গান্ধবকন্য।

নীহালবঞ্জন ওুণ্ত

নিভ বেঙ্গল প্রেস ্োও) লিও বউ ২৩২৮৯ কেতলাত্জ ন্‌ ক্িিকাতভা-৭০ ০০৭৩০

(41)17/4 13734 164% 4 48139175811 ০৮৪1 67 177211৭021৭ 20248

প্রকাশক £ প্রীপ্রবীরকুমার মনুমদার নিউ বেঙ্গল প্রেস (প্রা) লিঃ

৬৮, কলেজ জূ্রিট, নয 0 ০০০১ উনিই মুদ্রক £ .

এস. সি. মঙ্গুমদ্ধার নিউ বেঙ্গল প্রেম প্রাঃ) লিঃ শুচ্ছদ্পট কেছেন ৬৮, কলেজ স্রীট, গৌতম রায় দেওয়ালী, ১৩৭১

কলিকাত।-৭** ১৭৩

বাবলু, দীপ্পুত সীর্পুং টুকুন আমার স্যষ্ট ছুই কন্যাকে আমারই মেয়েদের হাতে তুলে দিলাম।

পুত্তকের সবন্বত্ব 2 শুটমান্‌ অর্ণব মজুমদার নিউইয়র্ক, ইউ, এস. এ.

'বাম্াতেত কাশ্ণিভ তজ্বখতকি হ্যাক একখানি বইই___

ন্শ্কত্জেল আক

আর্জেন্ট কল বুক পেয়ে ইমারজেন্সী রুমে প্রবেশ করে উজ্জ্বল আলোর নীচে টেবিলের "পর শায়িত দেহটার দিকে নজর পড়তেই ডাঃ নীলাব্রি চৌধুরী যেন থমকে দাড়ায় নিজের অজ্ঞাতেই

কঙ্ধনা শা

কয়েকটা মুহুর্ত এলায়িত বিশৃঙ্খল দেহটার দিকে তাকিয়ে থেকে আরও কয়েক পা এগিয়ে নীলাদ্বি একেবারে টেবিলের সামনে গিয়ে দাড়িয়েছে ততক্ষণে হ্থ্যা ভূল নয়। উজ্জল মালোর নীচে টেবিলের উপর এলিয়ে আছে কঙ্কণার দেহটাই শিথিল-বিবশা পরনের শাড়ি বিশৃঙ্খল চিনতে তার ভুল হয় নি। কঙ্কণাই।

দীর্ঘ তিন বৎসর পরে হলেও নীলাব্রির ক্কণাঁকে চিনতে কষ্ট হয়না কষ্ট হবার কথাও নয় পরিধেয় রডিন ভাতের শাড়িটা কিছুটা! অগোছালো বুকের উপর থেকে জাচলটা খসে পড়েছে এক পাশে ব্লাউজের গোট। ছই বোতাম খোলা-_হয়ত আর্টিফিসিয়াল রেসপিরেশান দেবার চেষ্টা করা হয়েছিল

ছটে। হাত ছড়ানো -চক্ষু ছুটি মুদ্রিত। মাথাটা একপাশে কাত হয়ে আছে বিস্রস্ত দীর্ঘ কুম্তলরাশি টেবিলের "পর ছড়ানো

হাতের মণিবন্ধে হু'গাছি করে চুড়ি।

পাশে একটা কিডনী ট্রের ওপরে স্টমাক টিউবটা দেখা যাচ্ছে

ডিউটিরত এম. ও. ডাঃ সুশীল চক্রবতী পাশের আর একট টেবিলে একটি জখমী কেসকে আযাটেগু করছিল আর. এস. নীলাব্রিকে দেখে তাড়াতাড়ি এগিয়ে এলো, এই যে স্তার, আপনি এসে গেছেন মনে হচ্ছে কেসটা ওপিয়াম পয়েজনিং

ওপিয়াম পয়েজনিং ! কথাটা মৃহুকণ্ঠে বলে তাকাল নীলাদ্রি স্থশীল চক্রব হীর দিকে

গন্ধব-কন্য1--+১

হ্যা স্যার-_-পিউপিল পিন পয়েন্ট হয়েছিল-_-পাঁলস ফিবল।

লাভাজ দিয়েছে। ?

হ্যা--কিস্তু কোন রেসপনস্‌ নেই

নীলান্রিই তখন চিকিৎসা শুরু করে-__নতুন উদ্যমে আবার

ভোর রাতের দিকে ধীরে ধীরে রোগিনীর অবস্থা সামান্য আশ! আনে মনে

ছুটো৷ দিন তার, পর যুদ্ধ করেছে নীলান্ত্ি। তৃতীয় দিন সকালে কম্কণা অনেকটা স্বাভাবিক ভাবে চোখ মেলে তাকাল

অবস্থা একটু ভালর দিকে যেতেই নীলাব্রি কঙ্কণাকে একট কেবিনে রিমুভ করেছিল-_ঘণ্টায় ঘণ্টায় তার খবর নিয়েছে__স্পেশাল নাস নিযুক্ত করেছে নিজেই

তৃতীয় দিন সকাল বেলা নাস স্থুলতা ঘখন পেসেন্টকে ব্লাক কফি পান করাচ্ছে নীলান্দ্রি কেবিনের পর্দা তুলে ভিতরে এসে প্রবেশ করল

কন্কণা পদশব্দে নীলাদ্রির মুখের দিকে তাকায়

বালিশে হেলান দিয়ে বেডের উপর বসে কফি পান করছিল কঙ্কণ৷ | মাথার চুল রুক্ষ- মনটা যেন একেবারে ভেডে গিয়েছে, ক্লাস্ত _ বিষ্প

গুভ মনিং স্যার-স্থুলতা বললে

পেসেন্ট কেমন ?

ভাল স্তার--পালস স্টেডি দেখুন না

কন্কণা নিঃশব্দে তাকিয়ে ছিল নীলান্ড্রির মুখের দিকেই

মুহছকঠে বললে কম্কণা, নীলাব্্রিদা__

হ্যা--

তুমি কি করে খবর পেলে £

আমাদের এম-ও অন ডিউটির ফোন পেয়ে ইমারজেন্দিতে গিয়ে দেখি তুমি

তোমার হাসপাতালে ?

হ্যা।

সেখানে কে নিয়ে এলো আমায়?

তোমার পাশের ফ্ল্যাটের ভদ্রলোক, আর তার স্ত্রী

কে সবিতা ?

তা জানি না--ভদ্রলোকের নাম শুনলাম দীননাথ সেন

এঁ ত, সবিতার স্বামী কিন্তু আমি ত" ঘরের দরজায় খিল তুলে দিয়েছিলাম

দীননাথবাবুই থানায় ফোন করেন__ছপুর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্ষস্ত তোমার ঘরের দরজা না খুলতে দেখে এবং দরজায় ধাকা। দিয়ে ভোমাকে ডেকে কোন সাড়া না পেয়ে _

তারপর £

তারপর আর কি পুলিস এসে দরজা ভেডে ঘরে ঢুকে দেখে তুমি বিছানার উপর অচৈতন্ত হয়ে পড়ে আছো--তোমাবর শিয়রের ধারে একটা চিঠি আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় -_কক্কণা সোম

ইতিমধ্যে নীলাদ্রির ইঙ্গিত পেয়ে নাস ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিল কঙ্কণা চুপচাপ বসেছিল

নীলান্ত্রি মৃহকণ্ে বললে কি ভাবছো ?

কিছু না আচ্ছা নীলাদ্রিদা_

কি?

ভাবছে বোধ হয় আমি বিষ খেয়েছিলাম কেন ?

তা নয়।

তবে ?

ভাবছি--তুমি বিষ খেয়েছিলে -সত্যি কঙ্কণা,ঃ কখনো ভাবতে পারি নি তোমার মত মেয়ে বিষ খেতে পারে

কেন। ভাবতে পার নি কেন? তুমি কি ভেবেছিলে নীলাব্রিদা, সংসারে আর দশটি মেয়ে থেকে আমি পৃথক ?

তাই তো জানতাম তবে এও মনে হয়েছে তোমার মত মেয়ে যখন বিষ খায়--

কি বল, থামলে কেন ?

সত্যি বল কঙ্কণা-_বিষ খেয়েছিলে কেন ?

জীবনের সব চাইতে বড় বিশ্বাসের জায়গাটা যখন অতকফিতে খট'ড়িয়ে যায় আফিম খাওয়া দূরের কথা, মানব আগুনেও ঝাঁপ দিতে পারে!

অথচ---

কি?

ইন্দ্রজিতকে তুমিই জীবনে বেছে নিয়েছিলে £

তা নিয়েছিলাম হয়ত-_-

তবে?

বুঝতে পারি নি সেদিন কত বড় ভুল করেছিলাম

তিন বছরেও ভুলটা তোমার চোখে পড়লো না?

যাকগে ওসব কথা-_আজ আর সব কথা ভেবে লাভ কি বল? এখন বল কখন আমাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়বে ?

ইন্দ্রজিৎ না আস! পররস্ত তোমাকে ছাড়তে পারি না।

তুমি কি মনে কর নীলান্দ্রিদা আবার আমি ইন্দ্রজিতের ফ্ল্যাটে ফিরে যাবো ? না, তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ করে দেবো বলেই বিষ খেয়েছিলাম

কিন্তু সেই তোমার ঘর। সে তোমার স্বামী তুমি তাক বিবাহিতা স্ত্রী তোমাদের পরস্পরের মধ্যে এক পবিত্র সম্পর্ক

পবিত্র সম্পর্কও একদিন ছিন্ন হয়ে যায় নীলান্দ্রিদা_না ? আজ সে আর আমার কেউ নয়_-আমিও আর তার কেউ নই

তোমাদের বিবাহ-_মাঝখানে এই তিনটে বছর

বুঝলাম, কিন্তু তার জোরে কি তোমরা মামাকে আটকে রাখতে পার? তোমাদের আইন কি তাই বলে ?

আইন কি বলে জানি না__তবে-_

তবে-থাক এখন বল তো এভাবে আমাকে আটকে রেখেছো' বেন?

বুঝতে পারছে! না কেন? তুমি আত্মহত্যা করবার চেষ্টা করেছিলে --আইনের চোখে সেটা দণ্ডনীয়-__পুলিস তোমাকে ছাড়বে না।

তারা আযরেস্ট করবে ?

তা জানি না।

আমার নিজের প্রাণটা। নেওয়ার কি আমার কোন অধিকার নেই-_ আশ্চর্য তোমাদের আইন ত, নীলাব্রিদা-_

নীলাদ্রি মহ হেসে শাস্ত গলায় বললে, প্রাণ নেবার অধিকার কারোই নেই--তা সে পরের হোক বা নিজেরই হোক

সত্যি হাসালে তুমি নীলাদ্রিদা

থানার ওসি রমণী চাটুজ্যের সঙ্গে ঘটনাচক্রে নীলান্দ্রি ডাক্তারের বেশ একটু ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু কঙ্কণাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়লো না

কিন্তু দিন চারেক পরে কঙ্কণাই আবার তাগিদ দিল, আমাকে কবে ছাড়বে বল না।

কেন এখানে তোমার কি অস্থবিধ। হচ্ছে ?

হাসপাতালে থাকলে নিজেকে অস্ুুস্থ মনে হয় আমি অস্মুস্থ নই |

ইন্দ্রজিৎ এলেই-_

আবার ইন্দ্রজিৎ বলেছি তোমাকে, তার সঙ্গে আমার সমস্ত সম্পকৃ শেষ হয়ে গিয়েছে

তবু- তার সঙ্গে আমার একবার দেখা হওয়া প্রয়োজন

সেযদি আর ফ্ল্যাটে ফিরে না আসে তার দেখা আর না হিিভিরত

সত্যিই সে আসবে না নাকি ?

ইচ্ছা তেমন থাকলে সে ইতিমধ্যে ফ্ল্যাটে নিশ্চয়ই ফিরে আসত মালদায় যাবার দিন সে বে গিয়েছিল একদিনের জন্য সে মালদায় যাচ্ছে ।. কিন্তু আমি জানতাম, একদিনের জন্য নয়, সে চিরদিনের জন্যই চলে বাচ্ছে--আর সে ফ্ল্যাটে ফিরে আসবে না

কি করে বুঝলে ?

বললাম জানি।

ফ্ল্যাট বাড়ির উপর পুলিস নজর রেখেছে একদিন তাকে ফিরে আসতেই হবে-_

তাকে তাহলে ধরবেই বলে ঠিক করেছ তোমরা ?

আমার তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করবার আছে

কম্কণ। হাসলো

হাসছে যে ?

বড্ড দেরি করে ফেলেছে নীলাব্দ্রিদা

দেরি করে ফেলেছি-_-

নয়? গত তিন বৎসরে এই কলকাতা শহরে থেকেও তুমি কি একদিন সময় করে ইন্দ্রজিতের সি-আই-টি রোডের ফ্ল্যাটে যেতে পারতে না ?

পারলে কি যেতাম না।

যাবে না বলেই যেতে না আর তাই যাও-ও নি। কিন্তু যাক, কি হলে কি হতো আরকি নাহলে কি হতোনা সে তর্ক থাক। আমাকে তুমি ছেড়ে দাও

কোথায় যাবে, তোমার মা বাবার কাছে কি?

সে ঘরের দরজা তো অনেক দিন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে আমার কাছে।

তবে কোথায় যাবে ?

যাবার জায়গার কি অভাব £ এত বড় পৃথিবী !

একটা কথা বলবে কঙ্কণা

বল

একট গোলমাল বা ভূল বোঝাবুঝি যদি হয়েই থাঁকে সেটার কি একটা নিস্পত্তি কর। যায় না?

মানে বলতে চাও একটা জোড়াতালি দেওয়া যায় কি না--তাঁই না? না, জোড়াতালি দিয়ে অনেক কিছুই হয়ত চলতে পারে, কিন্ত স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে সেটা বোধ হয় সম্ভব নয়

তোমার মত মেয়ের মুখে কথাটা শুনবো আমি আশা করি নি।

এমনও তো হত্বে"'পারে আমি বলেই এতদিন টেনে এসেছি সম্পর্কটা |

আচ্ছা আমি কি কিছু সাহায্য করতে পারি না ?

স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক এমন একটা সম্পর্ক যেখানে বাইরের কারে হাত পৌছায় না

নীলাদ্রি বুঝতে পারে, কঙ্কণা আর ইন্দ্রজিতের মধ্যে তাদের পুরাতন এতদিনের সম্পর্কটা আর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবু সে হাল ছাড়ে না।

বললে, তবু একটিবার চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কি ?

না

কেন ?

কারণ আমি সেটা চাই না। কেন তুমি বুঝতে চাইছো! না, সে রকম সম্ভাবনা থাকলে আমি ভাবে আত্মঘাতী হতে চাইতাম না প্লিজ, আমাকে তুমি যেতে দাও

কম্কণা, আমার একটা কথা শুনবে

কি?

ভাক্তারী পড়তে পড়তে হঠাৎ ফাইন্যাল ইয়ারে সব তুমি ছেড়ে দিয়ে ইন্দ্রজিতকে বিয়ে করে সংসার পাতলে-_-মাবার তুমি ডাক্তারী পড়--পড়াটা শেষ করো

না, যে পথ একবার ছেড়ে এসেছি, আর সে পথে পা! দেবো না।

তাতে কি, শেষ পরীক্ষা তুমি দাও আমি তোমাকে সাহায্য করবো

না

ইক্্রজিতের কাছে ষদি তুমি ফিরে নাই যাও, কি করবে ?

তুমিই বল না

আমি তে। ভেবেই পাচ্ছি না, কি করতে পার তুমি |

একটা না একট! কিছু করবই আর করতে বখন হবেই

সময় একজন সিস্টার এসে সংবাদ দিল-_-উনিশ নম্বর বেডের পেসেন্টের অবস্থ! খারাপ, একবার সেখানে যেতে হবে

চলুন সিস্টার

নীলাব্দ্রি উঠে দ্রাড়ালে! এবং কেবিন থেকে বের হয়ে গেল

কঙ্কণা চুপচাপ বসে থাকে বাইরে অন্ধকার রাত্রি

অন্ধকার হাসপাতালের সামনে ফুলের বাগানট। ঝাপসা দেখাচ্ছে

)॥

উনিশ নম্বর বেডের পেসেন্টটাকে বাঁচানে। গেল না বেশ ভালর দিকেই যাচ্ছিল হঠাৎ ইণ্টারন্যাল হিমারেজে কয়েক ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে গেল

বয়স এমন বেশী নয়। ২৮/২৯য়ের মধ্যেই হবে। গ্যাসটি.ক আলসার পারফোরেশন অপারেশনও সাকসেস্ফুল হয়েছিল। কি হলো চার দিনের দিন আবার হিমারেজ হলে। সব শেষ হয়ে গেল

ভদ্রমহিলার স্বামীর সুখের দিকে যেন আর তাকাতে পারছিল ন৷! নীলাদ্রি। সংবাদটা পেতে ভদ্রলোকের দেরি হয় নি। ওয়াঙের বাইরেই বেঞ্চের উপর বসেছিলেন ভদ্রলোক নীলান্র্রি বের হয়ে আসতেই ভদ্রলোক উঠে দাড়াল

ডাক্তারবাবু , নেই তাই না?

কি জবাব দেবে নীলাদ্রি, চেয়ে থাকে কেবল ভদ্রলোকের মুখের দিকে

আপনারা তো বলেছিলেন অপারেশন সাকসেস্ফুল হয়েছে

নীলাদ্রিকি আর বলবে ধীরে ধীরে ভদ্রলোকের সামনে থেকে চলে এলো করিডোরটা অতিক্রম করে দোতলা থেকে সিড়ি দিয়ে €কসমে এগুতে লাগল

বড় ক্লান্ত লাগছিল নিজেকে

একতলার বারান্দা দিয়ে আসতে আসতে নজরে পড়লে বাঁদিকে কম্কণার কেবিনটা-_ভিতরে আলো জ্বলছে

পথে এসে নামল :

একটু এগিয়েই মেইন গেটের কাছে ইমারজেন্দসীর দোতলায় তার কোয়ার্টার সিঁড়ি বেয়ে দোতলায়,উঠে দরজার গায়ে বেলটা টিপল।

স্থরেন এসে দরজা খুলে দিল

বাইরে বেশ কনকনে ঠাণগ্া--জানুয়ারীর প্রথম দিক

স্রেন-_

আত্ঞে ?

গরম জল আছে ?

আছে।

বাথরুমে দে। সান করবো

স্থরেন কিচেনের দিকে গেল, নীলাত্রি তার শোবার ঘরে ঢুকলো

কোয়ার্টারট। ছোট্র--বড় নয় একট মাঝারী সাইজের হলঘর তার পাশে লাগোয়া শোবার ঘর ছোট একট কিচেন আর স্টোরক্ুম

এক। ব্যাচিলার মানুষ বেশ আরামেই ছিল নীলাদ্রি। নিজের মনের মত করেই কোয়ার্টারটা সে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়েছিল

নীলাদ্রি ইজিচেয়ারটার উপর গ! ঢেলে দেয় স্ুরেন এসে ঘরে ঢুকল, চা খাবেন তো

হ্যা, চায়ের জল দিয়েছিস কি রান্না করেছিস ?

ই্যা, দিয়েছি বাজার থেকে মাটন এনেছিলাম, স্ট, করে রেখেছি ভাতটা চাপিয়ে দিচ্ছি

ভাতের দরকার -নেই, নীলান্রি বললে, পাউরুটি দিয়ে স্ট, খাবো, পাউরুটি আছে?

আছে।

স্থবেন চলে গেল রান্নাঘরে

সুরেন লোকট1 অনেক দিনের প্রায় ওদের বাড়িতে সাত বছর আছে আর. এস. হবার পর কোয়াটার পেয়ে হাসপাতালে বাড়ি থেকে স্ুরেনকে বাবা ভ্ানশংকরবাবু পাঠিয়ে দিয়েছিলেন যদিও জানতেন সুবেন চলে গেলে তার কষ্ট হবে

ছেলেকে আগে জানালে সে সম্মত হবে না। জানতেন, তাই ছেলেকে না জানিয়েই স্ুরেনকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কলকাতায় নীলাদ্রির কাছে।

একদিন সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে ফিরে হথারেনকে দেখে তে! অবাক

স্থরেন তুই-__

আজ্ঞে, চলে এলাম

চলে এলি মানে বাবা সেখানে একা ? বাবাকে কে দেখাশুন। করবে £

এক রকম করে চলে যাবে বললেন তিনি

চলে যাবে মানে কি?

আজ্ঞে বললেন চলে আসতে

গর্দভঃ তাই তুমি চলে এলে

বললেন আপনার কষ্ট হচ্ছে

আর বাবার বুঝি কষ্ট হবে না তুই কালই সকালে ফিরে যাবি

কিন্ত সুরেন আর ফিরে যায় মি। বাবাকে একটা চিঠি লিখেছিল নীলান্দি। স্ুরেনকে পাঠিয়ে দিলেন কেন? আমার তো কষ হচ্ছিল না

বাবা চিঠির জবাব দিয়েছিলেন কয়েক দিন পরে চিঠিতে অন্ত কথা ছিল

জ্ঞানশংকর লিখেছিলেন, আর কবে তুমি বিবাহ করিবে 2? এবারে একটি তোমার পছন্দমত মেয়ে দেখিয়া বিবাহ কর

আজ কয়দিন থেকে নীলাদ্রির সেই কথাটাই যেন ঘুরেফিরে মনে পড়ছে।

ইক্জিৎ যেদিন হঠাৎ তার কোয়ার্টারে এসে বললে, একটা কথ। বলতে এলাম নীলু

কি কথা?

নীলান্ি তখন পাশ করে হাসপাতাল হাউপ-স্টাফ হয়ছে, সিনীয়ার হাউস-স্টাফ হাউস সার্জেনদের কোয়ার্টারে থাকে

হুপুর থেকে ডিউটি করে সবে ফিরেই কোয়ার্টারে খাটের উপর গা ঢেলে দিযে বিশ্রাম করছে ইন্দ্রজিৎকে ঘরে ঢুকতে দেখে উঠে বসে

নি

ইন্দ কি খবর? সময়।

একটা কথা তোকে বলতে এলাম নীলু

কি কথা? চাখাবি তো?

হবেখন, শোন-_-তোর সাহায্য আমি চাই

কিসের সাহায্য ?

বিয়ে করবো সেই বিয়ের ব্যাপারে তোর সাহায্য চাই

কি করতে হবে ?

একটা কথা তোকে বলতে এলাম নীলু

মেয়ে দেখেছিস

মেয়ে আমার দেখা আছে।

তবে আর কি- করে ফেল খিয়ে।

ব্যাপারট। অত সহজ নয়

কেন, সহজ নয় কেন ?

সে এখন পড়াশুনা করছে।

তা বেশ ত, বিয়ের পরও পড়াশুনা চলতে পারে

ইন্দ্রজিৎ বললে, সেটাই সে বুঝছে না তোকে বোঝাতে হবে

আমাকে

হ্যা, তোকে

কিন্তু সে আমার কথা শুনবে কেন?

কারো কথা যদি সে শোনে তো একমাত্র তোর কথাই শুনবে

আমার কথা শুনবে, মানে_

তুই বল কঙ্কণাকে, কারণ আমি জানি কন্কণা তোকে অসম্ভব রিগার্ড করে।

একট বোমার মতই যেন শকটট। নীলাদ্রির কানের পর্দার উপড়ে আছড়ে পড়েছিল সেদিন কয়েকটা মুহুর্ত একেবারে যেন বোবা হয়ে ছিল নীলা্রি।

কঙ্কণার সঙ্গে নীলাব্রিই একদিন ইন্্রজিতের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। কষ্কণার তখন ফোর্থ ইয়ার-_-আর নীলাদ্রি পাশ করে বেরিয়েছে

নীলাব্রির কলেজের বন্ধু সতীনাথের বোন কন্কণা। সেই সূত্রেই আলাপ করিয়ে দিয়েছিল একদিন সতীনাথ কক্কণার সঙ্গে নীলাব্দ্ির |

নীলাত্রি ফোর্থ ইয়ারের ছাত্র তখন--আর কঙ্কণা সবে তখন মেডিকেল কলেজে ঢুকেছে

নীলু-_-এই আমার বোন কস্কা_-তোদের কলেজে ঢুকেছে, ডাক্তারী পড়ছে--কফার্ট ইয়ার-__

তাই নাকি বাঃ

কম্কা--এ আমার বন্ধু__নীলাদ্রি__

কঙ্কণ। বলেছিল, আমি চিনি ওকে--

তাই নাকি রে-_

উনি আমাদের কলেজের একজন নামকরা ছাত্র-_ত্রিলিয়াণ্ট ক্যারিয়ার-

সতানথ তারপর বলেছিল জানিস, আযনাটমির ক্লাস এসিসটেন্ট ছিল-_তুই ইচ্ছা করলেই ওর কাছে আযনাটমিটা বুঝে নিতে পারিস

ওর -কি সময় হবে--কঙ্কণা বলেছিল

নীলা্রি তাড়াতাড়ি বলে উঠেছিল, হবে-সন্ধ্যার পর যেদিন খুশি আসবেন__

ওকে আবার আপনি কেন নীলু সতীনাথ বলেছিল, বয়সে তোক চেয়ে অনেক ছোট-_ভুমি বলবি

নীলাদ্রির কাছে আসা শুরু কঙ্কণার তার মেসে, সে তখন মেসে থেকে পড়াশুনা করে

সমস্ত মন ঢেলে দিয়ে সেদিন নীলাদ্রি কঙ্কণাকে সাহায্য করেছিল আর তারই ফাকে কখন যেন একটু একটু করে কন্কণাকে ঘিরে একটা মধুর স্বপ্র মনের মধ্যে গড়ে তুলেছিল নীলাত্ডি।

শুধু অপেক্ষা করেছিল _কক্কণা পাশ করে বের হলে সে তার মনের কথাট। কঙ্কনাকে জানাবে

১৩

কন্ত ইতিমধ্যে ষে অন্তদিক থেকে আর একটা স্রোত এসেছে বা

অআখসতে পারে- সে যেন কল্পনাও করতে পারে নি

ইতিমধ্যে তাহলে ইক্দ্রজিৎ আর কক্কণার মধ্যে মন নেওয়া-দেওয়ার পালা সাঙ্গ হয়ে গিয়েছে কখন হলো- আশ্চর্য !

ইতর _

কি?

কন্কণার কি একটি মাত্রই আপত্তি_যে পড়া শেষ না করে সে বিয়ে করবে না

হা1--স্পঈই বলেছে, বিয়ে হবে_তার পাস করে ডাক্তার হয়ে বেরুবার পর --কিস্তু আমার একদিনও আর অপেক্ষা করা সম্ভব নয়

কেন--সম্ভব নয় কেন ?

সম্ভব নয় কারণ ওকে ছাড়া আর একটা দিনও আমার চলছে না। তুই একটু, ওকে বুঝিয়ে বল নীলু-_তুই বললে নিশ্চয়ই শুনবে তোর কথ ফেলবে না

বেশ বলবো”

বলবি ত।

বলবো

নীলান্দ্রিই সেদিন কঙ্কণাকে কথাটা বলেছিল দিন হই পরে কক্কণা যখন ইনব্দ্রজিতকেই জীবনসাথী করবে বলে স্থির করেছে--তখন সামান্য কথাটা বলতে কঙ্কণাকে তার দিক থেকে আর কি আপত্তি থাকতে পারে।

আরও ভেবেছিল সে সেদিন

ইজ্দরজিতকে জীবনে বরণ করে নেওয়ার মধ্যে কোন অযৌক্তিকতা তছিল না। ডাক্তার নয় সে বটে-কিস্তু রীতিমত ব্র্রিলিয়ান্ট ছাত্র বরাবর বুত্তি পেয়েছে শেষটায় কমপিটিটিভ পরীক্ষা দিযে ভাল চাকরিও একট জুটিয়েছে। তাছাড়াও ইন্দ্রজিতের একটা আকর্ষণ ছিল যে কোন মেয়ের কাছেই

লম্বাচওড়া চেহাঁরা_ভাল স্পো্টসম্যান__ইউনিভারসিটি ব্লুর অধিকারী বাপও ধনী ব্যবসাফী একজন

১৪

কঙ্কণা কিস্তু আপত্তি তুলেছিল

বলেছিল, তুমি কথা বলছে নীলাব্দ্রিদা

পড়াশুনা তে! তোমার বন্ধ হচ্ছে না--তবে আপত্তিটা কোথায় তাছাড়া বিবাহে তোমার মত আছে-_-কি নেই--

আছে --

তবে!

একটা বছর অপেক্ষা করলে ক্ষতি কি?

যখন অপেক্ষা করতে চাইছে না, কি বল--আমি তাহলে বলি ওকে তুমি রাজী আছো

বেশ _আপনি যখন বলছেন

ইক্্রজিৎ আমার অনেক দিনের বন্ধু বলে নয়-_-আমি সত্যিই বলছি তুমি স্থখীই হবে_-

তার এক মাস পরেই বিয়ে হয়ে গেল

নীলাব্দ্রিও গিয়েছিল সেই বিয়েতে হেসেছিল গান গেয়েছিল

ছু"দিন পরবে ওরা চলে গেল শিলং হনিষুন করতে

বিয়ের রাত্রে সেই যে চলে এসেছিল নীলান্দরি ওদের সি আই টি-র ফ্ল্যাট থেকে আর তিন বছর মুখে সে যায়নি

বাস্ত। দিয়েই নীলান্ড্রি হাটে নি

ওদের কোন খবরও জানত না। জানবার কোন চেষ্টাও করে নি

স্ূরেন এসে তাগিদ দিল,-_ন্সানের জল কখন দিয়ে রেখেছি ঠাণ্ডা হয়ে গেল যে--_

জল দিয়েছিস চমকে ওঠে নীলান্ড্রি

সে কখন---

নীলাব্রি উঠে পড়ল

পরের দিন নানা কাজে নীলান্রি অত্যন্ত ব্যস্ত ছিল, কঙ্কণার কেবিনে একটিবারও যেতে পারে নি। অত্যন্ত ক্লাস্ত হয়ে ফিরেছিল কোয়ার্টারে ন্গান করে সামান্ত কিছু খেয়ে দ্বুমিয়ে পড়েছিল

১৫

ভাল করে তখনও ভোর হয় নি। হাসপাতালের একজন স্থইপারের ডাকে ঘুম ভাঙ্গল নীলাব্টির কোন মতে জিপিং গাউনট। গায়ে চাপিয়ে বের হয়ে এলো দরজা খুলে

কি হয়েছে__

সার --এক নম্বর কেবিনের দিদিমণি---

কি-_কি হয়েছে দিদিমনির, নীলাব্রির কস্বরে উৎকা ঝরে পড়ে

দিদিমণি নেই

নেই কি রে-_- সকাল বেল সিস্টার দিদিমণি কেবিনে গিয়ে দেখেন দিদি মণি

নেই -_-সারা হাসপাতাল খোজ হয়েছে নেই-_-তাই সিস্টার দিদিমনি পাঠিয়ে দিলেন কথাটা আপনাকে বলতে।

নীলাদ্রি বলিল, ঠিক মাছে তুই যা_-আমি আসছি-_

হাসপাতালের সুইপার হুখন চলে গেল

নীলাদ্রি বাথরুমে ঢুকে হাত সুখ ধুয়ে প্যান্টের ওপত্র শার্টটা পরে নিল স্ুরেন ইতিমধ্যে চা করে নিয়ে আসে।

নীলাত্রি জুতো পায়ে দিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায় |

চা এনেছি স্থুরেন বললে

নীলাদ্রি কোন জবাব দিল না, চা না পান করেই বের হয়ে গেল

সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে নেমে হাসশাতালের তখনও দ্বুম ভাঙ্গে নি- ভোরের আলো সবে ফুটতে

শুরু করেছে।

সোজা গিয়ে নীলান্ত্রি একতলার এক নম্বর কেবিনটার সামনে গিয়ে দাড়াল_-ভিতরে তখনও আলো জ্বলছে সিস্টার নিয়তি দাশ কেবিন থেকে বের হয়ে আসছিল-__সুখোষুখি হয়ে গেল নীলাদ্রির সঙ্গে

কি ব্যাপার সিস্টার __

আপনার পেসেণে চলে গেছেন ঘন্টাখানেক আগে রাউগ্ড দিতে এসে দেখি কেবিনের দরজা ভেজান- দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে দেখি _- কেবিন খালি-_-পেসেন্ট নেই। প্রথমে ভাবছিলুম হয়ত বাথরুমে

১৬

গেছেন-_কিস্তু আধ ঘণ্টার মধ্যেও যখন ফিরলেন না_-কেমন সন্দেহ হলো সঙ্গে সঙ্গে উপরের দোতলার--_তিনতলার সব ওয়ার্ডগুলো। ঘুরে না পেয়ে তাকে, আপনাকে খবর পাঠাই সুইপার ছুখনকে দিয়ে

কিন্তু চলে গেছেন বলছেন--কি করে বুঝলেন

একটা চিঠি বালিশের তলায় পেয়েছি

চিঠি-__

হ্য।--এই যে-হাতের মধ্যে ধরা খামে মুখ আটা বেশ মোটা চিঠি নিয়তি দাশ এগিয়ে দিল

হাত বাড়িয়ে নীলান্দ্রি চিঠিটা নিল

আমার মনে হয় চলেই গেছেন-_দেখুন না চিঠিটা! পড়ে

নীলান্রি খামটা ছি'ড়ে ফেঙ্গল-- প্রথম লাইনটা চিঠির পড়েই নীলান্ররি বুঝতে পারে নিয়তি দাশের অনুমান মিথ্যে নয় কঙ্কণা চলেই গিয়েছে

১৭ গন্ধব-কন্যা-

ভ্রীচরণেষু,

আমি চলে যাচ্ছি ক্ষমা করতে পারবে কিনা জানি না_এই চিঠির মধ্যে ক্ষম1 প্রার্থনা রেখে গেলাম হয়ত ভাবছো, মেয়েটা কি অকৃতজ্ঞ ? না-__আমি কিন্তু সত্যিই অকৃতজ্ঞ নই যত দৃরেই যাই না-যত দূরেই থাকি না কেন- তুমি যে আমার নতুন করে প্রাণ দিয়েছিলে, জেনো কোন দিনই তা ভুলবে না কন্কণা। মরবো বলেই আফিম কিনে খেয়েছিলাম-_কিস্ত ভুমি মরতে দিলে না

কেন দিলে না, যে পথ বেছে নিয়েছিলাম সেই পথে যেতে দিলেই পারতে প্রাণ ফিরে পেয়ে এঁ কথাটাই কেবল কট দিন ভেবেছি, আর তোমাকে দাড় করিয়ে প্রশ্নটাই কেবল করেছি

তুমি জিজ্ভাসা করেছো, কেন মরতে গিয়েছিলাম _কিস্তু তোমার প্রন্মের জবাব দিই নি বিশ্বাস করো--আমি যে হেরে গিয়েছি কথাটা। কিছুতেই তোমাকে যেন বলতে পারি নি। যাই হোক আজ সব কথাই খোলাখুলি লিখে যাবো ললেই সিস্টারের কাছ থেকে কাগজ কলম চেয়ে নিয়েছি

কথাটা আমার আজ বিশ্বাস করবে কিনা জানি না__তবু বলে যাবো- হয়ত সেদিনের কথ। তোমার মনে নেই--আর মনে না থাকাই সম্ভব-_স্বাভাবিক দাদা যেদিন তোমার সঙ্গে আমার আলাপ করিয়ে দিয়েছিল তার আগে তোমার নাম শুনেছি কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের সুখে কতবার আর শুনে শুনেই ভোমাকে আমার মনের আসনে বসিয়ে ছিলাম দূর থেকে তোমায় দেখেছি হাসপাতালে কতবার আমার সমস্ত মন তোমার পায়ে লুটিয়ে পড়তে চেয়েছে__কিস্ত সে কথা জানাবার

আর অবকাশ হলো না দাদা তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিল---যেতাম তারপন

৯৮

তোমার কাছে আযানাটমি পড়তে তুমি পড়াতে আর তোমার কণস্বর হু'কান ভরে আমার সেতারের স্থর ঝংকার তুলতো জান__সমস্ত মন তোমার পায়ের তলায় আমার বারবার লুটিয়ে পড়তে চাইত তুমি মধ্যে মধ্যে তাকাতে আমার দিকে আর আমি যেন তোমার ছুটি চক্ষুর দর্পণে আমারই প্রতিবিম্ব দেখতাম আশ্চর্ধ-_তুমি তার কিছুই সন্ধান পেলে না। আমার মনের কোন সংবাদই তোমার মনে পৌছাল না

তবু ভেবেছি--একদিন তুমি আমার মনের সন্ধান পাবে একদিন সামার হাত ছুটি তোমার ছ'হাতের মধ্যে তুলে নিয়ে ডাকবে, কঙ্কা__

কিন্তু তা হলো না

তাতেও আমার ছুঃখ ছিল না। ভেবেছিলাম-_নাই বা পেলাম তোমাকে-_ ডাক্তারী পাস করে তোমার এসিসটেন্ট হয়ে তোমার পাশে পাশে ছায়ার মতো থাকবো বড় বড় অপারেশনের সময় তোমার পাশে ধ্রাড়িয়ে তোমার অন্ত্রগুলো একটার পর একটা এগিয়ে দেবো অপারেশনের পর যখন তুমি ক্লাস্ত, এক কাপ কফি করে এনে দেবে তোমায়

কিন্ত সব স্বপ্ন তুমি আমার ভেঙ্গে দিলে যেদিন এসে আমাকে বললে ইন্দ্রজিৎকে বিয়ে করার জন্য

প্রথমটায় বিস্ময় বেদনায় আমি মুক হয়ে গিয়েছিলাম--পরে বুঝেছিলাম তোমার মনের মধ্যে আমার কোন দাগ নেই

আমার চোখের দিকে তাকিয়েও কি তুমি কোনদিন আমার মনের সন্ধান পাও নি। তোমার মুখে তোমার বন্ধু ইন্দ্রজিতৎকে বিবাহ করবার অনুরোধ শুনে সেই কথাটাই আমার মনে হয়েছিল

তুমি সেদিন জানতেও পারে৷ নি-যে আঘাত আমার কাছে ছিল স্বপ্পেরও অতীত তুমি আমায় সেই আঘাতই দিয়েছিলে

আমি সেদিন কি জবাব দিয়েছিলাম তোমাকে নিশ্চয়ই তোমার মনে আছে বলেছিলাম মনে পড়ে, বেশ--তাই যদি তোমার ইচ্ছা জেনো তাই আমি মেনে নেবো

-3৩7 ৯১ টৈ

তবু তুমি বুঝতে পারলে না

বুঝবে কি করে- ভালবাসার অস্ত স্বাদ তুমি পাও নি।

আমি তোমার নির্দেশ মাথা! পেতে নিয়ে তোমার সামনে থেকে সরে গেলাম তাই হোক, তাই হোক তুমি যদি তাই চাও, তাই হবে।

চমকে উঠলে। নীলাদ্রি নিয়তি দাশের কগস্বরে, চলে গেছেন তাই না স্যার

হ্যা।

আপনার আত্মীয়া ছিলেন উনি

য্যা। হ্যা-নীলাব্দ্রি তাড়াতাড়ি চিঠিটা ভাজ করে খামের মধ্যে ভরে কেবিন থেকে বের হয়ে এলো

নীলাক্রি লক্ষ্য করলো না, নিয়তি দাশ তারই "দিকে তখনও তাকিয়ে মেয়ে হয়ে সে কি কিছু বুঝাতে পেরেছিল, না পারে নি ?

সোজ। নীলাব্ি চলে এলো তার কোয়ার্টারে বেল টিপতেই সনুরেন দরজা খুলে দিয়ে বললে, এখুনি ফিরে এলে যে দাদাবাবু-_-

স্থরেনের প্রশম্মের কোন জবাব দিল না নীলান্রি। সোজা এসে নিজের শোবার ঘরে টুকে শয্যার উপরে বসে পড়ল

কঙ্কণা তাহলে তাকে ভালবাসত কেন ০স সেদিন কথাটা বুঝতে পারে নি, ইন্দ্রজিতের মুখে কঙ্কণা তাকে বিবাহ করতে অরাজী নয় শুনেই-_কথাটা সে স্বতঃসিদ্ধ ভাবে ধরে নিল কেন, কেন একটিবার সে কন্কণাকে শুধালো না, একি সত্যি ক্কণা--ইন্দ্রজিতকে তুমি বিয়ে করবে বলেছো

স্ুরেন এসে ঘরে ঢুকলো” এক কাপ চা নিয়ে হাতে

_ চা

বেখে যা।

স্থরেন চায়ের কাপটা পাশের টেবিলে নামিয়ে রেখে ঘর ছেড়ে

চলে গেল কঙ্কণা কেন তোমার সেদিন মনে হয়েছিল, ভালবাসার অমৃত স্বাদ

সই

আমি পাই নি। চার বছর ধরে আমার সঙ্গে মিশেও কি তুমি আমার মনের সন্ধান পাও নি

নীলান্রি আবার খাম থেকে চিঠিটা বের করলো

নিদারুণ একটা অভিমানে সেদিন আমার ছু'চোখ ভরে জল উপছে পড়েছিল আমার এতবড় ভালবাসার সন্ধান তুমি পেলে না

আজ একট! প্রশ্ন করি_-আমি কি তোমার এতই অযোগ্যা ছিলাম, তোমার পাশে দাড়াবার কি কোন ফোগ্যতাই আমার ছিল না

আমি কালো- আমি সুন্দর নই-_কিন্ত কালো মেয়ে কি ভালবাসতে পারে না।

তোমার বড় অহংকার

হ্যা, দাস্তিক তুমি ! তাই সেদিন অনায়াসেই আর একজনের হাতে আমাকে তুলে দিতে তোমার বাধে নি।

আজ বলতে দ্বিধা নেই তোমার নিষ্ঠর নির্দেশ মাথায় তুলে নিলেও তোমার বন্ধু ইন্দ্রজিতের "পরবে কর্তব্য আমি করতে পারি নি। হ্যা অস্বীকার করবো না--ইক্দ্রজিকে আমি কোন দিনই ভালবাসতে পারি নি।

কিন্ত স্রীর কতব্যে আমি অবহেলা করিনি

মন না দিতে পারলেও দেহট1 আমার সে পেয়েছিল তার কোন ইচ্ছায় আমি বাধা দিই নি

বিয়ের ছু'দিন পরে বখন হাসপাতালে যাবো বলে প্রস্তুত হয়েছি__ ইন্দ্রজিত প্রশ্ন করলো, এত সকালেই কোথায় যাচ্ছো

বাঃ হাসপাতাল যেতে হবে না, আউটডোর আছে-_না

কিনা।

হাসপাতালে আর তুমি যাবে না

কি বলছে তুমি

হাযা__আমার ইচ্ছা নয় _তুমি আর ডাক্তারী পড়-_

কিন্তু তুমিই বলেছিলে পড়াশুনায় বাধ দেবে না তুমি

বলেছিলাম

তবে--

সে সময় কথা না বললে তুমি বিবাহে মত দিতে না

এতদূর পর্বস্ত পড়ে শেষে ভাক্তারী পরীক্ষাটা দিয়ে আমি পাস করে ডাক্তার হবো না?

কি হবে ডাক্তার হয়ে

এত বছর পড়লাম--আজ---

সে পড়েছে যখন পড়েছো--তখন আর আমাদের বিয়ে হয় নি-- ডাক্তারী আর সংসার কর! এক সঙ্গে ছুটে! হয় না কঙ্কণ!

যে মেয়েরা ডাক্তারী পাস করে বিয়ে করে তারা কি সংসার করে না

করবে না কেন।

তবে

সেটা আমার মতে শ্েফ একটা জোড়াতালি দেওয়া-_-

তাই বুঝি

হ্যা ওটা এমনই একটা প্রফেশন যার সঙ্গে কোন কমপ্রোমাইজই চলে না। মনের সবটাই জুড়ে বসে থাকে ব্যাপারটা নাই ব! পড়লে আর--আমি তোমার রোজগারের প্রত্যাশিত নই-_

রোজগারের জন্যই কি সকলে ভাক্তারী পড়ে

তা ছাড়া কি?

না। ওটা একটা বিদ্যা - এমন বিদ্যা যা মানুষের সেবায় লাগে -

রাখ সব গালভর। বড় বড় কথা

তাহলে ভুমি সত্যিই আর আমাকে ভাক্তারী পড়তে দেবে না

না।

অথচ তুমি কথা দিয়েছিলে বিয়ের আগে আমাদের-_

বলেছি ত-_যাকগে নিয়ে আর তর্ক করতে ইচ্ছা নেই আমার বলে ইন্দ্রজিৎ ঘর থেকে বের হয়ে গেল

জান--আমি হয়ত জোর করে পড়তে পারতাম কিন্তু করি নি তা। কারণ প্রথমতঃ এমন একটা স্বণা আমার মনে জমে উঠেছিল যে»

আমার আর দ্বিতীয়বার অনুরোধ করতে প্রবৃত্তি হয় নি যেমন তেমনি দ্বিতীয়তঃ বুঝতে পেরেছিলাম পাস করলেও তোমার বন্ধু আমাকে ডাক্তারী করতে দেবে না--তাই শেষ পর্ষস্ত আর কলেজে না যাওয়াই স্থির করলাম সেই সঙ্গে তোমার উপরেও আমার অভিমান হয়েছিল-__-তোমার জন্যই সব ঘটলো তুমি যদি সেদিন ইন্দ্রজিৎকে বিয়ে করার জন্য আমায় না অনুরোধ জানাতে আমার জীবনের এতদিনকার বাসনাটার হয়ত এমনি করে আমাকে গল! টিপে সেদিন মারতে হতো! না। তারপর এও মনে ভেবেছি-_কি হবে আর ডাক্তার হয়ে। তুমিই যখন আমার প্রসারিত হাতটা নিজের হাতের মধ্যে তুলে নিলে না তখন আর আমার ভাক্তার হওয়ার মূল্যই বা কি? আমি স্বাধীন ভাবে ডাক্তারী করতে চাই নি চেয়েছিলাম তোমার ছায়ায় দাড়িয়ে ডাক্তারী করতে

বিবাহিত জীবনের তৃতীয় দিনেই এলো আমার "পরে আঘাত মনে মনে ভেবেছিলাম সেদিন, ঠিক আছে সংসারই করবো- আদর্শ গৃহিনীই হবো তোমার ইচ্ছাই পুর্ণ হোক কিন্ত সে প্রত্যাশায় সংকল্েও আমার আঘাত হানলো ইক্দ্রজিৎ

আচ্ছা তোমার বন্ধুটিকে কি তুমি চিনতে না? মানুষটা! যে কত বড় স্বার্থপর, কত নীচ তা কি তুমি জানতে না ?

জান--তিলে তিলে আমায় সে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে তিন তিনটে বছর ধরে আমি সহ্য করে করে অবশেষে আমি পথ নিতে দৃঢপ্রতিজ্ঞ হয়েছিলাম

যাক, সে কথা আমার বেদনার, আমার লজ্জার ইতিহাস আর তোমাকে শুনিয়ে কি হবে আর লাভই বা কি।

হঠাৎ মনে হলো! তোমার চেষ্টায় নতুন জীবন পেয়ে-নতুন করে আবার বাঁচবে! সি আই টি রোডের ফ্ল্যাটে নয় অন্য কোথাও গিয়ে অথচ ভেবে পাচ্ছিলাম না- কোথায় যাবো কি করবো কিভাবে আবার জীবনটাকে শুরু করবো

তোমাকে বললে হয়ত সাহায্য পেতাম কিস্ত কেন তোমাকে বলবো %' ২৩

তুমি আমার কে? তুমি আমায় ত্যাগ করেছে! তিন বছর আগে তবে আজ আবার সামনে গিয়ে কেন কাঙ্গালের মত দাড়াবো

কিন্তু যেতে হলেও তো! হাতে কিছু অর্থের প্রয়োজন--এক কাপড়ে চলে যেতে পারি কিন্ত তারপর

সঙ্গে সঙ্গে এও মনে হলো শুন্ হাতেই বের হয়ে পড়বো দেখি সেই নিষ্ঠুর ভাগ্যবিধাতা যিনি আমার জীবনট1 নিয়ে এমনিভাবে খেল শুরু করলেন তার মনে আরো কি আছে আরো কি ভাগা আমার ভবিষ্যতের জন্য জমা করে রেখেছে হা, তাই চলে যাচ্ছি কাল সকালে এসে তুমি আমার এই চিঠি যখন পাবে_ নামি তখন পথে দূর থেকেই তোমাকে প্রণাম জানাচ্ছি

তামার কঙ্কণা-

চিঠিটা অনেকক্ষণ পড়া হয়ে গিয়েছে

চিঠিটা হাতের মধ্যে ধরে শয্যার উপর বসে ছিল নীলাদ্রি

আজ কিন্তু নীলাদ্রির শুন্য মনের মধ্যে একটা কথাই হাহাকার করে ফিরছে-_কেন-_কেন সেদিন আমি বুঝাতে পারলাম না

ইক্্জিতের কথাটা শুনেই কেন শেষ মীমাংসা করে ফেললাম

কিন্তু আর ভেবে কি হবে?

তিন তিনটি বৎসর অল্প সময় নয়

হু

গায়ের কাপড়টা ভাল করে টেনে মাথায় ঘোমট। তুলে দিয়ে কেবিন থেকে নিঃশব্দ পদসধারে বের হয়ে এলো কঙ্কণা অত বড় হাসপাতালট। একেবারে নিঝুম হয়ে গিয়েছে

অন্ধকার শীতের রাত হাসপাতাল থেকে বের হয়ে রাস্তায় পড়ে--একবার উপরের দিকে

তাকাল কঞ্কচণা মাথার উপর আকাশটা আবছা আবছা মধ্যরাত্রির বোধহয় কুয়াশ! জমছে একটি নক্ষত্রও চোখে পড়ে না।

গেট পার হয়ে এসে ট্রাম লাইনের উপর দাড়াল কন্কণা, পশ্চাতে হাসপাতালটার দিকে একবার তাকাল--বাড়িগুলো আবছা আবছা-_ তারই মধ্যে ওয়ার্ডের আলোগুলো ক্ষীণ একটা ইশার। দিচ্ছে যেন

সব দোকানপাট বন্ধ

ইস্পাতের জোড়। ট্রাম লাইন যেন চকচকে রূপালী চওড়া ফিতের মত পাশাপাশি চলে গিয়েছে__খালের উপরে পুলটা-__পুল পার হলো কঙ্কণ জনমানবহীন রাস্তা একেবারে যেন খা-খা করছে।

রাস্তার ছু'ধারে ইলেকট্রিক আলোঞগুচলো শুধু নিদ্রোহীন এক চক্ষু মেলে যেন রাত প্রহরীর কাজ করছে

কস্কণা হাটতে লাগল

মার কাছে ফিরে যেতে পারত কিন্তু মনের মধ্যে কোথায়ও সেব্রকম তাগিদ যেন অনুভব করল নাঁ। মা হয়ত যাত্রা তার আত্মহত্যা করার চেষ্টার সংবাদটা পায় নি। তাছাড়া দাদা সতীনাথ---এ যুগে জন্মালেও তার মনটা অনেক আগের যুগের স্বামীর ঘর ত্যাগ করে তার সামনে গিয়ে দশড়ালে কোন মতেই সে কঙ্কণাকে ক্ষমা করতে পারবে না হয়ত সঙ্গে সঙ্গে সে ইন্দ্রজিতৎকে সংবাদ দেবে

তার অর্থ আবার সেই নাগপাশ যে নাগপাশকে সে ছিন্ন করবার

২৫

জন্যই মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছিল__-আবার সেই নাগপাশ সে গলায় তুলে নেবে

না। না-- সমস্ত মনট] যেন ক্কণার বিদ্রোহ করে ওঠে

সেখানে নয়ই আর--এই কলকাতা শহরেও আর নয় কঙ্কণ। সোজা হাওড়া স্টেশনের দিকে হাটতে লাগল ফুটপাথ ধরে

মধ্যে মধ্যে হ-একটা প্রাইভেট ট্যাক্সী গাড়ি এদিক থেকে ওদিকে ছুটে চলে যায় শব্দের ঝড় তুলে রাত্রির স্তব্ধতায়

একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ওঠে

শেষ বাতের দিকে কন্কণা হাওড়া ব্রীজের উপর এসে পড়লো ঠাণ্ডা হাওয়ার ঝাপটা চোখে মুখে শির শির করে লাগে

হঠাৎ সময় মনে পড়লো বড়মামা পিনাঁকীভূষণ দত্তর কথা৷ বিচিত্র মানুষটি ওর বড়মামা পিনাকী ভূষণ

লেঃ কর্নেল পিনাকীভূষণ দত্ত-__আই-এম-এস (রিঃ)।

ছয় ফুটের কাছাকাছি লম্বা_-পেটানো লোহার মত শক্ত শরীর পাটন। মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে কি করে যেন টাকার যোগাড় করে বিলেত চলে যান জাহাজে চেপে বিলেত থেকেই এফ-আর-সি-এস হয়ে আই-এম-এসের চাকরি নিয়ে ইণ্ডিয়াতে ফিৰে এসেছিলেন

প্রথম পোস্টিং আলমোড়া ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতাল প্রথম মহাযুদ্ধের ঠিক বছর চারেক পরের ঘটনা

হটাৎ চাকরি ছেড়ে দিলেন বছর দশেক চাকরি করার পর-_বিষে, থ। জীবনে করেন নি ব্যাচিলার মানুষ

বর্তমানে নৈনিতালের কাছাকাছি যেন কোথায় একটা মিশনারী হাসপাতালে আছেন বছর পাঁচেক আগে বহুকাল পরে কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় এসেছিলেন সেই সময় কঙ্কণ। তাকে দেখেছিল

হাসিখুশি দিলখোল। মানুষটি

যখন শুনলেন কঙ্কণ। ডাক্তারী পড়ে-_-তার পিঠে একটা মু চড় বসিয়ে বলেছিলেন, তা হ্্যারে-_ হঠাৎ তোর ডাক্তারী পড়ার সাধ হলে!

কেন রে, ট্রম্পী-

২৬

টুম্পা ক্কণার ডাকনাম

কেন-_ভাক্তার হবো- ডাক্তারী করবো তাই-_

কিন্তু মা-_-তুই যে এদেশে মেয়ে হয়ে জন্মেছিস-_

তাতে কি হলো ?

বিষে একদিন করতেই হবে

মনের মধ্যে তখন নীলাত্রি তার সবটাই জুড়ে আছে।

কন্কণ। মহ হেসে বলে, তাতে কি ?

স্বামী যদি ডাক্তার ন! হয়-_আর ভাক্তার হলেও-_-

কি মামা ?

ক্ল্যাশ বাধান

না না-_তা হবে না।

৬191) যেন না হয়--তবে হলে কি করবি মা?

তুমি দেখে নিও মামা-__কিছুই সেরকম হবে না

হঠাৎ আজ হাওড়া ব্রীজের উপর দিয়ে হাঁটতে হীটতে সেই মামার কথা মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেদিনের সেই কথাটাই মনে পড়ে গেল কঙ্গণার

আশ্চর্য !

মামা কি অন্তধামী ছিলেন

মামা আরও বলেছিলেন, না হলেই ভাল টুম্পা--তবে ভাক্তার

হয়ে যেন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকিস না--2০65.21 9510-এ যখন নামবি তখন দেখবি--একজন ডাক্তারের জীবন কি। ডাক্তারীর সঙ্গে কোন প্রফেশানেরই তুলনা হয় না

মামার কথা মনে হতেই মনে হয় কক্কণার সোজা মামার কাছে গেলে কেমন হয়_নৈনিতাল গিয়ে কি আর সে মামাকে খুঁজে বের করতে পারবে না।

নিশ্চয়ই পারবে

কিন্ত সেখানে যাবার টিকিটের দাম যে অনেক-_-অত টাকা দূরের কথা হাত যে তার একেবারে শুন্তা

হাওড়া স্টেশনে মানুষের ভিড়ের মধ্যে অনিদিষ্টভাবে মাথায় ঘোমট! টেনে নিজেকে আড়াল করে করে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছিল কক্কণা

কিছু টাকার দরকার

হঠাৎ হাতের সোনার চুড়ি ছু'গাছির দিকে নজর পড়লো

মায়ের দেওয়া চুড়ি_স্বামী ইন্দ্রজিতের দেওয়া! নয় তার দেওয়! কোন অলঙ্কারই সে স্পর্শ করে নি একদিনের জন্যও |

গার দেওয়া! সব কিছু--তার স্বামীর আলমারির মধ্যেই ভরে রেখে দিয়েছে চাঁবিট। ইন্দ্রজিতের টেবিলের ড্রয়ারে রাখা আছে

যা, চুড়ির একট চুভি বিক্রি করেই সে কিছু টাকা পেতে পাঁরে--কথাট। মনে হতেই কঙ্কনা স্টেশন থেকে বের হয়ে পড়ল

কম্কণা বুঝতে পেরেছিল যে অলঙ্কারের দোকানে সে হাওড়ায় চুড়িট। বিক্রি করেছে তারা ঠকিয়েছে, কিন্ত অতশত ভাবতে গেলে তখন তো! চলে না। শচারেক টাকা সে পেয়েছে- তাতেই তার চলে যাবে।

রাত্রে টেনে উঠে বসে কঙ্কণা যেন নিশ্চিন্ত হয়। সঙ্গে জামাকাপড় ছিল না টুকিটাকি জিনিসেরও প্রয়োজন ছিল ট্রেনে ওঠার আগেই কঙ্কণ! সব কিনেকেটে নিয়েছে ছোট একটা স্ুটকেশ কিনে তার মধ্যে সব ভরে নিয়েছে

যাচ্ছে সে নৈনিতাল-_চলম্ত ট্রেনের কামরায় খোল জানালাটার সামনে বসে ভাবছিল কক্কণা সঙ্গে তার কোন গরম জামাকাপড় নেই-_ ঠাণ্ডার জায়গা, হয়ত গিয়ে কষ্ট হবে- ইচ্ছা ছিল একটা গরম র্যাপার কিনবার কিন্ত টাকায় কুলাতে পারে নি

টিকিট কিছু জামাকাপড় কিনেই প্রায় সব ফুরিয়ে গিয়েছে হাতে মাত্র পঞ্চাশটি টাকা আছে বছর চারেক আগে যেবার সে ফাইন্যাল ইয়ারে পড়ে শেষ দেখা হয়েছিল মামা পিনাকীভূষণের সঙ্গে তখুনি শুনেছিল কম্কণ। পিনাকীভূষ্ণ নৈনিতালে থাকেন

গরমে নাকি ভারি কষ্ট হয় পিনাকীভূষণের--তাই পাহাড়ী ঠাণ্ডার জায়গ। নৈনিতালে গিয়ে সেটেলভ হয়েছেন

২৮

কক্কণাকে বলেছিলেন পিনাকীভূষণ, এবার এসে ছ্বুরে যাস না নৈনিতালে- ৬০০ ৬/11] ০1))095 11719 1919,06.

গত চার বছর মামার কোন সংবাদ জানে না কম্কণা--নৈনিতালে এখনও আছেন কিনা মানুষটা বেঁচে আছেন কি নাকে জানে? নৈনিতালের উদ্দেশে সে ট্রেনে চেপে বসেছে কাল বিকেলের দিকে ট্রেন লক্ষৌ পৌছাবে সেখান থেকে রাত্রে কাঠগুদামের ট্রেন ধরতে হবে-_-অবিশ্যি সে কাঠগুদাম পর্ষস্ত টিকিট কেটে নিয়েছে

সারা দিনের ঘোরাঘ্থুরিতে বেশ ক্লান্ত লাগছিল নিজেকে কঙ্কণার-_ দুপুরের দিকে একটা রেস্ট.রেন্টে চুকে ছ'পিস মাখন রুটি এক কাপ চা খেয়েছিল শুধু তেশ ক্ষিধেও পেয়েছে-গাড়ি থামবে সেই বর্ধমানে। তার আগে বোধহয় কোন স্টপেজ নেই এই ডাকগাডির ঘুমে ছু'চোখ জড়িয়ে আসছে

নীলাদ্রির কথা আবার মনে হয় কক্কণার চিঠিটাও নিশ্চয়ই পেয়ে গিয়েছে সে-_নীলাব্দরি বদি তার জীবনট। ইন্দ্রজিতের হাতে সেদিন না তুলে দিত-_-আজ হয়ত তাকে এমনি করে শআ্োতের শ্যাওলার মত ভেসে চলতে হতো না

আশ্চর্য নীলাদ্রি বুঝতে পারল না-তার সমস্ত বুকটা জুড়ে যে সেদিন সেই ছিল সেটা সে বুঝতে পারল না

বুঝতে পারল নানা কঙ্কণাকে ইচ্ছা করেই সেদিন সে ইন্দ্রজিতের হাতে তুলে দিয়েছিল

না। আর না- আর পিছন পানে ফিরে তাকাবে না সে।

জীবনের যে অধ্যায়টা সে শেষ করে দিয়ে এলো, সে অধ্যায়টা তার মন থেকে একেবারে মুছেই ফেলবে সে

ইন্দ্রজিৎও নয়, নীলাব্র্রিও নয়

অনেক দয়। তোমার নীলাব্ড্রি।

আমাকে তুমি জীবনদান করেছো - নতুন করে আবার পড়া শুরু করে ভাক্তারীট1 পাস করতেও বলেছিলে

কিস্ত না! কঙ্কণার জন্য আর তোমার না ভাবলেও চলবে

২০৯

অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে ট্রেনটা ছুটে চলেছে কলকাতা শহর থেকে সে দূরে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে |

ইন্দ্রজিৎ কি সত্যিই আর ফেরে নি

ফেরার তার আর প্রয়োজন নেই-__সে স্পষ্ট করেই সেদিন তার মনের কথাট! বলে দিয়েছিল খবরটা--শ্যামলীর খবরটা কম্কণার কাছে চাপা ছিল না। বিবাহের সাত মাস পর থেকেই--এবং যে

ংবাদট1 কম্কণার কাছে নিদারুণ এক লজ্জা ছুধিষহ এক অপমান

বহন করে এনেছিল সেই সঙ্গে প্রচণ্ড একটা বিতৃষ্ণা।

একই সঙ্গে-_একই বছৰে পাস করেছিল কমপিটিটিভ পরীক্ষায় ইক্দ্রজিৎ আর শ্যামলী কিন্ত চাকরিতে পোস্টিং হলে! ছ'জনার ছুই জায়গায়

ইন্দ্রজিত বিয়ে করে যখন কঙ্কণাকে নিয়ে সংসার পেতেছে--সাত মাস হয়েছে মাত্র- শ্যামলীও কলকাতায় বদলী হয়ে এলো

ছু'জনার দেখা সাক্ষাৎ হলো আর সেই শুরু হলো ইন্দ্রজিতের মধ্যে পর্রিবতন

পরিবর্তনটা প্রথম প্রথম টের পায়নি কম্কণা ইন্দ্রজিৎ তাকে বুঝতে দেয় নি কিন্ত ব্যাপারট। তার কাছে গোপন থাকল না

কানাঘ্ুষায় প্রথমে এ-ওর কাছে শুনেছে কথাটা কন্কণা-__কিস্ত বিশ্বাস করতে চায় নি"

শ্যামলী হঠাৎ মালদায় বদলী হবার পর ইন্দ্রজিত প্রায়ই যেতে লাগল মালদায়

ছু'সপ্তাহ তিন সপ্তাহ পর পরই হছৃ-তিন দিনের জন্য ইন্দ্রজিৎ মালদায় যায়

কন্কণা তখন একদিন শুধালো, এত ঘন ঘন তুমি মালদায় যাও কেন ?

কাজ থাকে তাই যাই-_ইক্দ্রজিৎ জবাবে বলে

সরকারী কাজ ?

তাছাড়া আর কি।

কেবলই মালদাতেই তোমার সরকারী কাজ পড়ে বুঝি ?

৩)৩

কি বলতে চাও তুমি ? রুক্ষভাবে পালটা প্রশ্ন করে ইন্দ্রজিৎ |

মালদা থেকে তাই বুঝি তোমার প্রায়ই ট্রাঙ্গল আসে ?

হ্যা

সেদিন আর বেশী কিছু বলে নি কষ্কণা চুপ করেই গিয়েছিল ঘটনারই মাস ছুই পরে জানতে পারল ইন্দ্রজিতের অনুপস্থিতিতে এক রাত্রে শ্যামলীর মালদ1 থেকে ট্রাঙ্নকল আসায় ব্যাপারটা অনেক দূর গড়িয়েছে

কন্কণা ফোন ধরে বলেছিল, কে কথা বলছেন

আপনি কে? প্রশ্ন এসেছিল

শ্যামলী বস্তু নামটা কঙ্কণার অপরিচিত ছিল না_অনেকবার স্বামীর মুখে শুনেছে মালদা থেকে ফোনকল অনুমানেই কে ফোন করছে বুঝতে পেরে ক্কণা জবাব দেয়, আপনি বোধহয় শ্টামলী বন্থু?

হ্যা। আপনি ইন্দ্রজিৎকে একটিবার ডেকে দিন

সে বাড়িতে নেই-_

কে কথা বলছেন আপনি ?

ইক্দ্রজিতের ক্ত্রী-_

সঙ্গে সঙ্গে অপর প্রান্তে শ্যামলী ফোনটা? ছেড়ে দিয়েছিল

সেই দিনই অনেক রাত্রে ইন্দ্রজিৎ ফিরে এলে বলেছিল তাকে, স্টামলী বস্থ ফোন করেছিল

কখন

রাত তখন পৌনে নণ্টা হবে

ইন্দ্রজিৎ বললে, তুমি কি বলেছো

তুমি বাড়িতে নেই__তাই বলেছি

কথাটার এখানেই সমাপ্তি ঘটবে ভেবেছিল কন্কণা তাই সে ঘর ছেড়ে চলে যাবার জন্য পা বাড়িয়েছিল, কিন্ত ইন্দ্রজিতের কথায় ০ে বিস্ময়ে ফিরে দাড়াল

কেন আমার অফিসে লাইনট। দিতে বললে না কেন।

তুমি যে অফিসে এঁ সময় থাকবে তা বলে যাও নি।

৩১

বলার কি আছে -- তো কমনসেন্স

কক্কণা আর স্বামীর কথায় জবাব দেবে না বলেই দ্বিতীয়বার ঘর থেকে বের হয়ে যাবার জন্য পা! বাড়ায়

দাড়াও-শোন--

কি বলছো ছ্বুরে দাড়াল কন্কণা

আমি বেরুচ্ছি--

এত রাত্রে কোথায় ষাবে ?

কোথায় যাবো, না যাবো সে জবাব আমি তোমায় দেবো ?

মালদায় বোধহয়-_

কম্কণা তীল্ম্ম কন্বর ইন্দ্রজিতের

কিন্তু এর কি প্রয়োজন ছিল বলতে পার ? শ্যামলীকেই যদি তোমার প্রয়োজন ছিল আমাকে বিয়ে করার জন্য নীলাব্রিবাবুর কাছে ছুটে গিয়েছিলে কেন, তাকে দিয়ে আমাকে অনুরোধ করাতে

ছুঃখ হচ্ছে বুঝি সে জন্য-_

কি বললে ?

জানি__জানি-_-আমি পরে বুঝতে পেরেছিলাম

কি বুঝতে পেরেছিলে ?

তা নীলাদ্রির প্রতিই যদি তোমার মন এতটা আকৃষ্ট হয়েছিল সে কথাটা আমায় স্পটাস্পঞ্টি বলে দিলেই পারতে

হ্যা-ছিল-_কিস্তু নিজের কথাট1 পরিক্ষার করবার জন্য ছতোটার তোমার প্রয়োজন নেই-__

কি বললে?

ঠিকই বলেছি অনায়াসেই তুমি শ্যামলীর কাছে চলে যেতে পারো

হ্যাহা! তাই যাবো

যাবে কেন_-এখুনি যাও কথাট। বলে কন্কণ আর দাড়ায় নি ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিল

বস্ততঃ কঙ্কণ! কোন দিনই মন থেকে ইন্দ্রজিৎকে গ্রহণ করতে পারে নি, ইন্দ্রজিৎ অকন্মাৎ একদিন এসে যখন বিবাহের প্রস্তাব জানালো

৩.

তার কাছে--তার দাদা সতীনাথের পরামর্শ মত কঙ্কণা ব্যাপারটায় অগ্রসর হবার মত কোন প্রশ্রয় দেয়নি অথচ সে শুনেছিল তার মার কাছেই কয়েকদিন আগে তার মা তার দাদার একাস্ত ইচ্ছা! ইন্দ্রজিতৎকেই সে বিবাহ করে

কিন্ত ইন্দ্রজিৎ নিরস্ত হলো না-বার বার এসে বিবাহের প্রস্তাব দিতে লাগল