শী রা

8114 কি

পি চি

নি সা

সম্পার্ন৷ দুরজিৎ দাশগগ্

পনর প্রকাশন ১৫/১এ। দৃহালবিগোর দাদু লেন। ধলিষাা-&

প্রথম প্রকাশ : বৈশাখ, ১৩৬৪... প্রকাশক : নিতাই মনুমদার, শঙ্কর প্রকাশন ১৫1১এ, যুগলকিশোর দাস লেন, কলিকাতা -৬ মুদ্রক : শ্রীগৌর মজুমদার শহর প্রির্টং ওয়ার্কস, ২৬১, বিবেকানন্দ রোড, কলিকাতা-&

উৎসর্গ-পন্র অমল। পুজনীয় অগ্রজ শ্রীযুক্ত লালমোহন গঙ্গোপাধ্যায়

মহাশয়েব তস্তে এই পুস্তক ভক্তি সহকাঁবে তসর্গ কবিলা ন্‌

যৌতুক

“শাখাব গবমশ্রেহভাজখ জা জামাত।

গ্রামান স্শীলকুমার মুগোপাধ্যায়ের ক্রমে সাত দ্বিন শ্রাীমান শৈলেন্্রন।থ মুখো পাপা।য়

থে শ্রীমতী বাসন মুখোপাধ্যায় জামাতা কন্যাকে উপহার দিলাম

স্মতিকথ! £ ১ম পর সোদরোপম বৈবাহিক প্রীমান মুবলচন্দ্র বন্দ্যোপাধায়কে তার জন্মদিনে উপহার

নুচীপত্র

উপন্যাস

অমল!

যৌতুক

গল্প

সাত দিন প্রেরণা সবুজ মাঠ নতুন লেখক বেচুলাল অভিনয় বন্যার জল রামের স্মৃতি লালীর প্রেম

সাত দিন বিবিধ

স্মৃতিকথ! ( উনবিংশ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত ) সম্পাদকীয় :

অন্নলা

এক

শীতকালের দিন,--পাঁচটা বাজিতে বাজিতেই সন্ধা! হইয়া আসে হরযোহল সুখোপাধ্যায় অফিস হইতে আলিয়া সামান্য জলযোগ করিয়াই গৃহিণী প্রভাবতীকে ' কহিলেন, “একটা গায়ের কাপড় দাও একবার বেরোতে হবে ।”

স্বামী অফিস হইতে যখন জাসেন, তখনই তাহার মূখে একটা গভীর চিন্তার রেখা গ্রভাবতী লক্ষ্য করিয়াছিলেন; মনে করিয়াছিলেন, হরমোছন জলষোগ করিলে সে বিষয়ে অনুসন্ধান করিবেন। তাছার উপর হরমোছুৰ বাহিরে যাইবেন শুনিয়। গ্রভাবতী বুঝিলেন, নিশ্চয়ই একটা কোন অস্তভ থটন! ঘটিয়াছে। কারণ, বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত সন্ধ্যার পর হুরমোহুন গৃহ হইতে বাহির হুইতেন না,-বিশেষতঃ শীতের রাত্রে

চিন্তান্থিত হইয়া গ্রভাবততী জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার মুখ শুকৃনে! দেখচি) কী হয়েছে বল দেখি? কোথায় যাবে এখন ?”

বিরক্িবিরূপ মুখে ছরমোহন কহিলেন, “একবার অমলার শ্বগশুরবাড়ী যেতে হুবে। আজ অফিস যাওয়ার সময় তার শ্বশুরের একটা চিঠি পেয়েছিলাম, তখন আর তোমাকে দেখাই নি। অফিসের কোটের পকেটে আছে, বার ক'রে দেখ ।”

প্রভাবতী তাড়াতাড়ি পত্র বাহির করিয়। পাঠ করিলেন। অমলার শ্বপ্তর, অর্থাৎ হরমোহনের বৈবাহিক গোরিন্দনাথ, হরমোহনকে পত্র সিধিয়াছেন। পত্রে লেখ! ছিল, “যে আপনার বংশগত কলঙ্কের কথা গোপন করিয়া ভদ্রলোকের খবরে কন্তা সমর্পণ করে, তাহাকে আমি ইতর মনে করি। আমার গৃহে 'অত্রান্ধাগর কন্তার স্থান কিছুতেই হইবে না। আপনার কন্তার সহিত আমার পুনের বিবাহ দিয়া আমি সমাঁজে পতিত হইয্াছি; যখাবিধি গ্রায়শ্চিত্ত করিয়া সমাজে উঠিব। অগ্ত হইতে আপনার কন্যা আমার পুত্রবধূ নছে। যত শীঘ্র সম্ভব আমি আমার পুত্রের বিবাহ দিব। আপনি আজ জন্ক্যার পর আসিয়া আপনার কন্তাকে লইয়া! যাইবেন; নচেৎ ভাহাকে আজ রাত্রেই ভূত্যের মারফত আপনার গৃহে পাঠাইয়! দিব ।”

তিনমাস হইল হুরমোহনবাবুর কন্তা অমলার সহিত বিজয়নাথের বিবাহ হুইয়াছে। বিজয়নাখের পিত! চতুর্দশ শতান্ধীর এই মহা বিপ্লবের মধ্যেও হিন্দুধর্মের চরম গৌড়ামিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখিয়াছিলেন; এবং সামাজিক খু'টিনাটির সামান্য ব্যতিক্রমও তিনি সহ করিয়া চলিতেন না। তাই কয়েকদিন হইতে একটা কোনও সংবাদ "অবগত হইয়া! তাছার সত্যাসত্য নিরুপণের জগ্ঠ বিশেষরূপে জন্ুসন্ধান লইতেছিলেন। আজ প্রতাষে সে সম্বন্ধে সঠিক সংবাদ অবগত হওয়ার পর, আও একদিনও অপেক্ষা না করিয়া, তদগ্ডেই নৃতন বৈবাহিক হয়মোছনকে পঞ্জ লিখি! ভৃত্যের মারফৎ পাঠাইয়া দিলেন।

রচন/-নহগ্র

গোবিন্দনাথের পঞ্জ পাঠ করিস প্রভাবতী চিন্তায় অবসর হইয়। পড়িলেন। হরমোহনের পিতামহের জন্ম সংক্রান্ত একট! কাছিণী বহুদিন হইতে প্রচলিত জআাছে। এক সময়ে তাহ! লইয়া! এমন একট! গোলযোগ উপস্থিত হইয়াছিল ষে, তাহার কলে হুরমোহনের পিতাকে গ্রাম ত্যাগ করিয়৷ কলিকাতায় আলিয়া বাঁস করিতে হয়। কলিকাতায় সমাজ নাই, স্থতরাং দলাদলির উপদ্রবও নাই। সমাজের জগন্নাথ-ক্ষেত্তর কলিকাতান্ব আনিয়া হরমোহনের পিতা শান্তিলাভ করিলেন। মধ্যে আর কোনও গোলযোগ ছিল না! হরযোহনের বিবাহের সময়ে একবার মে কথ! উঠিয়াছিল,-_ কিন্তু গ্রভাবতীর পিতা৷ তাহাতে কর্ণপাত করেন নাই। তাহার পর আর কখনও প্রসজ উঠে নাই। গোবিন্দনাথেৰ পঞ্জে যে সেই প্রসঙ্গেরই উল্লেখ ছিল তাহ! বুঝিতে প্রভাবতীর বিলম্ব হইল ন!।

পত্রধান৷ মুড়িয়! রাখিস! চিন্তিত মনে প্রঙাবতী কহিলেন, “তুমি কী বলবে ?”

হরমোহন কহিলেন, “দেখি, বদি বুঝিষ়ে-হুবিয়ে যন থেকে কথাট! দুর করতে পারি।

পঅমলকে নিয়ে আসবে?

“সহজে আনব না! তবে যদি একাস্ত ন! শোনে, তা হলে তো আর ফেলে আসতে পারব ন1!”

প্রতাবতী কহিলেন, “এনে| না। আজ যদি অমল! তোমার সঙ্গে চলে জাসে, তাহলে ব্যাপারটা পাকা হয়ে দাড়াবে , পরে আর পাঠানে! শক্ত হবে। আর একট! কথা, রাগারাগি কোরে। 1, তুমি আবার একটুতেই রেগে ওঠ! তুমি যখন মেয়ের বাপ, তখন তোমাকে শিচু হ'তে হবে।”

একটু বিরক্তি-বযঞ্রক দৃষ্টিতে প্রভাবঙার দিকে চাহয়। হরমোহন কহিলেন, কেন, মেয়ের বাপ ব'লে আমার আত্মসম্্রমের জান থাকতে নেই না কি?"

প্রভাবতী দেখিলেন, আর কথা বাড়াইলে বিপরীত হইবে, গৃহ হইতেই! হরমোহন ক্রুদ্ধ হইয়। যাইবেন। তাই, আর কোনও কথা না বলিয়া, একথান গাত্রবপ্্ আপিয়। হরমোহনকে দিলেন! দুর্গা নাম ন্মরণ করিয়া হরমোহন গৃহ

হইতে নিক্রান্ত হইলেন।

হই

ওয়েলিংটন স্কোয়ারের অঞ্চলে গোবিন্দনাথের বুহৎ জটালিক। বৈঠকখানায় ,স্ুবিস্বৃত শধ্যার উপর অর্ধশারিত অবস্থায় গোবিদ্দনাথ আলবোলার দীর্ঘ নল হস্তে তামাক খাইতেছিলেন, এবং নিকটে বলিয়! প্রতিবেশী বিনোদ পাল চামচ নাড়িয়া উত্তপ্ত চা শীতল করিতেছিলেন।

মুখ হইতে নয় সরাইয়া, বিনোদ পালের দিকে অর্ধোন্নীপিত চক্ষে দৃষ্টিপাত করিয়। গোবিন্দনাথ কহিলেন, “কী হে? কথা জেনে শুনে বাড়িতে স্থান দেওয়া যায়? তুমিই বল না। স্থান দেওয়। যায় কি?”

বিনোদ পাল চায়ের পেয়াঁল! মৃথে তুলিয়াই, পুনরায় ডিসের উপর নামাইয়ং রাখিয়া চামচ দিয়! একমনে চ! নাড়িতে লাগিলেন

"বল নহে? কথ কচ্ছনাকেন? তোমার হ'লে তুমি রাখতে ?

একটু ইতত্তুতঃ করিয়। বিনোদ কহিলেন, “তা বটে। তবে কি না মেয়েটার জন্কে বড় দুঃখ হয়!

শষ্যার উপর উঠিয়। বসিয়। গোবিন্দনাথ কহিলেন, “তা কী করব ! সংসারের নিয়মই এই,--একজনের দোষে আর একজন কষ্ট পায় পি

কোন উত্তর ন! দিয় বিনোদ চায়ের পেয়াল! মুখে তুলিলেন।

একজন ভৃত্য আসিয়। কহিল, “বৌদিদ্দির বাপ এসেছেন।”

গোবিন্দন্নাথ কহিলেন, “এইখানে নিয়ে আয়।” বলিয়! পুনরায় তাঁকিয়ায় ঠেস দিয়া শুইয়া পড়িলেন।

বিনোদ পাল বাস্ত হইয়া! কহিলেন, “আমি তবে উঠি ভায়1।"

গোঁবিন্দনাথ কহিলেন, “বিলক্ষণ ! তোমার সামনে সব কথ! হবে বজ্ই' তো৷ এই শীতে তোমাকে ডাকিয়েছি। তৃমি'বোস।”

“আম থাকলে একটু অস্থবিধ! হবে ন! রি টা

“কিছু ন।%" * ধীরে ধীরে কক্ষে প্রবেশ করিয়া হরযোহন গোবিন্দনাঁথকে নত হইয়া নমস্কার করিলেন। প্রতি-নমস্কার না করিয়া গোবিন্দনাথ অঙ্গুলি সঙ্কেতে একট! চেয়ার দেখাইয়। কহিলেন, “বস্থন।”

হরমোহন আসন গ্রহণ করিলে গোবিদানাথ কছিলেন্, “গাড়ী নিয়ে এসেছেন তে ??

মৃছুকণ্ঠে হরমোহন কহিলেন, “আজে না।+

“কেন ?ঃ

কিংকর্ব্যবিমূঢ়. হইয়া হরমোহুন একবার বিনোদ পালের দিফে চালিলেন। 'ষ চাহনির অর্থ.বিনোদ সহজেই বুষিলেন। হলে “গোিন, আমি এখন আসি তাই বলিয়া উঠিবার উপজম করিলেন। ,

রচনা-সহ্ন

ব্াস্ত হইয়! গোবিন্দনাথ কহিলেন, "না, না, বোস, বোস তোমার সঙ্কুচিত ইবার কোন কারণ নেই। অন্তঃপুরও নয়, আর ম্রপাঘরও নয়,-এখানে কোনও গুপ্ত কধা হবে না।” আলবোপ। হইতে কলিক! উঠাইঘ়! বিনোদের হন্ডে দিয়া কহিলেন, "এই নাঁও, তামাক খাও, তোমার পাশে হুকো রেখে গিয়েছে ।”

হরমোহনফে লক্ষ্য করিয়! বিনোদ কভিলেন, “আগে উনি খাঁন ।” বলিয়! গোবিন্দনাথের আলবোলায় কপিক। রাধিতে গেলেন

বান্তভাবে বাবা দিয়া গোঁবিন্দনাধখ কহিলেন, “আমার ঘরে শুধু বামুন- কায়েতেরই ছকো। আছে_৪র্ধের হকো নেই। তা হলে বাজার থেকে নতুন হুকো। আনাতে হয়। তুমি খাও।”

গোবিন্দনাথের কথ শুনিয়া হরমোহুগের অন্তরে যেন উত্তপ্ত লৌহ-শলাক।

বেশ করিল? কিন্ত তৎক্ষণাৎ প্রভাব তীর উপদেশ মনে পড়িয়া গেল-_রাগারাগি

কোরে! না, মেয়ের বাপকে নিচু হতে হয়। অতি কষ্টে আত্মসংবরণ করিয়া হরমোহ্‌ন নীরবে বলিয়া রছিলেন। বিনোদ পাল অতিশয় স্কুচিত এবং ক্রি হইয়া ধারে ধীরে তামাক টানিতে লাগিলেন

হরমোছনের দিকে বক্রভাবে দৃষ্টপাত করিয়া গোবিন্দ কহিলেন, "গাড়ি আনেন নি, ভা আপনার মেয়েকে হাটিয়ে নিয়ে যাবেন নাকি? আপনার যদি তাতে পয়পার সাশ্রয় হয়, আমার কোনও আপত্তি নেই। তবে পথ অনেকটা, একট! গাড়ির বোধ হয় দরকার হবে!” বণিয্ন! একজন ভূত্যর নাম করিয়া হাক দিলেন।

ভত্য আলিলে তাহাকে কহিলেন, “্যা, একখান! ঠিকে গাড়ি নিয়ে আস্ব। গ্যমবাজার যাবে ।”

আঘাতের উপর আঘাত খাইঘ। হরমোহনের মন একেবারে বাঁকিয়া বসিয়াছিল। হস্বায়হীন অভদ্র গোবিদ্দনাথকে শাস্ত করিবার জন্য চাট,ক্তি করিতে একবারেই প্রবৃতি হইতেহিল না,বিশেষতঃ তাহা! করিলেও যখন কোন উপকারের সম্ভাবনা দেখা! যাইতেছিল ন!। কিন্তু দুর্ভাগিশী কণ্তার শ্মেহকরুণ মুখ ম্মরণ করিয়া! হরযোহন স্থির করিলেন, একবার ভালো! করিয়া চেষ্টা করিয়া দেধিবেন। বিপোদ পালের উপস্থিতির জন্ত একটু সংকোচ যৌধ হইতেছিল। কিন্তু আঁর অপেক্ষা করাও চলে না--গাড়ি আলিয়া পড়িলে তখন আর স্থবিধ! হইবে ৮1 হরমোহন কহিলেন, “দেখুন, আপনার চিঠি পেয়ে পধস্ত জামার মাথায় আকাঁশ ভেঙে পড়েছে! কথ। সর্বৈর্ধ মিথ্যা।--আমার কোন পরম শত্রু আমাকে বিপদে ফেহাবার জন্তে আপনাকে কথা বলেছে। আপনার মতে! বিজ্ঞ ব্যক্তি--.”

হরযোছনের কুখায় বাধ! দয! গোবিদানাধ কহিলেন, “আমার বিজ্ঞতায কাঁপনায় হছি ফোন সনেহ ন! থাকে, তা ছলে দানবেন, আমি আদার কেলি

অমল &

কর্তব্য অসমাঞ্ধ রাখি নি। সংবাদ আমি আজ পাইনি, প্রায় দশ দিন হলে! পেয়েছি। যখন প্রথম পাই, তখন বিষয়ে আপনাকে ফোন কথা জিঙ্জাসা কর! সমীচীন ব'লে মনে করিনি, কারণ, সংবা? ভূল হ'লে, অকারণ আপনার মনে কই দেওয়। হতে!। সংবা? পাওয়া মা আমি অন্গসন্ধান আরগ্ত করেছি। সে ধেমন-তেমন অন্ধুসন্ধান নয়,-অস্ততঃ পাঁচ ছয় জন লোক আপনাদের গ্রামেই গিয়েছে। তারা সকলেই আপনার পিতামহর বিষয়ে একই ংবা? নিয়ে ফিরেছে ।,

হবমোহন কহিলেন, “গ্রামে আমাদের শক্রর অভাব নেই,__তাঁরা সকলেই মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে।”

বিদ্রপের হাসি হাপিয়। গোবিদ্দনাথ কহিতলন, “এ কথা মন্দ পয়! তদ্রলোকদের বিশ্বাস করব না,--আর বিশ্বাস করব আপনাকে 1”

আত্মলংবরণ কর! হরমোহনের পক্ষে কঠিন হইয়া উঠিল। কহিলেন, “কেন, আমি অভদ্র না কি ?--%

গোবিনানাধ দু শ্বরে কহিলেন, “সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ আছে? যে অব্রাহ্মণ তয়ে এমন ক'রে ব্রাঙ্গণের সর্বনাশ করে, তাঁকেও ভদ্র বলতে হবে নাকি ? আপনার বাড়ি থেকে আমি যেয়ে এনেছিলাম ব'লে তবু আমাব পরিশ্রাণের একটা পথ আছে,_-যে আপনার ঘরে কন্ত। সমপ্র্ণ করবে, তার কী উপায় হবে বলুন দেখি! হাড়ি মৃচি ডোমকেও ভদ্র বলতে পারি, কিন্তু আপনাকে পারিনে!”

গোবিঙ্গনাতের কথ শুনিয়! বিনোদ পাল মনে মনে সংকুচিত হইয়া উঠিলেন। কড়িকাঠের দিকে উদাস ভাবে তৃষ্টপাত করিয়া! কহিলেন, “গোবিন্দ, কথা বাড়িয়ে কোন লাভ নেই ভাই। তুমি যা করবে, তা তে! করবেই, মিছে তগ্রলোককে-_-”

বাধ! দিয়া গোবিন্দনাথ উত্তেজিত হইয়া! কহিলেন, “তুমি ভূল করছ বিনোদ গোবিন্দ চাটুয্যে ভদ্রলোকের মর্ধাণা রাখতে জানে,--তদ্রলোককে আপনার বৈঠকখানায় বসিয়ে অপমান করবে এত ইতর সে নয়! কিন্তু--”

বিনোদ বিব্রত হইয়া উঠিলেন। কহিলেন, “গোবিন্দ, তুমি বুঝতে পাচ্ছ না, আমি তোমাকে চুপ করতেই বলেছিলাম, পুনরুক্তি করতে বলি নি। আমার সে উদ্দেতী ছিল ন1।”

গোঁবিদ্দনাথের দুর্বাক্যের নিষ্ঠর পীড়নে হরমোহনের মন একেনারে বিদ্রোহী হইয়! উঠিযাছিল। এক দিকে গোবিদানাথের ছুর্বযবহার, এবং অপর দিকে বস্তার অনিষ্টের আশঙ্কা-_এই উভয়ের নিল্পেষখে হরমোছনের আত্মসন্মান এতক্ষণ উতগীড়িত অথচ উপাঁয়হীন হইব! ছিল। সহস! তাহ। যখন প্রবলভাবে সাঁড়। দিয়া উঠিযার উপক্রম করিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই বিনোদচন্ত ্ষীণভাবে ভীহার পক্ষ অধলদ্বন করায় হরমোছুন চিত সংযত করিবারদ্অবসর গাইলেন।

৬. রচনা-স্মগ

বাণ্পের অতিরিক্ত চাঁপে বয়লার ফাটিয়া যাইবার উপক্রম করিতেছিল। এমন সময় তাঁহার এক পাশে একটি ছিন্র করিয়া দেওয়ায়, কুদ্ধ বায়ু সেখান দিয় কিছ্ুৎ পরিমাণে নির্গত হইয়! সেই চাপ হাঁকা হইয়া! গেল। অগ্নির মূ্তি ধরিয়া যাহ! জুলিয়া উঠিবার উপক্রম করিতেছিল,--সহান্ুভৃতির ক্ষীণতম আধাতেই তাহ। অভিমানের আকারে রূপান্তরিত হইল হরমোহুন কহিলেন, "আমি না হয় অভদ্র, ধরন, আমি আপনার নিকট কথাট। গোপন রেখে গুরুতর অপরাধ করেছি; কিন্তু আমার মেয়ের তে! কোন অপরাধ নেই,-তাকে কেন পায়ে ঠেলবেন? তার প্রতি দয়! করুন!”

গোবিন্বনাথ কহিলেন, “একজন পাঁপ করে, আর অপর একক্বনকে তার গ্রায়শ্চিন্ত, করতে হয়,.--এই তে! সংসারের নিয়ম প্রবঞ্চন। ক'রে ভদ্রলোকের ঘরে মেয়ের বিয়ে না দিয়ে যদি নিজেদের সমাজের মধ্যে দিতেন, তা! হলে আর আপনার মেয়ের কষ্টের কোন কারণ হতে! না। আপনার মেয়ে কষ্ট পাবে বলে তে! আমি ধর্মত্যাগ করতে পারি নে!”

হরমোহন তপ্ত হইয়া উঠিয়া! কহিলেন, “আমার নিরপরাধ কন্তার সর্বনাশ ক'রে ধর্মের নামে আপনি যে মন! অধর্ম করছেন, ঠিক জানবেন এর প্রায়শ্চিত আপনাকেও করতে হবে,--আপনিও বাদ পড়বেন ন1 1”

রকৃঞ্কিত করিয়! বিকৃত দ্বরে গোবিন্দনাথ কহিলেন, "প্রায়শ্চিত্ত আমাকে তো৷ করতেই হবে। কিন্ত আপনার যুক্তিট। ঠিক বুঝলাম ন|! তে! | আপনার কন্ত। যদি নিরপরাধ হয়, ত1 হলে একজন বেশ্টার মেয়েরই বা অপরাধ কোথায়? তারও তে! জানকৃত কোন দোষ ব! পাপ নেই ।”

গোবিন্দনাথের এই তুলনার উক্তিতে হরমোহনের স্ত্রীর উপর প্রত্যক্ষ ভাবে হয় তো! কোনও আঘাত ছিল ন'$-_কিন্ত হরমোহন তাহাই মনে করিয়! একেবারে প্রদীপ্ত হইয়া উঠিলেন। তাঁহার ধৈর্যের উপরে কিছুক্ষণ হইতে প্রবলভাবে যে উৎপীড়ন চলিতেছিল সহসা! তাহ] যখন এইরূপে নির্মমভাবে সীম! অতিক্রষ করিল, তখন হরমোহন কনার ইষ্ট-অনিষ্টের কথা সম্পূর্ণ ভুলিয়া গেলেন। শত শিখায় যাহ! দ্াবানলের মতো। প্রজ্ঘলিত ইইয়। উঠিল, আর তাহাকে বৃথ! আঁশ! ঘা আশঙ্কায় চাপিয়! রাখা গেল না। উন্মত্ের মতে! হরমোহনের চচ্ষু জলিয়া উঠিল? কহিলেন, “তোমার মতো চামারর বাড়ি থেকে ষত শীগ্র আমার মেয়েকে নিয়ে যাই, ততই মল! মনে করব আক্ক হতে সে বিধব। হয়েছে, আঙ্গ নিজ হাতে তাঁর সিথের পিদুব মুছে দেব! তোমার মতো গাপিষঠে মখ দর্শন করলেই তার পাপ হবে 1”

শুনিয়া! গোবিন্দনাথ ধীরে ধীরে উঠিয়া বলিলেন। হরমোহনের রে তক্ষ কুঞ্চিত দৃষ্টিপাত করয়। কহিলেন, প্ৰটে ! বিষ নেই,_-কিন্ধ কুলোর মতো। চক্র আঁছে দেখছি যে। আমার বাড়ী বসে আমাকে অপমান? জ্ঞামার জনণ্বশবার চাকর আছে,-এ্কবারি' তাদের হাতে তোমাকে অর্পণ করব ন! কি? তাতে,

সমল ণ্‌

'অধিষ্তি তোমার মানের ভ্রট হবে না,কিন্তু শারীরিক ক্লেশ একটু হতে পারে।” গোবিন্বদাথ চীৎকার করিয়! উঠিলেন, “দেবী সিং |

প্রভুর উত্তেজিত কণ্ঠস্বর শুনিয়! জ্বৌ সিং মুহূর্তের মধ্যে কক্ষের ভিতর আসিয়া হাঁজির হইল, “হুজুর 1”

বাস্ত হুইয়৷ বিনোদ পাল কছিলেন, “গোবিন্দ, কি ছেলেমাহুধী ভূমি করছ? তোমার কি বুদ্ধি একেবারে লোপ পেয়েছে।* বলিয়! বিনোদ দেবী সিংহকে চলিয়। যাইতে ইঙ্গিত করিলেন।

বিনোদচন্ত্রের কথায় কর্ণপাত ন! করিয়া! গোবিন্দ নাঁথ কহিলেন, “নিকালো! শুদ্বার কে11” বলিয়া! হরমোহনকে দেখাইয়। দিলেন

চাকর গিয়া প্রহাঁরের ইঙ্গিতে হরমোহন অপমানে এবং ঘ্বপায় কাঠের মতো শক্ত হইয়া গিয়াছিলেন। গোবিন্দনাথের আদেশ শুনিয়া সবেগে উঠিয়া ধাঁড়াইলেন) এবং বাশের মোট। লাঠিট! শক্ত করিয়! ধরিয়। গেবী পিংএর দিকে আরম্ভ নেত্রে চাহিয়া কহিলেন, “খবরদার, এক পা! এগোলে মাথ| গুড়িয়ে দোব।”

বিড়ালের চেয়ে কুকুরের শক্তি অধিক, ধারণ! বিভালেরও আছে, কৃকুরেরও আছে; কিন্ক নিরুপায় অবস্থায় বিড়াল যখন সম্ষুথের ছুই উচু করিরা বিকট, সৃভঙ্গীর সহিত ধর্]াস্‌ ফ্যাস্‌ শব করিতে থাকে, তখন কুকুরকে আপনার শক্তির বিষয়ে সংশয়াঁপর্ন হইতে হয়। নিরীহ হরমোহনকে গোবিন্দনাথ অসংকোচে আক্রমন করিয়। চলিয়াছিলেন, কিন্তু সহস1 যখন হরমোহন নিজের সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করিয়! রুত্রনূতি ধারণ করিয়। ঈাড়াইলেন, তখন গোবিন্দনাথ ব| দেবী সিং কেহই ব্যপারটা সুবিধার বিবেচনা করিল না। দেবী সিং মনে করিল, প্রতুর আদেশ পালন করিতে গিয়। পোত্রক মন্তককে ওরুপ গুরুতর ভাবে বিপন্ন করা কোন ক্রমেই উচিত নহে এবং গোবিন্দণাথ স্পষ্ট বুকিলেন যে, বাক্যের ভিতরে যতই ঝাজ ভরিয়া! দেওয়া যাউক না কেন তাহাতে মাুষের মাথ। ফাটে না) পরস্ত বাশের লাঠি অতিরিক্ত মোটা হইলে অবলীলাক্রমেই, ফাটে প্রথমে কাহার মন্তকের উপর বংশ-দণ্ডের পরীক্ষা করিবেন, হরমোহন তাহাই ভাবিতেছিলেন কি না, ঠিক জানি না, এমন সময়ে বাহিরে বারান্দায় পরিচারিকার অন্ুবতিনী একটি বাশি! মুর্তি দেখা গেল। সেই মৃতি দেখিবামাত্র হরমোহন বেগে ঝড়ের মতো ঘর হইতে নিষ্কান্ত হইয়। গিক়্। বালিকাকে. ছুই বাছুর মধ্যে আবদ্ধ করিয়। কহিলেন, “চল মা, চল মা! পাপ-পুরী যত শীঘ্র ছেড়ে যেতে পারিস ততই মঙ্গল” বলিয়া বালিকাকে লইয়৷ গাড়িতে গিয়! উঠিলেন।

গাঁড়ির ধর্ঘর যধন মিলাইয়। গেল, তখন গোবিন্বনাঁথ তাকিয়ায় হেলান দিয় কহিলেন ,“আঠ, পাপ গেল 1”

সে কথার অন্থসরণে কোনও কথা না! বলির! বিনোধচন্্ দ্থানের উদ্বেস্তে উঠিয়া ঈাড়াইলেন।

রচনা-গঞগ

গোঁধিদসাখ কহিলেন, “এরই মধ্যে চললে বেন ছে? তামাক খেয়ে হাখ।” “প্না, আর বসব না। রাত হয়েছে।* বলিয়া! বিনোদ চলিয়া গেলেন।

তিন

অমলা শ্বগুরালয় হইতে বহিষ্কৃত হওয়ার পাচ ছয় দিন পরে কোন এক অপরাছ্থে বিজয়নাথ তাহার খিতলস্থ শয়ন কক্ষে শয্যায় শয়ন করিয়! অনুতগ্ চিত্তে বাহিরের দিকে চাহিয়া ছ্িল। ওয়েলিংটন স্কোয়ারের কিয়দংশ তথ। হইতে দেখা যাইতেছিল। তথায় নিয় শ্রেণীর বহুসংখ্যক লোক সমবেত হইয়া! কোনও বিষয় লইয়া তুমুল বচসা বাধাইযাছিল। কিন্ধু তাহাদের কলহ ব। কোলাহলের প্রতি বিজয়ণাঁখের কিছুমাত্র মনোযোগ ছিল না। যে ছুরস্ত বেদন। এই কয়েক দিন বুকের মধ্যে দপ, দপ, করিয়া নরস্তর তাহাকে বাধিত করিয়াছে, তাহারই নিরবশেষ আঘাতে তাহার সমস্ত চেতন! বিকল হইয়া ছিল। সে অসংলগ্ন ভাবে নিজের বর্তমান অবস্থা উপলন্ধি করিবার চেষ্টা করিতেছিল। বাল্যকাল হইতেই সে মাতৃহীন। ভ্রাতা ভগিনী কেছই তাহার ছিল ন!। বিপত্বীক পিতার একমাত্র সম্তান হইয়াও সে ন্মেহ অপেক্ষা অধিকতর শাসনেরই মধে। পালিত হুইয়। বড় হুইয়। উঠিয়াছে। বিবয্ব-বিজ্ঞ কঠোর পিতার কর্তব্য পরিচালনার অবকাশে মাঝে মাবে গোবিন্দনাঁথের ভ্রাতৃশ্পুত্রী বিনোদিনী আগিয়! মরুভূমির মধ্যে বৃষ্টিধারার মতো, কিছুপ্দিনের জন্ত বিখি-নিয়ঙিত সংসারের মধ্যে একটা স্বেহ-সরসতার স্ষ্টি করিত; কিন্তু সে নিতান্তই মাঝে মাঝে | কঠিন পর্বত যেমন গিরি-নির্বারণীর উচ্চাসকে একটুও নিরোধ করে না, অবলীলাক্রন্ে মিজ্জের কঠোরতার উপর দিয়! বহিয়! যাইতে দেয়, টিক সেইকপে গোবিন্দনাথ বিনোদিনীর সর্বপ্রকার ইচ্ছা-অভিলাষ কার্ধ-কলাপের নিয়ে শাস্ত হা খাকিতেন। সংসারে অমল প্রবেশ করিবার পর বিজয়নাথের বৈচিত্রান্থীন জীবন কয়েক দিনের জন্ত এক নৃতন আলোকে প্রদীপ্ত হইয়া উঠিয়া ছিল, কিন্ত এক অচিন্তিত ঘটনার মধ্য দিয়া দীপ্ডিটুকু চিরদিনের জন্ত অপহ্থত হুইয়া! গেল, রছিল শুধু জনগনের দাহ! শীতকালের দ্রত-বিলীয়মান অপরাহ্ের অন্পষ্টতার দিকে চাহিরা চাহিয়া একট! অপরিমের় গ্লানি দ্বণায় সমগ্র বিশ্ব-সংসারের উপর বিজয়নাধ কুদ্ধ হই! উঠিপ। মনে ইল তাঁহার জীবনটা ধেন এক বঙছ- বিদীর্ণ মহীরুছ, পর্র-পুষ্প যাহা! কিছু সব জলিয়া গিয়াছে, শুধু মিক্ষল দেছটা মাটির নিগ্নের শিকড় অবলগ্বন রয়! দাড়াইয়া আছে।

প্দপন্ধে বিজয়নাথ ফিরিয়। দেখিল কক্ষে একজন ভূত) গ্রধেশ করিয়াছে কোন প্র্থ না করিয়া সে নিঃশঝে তাঁহার দিকে চাহি! রহিল।

“দাবার, আপনাকে কর্তামশাই ভাকছেন।”

ন্‌ )& ; $&

"ফন? কী বরফার

ভৃত্য প্রয়োজন নির্দেশ করিতে পারিল না।

ক্ষণকাঁল অলস ভাবে পড়িয়! থাকিয়া বিরক্তি সহকারে বিজয়নাঁথ শহ্াত্যাগ তৎপরে নিয়্তলে বৈঠকখানায় গোধিন্দনাথের নিকট উপস্থিত হহল।

গোঁবিন্দনাঁথ বৈঠকখানায় একাকী অবস্থান করিতেছিলেন, বিজয়বনাথকে 'ক্বেখিয্া কহিলেন, “বোস ।৮

বিজয়নাথ উপুবেশন না করিয়া অন্তদিকে চাহিয়া দাড়াইয়। রহিল।

আর কোনও প্রকার ভূমিকা না করিয়া গোবিন্দনাথ কহিলেন, “তোর বিবাহের সম্বন্ধ স্থির করেছি। পঁচিশে মাঘ তোমার বিবাহ দোব।”

বিজয়নাখের উত্ত্যজ বিদ্রোহী মন এই প্ররোচনায় একেবারে সংযমহীন হইয়া উঠিবার উপক্রম করিল, কিন্তু কোনও রূপে নিজেকে শাস্ত করিয়! লইয়! সে

কছিল, “স্থির করবার আগে আমাকে ডাকলে ভাল হতো ।” “কেন ?”

বিজয়নাথ একটু ভাবিয়! লইয়া বলিল, “তা হলে যাদের সঙ্গে কথ! স্থির করেছেন, তাদের নিকট অগ্রতিভ হবার কারণ ঘটত না।”

গোবিম্দনাথ তামাক টানিতেছিলেন ; বিজয়নাঁথের বথ শুনিয়া আলবোঁলার নলট! ধীরে ধীরে স্থাপন করিয়! বিজয়নাথের দিকে তীব্র দৃষ্টিপাত করিয়া! কহিলেন,. “ঠিক বুঝলাম ন!। অপ্রতিভ হবার কারণ কেন ঘটবে ?*

বিজয়নাথ দৃঢন্বরে কহিল, “আমি বিয়ে করব ন!।

“কেন”

একটু ইতস্তত করিয়া বিজয়নাঁধ কহিল, “গ্রবৃতি নেই ।”

উত্তর শুনিয়া গোবিন্দনাঁথ উত্তপ্ত 'হইয়। উঠিলেন; কহিলেন, “তুমি যখন এতটা প্রবৃত্তিবাজ হয়ে উঠেছ, তখন কথাট! আর একটু পরিষ্কার ক'রে জানা দরকার হরমোহনের মেয়েকে কি তুমি ভ্যাগ কর নি?”

বিজয়নাথ কহিল, “বে কথা শেষ হয়ে চুকে গেছে, সে কথা আবার নতুন ক'রে তুলে লাত কী? সে বিষয়ে তো আঁমার সঙ্গে আপনার সব কথা

হয়ে গিয়েছে ।”

তবে বিয়ে করতে ্রবৃতি নেই কেন?”

বিজয়নাথ অবিচলিত কণ্ঠে কছিল, “ঠিক সেই অক্গেই প্রবৃত্তি নেই। . এবার

বার সঙ্গে বিয়ে হবে, বলা যায় না তো তু্িন পরে তাঁকেও হয়তো আঁবার ত্যাগ করতে হ'তে পারে। তার চেয়ে বিয়ে ন] করাই ভালো ।” পুজের 'কৈফিপ্লতে গোবিন্দনাথ কিছুমান সন্ধষ্ট হইলেন ন1।. বিজযুনাখের বরা যে গ্রচ্ছয় ফঁধ তিরস্কার নিহিত ছিল, তাহ তাহাকে তীব্রভাবে দংশন করিগ। আযক্ত নেঙেবিজয়নাথের প্রতি দৃষ্টপাত করিয়! কহিলেন, তুমি কি'

রচন।-সম গ্র

বলতে চাঁও যে, এখন থেকে তুমি আমার কো'ন কথা৷ যেনে চলবে না, নিজের স্বাধীন মতে চলবে ?" বিজয়নাথ কহিল, “না, আমি ঠিক তা৷ বলতে চাইনে, কিন্তু এটুকু আপনাকে জানাচ্ছি যে, দ্বিতীয়বার বিবাহ আমি করব না। অতএব অনর্থক আপনি সে বিষয়ে কারও সঙ্গে কথ! কয়ে অপদস্থ হবেন না।* গোবিন্বনাথের চক্ষু জলিয়! উঠিল। কহিলেন, "তুমি আমাকে এত ছুূর্বল মনে কোরো ন! ফে, তুমি আমার একমাত্র ছেলে ব'লে তোমার সব রকম সীট আমি সহ ক'রে চলব!” অমলাকে পরিত্যাগ করিবার বিষয় আলোচনার সময়ে গোবিন্দনাথ একবার বিজয়নাথকে এই বলিয়া ভয় প্রদর্শন ক'রয়াছিলেন যে, অমলাঁকে পরিত্যাগ করিতে শ্বীকৃত ন! হইলে তিনি বিজয়নাথকে বিষয় হইতে বঞ্চিত করতে পারেন পুনরায় গোবিন্দশাথকে সেইরূপ ইঙ্গিত করিতে দেখিয়া! বিজয়নাথের চিত্ত জলিয়া উঠিল। তাহার মনে হুইল এরূপ হীনত। স্বীকার কর] অপেক্ষা পথে পথে ভিক্ষা করিস জীবন ধারণ করাও শ্রেয়। সে ক্রুদ্ধকণ্ঠে কহিল, “আপনার সম্পত্তির লোভে আমি সব রকম অত্যাচার সহা ক'রে চলব, আমাকেও তত দুর্বল মনে করবেন না। আপনার রক্ত আমার শরীরে আছে, আমি আপনার পোস্ুপুত্র নই 1" এত বড় কথার উত্তরে গোবিদনাথ কোনও কথা খুঁজিয়! পাইলেন না। তিণি নির্বাক হইয়! বসিয়া রহিলেন। গোবিন্দশাথের উত্তরের জন্ত অপেক্ষা না! করিয়! বিজয়নাথ কহিল, “এ বিষয়ে আপশি য! স্থির করবেন, ত1 আমাকে জানাবেন যে বিষয়ে আমি আপত্তি জাণিয়ে গেলাম ৩1 ছাড়া আর কোনও বিষয়ে আমার আপত্তি হবে না” বলিয়। তথ! হইতে সে প্রস্থান করিল। মানুষের আমুর শেষ আছে, কিন্ত জ্ঞানের শেষ নাই, সে কখা সেদিন 'গোবিন্ধনাথ কতকট! বুবিয়্াছিলেন।

চাতু

সময় জিনিলট। এমন যে, তাহার গতিকে আর কিছু না বলিলেও অবাধ ৰলা 'নিশ্ন্ব চলে। ম্থুখ দুঃখ, রোগ শোক, হাস্ত রোদন কোন কিছুরই খাক্চিরে তাহার অন্ধ অবিশ্রাম গতি এক মৃহ্র্তেরও জন্ত সংস্বত থাকে না। তাই হরমোহনের বেদনাপীড়িত সংসার দুঃখের গুকুভার বহুন করিয়াঁও জগতের সহিত "ভাল রাখিয়া চর্িপ। চলার অবশ্ঠ প্রভেদ আছে? কেহ সুখের হাওয়!-গাড়িতে

অনলা ১১

অবলীলাক্রগ্ম চলিয়াছে, কেহ ছুঃখের ভগ্রপদে সকাতরে চপিয়াছে। কিন্তু চল! ভিন্ন কাহারও উপায়াস্থুর নাই, চলিতেই হইবে

শ্বশুর গৃহ হইতে অযলার বহিফত হওয়ার পর ক্রমশঃ ধীরে ধীরে দীর্ঘ ভিন বৎসর কাটিয়! গিয়াছে হুরমোহন গ্রভাবতীর হৃদয়ের ক্ষতর উপর কালের প্রলেপ পড়িয়৷ পড়িয়। ক্রমশঃ তাহ! অধিক হইতে অল্প হইয়। আপিয়াছে ছুভাগিনী কন্তার ছ্রদুষ্ট লইয় তাহাদের যে মনঃকষ্ট এখন তাহার সহিত তাহারা অনেকটা বোঝাপড়া করিয়া লইয়াছেন। তাহার! বুঝিয়াছেন যে, তাহাদের এই স্বামিত্যন্তা। বন্তাটিকে তাহার সীমন্তে সিন্দুর এবং হস্তে লৌহবলয় থাকা সব্ধেও বিধধারই মতো! মনে করিতে হইবে, এবং তাহাদের কন্তাও যাহাতে তাহার যথার্থ অবস্থা উপলব্ধি করিয়া আপনাকে তদতিরিস্ত কিছু মনে না করে, সে বিষয়েও তাহার! মনোযোগী হইতেছিলেন।

কিন্তু এ"বিষয়ে* অমলার চিত্তের গতি তাহার পিতামাতার অনুগামী তে! ছিলই না, বরং বিপরীত ছিল। যে-দ্িন বৈবাহিকের সহিত বচস| করিয়া হরষোহন অমলাকে নিজ গৃহে লইয়া! আসেন, সেদিন পিতা-মাতার চাঞ্চল্য 'দেখিয়া অমলারও মন অধীর হইয়া উঠিয়াছিল সত, কিন্তু সেদিন তাহার বালিক!-হৃদয়ে সে তরঙ্গ উত্থিত হয় নাই এখন যাহা। সময়ে সময়ে তাহার হৃদয়কে উদ্বেলিত করতে আরস্ত করিয়াছে তখন তাহার চিত্তে বাসনা-কামনার উন্মাদ) ছিল না, তাই ক্ষতির মাগ্নকাঠিও ক্ষুদ্র ছিল। কিন্তু তাহার পর এই তিন বৎসরে ক্রমশঃ তাহার দেহ মনে যৌবনের প্রবল প্লাবন যে কানায় কানায় রিয়া উঠিয়াছে, তাহার অনিবার্ধ উপদ্রব. হইতে সে কেমন করিয়া পরিজাণ পাইবে? পলে পলে ক্রমশঃ যাহা সঞ্চিতই হইয়! উঠিতেছে, অথচ সার্থকতার বিভৃত গুবাহে প্রশাস্ত হইয়া বহিয্কা যাইবার উপায় নাই, তাহা উদ্দাম না! হইয়া আর কী হইবে ?

প্রথমে অমল! ব্যাপারটাকে নিতান্ত সামান্তরূপেই গ্রহণ করিয়াছিল। পিতায়, শ্বশুরে বচলা, কোন প্রকার গুরুতর কারণ তাহার অজ্ঞাত, কাজেই অল্প দিনে মিটিয়া যাইতে বাধ্য। স্বামীর নিকট সে যে শুধু নিরপরাধ তাহাই নহে; এই অল্পদিনের মধ্যেই সে যে স্বামীর হৃদয় অনেকখানি অধিকার করিয়া লইয়াছিল সেজ্ঞানও তাহার ছিল। তবে কেন সে স্ত্রীর সহজ এবং গ্তাষ্য প্রাপ্য হইছে বঞ্চিত হইবে? কেন সে মনে করিবে যে, পাপ ন| করিয়াও সমস্ত জীবন তাহাকে প্ায়শ্চিত করিতে হইবে? কিন্তু কোনও প্রকার পরিবর্তন না] আনিয়া যখন ছিনের পর দিন মাসের পর মাস কাটিয়! গেল, তখন অমল! ব্যস্ত হইয়! বিজয়নাথকে কয়েকধানি প্র লিখিল। প্রথমে সহজ পত্র, তাহার পর অভিমান, তাহার পর ক্রোধ, সর্বশেষে মিনতি প্রত্যেক গত্রটি লিখিয়া উত্তরের অপেক্ষার সে উদ্গ্রীব হইয়া থাকিত ; মনে মনে বিজ্য়নাথের পত্রের মর্ম কল্পন! করিক্ত। 'কারণ-নিছুর আচরণের জড় পত্রমধ্যে কত ছুঃখ, কত অনুষ্ঠাপ প্রকাশ;

১২ | রচনা-সহগ্ত

তাছার পর সেই অনঙ্গত অপরাধ-্থালনের জন্ত কী ব্যাকুল কাওয় ভাধাত়্ ক্ষষা প্রার্থনা করা! পত্রের প্রতি অক্ষর যেন দুঃখ বেদনার এক একটি পর্দা! নিজের অন্থযোগ ভতসনা-তীক্ষ পত্রের উত্তরে বিজয়নাথের কল্পিত কাতর পত্র পাঠ করিয়া! অমল! মনে মনে কুগ্ ক্লেশ অনুভব করিত। তাহার পর একদিন বসস্তের কোনও এক অপূর্ব সন্ধায়, যখন প্রন্কৃতি গদ্ধে-বর্ণে, পুষ্পে-ন্িতে, প্রমত্ত কামিনীর মতে! লালসা-চঞ্চল হুইয়। উঠিয়াছে; মলয় পবন, চঞ্জ্রকিরণ পাপিয়ার তান মিশ্রিত হইয়! এক অদ্ভূত রসায়ন প্রস্তুত হইয়াছে ; এবং সেই উগ্র আসব পান করিয়া বিশ্ব বিবশ হুইয়! টল্মল্‌ করিতেছে; মিলনের সেই মাহেন্ত্রক্ষণে সহসা বিজয়নাধ আসিয়া উপস্থিত হুইবে,__বাধিত, অন্ৃতপ্ত! চক্ষে আকুল আগ্রহ, বক্ষে ব্যাকুল প্রেম! অমল! মুদ্রিত কলিকার মতো” সংকৃচিত শুক্তির গ্তায় আপনাকে আপনার মধ্যে নিবদ্ধ করিয়া কঠিন হইয়া অবস্থান করবে)_সংজ্ঞাহীন, শব্বহীন, অসাড়-! তাহার পর আবেদন শিবেদন মিনতি বিনতি; তাহার পর সহস| কখন্‌ চক্ষের পলকে বাহুতে কে, অথরে অধরে বক্ষে বক্ষে নিবিড় মিলন !

কিন্তু হায়, কোথায় মে অধীর উন্মত্ত মিলন! কোথায় পত্র-পত্রোত্বর ! কোঁখায় বসন্তের ম্দালস সন্ধ্যা! যে নিদাঘের ছুঃসহ প্রগাহে সমস্ত জলিয়া পুদ্ধিয়। গেল!

এইরূপে দিনের পর দিন অতিবাহিত হইয। ক্রমশঃ মেঘের মধ্যে বঞ্জের যতে। অমলার অন্তঃকরণে দুঃখের মধ্যে বিদ্বেষ উৎপর হইল। মনের যখন এইরূপ অধীর বিদ্রোহী অবস্থা তখন সহস! একদিন অমলার জীবন-পথে প্রমথ আলিয়া দাড়াইল।

পাচ

প্রমথ পিতৃমাতৃহীন ধনী যুবক। নিবাস হ্গলী জেলার অন্তর্গত কোন আঁষে। উচ্ছল চরিজের সহিত অর্থ বংযুক্ত হইলে মানুষ যে পথের পথিক হয়, গ্রমথনাঁথের নিকট সে পথের কোন সন্ধান-সন্ধি অজ্ঞাত ছিল না। সমবদার ব্যক্তিরা বলিত, বিষয়ে প্র অদ্ভুত কৌশনী; উপমার ভাষার, নারী-মৃগয়ার সে নিপুণ শিকারী। কোন চকিত| অন্ত হুরিণীকে ধরিতে হইলে, কখন্‌ তাহার কর্ধে বশীর কোন্‌ রাশিলী বর্ষণ করিতে হইবে, কোন্‌ পথে তাহার গতি কপ্রতিহত রাঁধিতে হইবে শ্রধং কোন্‌ পথে রোধ/করিতে হইবে, পান্খলনের জন্ত কখন্‌ তাহার পথে প্রচ্ছ্ গহ্বর প্রস্তুত করিতে হইবে, এবং কোন্‌ পর এবং চরষ অবসটর 'তছার চতুদিকে নিক্ষিপ্ত জাল ধীরে ধীরে কিংবা ্তবেগে

কলা! ১৩

শ্রটাইয়৷ লইতে হইবে, সে সরল কৌশল ব্যাখের সম্পূর্ণ আয়ত্ব ছিল। গতিকে সে এমন মন্দ করিতে জানিত যে, দেখিলে তাহাকে গভিহীন বলির ভ্রম হইত; এবং উদ্দেশ্তকে সে এমন গ্রচ্ছ্ধ রাখিতে পাগিত যে, শিকার তাহার করায় হইয়াও তাহার উদ্দেস্ত বুবিতে পারিত ন!।

অমলার সহিত গ্রমথর একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল বটে, কিন্তু তাহা এতই সুদূর যে, সম্পূরক অপেক্ষা! সম্পর্কের অভাবই তাহার ঘার! অধিক স্থচিত হুইত। অমল! প্রমথনাথের দূর জম্পকিণী মাসীর ননদকন্তা। কিন্তু দুরকে নিকট করিয়া লইবার কৌশল যাহার জানা আছে, তাহার নিকট কোন দুরত্বই নুর নহে। জাই সেদিন যখন হরমোহনের গৃহে উপস্থিত হুইয়। অমলাকে সম্মুখে পাইয়। তাহাকে অন্তরালে যাইবার অবসর না দিয়াই গ্রমথ বলিয়! উঠিল, "কী অমল, তোমার প্রমদাদাকে মনে আছে তে?” তখন অমলার গমনেস্তিত চরণ সহস। গতি হারাইয়া আর এক পদও অগ্রসর হইতে পারিল না। অম্পর্ক ধরিয়। যে ভাক দিয়াছে, তাহাকে লজ্জা করিতে সংকোচ বোধ করে না, এমন নির্লজ্জ অতি অল্পই আছে।

অমলার মুখে কিন্তু প্রমথর প্রশ্নের কোন উত্তর আসিল না; সে লজ্দারক্তিম সুখে মাতার প্রতি দৃষ্টিপাত করিল

প্রভাবতী হান্তমূখে কহিলেন, “মনে নিশ্চয়ই আছে, তবে বছর চার পাঁচ তোমার দেখ! তো! আমর! পাই নি। প্রমথকে প্রণাম করো, অমল1।%

অমলা! ভূমিষ্ঠ হইয়া গ্রমথকে প্রণাম করিল। অবনত! অমলার মস্তকে হস্তারপন করিয়া! প্রমথ কহিল, “চিরহ্থী হও।” অমলা সরিয়া আপিয়! জননীর পার্থ উপবেশন করিল

প্রথর আশীর্বাদ শুনিয়া গ্রভাবতী দীর্ঘনিংশ্বাস ফেলিলেন। "হুখ আর কোথায় বাবা? দুখের পথে তো বিধাতা চিরদিনের জন্য কাট! দিয়েছেন |?

কথাট। প্রমথ ভালোরূপই জানিত, কিন্তু তদ্দিষয়ে যেন সে কিছুই জানে না সেইভাবে সবিম্ময়ে বলিল, “কেন বল দেখি? কী হয়েছে?”

প্রভাবতী সংক্ষেপে কিন্তু ধীরে ধীরে প্রায় সব কথাটাই বলিয়া! গেলেন। বসিয়। থাকা অপেক্ষা উঠিয়া যাইতেই বেশি লক্জ! করিতেছিল বলিয়া উঠি উঠি করিয়াও অমল মাথা নিচু করিয়। বলিয়া নিজের দুরদৃষ্টের কাহিনী শুনিতে লাগিল, এবং সেই সকরুণ কাহিণী শুনিতে শুনিতে ছলনার মধ্যেও প্রমথর মুখে মাঝে মাঝে বিরক্তি ঘৃণার ন্থপরিষ্ফুট চিন্ অঙ্কিত হইয়া! উঠিতে লাগিল।

কাহিনী সমাপ্ত হইলে প্রমথ ক্ষণকাল এরূপ নির্বাক হুইয়৷ রহিল যে, তাহার মুখের দিকে চাহিয়াও প্রভাবতীর এবং তাহার মুখের দিকে না চাহিয়াও অমলার মনে হইল যে, ছুঃখে ক্রোধে দ্বায় তাহার মূ দিয়! কথ! বাহির হইতেছে না। অবশেষে দন্ত দত্ত নিষ্পেধিত করিয়া! চাপা গলায় প্রমথ, যখন কয়েক! ছুর্বোধ্য ইংরাজী বাক্য উচ্চারণ করিল, তখন তাহার ন্দ:কিছুমাহ ন| বুষ্িষাও প্রভাবডী

১৪ রচন-সন গ্র

অমলা বুঝল যে, গোবিন্দনাথ বিজয়নাথের প্রতি সেলে! কঠোর কটুক্তি। | | ্‌

সমবেদনার প্রভাবে প্রভাবতীর চক্ষে জল আদিল। অঞ্চলের প্রান্তে চক্ষু সুছিয়া কহিলেন, “এ যে আমার কী শাস্তি হয়েছে বাবা! এর চেয়ে বদি মেয়েটা --প্বাকি কথা মৃখেই রাঁহয়া গেল, এত হুঃখেও কণ্থার অকস্টাণের বাক্য মুখ দিক! বাহির হইল না।

মুখ বিকৃত এবং চক্ষু বিষ্ষারিত করিয়! প্রমথ কহিল, “কী বলব মাসিম" এর ওষুধ হুচ্ছে চাবুক, ঘোড়ার চাবুক!” কিন্তু বক্র কটাক্ষে এক নিমেষে অমলার সুখের ভাবে তাহার মনের ভাব বুঝিয়! লইয়া বলিল, "কিন্ত আমি নিশ্চয় বলতে পারি যে, বিজয়ের এর মধ্যে কোনও দোষ নেই, বাপের বর্তমানে সে কী করতে পারে বল? লেখাপড়া শিখে যে নিজের ইচ্ছায় এমন জানোয়ারের মতো| ব্যবহার করবে, আমার কিছুতেই বিশ্বাস হয় না। তুম ঠিক জেনো? মাসিমা, সময়ে এপব ঠিক হয়ে যাবে ।”

ব্যথিত শ্বরে প্রভাবতী বঙ্গিলেন) “একদিন আঁমিও এই আশাই করস্তাম। কিন্তু আর আমার সে আশ! নেই। তাই যদি তার মনে থাকত তালে এই তিন বৎসরে মেয়েটাকে অন্ততঃ একখানা চিঠিও তে দিতে পারত ? আচ্ছা, ৩1 নাহয় নাই দিলে, কিছুদিন আগে পথে এছের সঙ্গে দেখ! হয়েছিল, এব! কথ! কইতে গিয়েছিলেন, কিন্ত সে কথ! না কয়ে পাশ কাটিয়ে চ'লে গিয়েছিল তৰে আর ভালে! বলি কাকে বলে! ?"

কথাবার্তার গতি ক্রমশঃ যে রূপ ধাঁরণ করিতে লাগিল, তাহাতে আর কোন প্রকারেই অমলাঁর সেখানে বসিয়! থাকা চলিল না| উঠিবার সংকোচ কোনও প্রকারে অতিক্রম করিয়! সে উঠিয়া পড়িতেই প্রভাবতী বলিলেন, “অমলা প্রমথর জন্যে জলখাবার নিয়ে এস তো মা। এই রোদে বাছার মুখ একেবারে শুকিয়ে গেছে!” | *

জলখাবারের জন্য মৃহু আপতি করিয়া প্রমথ পুনরায় পূর্ব কথ। পাড়িল। অমল! ঘর হইতে বা'হর হইয়া! যাইবার পূর্বেই তাড়াতাড়ি বলিল, “এ সব কথা আমাকে আগে জানাও শি কেন মাসিমা? আমার বিশ্বাস, ব্যাপারটা এতদুর গড়াঁন সত্বেও আঁমি মিটিয়ে দিতে পারব |” |

কথাটা শেষ পধস্ত শুনিবার একটা অধীর আগ্রহ বহন করিয়! অধলা ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল। প্রমথর আশ্বাস বচন শুনিয়! তাহার অসাড় বিমুখ হায় সহস! যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতে! চকিত হুইয়! উঠিপ,--আশার আনন্দে নে, কৌতূহলের উত্তেক্গনায় ; যে পথের লৌহ-দারে অন্ট কঠিন অর্গল দিয়া দিয়াছে, সেখানে আর. ব্যবস্থা করিবার কা বাকি আছে, তাহাই জানিবার আগ্রহে

প্রভাবতী কিন্তু আশায় আনন্দে একেবারে উদ্বেলিত হইয়! উঠিলেন। কনার ছুর্ভাগোঁর জন্ত তাঁহার মনে এক মূহূ্তও হুখ ছিল না। কালের প্রভাবে

অবলা ১৫

£খের সে তীব্র রেশ কমিয়া গিয়াছিল বটে, কিন্তু একট) বদ্ধগভীর বেছবন। হদরকে নিরস্তর ভারাক্রান্ত করিয়া রাখিত। তাই এই ছুর্বহ পারিবারিক অমঙ্গল্স হইতে উদ্ধার পাইবাঁর বিন্দুমাত্র আশ্বাস পাইয়াই তাহার মন সন্ভাষন! অসস্ভাবনাঁর বিচার ন1 করিয়াই একেবারে নাচিয়া উঠিল।

“তা যদি পার বাবা, ত1 হলে, তুমি পেটের সন্তানের তুল্য তোমাকে জার বেশি' কী বলব, পোড়ারমুখীর একট! কিনারা হয়। তা! না হলে, ম! হয়েও কথ! আমার মুখে বাধছে না, ওর থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো 1”

অমল! যতক্ষণে প্রমথর জন্য জলখাবার লইয়া প্রবেশ করিল, ততক্ষণে প্রহথ আশ আশ্বাসের প্রয়োগে প্রভাবতাঁর মন জম্পূর্ণরূপে জয় করিয়া লইয়াছিল। এই ভাবিয়! গ্রভাবতীর অন্থশোচন। হইতেছিল যে, যনান্তরের প্রথম শুচনার সময়ে প্রমথ কেন আসে নাই, তাহ! হইলে সম্ভবতঃ এই নিদারুণ বিপত্তি ধটিতেই পারিত ন1। এত দুঃখের পরও ধ'হার করুণায় পরিজ্াত। রূপে আজ প্রমথ আসয় দাড়াইয়াছে, তাহার চরণোদেশে প্রভাবতী শঙবার মনে মলে প্রণাম করিলেন

এক হস্তে একখানা রেকাঁবে কিছু আহার্য অপর হস্তে এক গ্লাস জল লইয়া অমলা প্রবেশ করিল, এবং প্রমথর অনতিদুরে একখানি আসন পাতিয়। আসনের সন্মুধে জল-হাত বুলাইয়া জলখাঁধারের পার জলের গ্লাস রাখিয়! মুখ তুলিতেই প্রমথর দৃষ্টর সহিত তাহার দৃষ্টি মিলিত হইল। অম্পর্কের হিসাবে প্রমথ অমলার দাদা, তা সে সম্পর্ক যত সুদুরই হউক না কেন) পর্যস্ত বাক্যে আচরণে প্রমথ সেই সম্পর্কেরই হিসাব রাখিয়া আলিয়াছে, এবং গৃহে পদার্পণ করিয়া অবধি মে অমলার জীবনের সর্বোচ্চ ইষ্টলাধন করিবার ভার স্বেচ্ছায় গ্রহণ করিয়া অন্তত, বাহাতঃ, অমলার একজন পরম শুভানুধ্যায়ী রূপে নিজেকে দীড় করাইয়াছে। গ্রমথর স্বপক্ষে সকল প্রমাণ থাক! সত্বেও, মন্ধুম্য-মস্তিক-নিহিত আত্মরক্ষার ম্বাভাবিক বুদ্ধিবলেই হউক অথব! অপর যে কারণেই হউক, প্রমথকে ততথানি শুভানুধ্যায়ী বলিয়া অমলার মনে হইল ন! যতখানি প্রভাবতীর মনে হইতেছিল। প্রমথর সহিত চোখা-চোখি হইতেই অমলার মনে হইল ফে প্রমথর সেই তীব্র-তীক্ষ দৃষ্টির মধ্যে যে জিনিসটা সর্বাপেক্ষ! উজ্জল, তাহা ঠিক করুণ। বা উপচিকীর্যার মতোই ন্িগ্ধ নহে। সে তাড়াতাড়ি দৃষ্টি নত করিল।

অমল। যখন অবনত হইয়! জলখাবার দিতেছিল, তখন তাহার আনত-আরক্ত' মুখের উপর প্রমথ প্রভাবতী উভয়েরই দৃষ্টি নিবন্ধ হইয়া ছিল। মাহ্ষের মন এত সহজে সম্পূর্ণ রূপে গ্রচ্ছন্ন থাকে যে, এই ছুইটি পরম্পর-বিরোধী মন এত- কাছাকাছি পাশাপাশি থাকিয়াও কোনও প্রকার গোলযোগের শৃষ্টি করিল না প্রভাবতী নিশ্চিন্ত প্রসন্ন মনে যখন বুঝিয়া রহিলেন যে, প্রমথর পরহুঃখকাতর হয়ে সহামভূতি হিতৈষণার নুধ! ক্ষরিত হইতেছে, ঠিক তখনও্তথায় লালস! শঠতার রাসায়নিক ক্রিয়! পুরাদস্তর চলিতেছিল।

১৬ রচনা-লদগ্

হুরমোহন অফিস হইতে আস! প্স্ত গ্রভাবতী প্রমথকে ছাড়িলেন না, এবং প্রমখও সহজেই সে পধস্ত থাকিয়! গেল।

গ্রমথর মুখে সকল কথ! শুনিয়! ছরমোহন বলিলেন, “আমার তে! একটুও মনে হয় না ষে, সে পাষগুকে তুমি কোণ রকমে রাজি করাতে পারবে! তবে বিজয় যধন তোমার বন্ধু বলছ, তখন চেষ্টা ক'রে দেখতে পারো? কিন্ত তার বিষয়েও আমার কোনও আশ! নেই, সে-ও তার বাপেরই মতো! নির্মষ ৰলে আমার মনে হয় |

কক্ষের বাহিরে ছার-পার্থে যে অমল! ছিল, তাছ। গ্রমধ, চক্ষে দেখিতে ন। পাইলেও, অস্ুমানে বুঝিয়াছিল। ঘরের বাহির হুইতেও যাহাতে কথ শুনিতে পাওয়া যায়, এরূপ উচ্চকঞ্ঠে সে বলিল, “গোবিন্দীবাবুর বিষয়ে আপনি যাই বলুন মেসোমশায়। আমি তাতে আপত্তি করব ন। কিন্ত বিজয় আমার বন্ধু, তাকে তে। আমি চিনি। সে কখনও নিজের ইচ্ছায় ব্যাপার করে নি। সে ষখন স্বাধীন ভাবে চলতে পারবে, তখন নিশ্চয়ই তার ত্রুটি শুধরে নেবে ।”

প্রমথর কথা শুনিয়া হরমোহুন মনে মনে হালিলেন। মুখে বলিলেন। “তা বেশ তো? তুমি চেষ্টা ক'রে দেখো যদি সফল হও তো! একটা নরীহ বালিকার ব্যর্থ জীবন সাক করবে কিন্ত দোহাই বাবা, আমাকে যেন এর মধ্যে টেনে! না। আমি আর জীবনে গোবিন্দ হারামজাদার সঙ্গে বাক্যালাপ করব না, তা ঘাঁদ সে এসে আমার পায়ে ধ'রে ক্ষম! চায়, তবুও নয়।”

একটু হানিয়! প্রমথ বলিল, “না, এর মধো আপনার সাহায্য আমি একেবারেই চাইব না তা ছাড়া, ঠিক অবসর না বুঝলে আমিও বিষয়ে কথ পাড়ব না। দের যদি হয়, তাহলে মনে করবেন ন! ষে, আমি নিশ্ে রয়েছি, ব| চেষ্টা! নিক্ষল হলো]।”

হরমোঁহুন বলিলেন, “না না, সে তৃমি যেমন ভালে। বুঝবে করবে কখনই যে ঘটন। ঘটবে ন! ব'লে আমার বিশ্বাস, সে ঘটন1 কেন শরীর ঘটছে না ব'লে আঙি কখনও অধীর হব ন11”

পুনরায় হাসয়া প্রমথ বলিল, “আপশি যখন আমাকে এমন অবাধ অবসর দিচ্ছেন আর মনে সফলতার একটুও আশা র/খছেন ন', তখন আমার মনে হচ্ছে, আমি নিশ্চয় সফল হব।”

এক পেয়াল! গরম চা শিঃশেদ করিয়া! গ্রমথ বাঁছিরে আসিয়। গুহ-কার্ধরতা প্রভাবতীকে বলিল, “মালিমা, আজ তাহলে চললাম ।” তাহার পর অরে দণ্ডায়মান! অমলাকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, “অমলা, পান থাকে তো ছু চারটে দাও অনেকখানি রাস্তা চলতে হবে ।”

ব্যস্ত হইয়া! প্রতাবতী বলিলেন, “অমল, শীগ গির তোমার প্রমথ দাদাকে পান দাও) যি সাজ! ন! থাকে তে! সেজে দাও ।” প্রমথকে লক্ষ্য করিয়! বলিলেন, “বাত হয়ে গেছে, দুটি খেয়ে যাও না বাধ?

আমল 5৭

ন্মিতদুখে' প্রমথ বলিল, “এ' ত- বাড়ির কথা মাসিমা, '্রকার হ'লে চেয়ে খেয়ে যাঁধ। কিন্তু আজ নয়, আজ আমার একটু ধিশেষ দরকার আছে।» .

“তবে শীগগির আর একদিন এসো |”

“1 আব অখন। পান, সাজা না থাকলে দরকার নেই অমলা, মি চললাম ।” বলিয়া প্রমথ গ্রস্থানেগিত হইল।

“না, না, দেরি হবে না? সেজে দিচ্ছে। পান শিয়ে তবে যেয়ে /* ' বলিয়া! প্রভাতী রন্ধনালয়ের অভিমৃথে প্রস্থান করিলেন।

পাঁশের একট! ঘরে অমলা তাড়াতাড়ি পান সাঁজিতে বলিয়াছিল, প্রমথ আসিয়। নিকটে দাড়াইল।

“পান সাজতে হলো অমল? মশল! দিলেই তো! পারতে ?. তাই দাও না।”

এই অভি-ঘনিষ্ঠতার গধোধনে লঙ্িত হইয়। অমলার মুখ জাল হইয়া উঠিল সে অবনত মন্তকে বলিল, “দেরি হবে না, একটু দীড়ান।”

বিন্বয়াতিশয্যের সুরে প্রমথ বলিয়! উঠিল, “বাড়ান কী রকম কথা অমলা | আপনার লৌককে কখনও আপনি বলতে আছে? দাড়াও 1”

এই আত্মীয় তাঁ্চক তর্গনায় অধিকতর লজ্জিত হইয়! অমর! মাখ। নত করিয়া, রহিল। তৎপরে চার খিলি পান মুড়িয়! উঠিয়! দাড়াইয়। নীরবে প্রমথর দিকে আগাইয়! ধরিল।

অমলার হত্ত হইতে পান লইয়। শ্মিতমূখে প্রমথ বলিঙ্গ “আচ্ছ', আজকে ক্ষমা করলাম কিন্তু ফের যদি কোনও দিন এমন অবিবেচনার কাজ করো তাহলে সকলের সামনে তোমাকে আপনি ব'লে সম্বোধন ক'রে শান্তি দোব। আর. শ্রমন ভুল হবে না! তো ?”

অগত্যা অমলাকে মুহুহাস্য সহকারে বলিতে হইল, “না”

“বশ 1” বলিয়! প্রমথ প্রফুলমুখে গ্রস্থান করিল

ছয় পর দিন প্রা প্রমথ তাহার এক বিশেষ অনুগত বন্ধু গৃহে উপস্থিত হইল বন্ধুর নাম মানিকলাল মুখোপাধ্যায়।, মানিক গৃহেই ছিল, বাহিরে টনি প্রমথকে দেখিয়া, টানা নতি “কী ধ্রমণথ, এত সকালে কীমনেক' রে.?” প্রমথ হাসিয়া বলিল, "তোমাকে মহাজন করতে 7” শিহাজন করতে ? কার ম্যান ছে?

৩),

২০ ১৪৪৪

ইতস্তত: দেখিয়! লইয়! প্রমথ মানিফলালের কর্পে মৃহুগ্ধরে কথ। বলিল 1.

"কী রকম?” বলিয়। বিশ্রয়-বিস্ষারিত নেমে মানিক প্রমথর প্রতি চাহিয়া রহিল। |

“সব ন! শুনলে বুঝতে পারবে না। তোমার সঙ্গে বিশেষ একটু রাশ আছে। কোথায় বসবে বলো ?” |

“এইধানেই বোস না। এখানে এখন কেউ আসবে ন11%

অর্ধঘণ্টার মধ্যে সমস্ত পরামর্শ স্থির হইয়! গেল। প্রমথ বলিল, “কী হে, পারবে তো ?”

প্রমথর কথ শুনিয! মানিক শুধু ঈষৎ হান্ত করিল, প্রশ্নের উত্তরে কিছু বলার প্রয়োজন আছে বলিয়া মনে করিল ন1।

প্রমথ বলিল, “ত। হলে আর দোর ক'রে কাজ নেই, এখনই বেরিয়ে পড় আমি সন্ধ্যার সময়ে আবার আসব নাম আর ঠিকানাট! কাগজে লিখে নাও ।”

প্রমথ চলিয়া যাইবার কিছুক্ষণ পরে গৃহ হইতে নিষ্তাস্ত হুইয়! মানিক বহুবাজার অঞ্চলের এক গৃহে উপস্থিত হইল।

বহির্বাটিতে একটি বালক পাঠাভ্যাস করিতেছিল। মানিক তাহাকে বলিল, “এই কি প্রিয়নাথবাবুর বাড়ী ?

দ্য 19

“তিনি বাড়ি 'মাছেন ?

“আছে রী 1”

“একবার ডেকে দাও, আমি দেখ! করব। নাম জিজ্ঞাস। করলে বোলো মানিকলাল মুখোপাধ্যায় ।”

ক্ষণকাল পরে প্রিয্নাথ বাধু বাহিরে আসিলেন।

মানিক নমস্কার করিয়। কছিল, “মাফ করবেন, আপনাকে একটু কষ্ট দিলাম ।”

মানিকের আপাঁদমণ্ডক নিরীক্ষণ করিয় প্রিয়নাথ বলিলেন, “কী আপনার প্রয়োজন, বলুন।”

মাশিক বলিল, “আমি য| নিবেদন করব, তাতে একটু সময় লাগবে অমন ক'রে দধাড়য়ে দাড়িয়ে হবে না, একটু বন্থুন।”

আগন গ্রহণ করিয়। প্রিয়নাথ কহিলেন, “বলুন। তবে একটা কথা আপনাকে গোড়াতেই ব'লে রাখি, লাইফ-ইনসিওর আমি কিছুতেই করব না, আর বন্তাধায়গ্রস্তের সঙ্ষে আমি কোনও সম্পর্ক রাখিনে। অতএব ওছুটে! প্রসজের মধ্যে যি আপনার কোনটা হয়, ত1 হলে গ্রনঙ্গ না! তোলাই ভালে! ।”

অল্প হাসিয়া! মানিক ধলিল, “লাইফ-ইনসিওর আপনার আমি করা'ব না, সে বিষয়ে অঙ্গীকার করছি) কিন্ত কাদার সঙ্গে আপনি কোনও সম্পর্ক রাখেন না, সে কথাট। ভূল।”

বিরম জুখে ভ্িয়নাথধাবু বলিলেদ, “আপনি কি নিন,

খ্মমলা ' ত১'

মানিক ' প্রিয়নাঁথের কথ! শেষ না হইতেই বলিয়! উঠিল, “আজে 87 কন্তা্গায়থন্ত ; কিন্তু আশ্বস্ত হোল, সে দায় থেকে আপনার দ্বার উদ্ধার হতে আপি নি। আপনাকেই একটা বিপদ থেকে উদ্ধার করতে এসেছি ।”

“কী রকম?” বলিয়া গংস্থুকোর সহিত প্রিয়নাথ মানিকলালের মুখের দিকে চাহিয়া রছিলেন।

“হ্যামবাজারের হরমোহন মুখোপাধ্যায়কে আপনি নিশ্চয়ই ভুলে যান নি ?”

“না”

“তিন চার বৎসর আগে তিনি যখন কন্াপ্গায় গ্রস্ত হয়েছিলেন, তখন বন্ধুত্ব ছাঁড়া তাঁর সঙ্গে আপনার আর একট! সম্পর্ক হয়েছিল, মহাজন আর খাঁতকের, "সে কথাও বোধ হয় আপনার মনে আছে?”

প্থুব আছে। তারপর ?”

“তারপর তিন হাঁজার আসল টাক, য! আপনি তাঁকে ধার দিয়েছিলেন, এখন সথছে আসলে চাঁর হাজারের ওপর দাড়িয়েছে টাকাটা আপনার এখন বিশেষ প্রয়োজন; অথচ হাঁতে-হাতে আদায়ের কোনও সস্ভাঁবনা দেখতে পাচ্ছেন না) কাঁজেই মনে-মনে ভাবছেন) আদালতের আশ্রয় নিতে হবে; কিন্তু আদালতের কথা মনে ভেবে গায়ে জব আসছে প্রথমতঃ, উকিলের বাড়ি দৌড়োদৌড়ি, তারপর আদালতে ছুটোছুটি, তারপর জলের টাকা তোলবাঁর জন্কে হালফেল . ঘরের একরাশ টাঁক। জলে ফেল! তারপর সমন ধরাধার জন্তে পেয়া্ধার কাছে খোশামুদি, তারপর এত কষ্টে যদি .মামলা ডিক্রী হ'ল তো ডিক্রীজারীর ব্যবস্থা, বাড়ি ক্রোক করানো, নিলাম করাঁনো। তারপর আপনার হাগুনোটের টাকা, বাড়িধাশি যদি কোথাও বাধা থাকে, তা হলে”

চিন্তিত মুখে প্রিয়নাথ তাড়াতাড়ি বলিয়৷ উঠিলেন, “থামূন মশায়, থামূন ! আমি এত কথা না ভেবেই চিন্তিত হয়ে, আছি, আমাকে আর বেশি ভয় দেখাবেন নী! এধন উপায় কা বলুন দেখি?” |

গম্ভীর মুখে মানিক বলিতে লাগিল, “বাড়ি যদি বাধ! থাকে তে আপনার টাক খুস্থড়ীর টণ্যাকে গেল। তারপর আপনি যদি নিতান্ত চক্ষুলঙ্জাহীন হন তো! বন্ধুর বিরুদ্ধে দেহ গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা, বন্ধুকে জেলে দেওয়া; তারপর তাকে বসিয়ে ছ' মাস ধরে খাওয়ানো (তর্জনী হেলাইয়! ) আপনার নিজের খরচে 1”

মাদিককে আর অধিক ধলিবার অবসর না দিয়া প্রিয়নাথ টং ক্রুদ্ধভাবে কছিলেন, “তাহ'লে আপনি বলতে চান কী? আমি হাওনোটখানার টিকিট ছিড়ে আপনাকে দিয়ে ফ্োব, আর আপনি গি য়ে সেধান! হরমোহনকে ফেরত দেবেন ?”

মুচকি হাষিয়। জিভ কাটিয়া মানিক বলিল; রাম 1 তা"হলে আপনার আর উপকীর করলাম কী? আপনি কতকটা টিকবিলেছেন, আমি

বর রচনাসমগ্র,

আপনার, হাশনোটখান! নিয়ে যেতে চাই, বটে, কি সুদে ঝাসলে আপনার (সব টাক! শোধ ক'রে ছয়ে তবে | "কী রকম?” প্রিয়নাথের চু বিশ্বে ক্ষার হইয়া ঢ.. দএ

বীর গম্ভীর স্বরে মানিক বলিল, “ঠিক যেরকম বলছি। ' আপনি যদি রাজি থাকেন, আজ বৈকালেই হ্বাগুনোটখাঁন! কিনে নিতে রাজি আছি।”

“কিনে নিতে ?

“আজে হ্যা।”

“গত কথা?”

“সত্যি কথা!”

"পরিহাস করছেন ন! 1”

"পরিহাস করছি নে। পরিহাস করবার মতে! আপনার সঙ্গে কোনও ীর আমার নেই।”

প্রিয়নাথের মুখ দিয়া আর কোনও বাক্য বাহির হইল না, শুধু বিশ্বয় বিযৃঢ়- ছুটি চক্ষু মানিকের মূখে নিক্ষেপ করিয়া নিঃশকে চাহিয়। রহিলেন।

মানিক বলিল, “আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন) এত বিপদের ভয় দেখিয়ে লোকটি সেচ্ছায় সেই বিপদে নিজেকে কেন বিপন্ন করতে চাচ্ছে কেমন, ঠিক নয়?

ইতভ্ততঃ করিয়া ছ্বিধা-জড়িত ক: পরিয়নাথ বলিলেন, "না, ঠিক তা নয়। তবে হ্যা আচ্ছা! ওই কথাটারই জবাব দিন না1” তাহার পর হুঠাঁং পশ্চাৎ দিকে মুখ ফিরাইয়! উচ্চকণ্ঠে বলিলেন, “ওরে খোকা! শীগগির একডিবে পান নিয়ে আয় !”

মনে মনে হাসিয়া, প্রকাশে ঈষৎ চিন্তার ভাব দেখাইয়া, মানিক কহিল, “কাটা আপনাকে বলতে পারি, যদি এই আশ্বাপটুকু পাই মে, কথাটা আর কেউ জানবে না।” /

ব্যস্ত হইয়া প্রিয়নাথ বলিতে গানিদেন: “আজ্ঞে না, কিছুতেই নয়, কোনে! মৃতেই নয়! ভবে যদি. আপনার দ্বিধা হয়, কাঁজ কী, নাই শুনলাম | "নিশ্চয়ই একটা সঙ্গত কারণ আছে; আর যদ নাই থাকে, তাতে আমার কী এসে গেল !” |

মাশিক বলিঙগ, “বিলক্ষণ! আপনি যখন কথা দিচ্ছেন, তখন আবার ছিধা কী! তবে আপনি ঘখন বলছেন। সঙ্গত কারণ আছেই। আর লা থাকলেও আঁপনার কিছু এসে যায় নট তখন না হয় নাই বললাঁম। . কী বলেন?*

ব্যগ্র হই! প্রিষ্নাথ কহিলেন 'রলবেন না, কখনও বলবেন না! নিজের গপ “কর্থা কধনও কাউকে বলতে নেই। কখন কাঁর মুখ দিয়ে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় ধার, হয়ে মাক যায় না তো1।”, তাহার পর কবর সৃহস! গল্জীর ক্রিয়া কছিলেল, “নুন মানিকধারূ, কথাটা যখন তুললেন, তখন দেরি,ন! কর সেরে

অনল. | | | *২১

ফেলাই ভালো।। মাজুষের মনের থা তো বল! যায় না। সাত পাঁচ ভেবে যদি পেছিয়েই পড়ি, মে ভাবনাও আছে তে 1” |

_সবিনয়ে মানিক কহিল, “আজে হ্যা; সে ভাবন1 তো আছেই, তাঁর চেয়ে গতর ভাঁবনাঁও আছে ।” '

চিন্তিত হইয়া প্রিয়নাথ কছিলেন, “কী বলুন দেখি ?”

মাঁনিকলাল তেমনই নিরীহভাঁবে কহিল) “লাত, পাঁচ ভেবে আম্রাই যদি পেছিয়ে পড়ি !”

মানিকলাঁলের কথ! শুনিয়া! যনে মনে বিশেষরূপ চিত্তিত হুইয়া প্রিয়নাথ উক্ত বিধয়ে আর কোনও কথা! না কৃহিয়া চিৎকাঁর করিয়া উঠিলেল, “ওরে খোকা, পান নিয়ে আয় নারে!"

কয়েক দিনের মধ্যে যথাবিধি নোটিশ আদি জারি হইয়। হরমোহনের হাগুনোট মামিকলালের নামে বিক্রম হইয়া! গেল।

সাত -

সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইয়া গিয়াছে, কিন্তু ঘরে ঘরে প্রদীপ জালিবার কোনও উদ্দোগ নাই। ঘনাঁয়মান অন্ধকারে বারান্দায় বসিয়! প্রভাবতী বিমর্ধ মুখে নিজের হুংদৃষ্টের কথা চিন্তা করিতেছিলেন এবং ঘরের ভিতর শষ্যার উপরে বাঁলিশে মুখ গু জিয়া অমলা অসাড় হইয়া পড়িয়াছিল। আজ গৃহে নূতন মহাজন মানিকলাল আসিয়! হাঙ্গামা বাধাইয়াছে, পরদিন হৃদে আপিলে সমস্ত টাকা পরিশোধ নাঁ করিলে নালিশ করিবে |

অমল! আর্ত হইয়া পড়ুয়া ছিল, কেবল মান্জ নালিশ হইবার ভয়ে বা তাঁবনায়

নহে যে তীক্ষ বেদনায় "তাহার চিত্ত নিপীড়িত হইতেছিল, তাহার জন্ত মহাজিনেব পরিবর্তে খাতকই প্রধানভঃ দায়ী ছিল।' টাঁকার জন্য মানিকলাঁলের নিকট দুঃসহ অপমান-বাঁণী শুনিয়া ভিতরে আগিয়া হরমোহন 'অল্প যে দুই একটি কথা৷ বলিয়া- ছিলেন, তাহা শুনিয়া অমলার পুনঃ পুনঃ ইহাই মনে হইতেছিল যে, তাহার: বিড়গ্িত লইয়া সে নিজে যত না কষ্ট পাইয়াছে,