প্রাইভেট) লিঃ £ £ কলিকাতা--১২

্ককাশক £ জীসমিয়রঞন সুখ্োপাধ্যাক্ ব্যালেজিং ভিজে, ৬- সুখ্খার্জী আশু কোৎ (প্রাইক্ডেট) ক্লিঃ বক্ষিম চাযাটাজী জট, কন্পিকাত-১২

ফচ্ঠ সংসবেন--কআসাষাডে ১৩৬৭, স্জ্য-প্পাচ টাকা €উ1১ ৫-০০)

আুজ্রক শুহরজ্যান্প বঞ্জন বুল ক্রেজ

৮৪৪.» কাশী দোষ লেন কন্লিকান্ত।-৬

আমার অধ্যাপক পরমশুতার্থা রসঙ্ক সাহিত্য ল্লালস শ্রী মুক্ত শঙ্গেক্কুন্যাথথ মিত্র, এম্‌. বাহাছুর শ্রদ্ধাস্পদেষু

বিনীত-_ শশিভৃষণ দাশগপ্ত

ভূমিক। ( প্রথম সংস্করণ )

এই গতির যুগে আমরা বুঝিতে শিখিয়াছি, সত্য নিহিত থাকে অখণ্ড প্রবাহের সমগ্রতায়, কোন দেশকালের খগ্ভূমিতে দাড়াইয়া আমরা সত্যকে কখনও মাপিয়া তুলিতে পারি না। সাহিত্যের যাহা সত্য তাহাঁও অখণ্ড প্রবাহে বিকাশের সত্য, তাহ। রহিয়াছে সাহিত্যের সকল অতীত, বর্তমীন এবং অনাঁগভকে জুড়িয়া। সুতরাং এই প্রবহমাণ শ্োতের উপকূলে কোথাও দীাড়াইয়। সাহিত্যের সত্য সম্বন্ধে অথবা তাহার কোন যুগবিশেষের সন্বন্ধেও যে কৌন কিছু চরম কথ। বলিয়া দেওয়া যায়, এমন বিশ্বাস আমাব নাই ।সাহিতে/র বিকাশের বিবর্তন যে শুধু বাহিরে তাহা নহে,--এ বিকাশের বিবর্তন রহিয়াছে ব্যক্তিগত সাহিত্যবো ধেব্‌ ভিতরেও। সাহিত্যের যে সকল সমস্যা সম্বন্ধে পাচ বৎসর পূর্বে যে ধারণা পোষণ করিতাম, পাচ বৎসর পরে হয়ত তাহাও অনেকথানি বদলাইয়া গিয়াছে পাঁচ বৎসর পূর্বে যে প্রবন্ধ লিখিয়াছি,--তাহার সকল মতা- মতের সহিত পাচ বৎসর পরে হয়ত নিজেরই সম্পূর্ণ আন্তরিক সহাম্ুভৃতি খু'জিয়া পাইতেছি না আজ পুস্তক আকারে যে যুগের সাহিত্য সন্থন্ধে আমার যে সকল মতামত প্রকাশ করিলাম, বিশ বত্লর পরে এই সকল সম্বন্ধে আমার নিজেরই মতামত যে ঠিক অপরিবতিত থাকিয়া যাইবে এমন চুক্তিতে স্বাক্ষর করিতে আমি নারাজ। স্থতরাংবিকাশের নিরবচ্ছিন্ন স্প্দনই যাহার ধর্ম, কোনও সিদ্ধান্তন্তত্র রচন! করিয়া তাহাকে কোথাও আটিয়। বাধিবার চেষ্টা বুথ সেই ম্পন্দনের ভিতরে কোথাও বদি কোনও রূপে এতটুকু তরঙ্গ তুলিয়! দেওয়া যায়, তাহারই সার্থকতা আছে। এই কথা মনে করিয়াই আমি এই গ্রন্থ গ্রকাশে অগ্রসর হুইয়াছি।

উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়াধের প্রথমে বাঙলা-সাহছিত্যে আসিয়াছিল একটা নবযুগ। এযুগের গোড়াপত্তন বন্ুপূর্ব হইতে হইলেও, ইহা! একটি

ছি 1৮০ স্পষ্ট রূপ গ্রহণ করিয়াছিল বঙ্কিমচন্দ্র মধুহ্ছদনের হাতে এই সময়েই পাশ্চাত্য প্রভাব আমাদের মনে প্রথম দান! বাধিয়া উঠিয়াছিল, সুদূর প্রাচ্যের শ্যামল ক্ষেত্রে পড়িয়াছিল পশ্চিমের সোনালী আলো সে আলোক যে শুধু 'আমাদেরচন্কু ঝলসাইয়া দিয়াছিল তাহা নহে, আমরা তাহাকে অনেকখানি প্রকৃতির দানের মত গ্রহণ করিতে পারিয়াছিলাম আমাদের দেহমনের ভিতরে ,--এই স্বীকরণের ভিতরই প্রকাশ পাইয়াছে আমাদের প্রাণ গ্রাচুর্ধ। বঙ্ষিমচন্ত্র, মধুস্থদন, দীনবন্ধু, হেম নবীন প্রভৃতির ভিতর দিক্কা বাওলা-সাহিত্যে যে নবধুগের আবির্ভাব দেখিতে পাই, আমার মণে হয় তাহ! একটি বিরাম বি লাভ করিয়াছে শরৎচন্দ্ের ভিতরে তাহার পর আবার সাহিত্যের দিকে দিকে প্রকাশ পাইয়াছে নৃতন 'আদর্শ, নৃতন ধাবা-বাগল।-সাহিত্যের ইতিহাসে তাই শরৎ্চন্দ্রের ভিতরে ঘটিয়াছে একটি ধুগসন্ধি। এই জন্য বাঙল! সাহিত্যের নবষুগ বলিতে আমি মনে করিয়াছি বঙ্কিমচন্দ্র, মধুস্ছদন হইতে শরৎচন্দ্র পর্যন্ত যে যুগ তাহাকেই।

আর একটি কথ।ও স্পট করিয়া বলিয়া রাখ দরকার, আমি এই গ্রন্থে বাঙলা-সাহিতোর এই নব্যগের কে'নও ইতিহাস লিখি নাই আমি শুধু এই যুগের কয়েকজন শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের বিশেষ বিশেষ আদর্শ বা বীতি লইয়া আলাঁচন' করিয়াছি, কোথাও কোথাও বর্তমান সাহিতোর কোনও বিশেষ বিশেষ ভাব রূপ সম্বন্ধে আলোচনা করিবার চেষ্টা করিয়াছি প্রবন্ধগুলিও বিভিন্ন সময়ের লেখ! ; সুতরাং তাহাদের ভিতরে স্পষ্ট কোন যোগম্থত্ধ নাই। তবে প্রবন্ধ গুলি সাজাইবার সময়ে পারম্প্য রক্ষা! করিতে চেষ্টা করিয়া্ছি। সমস্ত ভুড়িয়! পাঠকের, মনে এই নবযুগ সম্থন্ধে একট! মোটামুটি ধারণ? জন্মিতে পারে, এই আশাই হৃদয়ে পোষণ করিতেছি

বিনীত--গ্ন্ছ কান

সূচী

বিষয়

নবধুগের লক্ষণ

বঙ্কিমচন্দ্র সাহিত্যের আদর্শবাদ ...

উনবিংশ শতাবীর শেষভাগে বৈষ্ঝব-কবিতা

টাঙ্গেডি তাহার বিবর্তন

মধুহদনের চতুযর্শপদী কবিতাবলী...

কবি হেমন্ত

কাব্যে নবীনচন্তর রঃ

উনবিংশ শতাব্দীর বাঙলা-নাট্য-সাহিত্যের প্রাচীন পটভূমি

বিহারীলাল

রবীন্দ্রনাথের বৈষ্ণব: রী

শরৎ-সাহিত্োর শাঙ্বত নারী গুরুষ

ষ্ঠ ১--৩৫ ৩৬-৬২ ৬৩---৯৭ ৯৮-৮১২২ ১২২--১৩৯ ৯৪০-*১৬৯ ১৬৯---১৯৯

৯৯৯-*২১৯ ২২০স্্২৭৮ ২৭৯-৩২১ ৩২ ২স্*৩৩৬

নবযুগের লক্ষণ

মান্য নিরবধি কালেরও বহু অবধি সৃষ্টি করিয়া লইয়াছে, তাহ! লইয়াই চলে রাষ্ট্রে, ধর্মে, সমাজে, সভ্যতায়, সাহিত্যে নানা রকমের যুগবিভাগ মহাকালের আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্র, ধর্ম, সমাজ, সভ্যতা, সাহিত্য এই সকল লইয়া! আমাদের বিশ্বজগৎটি নিরন্তর পরিবতিত হইয়! চলিয়াছে,-অথবা। এ-কথাও বল! যাইতে পারে যে, বিশ্বজগতের চলার ছন্দের নামই কাল। এছু'য়ের ভিতরে যে কথাটাই সত্য হোক ন! কেন মোটের উপরে কালের চরখ-চিক্কের সন্ধান এবং পরিচয় মেলে শুধু বিশ্বজগতের পরিবর্তনের ভিতর দিয়া। এই জন্তই আমাদের বাহিরের জড়-জগতে এবং অন্তর্টরর চিন্তাজগতে খন আসে অনেকখানি একট। পরিবর্তন তখনই আমর! বুঝিতে পারি, কাল চলিয়। গিয়াছে অনেকখানি ; এই পবিবঙনের প্রকৃতি বিচার করিয়াই আমর! কৰি নানাপ্রকারের মুগবিভাগ |

সাহিত্যের জগতে আসিয়া আমর! যখন এই রকম কোন যুগবিভাগের কথা বলি, তখন বুঝিতে হইবে সাহিত্যের দেহে মনে আসিয়াছে এই রকমের একট 'অন্ুভবযোগ্য পরিবর্তন ; সেই পরিবর্তনের গ্রক্কৃতি দ্বারাই 'আমর! যুগের স্বরূপ-লক্ষণ নির্ণয় করি। সাহিত্যের ইতিহাসের যে

ংশটার উপর আমরা আধুনিক যুগের লেবেল ত্াটিয়! দিয়াছি, তাহ! অতি্পষ্টচৌহন্দিবুক্ত কোন কালখণ্ড নহে, ইতিহানের আবর্তনের ভিতর দিয়! সাহিত্যের দেহে মনে একটু একটু করিয়া প্রকাশ পাইয়াছে কত্তগুলি পরিবর্তনের বিশেষ-লক্ষণ, সেই লক্ষণ সমষ্টিই নবধুগের বা আধুনিক যুগের পরিচয়-পত্র। *

বাঙলা-সাহিত্যের নবধুগ

মানুষের সাহিত্যের ইতিহাস তাহার সমগ্র জীবনের ইতিহাস হইতে কিছু বিচ্ছিন্ন নহে; এই জস্তই সাহিত্যের আধুনিক পরিচয় নিহিত রহিয়াছে আমাদের জীবন-ইতিহাসের একটি বিশেষ পরিচয়ের ভিতরে মানুষের চারিপাশের জগৎ লইয়াই মানুষের সাহিত্য ; সে জগতের ভিতরে শুধু চেতনেরই খেলা নাই,--সেখানে জড়েরও থেল। আছে। জড় চেতনের সমবায়ে গঠিত মান্ধষের এই জগৎটি একটি বিশেষ কালে একটি বিশেষ রূপ লইয়া মানুষের সম্মুখে আবিভূত হইয়াছে,-_মাহুষের জগতের এই বিশেষ রূপটিই মানুষের সাহিত্যকেও দান করিয়াছে একটি বিশেষ রূপ, সেই বিশেষ রূপের সাহিত্যের আমরা নাম দিয়াছি আধুনিক সাহিত্য |

আঙগলে আমাদের জগত্টার কোথায় কতখানি কি পরিবর্তন ঘটিয়াছে ন। ঘটিয়াছে তাহা ঠিক করিয়া বল শক্ত,__কিস্তু আমাদের মনটার যে নিরস্তর পরিবর্তন ঘটিতেছে তাহ অস্বীকার করিতে পারি না (জগতের পানে তাকাইয়া। আমরা যখন তাহার যে রূপ দেখি তাহ! আমাদের চোখ দেখে না, চোথের যন্ত্রের ভিতর দিয়া দেখে আমাদের মন। এই মনের পরিবর্তন আনে দৃষ্টির পরিবর্তন,-দৃষ্টির পরিবর্তন ঘটায় দৃশ্যের পরিবর্তন |) জগতের ভিতরে হয়ত সমান তালে চলিতেছে ইহার একটা বিপরীত প্রক্রিয়া-_অর্থাৎ দৃশ্টের পরিবর্তনের সঙ্গে দৃষ্টির পরিবর্তন ঘটিয়। হয়ত দ্রষ্টী মন ( মনের উধ্বের ভ্রষ্টার কথা বলিয়া আমি সমস্যা আরও বাড়াইয়। তুলিতে চাহি না ) যাইতেছে পরিবতিত হইয়া উভয়ের ভিতরে রহিয়াছে একটা পারস্পন্বিক প্রভাবের সম্বন্ধ এখানে কার্য বা কারণ যেটাই সত্য হোক, আমর নিরস্তর যে জিনিসটা খুব বেশী 'স্কৃতব করিতে পারিতেছি উহ। আমাদের মনের পরিবর্তন এবং মনের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের দৃষ্টির পরিবর্তন আমাদের আধুনিকতার

রী

নবধযুগের লক্ষণ

পশ্চাতে বাস্তব সত্য কি আছে না আছে সে বিষয়ে সংশয়ের অবকাশ আছে,»_প্রক্কুতপক্ষে আমাদের আধুনিকতার মূলে নিঃসংশয়ে যাহা আবিষ্কার করিতে পারিতেছি তাহ! একট! দৃষ্টিবৈশিষ্ট্য একটা সহজ উদাহরণ গ্রহণ করিতেছি কাব্যরচনায় হস্তক্ষেপ করিয়া! টাদের নাম একবারও গ্রহণ করেন নাই এমন কবিআদে আছেন কিন! ইহ! বিশেষ গবেষণার বস্তু; কালপ্রবাহের ফলে এই বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের চাদের ভিতরে হাজার বৎসরের পূর্বের চাদ হইতে কতখানি পরিবর্তন ঘটিয়াছে তাহা! বিজ্ঞ বৈজ্ঞানিক হয়তে। তাহার সুক্মাতিহক্্ যন্ত্রের সাহ'ষ্যে বলিতে পারেন ; কিন্ত তাহার ভিতরকার অণুপরমাণুর মধ্যে পরিমাণগত এবং প্রকারগত কোন বিশেধ পরিবর্তন ঘটুক আর নাই ঘটুক, আজকের দিনে চন্ত্রের দ্প যে অনেকথানি পরিবতিত হইয়াছে তাহাতে কোন সন্দেহই নাই। হাজার বতমর পূর্বের সংস্কৃত কবিগণ স্থানে অস্থানে শ্সপেকের পর শ্পোকে যে অবিমিশ্র আদিরসের প্রলেপের দ্বার! চন্দ্রের মুখ ভূধিতকরিবার চেষ্টাকরিয়াছেন আজকের দিনের কোন কবি তাহ! করিয়া সাধুবাদের অধিকারীহইবেন বলিয়।ভরসারাখি না। আধুনিক সাহিত্য- গগন হইতে চন্ত্র একেবারে লুপ্ত হইয়া গিয়াছে একথা অবশ্য বল! যায় না, তবে তাহার রূপ রঙ ছুই-ই বদলাইয়াছে। এই রূপ-পরিবর্তনের কারণ আমাদের মনের পরিবর্তন এবং তাহার ফলে আমাদের দৃষ্টির পরিবর্তন আধুনিক যুগে সর্বক্ষেত্রেই আমাদের দৃষ্টির এইরূপ একটা! প্রকাণ্ড পরিবর্তন ঘটিয়াছে ; এই দৃষ্টি-পরিবর্তনের ইতিহাসই আধুনিকতার ইতিহান। আমর যাহাকে আমাদের, আধুনিক যুগের সাহিত্য বলি তাহ! 'বগ্লেষণ করিয়। ঘ্বেখিলে দেখিতে পাইব, সেখানে সর্বদ1 বিষয়-বস্তরই থে পরিবর্তন ঘটিয়াছে এমন নহে,--একই বিষয়-বস্্ব লইয়া সাহিত্য রচিত হইয়াও ছুই যুগের সাহিত্যের ভিতরে ঘটিয়াছে অনেকখানি তকাৎ )

বাঙলা -সাহিত্যের নবধুগ

ছুই বুগের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যে একই বিষদ্ব-বস্ত ছই যুগে ছুই কবির হাতে রূপান্তরিত হইয়া গিয়াছে প্রাচীনযুগের কাব্যে বধিত ঘটন। লইয়! মধ্যবুগে সাহিত্য রচিত হইয়াছে, মধ্যবুগের সাহিত্য লইয়| আধুনিক-. তথ। অত্যাধুনিক যুগে সাহিত্য রচিত হ্ইস্বাছে, কিন্তু একের সহিত অপরে মিলিয় মিশিয়! এক হইয়। যাইতেছে নাঃসকলেই বিশেষ

মূলে আমাদের সাহিত্যের বিষয়-বস্তব কি? আমার মনে হয় বিশ্ব- স্্টির বহু বঙ্কিম প্রবাহের পশ্চাতে বাজিয়। উঠিতেছে যে একট! ধ্রনি, একট1 অতলম্পর্শ বিস্ময়ের অনরণন-_আদিম যুগহইতে আজ পর্যস্ত তাহ! লইয়াই নান! রূপে রসে, সঙ্গীতে ভঙ্গিতে গড়িয়া উঠিতেছে আমাদের সাহিত্য কথাটি আমি গ্রস্থান্তরে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করিবার চেষ্ট। করিয়াছি বলিয়। এখানে আর পুনরুক্তি করিতে চাহি ন!। বিশ্বজগতের যে দৃশ্য বা ঘটন। অপনার সাধারণ প্রাতিভাপিক পের ভিতরেই শেষ হইয়? যায়, তাহ! লইয়া কোনদিনই মানুষের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য গড়িয়া ওঠে নাই ; মানুষ মুগে যুগে দেশে দেশে সাহিত্য গড়িয়া তুলিয়াছে সেই দৃশ্য সেই ঘটন1 লইয়া, বাহার আপাতুরূপের পশ্চাতে সে আবদ্ধার করিতে পারিয়াছে গভীর বিম্ময়, গভীর রহস্য, অসীম মহিমা কখনু কোথায় কিসের ভিতর দিয়। মানুন আবিষ্কার করিতে পারিয়াছে এই বিস্ময়-- এই রহশ্য--এই মহিমা, এবং কেমন করিয়া অন্তর্ূত সেই বিশ্ময এবং মহিমাকে সে করিয়াছে প্রকাশ, তাহ। লইয়াই গড়িয়া উঠিয়াছে মান্ুষেব' সাহিত্যের ইতিহাসে এত যুগবিভাগ |

একদিন এমন ছিল যে নিয়ের মাটির পৃথিবী এবং তাহাই অঙ্কে অভিনীত প্রতিদিনের জীবন-নাট্যের প্রতি চাহিয়! দেখিবার মাজষের যেন সময়ই ছিল না। প্রথম নিদ্রাভঙ্গে সে চক্ষু মেলিয়া. চাহিয়া দেখিত-_ পূর্বাচজের দুয়ার খুলিয়! শুভ্রতেজোবসনা, রোচন।, ছ্যুলোক-ছুহিত। উষা

নবযুগের লক্ষণ

তাহার স্বর্ণবর্ণে সকল দিক্‌ উদ্ভাসিত করিয়া স্মিতহান্তে আবিভূতাঃ-- ধীরে ধীরে শোভন -পথে দ্বর্ণরথে সে নামিয়া আদিতেছে মত্যে--ন্েছময়ী জননীব স্ঠায় স্ুপ্ত। পৃথিবীর ঘুম ভাঙ্গাইয়া দিল তাহার শিয়রে দাড়াইয়া চম্পক-অস্ুলিম্পর্শে,--ন্ুগৃহিণীর ন্যায় জাগাইয়। দিল সকল পণ্ু-পান্বী, জীধ-জন্ক--প্রেরণ করিল সকলকে দিকে দ্বিকে তাহাদের কর্মক্ষেত্রে ; স্থগৃহিণীর ন্যায় সে সঙ্গে আনিল প্রচুর এশ্বর্, গ্রচুর অন্স। তারপর একটু একটু করিয়া আকাশে দেখ! দিল গ্যাবা-পৃথিবীর প্রদণপ্ত পুত হুর্য-_ দ্বেখিতে দেখিতে ঝলিয়৷ উঠিল তাহার ভাস্বর কিরীট--সপ্রহ্থর্যের বথে বোমমার্গে আবস্ত হইল তাহার যাত্রা দ্রিবসের শেষে সপ্গু অশ্ব লইয়! কোথায় হইল তাহার যাত্রা শেষ,-কোথায় সে সংহত করিয়া রাখিল তাহার বিশ্বভৃবনব্যাপী এত তীত্র আলো! কৃষ্ণবসন1 রজনী আসিয়া আবার তাহার অঞ্চলতলে ঢাঁকিয়া রাখিল সমগ্রপৃথিধী, নীরব হইয়া গেল সব কর্ম কোলাহল, অন্ধকার আকাশে একটি একটি করিয়। আসিয়া দেখ। দিল গ্রহ-নক্ষত্রের দল | কে তাহাদিগকে স্থ দ্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছে --কে তাহাদিগকে ধারণ করিয়া আছে প্রভাতের পরে সন্ধা! আসে, দিবসের পরে রাত্রি আসে,--গ্রীক্মের পর বর্ষা আসে, বর্ধার পর শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত আসে। এই প্রভাত-সন্ধ্যা, দিবপ-রাত্রিঃ গ্রীক্ম" বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত-শীত-বসন্ত, এই চন্দ্র-স্্-গ্রহ-নক্ষত্রের দল পর্যায়ক্রমে আপিতেছে যাইতেছে কে ইহার্দিগকে নিয়োজিত করিতেছে কেইব। নিয়ছ্রিত করিতেছে ! স্বচ্ছ সুনীল আকাশে সহনা। কৌথ। হইতে ভৈরব গর্জনে ছুঁটিয়। আসে কালো কলে মেঘরূপী অন্থুরের ঘল, কে তাহাদের বুকে গ্রহার করে বজ, তাহাদের কাছ হইতে ছিনাইয়! লর বারিরাশি, তাঁহাকে বহাইয়া দেয় মর্ড্যে পর্বতের বুকের ভিতর 'দিয়ীস্পকলকলনাদে মাস্তিয়া ওঠে নদন্ঘী--ধরণ্রী হয় শশ্য-শ্যামলা ! কোথা! হইতে সহস। ছুটিয়।

বাঙল।-সাহিত্যের, নবধুগ

আসে রুদ্রপুত্র মরুদগণ--তাহাদের রথ টানিয়! চলিয়াছে নান! বর্ণের মুগগুলি, মুহুর্তে পর্বত ভাঙিয়া সাগরের বুক মস্থিত করিয়া বীরবিক্রমে ছুটিয়। যায় 'অন্তরীক্ষে ! মানষের চারিদিকে একি আলোড়ন-স্একি বিশ্ময্-_-একি মহিম|! বিশ্ব জুড়িয়! নির্তর চলিয়াছে কত শক্তির খেলা,সে শক্তি মানুষের শক্তি হইতে কত বৃহত্তর--মহত্বর ! আদিম শিশুমন লইয়া! মান্গষ দেখে আর ভাবে- ভাঁবে আর বিশ্ময়বিমুগ্ধ হয়। এই বিস্ময়-বিষুদ্ধত। মান্থষের সমগ্র সত্তার ভিতরে জাগাইয়া ভূলিল একট! অলৌকিক আনন্দের স্পন্দন--সেই স্পন্দন নিজেকে বাত্ময় রূপ দান করিল সহস্র সহ কবিতায়, সেইথানেই আমর পাইলাম আমাদের সাহিত্যের প্রথম পরিচয় বিশ্ব-গ্রকৃতির অন্তনিহিত শক্তিকে বহু ভাগে ভাগ করিয়! তাহাকে বহু মূতি দান করিয়া মানুষ হুক্তের পর স্ক্ত রচন!করিয়। প্রথমে করিয়াছিল দেব-দেবীর মহিমা-কীর্তন ) কিন্ত একটু একটু করিয়া এই বহর ভিতরে সে পাইল, একের-সন্ধান 7 সমগ্র বিশ্ব-সৃষ্টির রূপে, রসে, শবে, গন্ধে, স্পর্শে দে দেখিতে লাগিল একের মহিমা»-সেই একের মহিম1 লইয়াই গড়িয়া! উঠিল পরবতী কালের সাহিত্য

তারপরে একটু একটু করিয়া মানুষের দৃষ্টি পড়িল নিয়ের পানে-- মাটির পৃথিবীর দিকে মানুষ একটু একটু করিয়ী অনুভব করিতে লাগিল,__পূর্বাচলে যেমন উষাদেবী আছে,আকাশে যেমন সুর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্র আছে,--অন্তরীক্ষে যেমন 'মেঘরূপী বুত্র আছে, রুদ্রপুত্র মরুদ্গণ আছে, স্বর্গে ইন্দ্র আছে--সমুদ্রে বরণ আছে--তেমনই আরও রহিয়াছে এই বিরাটু পৃথিবী--তাহার বুকে চলিয়াছে মানুষের জীবন-লীল! মানুষ বুঝিল-্-ন্বর্গে অন্তরীক্ষে যেমন দেবত1 রহিয়াছে, মর্ড্যে তেমাঁন মানুষ রহিয়াছে তখন পর্যন্তও আমি? নাই,মান্ষ আছে? বারি নাই, সমষ্টি আছে মাথার উপরে স্বর্গ রহিয়াছে বটে, স্বর্গের ভিতরে

নবযুগের লক্ষণ

চিরনমন্য এবং অতুল শ্রী প্রশ্বর্য মহিমা সম্বিত দেবগণ রহিয়াছেন বটে; কিন্তু নিয়ের পৃথিবীতেই কি চলিতেছে কম আলোড়ন ! জাতিতে জাতিতে, সভ্যতায় সভ্যতায়, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে চলিতেছে নিরন্তর কত সংঘর্ষ, সংগ্রাম সমন্বয়; সেই নিরন্তর সংঘর্ষ সমঘয়ের ভিতর দিয়া . গড়িয়া উঠিতেছে কত নৃতন জাতি, নৃতন দেশ, নৃতন সভ্যতা মাঙ্গষের এই বিরাট জীবন-ইতিহাঁসের ভিতরেও রহিয়াছে কত বড় বিরাট মহিম --সেখান হইতেও জাগিয়া উঠিতেছে অতল গভীর রহশ্য বিস্ময় সেই বিরাট বিম্ময়ের আনন? লইয়! গড়িয়া উঠিল বিরাট কাব্য,_-ইহাই আমাদের সত্যকার মহাকাব্যের যুগ। এযুগে মানুষ বাড়িয় উঠিয়াছে দেবতারই আওতায়,--দেবতার অন্ুগ্রহ-নিগ্রহের দ্বারাই সে পরিপুষ্ট আবার নিম্পেষিত তথাপি মানুষের ভিতরেও শৌর্ষে-বীর্ষে, সৌন্দর্ষে- প্রেমে সার্থক চরিত্র অনেক রহিয়াছে ; অসংখ্য প্রকারের সাধারণ মানুষের ভিড়কে পটভূমিতে রাখিয়া তাহার ভিতর হইতে বাছিয়াবাছিয়া বীরত্বে, প্রেমে, সৌন্দর্যে, ত্যাগে সমুজ্জল শ্রেষ্ট শ্রেষ্ঠ বহু চরিত্রেরসমাবেশ করিয়া তবে দেবতাঁর পার্থ আমরা মান্ষের মহিমাকেও প্রতিষ্ঠিত করিতে আর্ত করিলাম মানুষের ভিতর হইতে এক একটি চরিত্রকে বাছিয়া লইলাম মানবীয় দোষ গুণের এক একটি জীবন্ত বিগ্রহরূপে, প্রস্তরে খোদাই মৃতির মত তাহাদিগকে করিয়া তোলা হইয়াছে একান্ত স্পর্মযোগ্য। দেবতার পাশাপাশি মানুষকেও প্রতিষ্ঠিত করিয়! তুলিবার জন্য চলিয়াছে সেকি বিরাট আয়োজন বিপুল পরিধি, অনন্যসাধারণ ঘটনা -প্রবাহ, অসংখ্য নরনারীর কর্মকোলাহলের দ্বার! এত বড় বিরাটু আয়োজন না করিলে স্বগায় দেবতামণ্ডলীর পাশে মর্তোর মানুষ হয়তো সে যুগে প্রতিষ্ঠা লাভ করিতে পারিত না।

যুগের সাহিত্যে আমরা একদিকে যেমন দেখিতে পাই অসাধারণ

বাঙলা-সাহিত্যের নবযুগ

দোষেগুণে মানুষকে দ্েবোপম করিয়া! তুলিবার রহিয়াছে একটা আপ্রাণ চেষ্টা, তেমনই আবার মান্তষের জন্মমূদ্যু এবং মধ্যের অবস্থিতি সৰ জুড়িয়া রহয়াছে একটা অলৌকিকভার প্রহেলিকা। মানুষকে যেখানেই সম্ভব অতিমানষ করিয়া এবং নানাপ্রকার অলৌকিক কিংবদন্তী দ্বারা মণ্ডিভ করিয়া দেবতা! মান্ষের মধ্যবর্তী ফ্কাকটুকু ভরিয়। দিবার চেষ্টা চলিয়াছে। একটু লক্ষ্য করিলেই আবার দেখিতে পাইবঃ মানুষকে সম্ভব অসম্ভব উপায়ে টানিয়। উধ্বে ভুলিয়া দেবতার সামিল করিয়! তুলিবার যে চেষ্টা রহিয়াছে এই সকল সাহিত্যে, সেই চেষ্টাই অন্ত দিকে আত্মপ্রকাশ করিয়াছে দেবতাকে টানিয়া মঙ্োর মাটিতে নামাইয়। তাহাদের দেহমনে যতটা সম্ভব মর্তযের রং গন্ধ মাখাইয়া তাহাদিগকে মান্ঠষের শ্বক্তাতি করিয়া তুলিবার মধ্যে। এই সময় হইতে পরবতী কালের সাহিত্যের ইতিহাসে সর্দাই দেখিতে পাই এই চেষ্টা, একদিকে মান্ষকে অলৌকিক দেবোপমকরিয়! এবং অন্য্দিকে দেবতাকে লৌকিক মন্তস্কোপম কবিয়। স্থর্গ মর্ত্যের, দেবতা মন্তস্তের ভিতরকাঁর ভেদটুকু যথাসম্ভব ঘুচাইয়া দিতে এই সকল চেষ্টার ভিতবে বীজাকারে নিহিত রহিয়াছে মানুষের অস্তনিহিত একট আকাজ্ষা--সে অ]কাজ্ষা মাষের সাহিত্যে মানষেরই অগ্রতিদন্দ্রী প্রতিষ্টা--জীবনেরই জয়গণন বিভিন্ন যুগের সাহিত্যের ভিতর দিয়া এই আকাক্কাসিদ্ধির ্ন্তই চলিয়াছে সাহিত্যিকগণের নিজেদেরই মনের জ্ঞাতে এবং অজ্ঞাতে নিরবচ্ছিন্ন সাধন]

একট! জাতীয় জীবনের ইতিহাসকে অবলম্বন করিয়! বিরাট দেশ, সুদীর্ঘ কাল এবং অসংখ্য পাত্রের সমাবেশে এই যে সমষ্টিগতভাবে মানুষের জীবনকে সাহিত্যে গ্রতিষ্টিত করিবার চেষ্টা» ইহার পরই দেখ! দ্দিযছিল এককভাবেই মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করিবার সাধনা সে ক্ষেত্রে

নবযুগের লক্ষণ

দৈবের সহিত পৌরুষের সংঘধ অবশ্তন্তাবী, এবং সে সংঘর্ষের ফলে মান্গষকে দৈব নিগ্রহে হার মানিয়! আবার দৈব অনুগ্রহে প্রতিষ্ঠ৷ লাভ করিতে হইল। তখন পর্যস্তও মানষের প্রতি মানুষের আসে নাই নিশ্চল শ্রদ্ধ। ; তাই দৈবের হাতে পৌরুষের পদে পদে লাগছনার একশেষ করিতে কবিদের উৎসাহের অবশেষ ছিল না বহু ক্ষেত্রেই মানুষ দেখা দিয়াছে উপলক্ষ্য রূপে ; লক্ষ্য দৈবের মহিমা -প্রতিষ্ঠা মাহষের যেটুকু গৌরব তাহ! দ্েব-মহিমার প্রসাদ লাভ করিয়া]! দেব-মহিম! গ্রচারের বাহন মাত্র রূপে

কিন্ত একটু একটু করিয়া আগাইয়া চলিয়াছে কালের রথ, সঙ্গে সঙ্গে ফিরিয়া াইতেছে মানুষের দৃষ্টি। মানুষের এই দৃষ্টি-পরিবর্তন নেহাৎ খাপছাড়া এলোমেলোভাবে ঘটিতেছে না,-তাহার ভিতরে আমর স্পষ্ট করিয়া খু'জিয়। পাই একটা ক্রম, একট] বিশেষ পদ্ধতি পরিণতি মানুষের এই দষ্টি-পরিবর্তনের ক্রম হইতেছে স্বর্গ হইতে চোথ ফিরাইয়া লইয়া তাহাকে মন্ত্র ভিতরেই দুঢ়নিবন্ধ করিবার দ্বিকে, মানুষের জগৎ হইতে দেবতার নিধাস্ন করিয়া সেখানে মন্ুস্বত্থের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করিতে আমার মনে হয়ঃ এই যে ধূলা- মাটির মঙ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাহার সঙ্গে নাড়ীর টান, এই যে মাটির পৃথিবীতে রক্ত-মাংসের মানুষের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, ইহাই আধুনিক বুগের প্রধান লক্ষণ। এই লক্ষণ সাহিত্যে একদিন হঠাৎ কোন বিশেষ প্রতিহাসিক ঘটনাকে অবলহ্ন করিয়া, কোনও বিশেষ সাহিত্যিককে অবলহ্ছন করিয়া, আবিভূ্তি হয় নাই) বহু দিন ধরিয়া নানাভ'বে চলিতেছিল ইহার সাধন। ; সেই সাধন। যখন একটা বিশেষ রূপ পরিগ্রহ করিয়া আমাদের দৃষ্টি শ্রদ্ধা আকর্ষণ করিয়াছে, তখন হইতেই আ'ধুনিক বুগের পত্তন হুইয়াছে জীবনে যখন জাগিয়াছে মর্তাগ্রীতি মগ্সবগ্রীতি, সাহিত্যে তখনই পড়িয়াছে

১০ বাঙল।-সাহিত্যের নবযুগ

তাহার প্রতিবিস্ব ;--এই দিক্‌ হইতে দ্বেখিন্তে গেলে আধুনিকতা শুধু মাত্র সাহিত্যের সত্য নয়,_উহ। আমাদের সমগ্র জীবনের সত্য (আমাদের বাঙলা-সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামিয়াই বিশেষভাবে কথা বল! যাক্‌। রাঙলা-সাহিত্যের ইতিহাস আলোচন! করিতে গেলে সর্ব- প্রথমেই একটা জিনিস চোখে পড়ে; এদেশের প্রাচীন সাহিত্য, অর্থাৎ সংস্কত-সাহিত্যের সহিত আমাদের বাঙলা-সাহিত্যের কোনও ধারাবাহিকতার যোগ নাই। তিন হাজার বৎসর পূর্বে যে সাহিত্য তাহার শৈশব পার হইয়া আসিয়াছে এবং হাজার বৎসর পূর্বে যে তাহার প্রৌটত্ব লাভ করিয়াছে, সে সেই হাজার বৎসরের পরবর্তী কালের সাহ্ত্যিগুলির ভিতর দিয়! নিজের ধারাকে অক্ষুগ্রভাবে বহাইয়া দিতে পারে নাই; প্রোঢত্ব লাভের পরে একটু একটু করিয়া তাহার ধার! যাইতে লাগিল থামিয়া। সংস্কত-সাহিত্যের লেখক এবং পাঠকগোষ্ঠীকে এড়াইয়! এদেশের অসংস্কত জনগণের মধ্য হইতে সম্পূর্ণ নুতন ইতিহাসের ধারাকে অবলম্বন করিয়1 গড়িয়! উঠিগ়াছে আমাদের বাঙল। সাহিত্য এবং অন্ঠান্ত সাহিত্যগুলি অসংস্কত জনগণের মধ্যে জাগিয়া উঠিল সেই আদিম মানবশিশুর শৈশবলীল1; তাই সংস্কত-সাহিত্যের যে যুগ কাটিয়া গিয়াছে তিন হাজার বৎসর পূর্বে, বাঙলা-সাহিত্যের সেই বুগ আরম্ভ হইল এক হাজার বৎসর পূর্বে। বাঙলা-সাহিত্যের জন্মের অন্ততঃ হাজার বৎসর পূর্বে সংস্কত-সাহিত্যে মানুষ লাভ করিয়াছিল তাহার মানবীয় প্রতিষ্ঠা; কিন্ত বাওলা-সাহিত্যে আসিয়! মানুষকে আবার দেবতার সঙ্গে বুর্দিন করিতে হইল কলহ-বিবাদ ; বহু লাঞ্ছনা- গঞ্জনার পরে যেখান হইতে আরম্ভ হইল সাহিত্যে মানুষের প্রতিষ্ঠা সেইখান হইতেই আরম্ত হইয়াছে বাঙলা-সাহিত্যের আধুনিক যুগ। আমাদের বাঙলা*্ন'হিত্যের আদি মধ্য যুগে কি দেখিতে

নবযুগের লক্ষণ ১১

পাই ?--একটান' ধর্মের প্রাবন। এই আদি মধ্য যুগ ধরিয়া বাঙলা দেশের মানুষ অসম্ভব রকমের ধামিক ছিল বলিয়াই বাঙল!-সাহিত্যে ধর্মেরই একাধিপত্য একথা বলিলে এক কথায় সমস্যার সমাধান হয় বটে, কিন্তু বথার্থ সত্য লাভ হয় কিনা সন্দেহ। আসলে দশম শতাব্দী হইতে আরম্ভ করিয়া অষ্টাদশ শতাব্ীর শেষ ভাগ পর্যস্ত যে বাঙল! দেশে ধর্মের অতিরিক্ত প্রাবলা ছিল সে কথাটা! হঙক্কত ততথানি সত্য নয় যতখানি সত্য এই কথাটা যে, এই সুদীর্ঘ কাল ধরিয়াও আমাদের জাতীয় জীবনে মন্ুয্তত্বের মহিমোজ্জল প্রতিষ্ঠা- লাভ ঘটে নাই; জাতীয় জীবনে এই মনুষ্যত্বের প্রতিষ্ঠার অভাব বহুদিন ধরিয়া আমাদের দৃষ্টি আকধিত করিয়া রাখিয়াছিল উরে. রাধা-কষঃ, শিব-চণ্ী, মনসা-শীতলা-ষঠী, এমন কি শিলাক্কতি ধর্মঠাকুরের দ্রিকে জয়দেব, চণ্ডতীদাস, বিগ্ভাপতি হইতে আরম্ভ করিয়! যত কবি হাজার হাজার পদ রচনা করিয়া রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা গান করিয়াছেন তাহাদের ভিতরে সকলেই নিত্য-বৃন্দাবনধামে বাধাকৃষ্জের নিত্য-প্রেমলীলার আম্বাদকাজ্ষী কিনা বিষয়ে আমাদের মধ্যে অনেকের হয়ত এখনও সংশয় রহিয়। গিয়াছে অন্তত: একথা সত্য যে অনেক কবি-সম্বন্ধেই হয়ত আমাদের মনে বারংবার প্রশ্ন জাগে,

সত্য ক'রে কহ মোরে, হে বৈষুব কবি,

কোথ। তুমি পেয়েছিলে এই প্রেমচ্ছবি,

কোথ! তুমি শিখেছিগে এই প্রেমগান

বিরহ-তাপিত 1? ০৯১ **

৬৬৪ ৪৬ »** এত প্রেমকথ।,

রাধিকার চিত্তদীর্ণ তীব্র ব্যাকুলতা

চুরি কফরি' লইয়ান্ছ কার মুখ, কার

আখি হতে?

১২ বাঙলা"সাহিত্যের; নবযুগ

কিন্ত তাহা হইলে কি হইবে,_-“কানু ছাড়া গীত নাই”, কারণ মাঘের প্রতি মাহষের শ্রদ্ধা নাই; মানুষের প্রেমের ভিতরে থাকিতে পাঁরে যে অতলম্পর্শ মহিম! ভাহাকে দেখিবার আমাদের দৃষ্টি নাই, গ্রহণ করিবার মন নাই; তাই নিছক মানুষের প্রেমকেও অনেক সময় রাধাকৃষ্জের অঙগম্পর্শের দ্বারা মহিমান্বিত করিয়! লইয়! কাব্য রচনা করিতে হইয়াছে প্রারুষ্ণকীর্ভন পাঠ করিয়া রাঁধারুষ্পদে মতি বাতি হইতে পারে কয়জনের এবং কয়জনের পক্ষে গ্রন্থ কতখানি হিতকর তাহ। তর্কাতীত নহে ; তথাপি সেই কামায়নও রাধাকষ্চ-প্রেম-রসায়নের পুটপাকে জারিত হইয়া সাধারণের মধ্যে আজ বেশ প্রচার লাভ করিয়াছে।

দেবদেবীগণের মাহাত্ম্য প্রচারই মঙ্গলকাব্যগুলির মুখ্য উদ্দেশ্ট বলিয় একটা 'মত বন্বপ্রচলিত কিন্তু মঙ্গলকাব্যগুলি সমগ্রভাবে বিচার বিশ্লেষণ করিলে দেখিতে পাইব, দেবদেবীর মাহাত্ম্য সেখানে তেমন ভালভাবে ফুটিয়াও ওঠে নাই, প্রতিষ্ঠটাও লাভ করে নাই, যতখাঁনি ফুটিয়! উঠিয়।ছে মন্তম্তত্ের অপমান লাঞ্ছনা অ+মার মনে হয় দেব- দেবীর প্রতি শ্রদ্ধী মঙ্গলকাব্যের মূল কারণ ততখানি নহে যতখানি মানব-মানবীর এই মত্যলোকে অধ্যুষিত জীবনের প্রতি অশ্রদ্ধা। চণ্তী- মঙ্গলের কবি মুকুন্দরাম মনে প্রীণে শাক্ত ছিলেন ন! বৈষ্ণব ছিলেন, ভা! আমরা এখনও নিশ্চিত করিয়া! বলিতে পারি না) কিন্তু যে কথাটা নিশ্চিত করিয়া বলিতে পারি তাহা! এই, মর্ত্যবাসী একটি “গোহিংসক রাঢ় ব্যাধের জীবনে তিনি এমন মাহাত্ম্য খু'জিয়া পান নাই যাহাতে তাঁহার নিরাভরণ ব্যাধরূপটিকে লইয়াই কাব্য রচনা করা যাইতে পারে ; ধনপতি সদাগর শ্রীমস্ত সদাগরের বিচিত্র জীবন-কাহিনীকেও তিনি সেই শ্রদ্ধ! এবং নিজস্ব মহিম। দান করিতে পারেন, নাই কবি আরও

নবধুগের লক্ষণ ১৩

জানিতেন সে যুগে নিছক ব্যাধের কথা, বিশুদ্ধ সাগরের কথা কেহ রন্ধা করিয়! শুনিতে চাহিবে না) তখন সেই ব্যাধ-ব্যাধিনীকে, সেই বণিক্‌-বণিকৃপত্বীকে অলৌকিক মাহাত্ম্য-দানের চেষ্টা চলিতে লাগিল নানাভাবে,--প্রথমত: তাহাদের পূর্বজন্মের যবনিকাঁর অন্তরালে দাড় করাইয়া দিলেন ছুই জে'ভা ন্বর্গবাসীকে, দ্বিতীয়ত: তাহাদের ইহজম্মের জীবনকে বহুরূপে অনন্তসাধারণত্বের মহিম। দান করিবার চেষ্টা হইল চণ্ডিকার বগুবিচিত্র নিগ্রহ-অন্গ্রছের ভিতর দিয়! মুকুন্দরামের এবং তৎপরবর্তী চশ্ডীমঙ্গলকারগণের কালকেতু-উপাখ্যানে বা ধনপতি- উপাখ্যানে কোথায়ও দ্রেবীর প্রতিষ্ঠ! তেমন সুষ্ঠু হইয়া ওঠে নাই যতখানি 'সুষু হইয়াছে দেবীহীীন মানুষের অপ্রতিষা |

কৈশোরে বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল পড়িয়া মনের ভিতরে উল্টা ফল ফলিয়াছিল। “লঘুজাতি কাণি মনসাদেবীর কাকালটি আর একটি হেঁতালের বজ্ববাড়ি দ্বার চুর্ণ করিবার স্থযোগ বেদ সদাগর কেন পাইল না, সেই আপশোষ লইয়াই ব্যথিত মনে দিন কাটিত। কিন্ত সেই রজত-গিরিনিভ বিদ্রোহী পৌরুষের উচ্চশির যেদিন কবি হেলায় ধূলায় লুটাইয়] দিলেন, চাদ সদাগর যেদিন বাম হাতে ফুল দিয়) পিছন ফিরিয়। মনসাঁর পূজা করিল, সেদিন হয়ত মঙ্গলগীতের শ্রোতারা ভক্তিতে গদগদ ন1 হইলেও ভয়ে কিঞ্চিৎ জড়সড় হইয়াছিল ইহাকে কি শুধু বাঙল-সাহিত্যে ধর্মের প্রভাব বলিব, না জাতীয় জীবনের অশোভন অসহায়তার পরিচয় বলিব? যুগে যুগে ভক্তগরণ্কে অবলম্বন করিয়! ধর্মঠাকুরের মাহাত্মা গ্রলরের প্রচেষ্টা দেখিয়া ধর্মঠাকুরের পায়ে মথা নোওয়াইবার সুযোগ একবারও না পাইলেও থোলা মনে প্রচুর হাসিবার অবকাশ বহু পাওয়া গিয়াছে ভাগ্যে উল্লুক ব! হুছুমান একজন কেহ ধর্মঠাকুরের পাশেই ছিল,- নতুবা মর্তযবাসী ভক্তের বিপদে গোলক-'

১৪ বাঙঙা-সাহিত্যের নবযুগ

বৈকুঞঠ ব। কৈলাস-বালী ধর্মঠাকুরের সিংহাসনযখন ঠক্ঠক্‌ করিয় কাপিয়। উঠিত, তখন অগহায় ঠাকুরদেবতা না জানি কি উপায় করিতেন ! তবু ধর্মঠাকুরের শ্বপ্রাদেশের কিছুই কার্পণ্য নাই»--শয্যাশিয়রে,পথে,ঘাটে--- ত্ববেশে, পরবেশে ঠাকুর শুধু স্বপ্লাদেশছড়া ইয়াছেন,আর এখানে সেখানে উর্বর এবং উধর ভূমি ফু'ড়িয়া কেবলই গজা ইয়াছে ধর্মমর্গল। লাউসেন এবং ধর্মঠাকুর মুখোমুখী হইয়া একবার ঘন্দযুদ্ধে অবতীর্ণ হইলে কে হাবরিত কে জিতিত কোন যুগের ধর্মমঙ্গলের কবিই সে কথা নিশ্চিত করিয়া বলিতে পারিতেন কিন! সন্দেহ; কিন্ত তথাপি লাউসেনের মন্তকে রহিয়াছে সর্বদ] ধর্মঠাকুরের যুগল পাদপল্স,২-নতুব! লাউসেনের কাহিনী কে গুনিত?

কভিবাসের রামায়ণ সম্বন্ধে আলোচন। করিতে গিয়। দ্রীনেশবাধু লিখিয়াছেন,--“মূল পাঠ”করিলে দেখা যায়, শ্রীরামচন্দ্র দেবত। নহেন, --দ্রেবোপম ? মানুষী শক্তি বীর্যবস্তার আতিশয্যে তাহাকে দেব বলিয়া ভ্রম হয়, এই মাত্র কৃত্তিবাসী রামায়ণের রাম ভক্তের আরাধ্য অবতার, তুলসাঁচন্দনে লিপ্ত বিগ্রহ! তিনি কোমল করপল্লবের ইঙ্গিতে হষ্টি, স্থিতিঃ সংহার করিতে পারেন ! তিনি বংশীধারীর ভ্রাতা, প্রেমাশ্র- পূর্ণ চক্ষু ; ভক্তের চক্ষে জল দেখিলে যোজিতশরটি তৃণীরে রাখিয়া! কাদিয়] ফেলেন ।” রাম মানুষ ন1 হইয়া, ভক্তের ভগবান্‌ হুইয়| বাঙল1 দেশে আসিয়া, প্রেমাশ্রনেত্রে কাদ্দিবেনই ত! বাল্সীকি-বণিত নরশাদূল নরবৃষভের মহিমা পঞ্চদশ শতাবন্ধীর বাউীলী কবি কৃত্তিবাস কোথায় পাইবেন? কালিদাসের যুগের 'ব্যুড়োরস্কে। বুষস্ন্ধঃ শালপ্রাংগশুমহাভুজঃ, মানুষের মহ্ছিমাই বা! কৃত্তিবাস কোথায় দেখিয়াছেন ? রামই হোক শ্যানই হোক বাঙলাদেশের মাটিতে আসিয়! সবই এত্রিভঙ্গ মু্ারি' ! কায়ণ দ্েবত্বের মোহ কাটাইয়। মানুষের শ্বমছিম! আবিষ্কার করিতে বাঙালীর অনেক সময় লাগিয়াছে

নবযুগের লক্ষণ ১৫

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমর! দেবত্ব এবং অলৌকিকতার মোহ একটু একটু করিয়া কাটাইয়া উঠিতে লাগিলাম ; বহুদিনের আচ্ছন্ন মন একটু একটু করিয়া হইতে লাগিল সংস্কারমুক্ত | দেবঙ্কের মোহ, অলৌকিকতার মায়াজীল কাটিয়! যাইবার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের চোখ পড়িতে লাগিল মানুষের দিকে, তাহার মহিমাই ক্রমে ভ্রমে হৃদয় মন অধিকার করিতে লাগিল। পূর্বেই বলিয়াছি, এই মানবতার স্থুরই আধুনিক যুগের মুল সুর | শ্ঁভারতচন্ত্রকে আমাদের সাহিত্যে আমরা সন্ধিযুগের কবি বলিয়া অভিহিত করিয়। থাকি ভারতচন্দ্র সম্পর্কে এই “সদ্বিষুগের কবি, খ্যাটি সব দিক্‌ হইতেই অতি স্ুপ্রযুক্ত বলিয়! মনে হয়। মধ্য যুগ এবং আধুনিক যুগের মাঝখানে আবির্ভাব হইয়াছিল ভারতচন্দ্রের, তাহার কাব্যসষ্টিতে পরস্পর জড়িত হইয়া রহিয়াছে অস্তগাী এবং উদয়োন্ুথ এই ছুই যুগেরই প্রধান লক্ষণগুলি। ভারতচন্দ্রের কাব্য অশ্পৃশ্ঠ বলিয়। কচিবাগীশ-মহুলে বিধিনিষেধ রহিয়াছে; কিন্তু মজা! এই, ভারতচন্দ্রের প্রধান কাব্যথানি "অঙ্গদামজল? ! চিরাচরিত প্রথামতে মঙ্গলকাব্য রচন! করিয়। অন্নদার মাহাত্ম্-প্রচারই কবির লক্ষ্য কবি সব দিক্‌ হইতেই আট-ঘাট সেইরূপই বীধিয়াছেন, মঙ্গলকাব্য-রচনার অনুষ্ঠানের ত্রুটি কিছুই নাই। কিন্তু সকল অনুষ্ঠানকে ব্যর্থ করিয়। এই দেবী-মাহাক্ম্যকে পশ্চাতে ঠেলিয়। দিয়াছে যুগধর্, সেখানে প্রধান হইয়! উঠিয়াছে মাঙ্গষ। আইনান্ুগভাবে অন্নদামঙ্গলকে ধর্মমূলক মঙ্গলকাব্য না বলিয়া উপায় নাই,স-কিন্ত কবির সকল ফাকি ধরা পড়িয়া! গিয়াছে প্রতি ছত্রে ছত্রে, --কবি হয়ত ইচ্ছা করিয়াই ধর! দিয়াছেন। সকল মঙ্গল-কাব্যের ভিতরেই শিব-পার্বতীর বিবাহ এবং তাহাদের মিলন-কলহুময় গার চিএটি একাস্ত মানবীয় হইয়! উনিগ়্াছে,-কিস্ত ইহার চরম রূপ

১৬. ,. বাঙলা”সাহিত্যের নবধুগ

দ্বেখিতে পাই ভারতচন্দরে ; এখানে দেবতের অতি-পাতলা-বুনান্দী মুখোঁসটি একেবারেই খুলিক্া পড়িয়া গিয়াছে, প্রকট হইয়াছে তরুণী ভার্যা বুদ্ধ" দরিদ্র পতির গাহ্‌স্থা-জীবনের বাস্তবরূপ | ভারতচন্দ্র তীহার কাব্যে দ্েবচরিত্রের দুর্গতি করিয়াছেন বলিয়! দীনেশবাবু অভিযোগ আনয়ন করিয়াছেন তিনি বলিয়াছেন,-ণ্নিবাত নিষম্প দীপশিখার ভ্তাঁয় মহাঁযোগী মহাদেবকে ভারতচন্দ্র একটা বেদিয়ার মত চিত্রিত করিয়াছেন, _শিশ্তগুলি তাহাকে ঘেরিয়! দাড়াইয়াছে,-কেহ বলে জট! হৈতে বার কর জল। কেহ বলে জাল দেখি কপাঁলে অনল ॥-_-কেহ বলে নাচ দেখি গাল বাজাইয়া *ছাই মাটি কেহ গায় দেয় ফেলাইয়। ॥--দেবাদি- দেব মহাদেবের এই অবমাননা একজন শিবশক্তির উপাসক কবির যোগ্য হয় নাই!” আসলে কিন্ত ভারতচন্দ্রের দেবদ্ধিজে বিশুদ্ধ ভক্তি কোনদিনই ছিল ন|। তিনি যুগসন্ধির কবি, দেবতার মহিমা তাহাকে খুব মুগ্ধ করিতে পারে নাই;-স্তাহার দৃষ্টি নামিয়। আসিয়াছিল মাটির পৃথিবীতে, চাহিয়া দেখিয়াছেন তিনি তাহার চারিদিকে মাহুষ--তাহার নানাবিধ সমাজ-চিত্র ; শিবও তাই মানুষ হইয়। গিয়াছেন মাথায় জট! ফণী, গলায় মালা, পরিধানে ব্যান্রচর্ম, গায়ে মাখা ছাই--এমন একটি ভিখারীর রূপ দেখিয়াছি আমর! আমাদের সমাজে কোথায় ?--একটি বেদিয়ার ভিতরে ভারতচন্ের শিব তাই বেদিয়া এহেন বেদিয়। বুড়া স্বামীর সহিত নবযৌবন। উমার বিবাহ ঘটাইয়াছেন যেই ঘটকচুড়ামণি: নারদ, তাহাকে যদি কন্তার মাতা মেনকা। “ঘরে গিয়া মহাক্রোধে ত্যাজি লাজ ভয়। হাত নাঁড়ি গল। তাড়ি ডাক ছাড়ি কয়॥ ওরে বুড়। আটকুড়। নারুদ অল্পেয়ে। হেন বর কেমনে আনিলে চক্ষু খেয়ে॥” তখন দেব-চরিত্রের অসম্মান দেখিয়া স্বিত. কাটিলে চলিবে না যুগুকেও হ্বাগত-সম্ভাষণ জানাইতে হইবে।

নরমুগের, লক্গ

ঞমাজষের' মনের ভিতরে কোথায় যেন রহিয়াছে একটা, গভীর গ্রতিক্রিয়!। যে দ্ের-দ্েবীকে এতপিন দূর হইতে দেখিয়। কত বড় বলিয়া সে ভাবিয়াছে, কতবার ইচ্ছায় অনিচ্ছায় মাথা নোওয়াইয়! দিস ধাহাদ্দের নিকট হইতে লাত করিয়াছে কত অপমান লাঞ্ছনা, সেই দেব-দেবীর বিরুদ্ধে যখন একবার সে বিপ্রোহ ঘোষণ! করে তখন তাহা- দের গারে পৃথিবীর ধূলামাটি মাথাইয়। দিয়া যেন মানুষের একটা গ্রচ্ছন্ আনন্দ জাগিয়া ওঠে শিবকে ঘিরিয়। বালকদলের মধ্যে যখন “ছাহ মাটি কেহ গায় দেয় ফেলাইয়।”, তখন ইহাকে অকবির অক্ষমতাজনিত দেবচরিত্রের অসার্থক বর্ণনা বলিয়] উড়াইয়! দিলে চলিবে না, শা এই যে দেবতার পায়ে ধূলি নিক্ষেপ করিতে আরম্ভ করিল এইখানেই আমাদের জাতীয় জীবনে এবং জ্রাতীস্ব সাহিত্যে দ্বেখিতে পাই ' একটি নবধুগের সুচনা মানুষের মহিমাকে আমর! যত বড় করিয়া! দেখিতে শিখিতেছি, দেবদেবীগণকে আমতা তত ছোট তত লঘু করিয়া দেখিতে আরস্ত করিয়াছি তার্তচন্্র তাহার সাহিত্যে শিবকে লইয়! এবং 'অন্ঠাস্ঠ দেবদেবী মুনিখষিদ্িগকে লইয়া স্থানে স্থানে যে হাস্তর পরিবেশন কারিবার চেষ্টা করিয়াছেন, পরবর্তী কালে সে চেষ্টা উত্তরোত্তর বাঠিয়াই গিশ্বাছে আজকাল তাই আমাদের সাহিত্যে আমর! ছেবদেবীগণকে স্বর্গ ।হইতে মরতে নামাইয়। লইয়া আপি গুধু তখনই, যখন আমর! পর্বি- বেশনকরিতে চাই লু হান্তরস।--অন্ত রসের অবতারণার ক্ষেত্রেআধুনিক, সাহিত্যে দেবদেৰীর কোনও প্রবেশ-অধিকার আমরা রাখি নাই।।:, ্ারতচন্ত্র যে শুধু বিদ্যাস্থন্নরের ছ্থুলতম আদিরসের বাড়াবাড়ি ঘারাই ভাঁছাক.কাব্যকেমানবীয় কর ্রাদ করিষ্কাছিলেল, এয়ন, কথ মনে করিলে ভারইচন্দ্রের উপর অবিচার,করা-হইরে |. এখায়ন। সেখানে টুকর! টক হইয়া .ছড়াইযা' সাতে ভাহার মানবীয় দৃর্টিচকি।. আলি একটি ছা

১৮ বাঙলা-সাহিত্যের নবধুগ

উদাহরণ গ্রহণ করিতেছি ভবানন্দের ভবনে যাত্র।! করিয়। পথিমধ্যে দেবী অন্নদ] লশ্বরী পাটনীর নিকট আত্মপরিচয় দান করিলেন এবং ঈশ্বরী পা্টনীকে বর যাক্তা করিতে বলিলেন; তখন-_ |

প্রণমিয়। পাটনী কহিছে হোড়হাতে। আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে তথাস্ত বলিয়! দেবী দিল! বর দান। ছুধে ভাতে খাফিবেক তোমার সম্ভান

দেবীর নিকটে কোন মোক্ষ-মুক্তির বর নহে,_রাজ-শ্বর্ষের বর নহে,__ খেয়াঘাটের পাটনীর শুধু: প্রার্থনা-_-“আমার সন্তান যেন থাকে দুখে ভাতে।” বুঝিতে পারিতেছি সাহিত্যে শীবনকে কত নিবিড় করিয়' পাইতে আরম্ত করিয়াছি,_-একটি সহজ সরল প্রার্থনায় খেয়াঘাটের পাটনীর মনের আকাঙ্জাটি কেমন মধুর হইয়া উঠিয়া কাব্যকে কাব্যত্ দান করিতে আরম্ভ করিয়াছে। . ভারতচন্দ্রের পূর্বে মুকুন্দরামের 'ভিতরেও আমরা পাই এই জাতীয় সুকুমার মানবীয় স্পর্শের সন্ধান।

ভারতচন্জ্রের পরে প্রায় এক শতান্ধী: জুড়িয়। চলিয়াছে কবিওয়ালাছের যুগ ।'বাঙলা-লাহিত্যের ইতিহাসে অসাবধানে-অবজ্ঞাত এই কবিওয়াল।; ঘের বুগ্রটি বিশেষ প্রণিধানযোগ্য কারণ, ভারত চন্দ্রের ভিতরে আমরা দেখিতে পাইলাম যে'নবধুগের সন্ধান, কবিওয়ালাদের সঙ্গীত কবিতা, গুলির ভিতরদিয়া আমর! স্পষ্ট 'করিয়াপাই সেই যুগপরিবর্তনের পরিচয় এখানে আমরা! দেখিতে পাই, কি রুপ্বিয়া কাব্যের দেহ মনের ভিতর হইতে ধীরে ধীরে. দরিয়া, মাইতেছে প্রাচীর মধ্যযুগের লক্ষণগুলি, কি: 'করিয়া,৯গআধুনিক: যুগ - প্রকাশ পাইতেছে তাহার স্পুটতধ রূপে ।” অষ্টাদশ শতাধীর' দবিতীয়াধ হইতে উনবিংশখতানীর

নবধুগের লক্ষণ ১৯

্ধমার্থ পর্যন্ত এই কবিওয়াল, পাচাঙগীওয়াল। এবং টপ্লাওয়ালাদের নবী কবিতাগুলির ভিতর দিয়াই বহিম্না আসিতেছিল আমাদের সাহিত্যের প্রাচীন ধারাটি অভঙ্গক্রমে ; মধ্যযুগের সাহিত্য এবং উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের পাশ্চান্ত্যগ্রভাবে বধিত আধুনিক সাহিত্য-- ইহাদের ভিতরকার খ্রতিহীসিক যোগশ্ত্র রহিয়াছে এই কবিওয়ালা, পাচালীওয়ালা এবং টগ্পাওয়ালাদের ভিতরে এই সকল কবির কাব্যরচনার ভিতরে বিশেষ করিয়া পাই রাধাকষ্ণ-লীলাপন্বলিত প্রেমসঙ্গীত, কিছু শ্যাম! সঙ্গীত, গিরিনন্দিনী উমাকে অবলম্বন করিয়া পাই আগমনী সঙ্গীত আর কতকগুলি পাই নিছক মানবীয় প্রেম-সঙ্গীত | এই যুগের রাধাকৃষ্ণ-প্রেমগীতিগুলি বিদ্ভাপতিঃ চণ্ীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্বদাস প্রভৃতি বৈষ্ণব কবিগণের পদাবলীর পাশাপাশি বাখিয়। বিচার করিলে দেখিতে পাইব, এখানে মূল সুরের তফাৎ অনেকখানি রাধাকৃষ্ণ এখানে অনেকখানিই মুখোস মাত্র,--এবং সে মুখোসও অনেক স্থানেই খসিয় পড়িয়াছে,_তাহাদের পিছন হইতে ছুঃখে-স্থখে, বিরহে- মিলনে মধুর হইয়া দেখ! দিয়াছে নরনারীর রক্তমাংসের মৃঠি। এই সকল কবির মন একেবারে সাধারণ মাম্থষের মন, রাধাকুষ্জের প্রেম ইহাদের কাব্যে একেবারে স।ধারণ মানুষের বাস্তব প্রেম,--তথাঁপি সেই পুরানো চংটিকে যেন আর ছাড়িছাড়ি করিয়াও ছাড়। যায় ন।,_- চলিতে হইতেছে তাহারই, রেশ টানিয়! কিন্তু এই কৃত্রিমতা মাষের কিছুতেই রেশী দ্দিন ভাল লাগে ন1$ সে ব্যাকুল হইয়া ওঠে চিরাচরিত পদ্ধতির .শান-রাধান পথ ছাড়িয়! সহজ সরল স্বচ্ছন্দ গতিতে একান্ত শ্বাধীনভাবে. নিজের, মনকে প্রকাশ করিতে $ এই কৃত্রিমতার অস্বস্তি 'এবং অস্থাচ্ছন্দ্যের ব্যাকুলতাই এইসব কবিকে একদিন করিয়া তুলিল একেবারে. বেপরোয়া,-৩তীহারা কক্তি! লিখিলেন,_.

২৭ বাঙলা-সাহিভ্যের: নবযুগ

তথে প্রেমে কি সখ হতো | আমি যারে ভালবাসি মে ঘদি ভাল বানি কিংশুক শোভিত ভ্রাণে কেতকী কণ্টক হানে ফু ফুটিত চন্দনে ইচ্ষুতে ফল ফলিত। প্রেম সাগরেরি জল হতো যদ্দি সুণীতল বিচ্ছেদ বাড়বানল তাকে হদি না থাকিতে

অথব'-.- ভালবাসিবে বলে ভালবামি নে। আমার স্বভাব এই তোম। বই আর জানিনে অথবা- শয়নেরে দোষ কেন মনেরে ব্ঝায়ে বল নয়নেরে ঘোষ কেন। অপাখি কি মজাতে পারে না হলে মনমিলন

কবিওয়ালা, পাঁচালীওয়ালা এবং টগ্লাওয়ালাদের এই নকল গানের ভিতরে আধ্যাত্মিকতা নাই-ই-_ প্রেমের হুক্ষ্তাও সর্বত্র হয়ত নাই,_ উহা হয়ত কামন।-বাসনার নগ্রমূতি লইয়া অনেক স্থানেই হইয়া উঠিয়াছে গুল; কিন্তু তখাপি তাহার বৈশিষ্ট্য এইখানে, এতদিন পরে সাহিত্যে মানুষ স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠা লাভ করিল এই যে এইখানে ববাধাকৃফ্চের পরিবর্তে সাহিত্যে নরনারীর মহিমময়ী যুগলমৃত্তির প্রতিষ্ঠা! হইল, তাছার পর হইতেই সাহিত্যের বেদীতে এই নরনারীর প্রেমের পৃজাই খ্বমহিমাঁয় প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে পূর্ববঙ্গ গীতিকাগুলি ব্যতীত নরনারীর বিরহ্‌- মিলনের প্রতিষ্ঠা, এবং গুধু তাহা লইয়াই সাহিত্য-বচন! বাঁঙলা,দাহিত্যে এই প্রথম। + 11

রাধাকৃফের গ্রেমগীতি ব্যতীত এই বুগে অস্ত জাতীয় ধর্মসঙ্ষীভ যাক

নবযুগের লক্ষণ :. ২১

বাচিত, হুইয়! উঠিয়াছে তাহাকেও জীবন্ত করিয়। তুলিক্কাছে মানবীয় স্পর্প ; দাশরথি রায়ের

বলে গেলি নে বলে ভাই ভেবেছিলেম আমি চিতে |

দীনকে বুঝি ভুলে গেলি দিন পেয়ে রে রাম! মিতে এই গানের ভিতরে ধাহীরা সহজ সরল ভগবদ্ভক্তির সন্ধান এবং আস্মাঘ পান তাহাদের বিরুদ্ধে আমাদের কিছু বলিবার নাই ; কিন্তু এই গানের প্রতিটি শব্ধের ভিতর দিয়! উৎসারিত হইয়! উঠিয়াছে সহজ হৃদয়ের বে সখা প্রেম তাহাকে একান্ত মানবীয় করিয়! দেখিলেও কাব্যের কোন €গীরবহানি হয় না; বরঞ্চ আমার মনে তয়, এই মানবীয় স্রুরই এই জাতীয় ধর্মসঙ্গীতগুলিকে করিয়৷ তুলিয়াছে একান্ত রমণীয় এবং মধুর

এই যুগের আগমনী সঙ্গীতগুলি অপূর্ব স্থধানির্যাসে ভরপুর ; কিন্ত

গিরিরাজ হিমালয়, জননী মেনক! এবং তাহাদের আদরের ছুলালী উমাকে অবলম্বন করিয়া এই গানগুলি গড়িয়া উঠিলেও এই স্থুধানির্ধাস একাস্তই সবদয়-মন নিঙডানে! ল্েহ-প্রেমের নির্যাস জননী মেনকা এখানে শুধু ম1, আমাদের মাটির ঘরের ন্েহপ্রেমের নিঝ রিণী ম'»বিশেষ করিয়া অষ্টাদশ এবং ডনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী গরীবের ঘরের মা। শরতের শনি প্রভাতে ভিখারীর মুখে একতারার সুরের সঙ্গে যখন গান শুনি

আধার করে ধরের আলে।

. সত্যি কি তুই চঙ্গুলি উমা:

তখন আমাদের মনটি উদাস হুইয়! ঘুরিয়া বেড়ায় স্নেহন্্রনিবিড় পল্লীতে পল্লীতে কত সুখ-দুঃখ, হাসি-অশ্রু, আশ1-আকাজ্ষা বুকে চাপিয়া বুকের 'শ্নহধারায় বাড়াইয়। তোলে সোনার বরণী ক্সেহের ছুলালশত শত উমাকে ৰাঙলার দীন-ঘরিদ্র মাতা1-পিত1; বিবাহের পরের দিন এই সব উমার দল ষখন ঘর ছাড়িয়া চলিয়া যায়, খরের প্রদ্দীপ সেদিন সত্যই নিভিয়া যায়

২২ বাগলা-সাহিত্যের নবষুগ

বাঙলার দরিদ্র বাপ-মা+__বড় ঘরে মনের-মতো! বরে কন্তা সমর্পণ করিবার সাধ্য নাই, চোখের জল আচলে মুছিয়! তাহাদিগকে কন্ত! সমর্পণ করিতে হয় কপর্দকহীন, উপার্জনে অক্ষম বৃদ্ধ বরের কাছে; তাই বৎসর 'ঘুরিয়৷ আসিতে না আসিতেই বাঙলার এই সব মেনকার অন্তর কাদিয়। ওঠে অষ্টমবর্ষীয়া গৌরী সবেমাত্র শিশু-খেলা সাঙ্গ করিয়া সিধিমূলে' সিন্দুরের অহ্ছন দিয়! অবগুগঠনে চলিগ্পা গিয়াছে বুদ্ধ বরের সঙ্গে দূর দেশে; উমাকে স্বামিগৃহে পাঠাইয়া তাই মেনকার আর মুখে নাই" ভাত--চোথে নাই ঘুম; স্বপ্র দেখিয়া পাঁগলিনীর ভ্তায় মা কাদিয়া উঠে,

উমা! আমার এসেছিল স্বপ্নে দেখ! দিয়ে চৈতন্য করিয়ে চৈতন্যর(পিলী কোথায় লুকাল

তখন জাগে প্রবোধহীন অন্ুরোধ---

' যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী উমা বুঝি আমার কেঁদেছে |

আর যখন উম! ঘরে ফিরিয়া আসিল, তখন-_ আমার উম! এলে। বলে রাণী এলোকেশে ধায় বামপ্রসাদ যেখানে উমার শৈশব-লীল] বর্ণনা কর্রিতেছেন,_-

গিরিবর, আমি আর পারি ন! হে প্রযোধ দিতে উমারে ? ' উম! কেদে করে অভিমান নাহি করে স্তন পান নাহি খার ক্ষীর ননী সরে অতি অবশেষে নিশি গগনে উদয় শশী বলে উমা ধরে দে উহ্ারে। কাদির ফ.লাল অশখি মলিন যুখ দেখি মানসে ই! লহিতে কি পারে &

ন্বযুগের লক্ষণ হত

আন্ব আর মামা বলি ধরিয়। কর-অন্গুলী .. বেতে চায় ন! জানি কোখারে আমি বলিলাম তায় চাদ কিরে ধরা যায়

তুষণ ফেলিয়া মোরে মারে

সেখানে মান্ুধী উমার মানুষী লীলাই আমাদের রর বিমুগ্ধ করে? বাঁলিক1 উমার" অবোধ শিশুলীলার ভিতরেই এখানে জাগিয়াছে .কত রহস্য, কত বিস্ময়, কত মহিমা ! তাই তাহাকে শ্রদ্ধ! করিয়া! তাহাদ্বার! আমর! সাহিত্য গড়িয়! তুলিয়াছি |. কিন্ত তথাপি লক্ষ্য করিতে হইবে, এখনও বাঙালীর ঘরের ছোট্ট মেয়েটিকে উমার বেশ গ্রহণ করিতে হয়, তাহার পিতামাতাকেও হইতে হয় গিরিরাজ আর মেনকা ! তাহাদের আবরণহীন স্বরূপে এখন পর্যস্তও তাহারা প্রতিষ্ঠা লাভ করিতে পারিতেছে না এই আবরণ খুলিয়া ফেলিতে এখনও যেন রিনা পদ্বধ এবং সঙ্কোচ

এই ষুগের সাহিত্যে আরও লক্ষ্য. করিতে পারি, সাহিত্যে দেবদেবীর আবির্ভাব থাকিলেও এবং ধর্মের অনুসরণ--অগ্ততঃ তাহার ঠাটটা--বজায় ধাকিলেও উহ্বার ভিতরে দেবদেবীগণের নিগ্রহাত্মক অত্যাচার এবং 'অন্গগ্রহাত্মক অত্যাচার দুই-ই লোপ পাইয়াছে! এখানে দেবদেবীকে 'পাইতেছি শুধু প্রেমন্গিগ্ক মধুর মুঠিতে, মান্তষের সঙ্গে তাহাদের 'সন্বন্ধ তাহাঁও এই মধুত্র সম্বন্ধ |

কবি ঈশ্বরগুপ্জের ভিতরে আসিয়া দেখিতে নি মান্ছষের পাঁহিত্যের বিষয়-বন্ত্ব মুখ্যতঃ মানুষ জীবনের ' খুটিনাটি তুচ্ছ ক্ষুদ্র ব্যাপারগুলিও সাহিত্যের বিষয়-বস্ত্ব হইয়া উঠিয্লাছছে। কবি হিসাবে ঈশ্বরুগুপ্ধের সাফল্য সন্ধন্ধে' ব্ছ মতভেদ থাকিতে পারে; তাছার আদ্ির্সের আদিখ্যেত1'। হান্তরপের পুলতা' এবং অন্প্রাস-ধমকাদি

তু. বাঙলা*মাহিতোর নবধুগ

শব্ধালঙ্কারের সন্ত! কধি-কৌশল তাহার কাব্যান্বাদনে স্থানে স্থানে রতি অপেক্ষা] হয়ত বিরতি আনে বেশী; কিন্তু সেইসঙ্গে এইজন্য তাঁহ'কে শুদ্ধ ন। করিয়াও পারি না যেবাঙলার হাটেবাজারে মেছোনীর ধাম! আলে' করিয়া! থাক' “তপসে মাছ? এবং বাঙালীর ঘরের উৎসব “পৌষ পার্ধণ' তাহার কাব্যে সাহিত্যের বিষয়-বস্তব্র সার্থক মর্যাদ! লাভ করিয়াছে ।:এই যে পৌষের পিঠাকে অবলম্বন করিয়। বাঙলার ঘরে ঘরে আবালবৃদ্ধ- ঘণিতার ভিতরে পড়িয়। গিয়াছে একটা আনন্দকোলাহুল, একট! কর্ম- চাঞ্চলা, তাহার ভিতর দিয়! একধিকে প্রকাশ পাইয়াছে যেমন পল্লীর সাধারণ গৃহস্থের গ্ুহকোণের কত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আশা-আকাজ্া, তরল ক্ষুজ্ আনন্দের অভিব্যক্তি, তেষনি অন্তদিকে আভাস রহিয়াছে পল্লীর দাপ্সিড্রোর, গ্থ্ণীগণের সুকুমার অথচ আরক্ত অভিবোগঞ্খলির ইহারা মানুষের জীবনের কোনও প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড ঘটনার কথা বলে নঃ, -বড় কথাও ইহাদের ভিতরে কিছুই নাই, তবু ইহাদের একটা উদ্ধ্ৰ সহিমা আছে , সে মহিম। ঈশ্বরগুপ্তের দৃষ্টিতে রহ্যঘন এবং আনন্দঘন 'হুইয়। উঠিয়াছিল। ঈশ্বরগুপ্তে কবিতাকে তাহ আমর" বাঙল' কাব্য- সহিত্যের ইতিহাসে একটি জ্স্তবিশেষ বলিয়! গ্রহণ করিতে পারি। কবি হিলাবে ঈশ্বরগুপ্ধের বৈশিষ্টা এই খানে যে নবধুগের মানুষ হইয়া তিনি খাটি দেশীয় কবি, এবং খাটি দেশীয় ধারার তিনিই শেষ কবি 'থাঁটি দেশীয় বিশেষণ প্রয়োগের অথ এই যে, তাহার কবি-মানসটি.গড়া ছিল শুধু বাঙলার নিজন্ব শিক্ষ1,সংস্কার সংস্কৃতির দ্বারা,তাহার করি- 'মআনসের প্রকাশশুজিটিও ছিল বাঙলার নিজস্ব পদ্ধতির--তাহার ব্যবন্থত ভাষাও বাঙলার অন্তঃপুর, হাট-বাজার, মাঠ-ঘাটের ভাষা। পশ্চিমের (আলো কপাতে তীহার ভাব ব! ভাষার ভিতরে কোনও রঙ. ধরে নাই.) কথাটি এখানে বিশেষ কিয়] উল্লেখ করিতেছি এইজন্ত যে, আঞুম্রি

নরযুগের লক্ষণ .. হু

কাঙন্দা-সাহিত) সম্বন্ধে সাধারণতঃ আমাদের একট! ধারণ) হইল এই--- আস্ুনিক ঝাঙলা-সাহিত্যের গোড়াপত্তন পাশ্চাত্যের প্রভাবে। আমার মনে হয, আঞ্ুনিক সাহিত্যের গোড়া-পত্তন পাশ্চাত্য-প্রভাবে নয়, গোড়াপত্তন কাল-প্রবাহে, সেই গোড়াপভ্ভনের উপর সৌধ-নিমাণহ্ইয়াছে অনেকখানি পাশ্চাত্য পরিকল্পনায়__উপাদানওঅনেক কিছু সংগৃহীত হইয়াছে পাশ্চাত্য হইতে একটু একটু করিয়া কাল-প্রবাহ নিজেই আধুনিক বুগের যে গোড়াপত্তন করিয়াছে,পশ্চিমের হাওয়া আসিয়া পেই ইতিহাসের ধীর- প্রবাহের উপরে সজোরে ধাক্ক। দিয়াছিল,_-তাহাতে আমাদের কাব্যা ঝকিতার গাঙে একেবারে বান ডাঁকিল।অনেকের ভিতরে এইরূপ একট- অন্ভুত ধরণ] দেখিতে পাওয়। বায় যে, ইউরোপীয় বণিক এবং ধমযাজক- ঘগন্তণর আবির্ভাব না ঘটিলে আমাদের গছ্য-সাহিতা গড়িয়াই উঠিত ন1। কাঙল। গঞ্চ-সাহিত্যকে গড়িয়া তুলিবার কাজে ইউরোপীয় ধমষাজকগণের ঈদ কিছুতেই অস্বীকার্ধ নয়)_-তাই বলিয়! তাহাদের অনাগমনে এখনও গরার বা. লাঙাড়ী গ্রবন্ধে আমরা আমাদের সংবাদপত্রগুলি প্রকাশিত করিয়া! চলিতাম এমন কথাও একাস্ত অশ্রদ্ধেয় কাল-গ্রবাছের ভিতৰে বাঁজীকাবে, উপ্ত ছিল গগ্চ-সাহিত্যের সম্ভাবনা,-_ প্রকৃতির অযাচিত দানের ম্যায়, পশ্চিমের আলো-হাওয়া, বাঙলার উর্বর ক্ষেত্রে তাহার সঙ্গদয় বর্ষণে এই খীজকে অতি অন্পকালের ভিতরে বাড়ায় তুলিয়াছে শাখায় পল্লবে সকলে ফলে। সাহিত্যের আধুনিকতার লক্ষণগুলি সম্পর্কেও প্রযোজ্য সেই একই কথ।। ভারতচন্দ্রের উপরে বা কবিওয়ালাদের উপরে €কানও ভা) রস্রপথে আসিয়া এক ঝলক পশ্চিমের আলোক পাড়্িয়াছিল এমন মতবাদ রচনা করিতে আশা করি কেহই উৎসাহিত হইবেন ন! ; কিন্ত আমর! পুর্বে দেখিয়াছি, এই সকল কবির ভিতর তা কি কৰির সাহিত্যে আধুনিকতার লক্ষণগুলি ক্রমশ: আক্মগ্রকাশ

২৬ বাগলা-সাহিত্যের নবধুগ

করিতেছিন নশ্বরগুপ্ত উনবিংশ শতাব্বীর মাঝথানের কবি ' হইলে মূলত: তিনিও “ণমাদ্ি এবং অকৃত্রিম দেশীয় ধারারই কবি এবং 'লক্কার-বাহুল্যে তাহাকে বতই প্রাচীনপন্থী বলিয়া মনে হোক গুটি তাহার নিবদ্ধ ছিল ধূলামাটির পৃথিবশির দিকে

উনবিংশ শতাব্বীর প্রথমভাগে নান। শিক্ষা, সাহিত্য এবং 'ধর্ম- প্রতিষ্ঠানের মারফতে বাঙালী পান করিতেছিল পাশ্চাত্যের টাটকশ স্থরা»--তাহার কিছুটা অংশ নিজেকে প্রকাশ করিল একটা আত্ম বিশ্বৃত উদগ্র মত্ততায়,--আর বাকি অংশটা গ্রহণ করিল আমাদের" জৈব প্রাণশক্তি, তাহার প্রকাশ প্রাচীরে-ঘেরা আলো-বাঁতাসহীন প্রকোষ্ঠনাসীদের দেহ মনের একটা সতেজ স্বাস্থ্যবিধানে |

আমরা যেদিন গ্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর আহার গ্রহণ করি সেই- দিন সেই মুহুর্তেই যে তাহার রসধারা আমাদের দেহ মনকে সতেজ করিয়া তোলে এমন নছে$ স্বাস্থ্যকর আহারও মাত্রাপাতে

একটু আস্তে আন্মে গ্রহণ করিতে হয়, তাহাকে শক্ততীক্ষ দাস্তেক্

দ্বার! উত্তমরূপে চবণ করিষা উদরের জারক রসে,ধীরে ধীরে জারিত করিয়া লইতে হয়ঃ তবেই সে আন্তেআন্তে রস, রক্ত, মেদ, অস্থি, মজ্জী প্রভৃতি রূপে রূপান্তরিত হইয়া আমাদের দেহ মনকে, পুষ্ট স্ফৃতিযুক্ত করিয়া তোলে পাশ্চাত্যের দেওয়! বিবিধ সামগ্রীকে

এইরূপে উত্তমরূপে চর্বণ করিয়া! হজম করিতে এবং তাহাছারা। ভাবে ও.

প্রকাশ-ভঙ্গিতে আমাদের সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করিয়া লইতে আমাদের একটু দেরী হইল; পাশ্চান্ত্য প্রভাবে সজীব হইয়া নৃতন সাহিত্য

আমাদের গড়িয়া! উঠিতে আরস্ত করিল উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় শতক্ষ

হইতে। নবজাগ্রত জাতীয়তাবোধের প্রেরণাহেতু একথ।, স্বীকার করিতে

আজ যতই কুগ্ঠাবোধ থাকুক না কেন, সত্যের মর্যাদা রাখিতে হইলে: একথা আমাদিগকে স্বীকার/করিতেইহইবে যে পাশ্চাত্য শিক্ষা-দীক্ষার

ভিতর দিয়া এবং পাশ্চাত্য জাতিসমূহের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসিয়া বিশ্ব-

্ীবন এবং বিশ্বমনের সহিত আমাদের বাঙালী জীবন মনের একট? গভীর মিলন ঘটিয়াছিল; তাহার ফলে আমাদের জাতীয় জীবনেও

আপিল প্রসার, আমাদের চিত্তেরও ঘটিল প্রসার, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের" সাহিত্যেও আসিল প্রসার সমৃদ্ধি ইহার পূবে আমাদের বাঙালী-

জীবনটি যেন ভৌগোলিক প্রতিহাসিক সমস্ত দিক্‌ দিয়াই বিরাট, বিশ্বের নিরন্তর পরিবর্তনণীল আবর্তন হইতে রহিয়াছিল বিচ্ছিন্ন হইয়!।

ঠিক যেন,-_

“খাঁচার পাখী বলে, নিরাল। হ্ুখকোণে বাঁধিয়! রাখ আপনারে |”

ববীন্ত্রনাথ একস্থানে বলিয়াছেন,-”যে জগতের মধ্যে বাস সেটা সঙ্কীণ এৰং অতি-পরিচিত তার সমস্ত তথ্য এবং রসধারা বংশাহ্থুক্রঙগে

বংসরে বৎসরে বারবার হয়েছে আবতিত অপরিবতিত চক্রপথে,, সেইগুলিকে অবলম্বন করে আমাদের জীবনযাত্রার সংস্কার নিবিড় হয়ে জমে উঠেছে, সেই সকল কঠিন সংস্কারের কঠিন ইটপাথর দিয়ে আমাদের বিশেষ সংসারের নির্মাণকার্য সমাধা হয়ে গিয়েছিল এই. সংসারের বাহিরে মানবব্রহ্গাণ্ডের দিগ.দিগন্তে বিরাট ইতিহাসের আভি- স্বক্তি নিরন্তর চল্ছে, তার বৃণ্যমান নীহারিকা 'আস্কোপাস্ত সনাতন- প্রথায় শান্ত্র-বচনে চিরকালের মত স্থবির হয়ে ওঠে নি, তার মধো, এক অংশের সঙ্গে আর এক অংশের ঘাত-সংঘাতে নব নব লমন্যার- সি হচ্ছে, ক্রমাগতই তাদের পরস্পরের সীমানার সঙ্কৌচন-গ্রসারণে- পর্রিবতিত হচ্ছে ইতিহাসের রূপ, ছু আমাদের গোচর ছিল 11”

২৮ বাঙওল।-সাহিত্যের নবষুগ

পাশ্চান্ভা শিক্ষা-দীক্ষা আমাদের রুদ্ধ-জীবনের ক্ষেতে বাতায়নের মত কাজ করিয়াছে,--এদিক্‌ ওদিক চাহিয়া! আমরা দেখিতে পাইয়াছি» আমাদের সীমাবদ্ধ পরিধির বাহিব্সে চলিয়াছে বিশ্বজীবনের কি বিরাট খ্বর্ণাবর্ত, এক মুকুর্ত তাহার ৰিরাম নাই,--কত সংঘব, সংগ্রাম এবং মিলনের ভিতর দিয়! রচিত হইয়! চলিয়াছে বিশ্বজীবনের ইতিহাস, তাহার আবর্ত হইতে পাশ কাটাইয়া বীচিকরা থাকিবার কাহারও অধিকার নাই,__সে চেষ্টাও আত্মহত্যারই নামান্তর মাত্র এই ুদৃ্- প্রসাবী দৃষ্টি লইয়া গড়িয়া! উঠিতে লাগিল আমাদের জাতীয জীবন-_ তাহ+রই ছায়া পড়িল আমাদের জাতীয় সাহিতে। |

এই নবলৰ্‌ সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি লইয়া আমর! আমাদের সম্মুখে, পশ্চাতে, ডাইনে, বীয়ে, উধ্বে অধে তাকাইয়া কি দেখিলাম ?- দেখিলাম দিকে দিকে মানুষের বিজয়মহিম1ঃ কান পাতিয়। শুনিলাম মানবতার জয়ধবনি,-ধুলা-মাটির পৃথিবী, সুখ-দুঃখ হাসি-কান্সা মান-অপমান প্রেম-অপ্রেম শান্তি সংগ্রামে ভরা মানুষের জীবন-_ উহা] কত সুন্দর, কত কুৎসিত,--সকল সৌন্দর্য কুশ্রীতা লইয়; উহ। কত গভীরঃ কত অতলম্পর্শ | উধ্বেি স্বর্গ নামিয়! আসিয়। মিলিয়! গিয়াছে এই পৃথিবীর সঙ্গে, ইঞ্জের বজ, বরণের পাশ, কুদ্রপুজ মরুদগণের স্পধ সকলই দিন িন মানব কাতিয়! লইতেছে; জলবাল! এবং বনবালাগণ জল এবং বন হইতে চলিয়। আসিয়! মানুষের প্রাসাদে কুটীরে ঠাই লইয়াছে; চারিদিক জুড়িয়া কত বাক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, ধম, দেশ, জাতির চলিতেছে নিরস্তর উত্থান পতন--কি বিরাট তাহার রূপ, কি গভীর তাহার মহিমী ! আলো-আধারের সং্ম্র শ্ছুট-অস্ফুট বর্ণচ্ছটায়-ভরা মন নামক ছোট পদার্থটির ভিতরে নিহিত রহিয়াছে যেন "অনন্ত কালের অসীম রহম জান-বিজ্ঞানের গ্রসারের সমচ্জগ সঙ্গে

নবধুগের লক্ষণ ২৯.

বাহিরের অগতের রহস্য যত বেশী উদবাটিত হইতেছে, অন্তর্জগতের রহন্ঠ যেন ততই বাড়িয়া যাইতেছে চারিদিকে কি বিপুল কর্মকোল'হল, _-আবার প্রশান্ত বিরতি, কি ভীষণ মারামারি হানাহানি--আবার কি' গভীর স্েহপ্রীতির বন্ধন। এই রহস্যময়ী পৃথিবী, এই বিন্মরে ভা দীবন ছাড়িয়া! অগ্তদিকে চোখ ফিরাইবার মানুষের সময় কোথায়? এতদিন পরে ভবিষ্তত্দশী কবির বাক্য একটা নূতন অর্থ লইয়া সার্থক, হইয়া! উঠিল,__ | গুনহে মানুষ ভাই। বায় উপরে ষানুষ সত তাহার উপরে নাই॥

ধর্ম আমরা আমাদের জীবন হইতে বা সাহিত্য হইতে উনবিংশ শতাব্দীতে একেবারে দূর করিয়া দিই নাই, কিন্ত এধুগের ধর্ম মানব- ধম, সেখানে মানুষের কাজ-কারবার দেব-দেবীর সঙ্গে নহে+-_পৃথিবীপ্স, ৰছ 'উধের্ব ম্ব্ব-পিংহাসনে আসীন ভগবানের সঙ্গে নহে,-সেখানে কাঁজকারবার মানুষে মানুষে ভগবান্‌কে খু'জিয়! পাইয়াছি আমরা. পাপপুণ্যে ভর! মানুষের অন্তরে অন্তরে ; দেবত্বকে বণ্টন করিয়া লইয়াছি. মানুষের শৌর্ধে, বীর্ষে, প্রেমে ত্যাগে ! মঙ্য্তত্বই তাই আজ দেবস্ছের স্থান অধিকার করিয়া ব্বমহিমায় প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে সংস্কার কিংবদস্তীর ধর্ম, পৌরাণিক কাহিনী আজ আর আমাদিগকে ভুলাইতে পারে নাঃ মনের ভিতরে মাঝে মাঝে জাগিয়! গঠে তাহাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া মধুহ্দনের রাবণ তাই £%0 611০দ্-সাবাস্‌ পুরুষ১--- মঘ্বনাদ .বত্য লত্যই “ইন্দ্রজিংঃ,-আর তাহাদের পার্ে রামল্লগ্ণ, ভীন তস্কর--মহিমাহীন-