9৩) £ে

বেঙ্গল পাবলিশারস” প্রাইছেট লিমিটেড কলিকাতা-১২

প্রচ্ছদ শিল্পী-শ্রীনবেন্্র নাথ দণ্ড

পা শশিস্টীপাাপীসপা তি শপ সী পিপি পলাশী

নিঃসঙ্গ

উৎ্সগণ

দেশে বিদেশে স্বাধীনতার সংগণমে যারা জীবন দান করেছেন, এই বইখানি তাদের প্রতি শদ্ধাঞ্জলী

৩০শৈে জানুয়ারী সন ১৯৫৬ সাল |

গ্রন্থকার

ভামিকা

“পুর্ববাচলের পানে তাঁকাই অস্তাচলের ধরে আসি ডাক দিয়ে যার সাঁড়। না! পাই তার লাগি আজ বাজাই বাশী”

রবীন্দ্রনাথ

১৯৩০ সালের পর আমার “নিঃসঙ্গ” কারাবাসের কথা লিখেছিলাম তখন ছিল বৃটীশ আমল, তাই সকল ঘটনা নিরাবরণ ভাষে লিখতে পারিনি, পাছে আইনের কবলে পড়ি ব! বই বাজেয়াপ্ত হয় এখন মনে হল, আর বিলম্ব করা উচিত হবেনা আজ স্বাধীন ভারতে সে গোপনীয়তার প্রয়োজন নাই, তাই পুনর্বার বইটী লিখছি অনেক কথা,

অনেক ঘটন। ভুলে গেছি, তবু যতটুকু মনে আছে, লিপিবদ্ধ করে যেতে চাই

এই বইটীতে ঘটনার বিবরণ আছে কম, অধিকাংশ হচ্ছে অন্থুভতির কথা, কারাগারে অন্তরীণে থাকার প্রতিক্রিয়ায় মনের যা অবস্থা হয়ে'ছল | ব্যক্তিগত ভাষে এমন একজন ছিলাম নাযার এঁতিহাসিক মূল্য নগন্য নয়। তবে, কর্মম-সহচর যা অন্রগামী রূপে এমন অনেকের সংস্পর্শে এসে- ছিলাম ধার! ভারতের মুক্তিইতিহাসের সেই বিপ্লব-অধ্যায়ের ছিলেন শ্রষ্টী। তাদের কথা কবির ভাষায় বলতে হয়,

নিঃসঙ্গ

কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি ধরায় আস সাধক ওগো প্রোমক ওগে। পাগল তুমি ধরায় আস ।””

জীবনে পেয়ে ছিলাম বিপিনদাঁকে বিপ্লবের বন্ধুর পথে, মাঝে মাঝে চারিদিক যখন স্তিমিত হয়ে আসত, মন যখন হতাশায় অবসন্ন হ'ত, ছুটে যেতাম তার কাছে, ভার প্রদীপ্ত মুখ দেখে, কথা শুনে, হতাশার কুয়াস। মিলিয়ে যেত , অন্তরে আশার আলে! উঠত জ্বে। এমনি কত নি:ম্বার্য দেশ প্রেমিকের আবির্ভাব হয়ে ছিল তখন ধাংলা দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে তাদের অনেককে চোখে দেখেছ, কথা কয়েছি, ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছি, এক সাথে কাজ করেছি, কারাগারে নিধ্যাতনের ভাগী হয়েছি, এটা জীবনের কম সৌভাগ্য নয়। আত্মার মুক্তি, পরলোকে ব্বর্গধাস ব। নিজেদের জন্য ইহকালের কোনও পা'থব সম্পদ কিছুই তারা চান নি। শুধু ইংরেজ কি করে বিতাড়িত হযে, দেশ কি করে স্বাধীন হযে, সেই ছিল তাদের একমাত্র কাম্য অনেকে ফাসির মঞ্চে টাড়িয়ে বলে গেছেন এই দেশে জন্ম নিয়ে, স্বাধীনতার জন্য আধার প্রাণ দোষো। যতদিন না ভারত স্বাধীন হয়।

স্মৃতির কুয়াসার মধ্য দিয়ে অতীত ঘটনার কঠোরতায় কোমল স্পর্শ লাগে সেকালের কথা, তখন যেমন মনে হত, এখন ঠিক তেমন মনে হয় না। যোমা পিস্তল ছারা ইংরেজ

নিঃসঙ্গ ৬/

রাজ্য অচল করবার সেই ছুঃসাধ্য অথচ অদম্য প্রয়াস, সে ছাত্রা- বস্থায় দিনের পব দিন, পরে, বন্দী অবস্থায় বিন্দুর পর বিন্দু পাতনের মত নিঃসঙ্গ মুহুর্তের পর মুহুর্তগুলির অতীতে বিলীন হওয়া, সে স্বাধীনতার স্বপ্ন, মনে হয় সে যেন আর কারুর জীধনের, সে যেন অন্য এক আমি সে দিনগুলি নিছক হুঃখের ছিল না আজকার দিন যেমন শুধু স্থখের নয় তখনকার

কার! প্রাচীরের মধ্যেও অন্তর আলোকিত থাকত স্বাধীনতার স্বপনে লোকে বলে ভারত ধন্মের দেশ। সত্য ধন্ম লোপ

পেয়েহিল। ধর্মের নামে অধন্মে দেশ আচ্ছন্ন মনে হ'ত। বহু রূপে সম্মুখে তোমার কোথা তুমি খুঁজিছ ঈশ্বর স্বামী ধিবেকানন্দের এই সত্য বাণী লোকে বিস্মৃত হয়েছে। কৃত্রিম আধ্যাত্মিকতার ধিলাসে দেশের জন সাধারণের অবস্থা! তখন কি ছিল? মনে হত একটি বিরাট এঁতিহ্যের নামে জড়ত্ব পুত অবস্থা ইহ জীবনে পরাধীনতার আনুসঙ্গিক ছঃখ, দৈন্, ম'লনতা, কদধ্যতা সবই দৈব ধলে মেনে নিয়েছিল, যেদাস্ত- গীতার দেশে পুকষকার ছিল ধিলুপ্ত সবই যেন ধিধাতার বিধান্‌। কোন্‌ পূ্বিজন্মে কি না কি পাপ কর্ম করেছিল * যার ফলে ইহ জীবনের ছভেোণিগ। নিজ দৈহিক আন্তরিক শক্তির উপর নাই আল্ম-বিশ্বাস, নাই আস্থা ভগবানে অন্তরের ভক্তি প্রেম নিবেদনের পারবর্তে জাতি-ভেদ, সাম্প্রদায়িকতা, অল্পন্থ- তার পস্কে নিমজ্জিত মানবতার অপমান জীবের বা মানবের

1০ নিঃসঙ্গ

কল্যাণে নি্বার্থ সেব। বা কর্ম অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক পুজ।

আচার ছিল এহিক পারত্রিক উন্নতির সহজ উপায় ছুঃখী দেশবাসীর দারিদ্র্য মোচনে নিশ্েষ্ট। পরকালের কল্পিত,

স্বর্গ লাভ ছিল অধিকতর ব। একমাত্র কাম্য ছিল না জাতিত বোধ, ছিল না স্বাধীনতার মধ্যাদা যা মূল্য-বোধ, ছিল না পরাধীনতার গ্লানি বা জ্বালা মহাদেশের মত দেশ, যন্ু কোটি অধিবাসী, পর পর প্রাঠান মোগল ইংরেজের পরা- ধীনতা মেনে বিদেশীর পদানত হ'ল যে যখন মাথায় পা তুললে তাকেই প্রভু বলে পদসেবা করল। সিপাহী যুদ্ধে স্বাধীনতার যে চেষ্টা হয়েছিল, উৎকোচ এই দেশবাসী দিয়েই তা” দমন হল, এই দেশ পদানত হল। দেশের জন সাধারণ ছিল অবভ্হাত ছুঃখ দীনতা গভীরতম দারিদ্র্যে অবচেতন তারই মধ্যে মধ্যে কোথাও কোথাও কয়েকটি মহাপ্রাণ মানষের আবিভণব হয়েছিল। উনধিংশ শতকের শেষের দিকে, বিংশ শতকের প্রথমাংশে হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ আদি কবি, রমেশচন্ছ, বস্কমচন্দ্র আদি সাহিত্যিকগণ কবিতা এবং সাহিত্যের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী অন্ধকারের মধ্যে আলো স্বালতে, জড়ের মধ্যে দেশাত্ম চেতনা জাগাতে চেষ্টা করে গেলেন।

দেশ পেল বন্দেমাতরম্‌ মন্ত্র, দেশ মাতার বন্দনা ওদিকে ইংরাজদের শত অনিচ্ছা সতর্কতা সত্বেও বিদেশ হতে বিদেশী কবিতা সাহিত্যের ভিতর দিয়ে জীতীয়তা 'ধোধের

স্বাধীনতার ভাব-তরঙ্গ আঘাত করতে লাগল শিক্ষিত বাঙ্গালীর মনে। মধ্যবিত্ত জন্প্রদায়ের কয়েক জনের এই নব জাগ্রত চেতনা কর্মের ভিতর বূপায়িত করতে পথ খুঁজতে লাগল, কেমন করে বৃটিশের কবল হ'তে “দশের মুক্তি আনয়ন করা যায়। বাসন! ছিল, বুটিশ শাসন- যুক্তকরে দেশকে জগত সভায় স্ুপ্রতিষিত করতে হষে। অন্য উপায় জানা ছিল না বলে দেশ-প্রেমিকগণ যোমা পিস্তলের হিংস্র ধিল্পষের পথ যেচে নিল। কত বোমা, কত পিস্তল যন্দ্ূুকের প্রয়োজন হবে, তার হিসাব যা ধারণ৷ স্পষ্ট ছিল না, তবষে আশা ছিল দেশী সিপাহীরা বিপ্রোহ করে বুটিশের বিকদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে ইংবেজের যারা শত্রু, সেই সব বিদেশীদের নিকট যথেষ্ট অস্ত্র শস্বের জোগান পাওয়া অসম্ভব নয়। যা জোটে তাই দিয়েই কাজে এগুতে হবে, অভাব পুবে যাষে অক্লান্ত কর্ম-নিষ্ঠা চরম আত্মত্যগ দিয়ে দেশের শক্র যত পারি নিধন করষ এবং প্রয়োজন হলে করব আত্মদানে মৃত্যু-বরণ। এই ছিল সংকলের রূপ। দেশ স্বাধীন না করতে পারি স্বাধীনতার জন্য প্রাণ ত' দিতে পারব

১৯২০ সালের পর, অহিংস অসহযোগের আন্দোলনে, কংগ্রেস স্বাধীনতার আকাঙ্খা দেশের জনগণের মনে ছড়িয়ে দিয়েছিল, তবু এরই পাশে পাশে অনেকে হিত্শ্র ধিল্পষের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হতে পারেননি

)5/ নিংসগ

আমাদেরই মধ্য ক'লকাতার সন্তোষ মিত্র আদি কংগ্রেস কম্মীগিণের সহংস বধিক্লষ পুনবায়োজনের চেষ্টায় প্রাণ ধিসঙ্ন, বিপ্লবী স্ূর্ধসেনের চট্টগ্রাম আস্ত্গর লুন আদি দ্টন। ঘটে।ছল বিনয় বাদল দীনেণ গোসীনাধ প্রভৃতি বারগনের শক্র হত্যা মৃত্যু বরণ, আমাদের প্রির নেতাজী সুভাষ চন্দ্রের আজাদ হিন্দ ফৌজের যুদ্ধ ভারতীয় নৌসেনাদের বিদ্রোহ তার প্রমান, দেশে হিংসায় বিশ্বাসী মহাপ্রাণ নেতার অভাব হয়নি আজ যিনি যত বড় নেতা, ব্যক্তিগত শ্রীবৃ'দ্ধব স্থযোগও তার তত বেশী, তখনকার দিনে ছিল এরই বিপবীত। নেতৃত্বে বড় হওয়ার অর্থ ছিল ফাসির রজ্জুতে ব। পু'লশেব গুলিতে জীবন অধসানের অ'ধক সম্ভাবনা নিধ্যাতন, কারাগার অথবা ততো- ধক কইকর গুপ্ত জীবন ছিল অবশ্যান্তাধী।

সকল ১৯২০ সালের পবে পরে ১৯৪৫ সাল পধ্যস্ত ঘটে ছিল। ১৯৪২ সালের ধিঞ্পবেও সকল দল অহংসা মেনে নেয়নি যদিও মহাত্মাজীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের পতাকার তলে মধকাংশ কম্মীদল অহিংসার সংগ্রামে আম্ম-নিয়োগ কারা বরন করে হিল কিন্তু ১৯২০ সনের পুর্ব্বে হিংস্র সংগ্রামের পিপ্রধীর অ'ধকাংশ ছিল শিক্ষত বাঙ্গালী যারা সংখ্যায় বহ না হলেও কন্মে, নিষ্ঠায় ওত্যাগে হিলেন অতুলনীয় লেকে আজ মনে করতে পারে, এট। ছিল যেন ভনকুইকসোটী পাগলের প্রয়াস কিন্তু তবু, এই পাগলামীর রূপ হিল বিরাট মহান। আর কিছু না হোক তার! জাতিহ মর্যাদা বোধ স্বাধীনতার প্রথম আগুন দেশ শাসীর

নিঃসঙ্গ )৬/

চিত্তে জ্বালিয়ে গেছেন নিশ্্রাণ মধ্যে জাগিয়েছেন প্রথম দেশাত্ম- বোধের প্রাণের সাড়া এই জাগরণের এঁতিহাসিক মূল্য কম নয়, আজ স্বাধীন ভারতে যে সাম্য অর্থনৈতিক অহিংস বিপ্লব রূপায়িত হতে দেখহি__, এও হয়ত সেই পুরাতন হিংস্র বিপ্লবের নৃতন যুগের পরিণত নব রূপ সেকালে, পরাধীন ভারতে বিদেশী শোষণে জনসাধারণ চলেছিল মরণের পথে ইংরেজ দেশের শিল্প ধ্বংস করে দিয়ে _ নিজের বাজারে পরিণত করেছিল রাষ্ট্রে যা কিছু ব্যবস্থা স্্টি কর্ত, তা হ'ত বিদেশী স্বার্থে এদেশের জনম্বার্থের প্রতিকূল পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচন না হলে দেশ বাঁচবেনা, স্বাধীনতা নইলে দেশের আত্মসন্মান থাঁকে না, তাই না বিপ্লবী প্রাণে তীব্র বেদনা জেগেছিল। কি হবে বেঁচে থেকে যদি স্বাধীন না হ'লাম ? চাইনা সখ, চাইনা এশ্বর্য, যদি স্বাধীন না হই তাই কত ধিপ্রবী দেশের শত্রু ধংস করতে পেরেছিল, মরণ আলিঙ্গন করেহিল এই জাঁতিত্ব-বোধ, এর উৎম ছিল প্রেম, দেশের জন্য, দেশবামীর্‌ জন্য দরদ যে দেশের লোককে আপন মনে না করে, ভাল ন। বাসে, দেশের দরিদ্রের হখে যার চোখে অশ্রু না ঝরে যার অন্তরে বেদনা বোধ না জাগে, মেকি বিপ্লুনী হতে পারে ? তাই বিশ্বাম করি, অহিংস! বিপ্লবের মত সহিংস বিপ্লবের উৎমও সেই মানব প্রেম। | রবীন্দ্র যুগে মানুষ হয়েহি, জীবনে তার প্রভাব পড়েছে। কলেজে ছাত্রাবস্থায় আমার সহপাঠী বন্ধু তিন চার বার

নিঃস

ার জোড়া সণকোর বাটীতে নিয়ে গিয়েছিল কবির যুখে নূতন লেখার আবৃত্তি গান শুনবার সুবিধা হয়েছিল। সে কি কম সৌভাগ্য ! তার সেই বাউল গান, “আমার মনের মানুষ কেরে আমি কোথায় পাব তারে”__ এখনও মানস কর্ণে যেন শুনতে পাই।

বাংলার দরদী সাহিত্যিক শরংচন্দ্রের বাড়ীতে একদিন বিপিনদা নিয়ে গেলেন রাষ্ট্র সমাজ বিপ্লবের কত কথা হল, বেশীর ভাগ বিপিনদার সঙ্গে। জীবনে সেই একদিনের সান্লিধ্যও আমার জীবনে কম সৌভাগ্যোর কথা নয়

আর হয়েছিল, ১৯২০ সালে জেলের বাইরে আসার পর, বীরবল অর্থাৎ শ্রীপ্রমথ চৌধুরীর স্নেহ লাভের সৌভাগ্য আপন-ভোলাদের তিনি তার সহধন্মনী শ্রীমতী ইন্দিরা দেধী চৌধুরাণী কত স্নেহ করতেন। চি'ড়া ভাজা ছানার জিলাপী সহ চা পান এখনও ভূলিনি। একদিন আমার লেখার পাঙুলিপি শুনাচ্ছি একজন বৈষয়িক কন্মে দেখা করতে এলেন প্রমথ বাবু তাঁকে বললেন, কাজে ব্যস্ত, অন্য সময় আসতে সাহস সঞ্চয় করে বললাম, আপনি আমার সহিত গল্প করছেন, কাজ সেরে নিলেন না কেন? মৃছ্ব হেসে তিনি বললেন, সতীশ, ভুলে যাচ্ছ কেন, গল্পই যে আমার কাজ !

কবির ছন্দে ছন্দে স্মৃতির পট ভরে আছে। তাই বহু স্থানে তার কবিতার অংশগুলি কলমের ডগায় এসে গেছে। এইট্রাই

নিঃসঙগ ॥/০

স্বাভাবিক কত বড় বড় ঘটনা ভূলে গেছি, কত তুচ্ছ কথা স্মৃতির পটে আজও উজ্বল হয়ে রয়েছে, এমন হয় কেন, জানি না। হয়ত ক্ষুত্র একটু ঘটনা বা একটু চিন্তা, জীবনে তার মূল্য থাকে, যাকে বড ঘটনা বলি, তাব চেয়েও বেশী তাই কবির কথাতেই ভূমিকা শেষ করছি

“হে মোর সন্ধ্যা, যাহ কিছু ছিল সাথে, চলিতে চলিতে পিছে যা রহিল পড়ে, যে মনি ছুলিল, যে ব্যথা বিধিল বুকে, ছায়া হয়ে যাহ! মিলায় দিগন্তরে, জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেল। ধুলায় তাদের যত হে।ক অবহেলা, পুর্ণের পদ পরশ তাদের পরে ।”'

2১0:

নি৪সঙ্স

*“বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল পোহালে শররী

বাজ দণ্ড রূপে” রবীন্দ্রনাথ

বহুযুগ ধরে আমাদের দেশে রাজা দেবতার অংশ বলে রাজ- ভক্তিতে ধন্মভাব জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তার উপরে বৃটিশরাজের গুণ-গান শিশুদেব চক্ষু কর্ণের মধ্য দিয়ে অন্তরে ছেপে দেবার চেষ্টার বিরাম ছিল নাঁ। শিশু যখন বড হ'ত, তাকে ইংরাজী ভাষা শেখান হ'ত, জাতিত্ব ভ্রাতৃত্ব বোধের পরিবর্তে বিজাতীয় বুটিশের গোলাম প্রস্তুত করার জন্য |

কলিকাতার মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী পরিবারের সন্তান, সকলের অজ্ঞাতে বড় হচ্ছিলাম। তখন বিংশ শতাব্দির সুরু, দেশ বুটিশ সাম্রাজ্যে শুঙ্খলিত। শুনতাম অনেক কিছু, বৃটিশের নিকট আমরা অশান্তি থেকে শাস্তি পেয়েছি, ঠগ দস্থ্য আদির অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ পেয়েছি, রেলপথে কত সহজে নিরাপদে দেশের দূর দূরান্তে যাতায়াত করতে পারি। মহারাণী কুইন ভিক্টোরিয়া, বহুদূর ইংলগ্ড হতে, আমাদের রাজ্য সুশাসন করে অশেষ কল্যাণ সাধন করছেন | রাঁজারাণী দেবদেবীর তুল্য ! কত গৃহস্থের, বিশেষ অবস্থাপন্ন গৃহে, মহারাণী ভিক্টোরিয়া বা সপ্তম

নিঃসঙ্গ

এডগয়ার্ডের ছবি, কালী হছুর্গীর ছবির পাশাপাশি বিরাজ করত। বাঁজ-ভক্তি প্রচারের কোনও সুযোগ ছাড়া হ'ত না একটী ছোট উদ[হরণ দিই, ইঞ্চি বোঝাতে পাঠ সুরু হ'ল, “বৎসগণ, এই পয়সায় দেখিতিছ মহাবাণী ভিক্টোরিয়ার প্রতিকৃতি, ধার অশেষ দয়ায় আমর! নিধদ্বে, পরম স্থখে শান্তিতে কালাতিপাত করিতেছি, এই পয়সায় ব্যাস এক ইঞ্চি” ইত্যাদি গ্রন্থ এরূপ প্রণয়ন হলেই স্কুল-পাঠ্য বিষেচিত হবার সমধিক সম্ভাবনা, তা যত অপাঠাই হোক এমনি নানা ভাবে আমাদের শিশু-অন্তর রাজ- ভক্তিব জাঁনকরসে নিনজ্জিত বাখা হ'ত। বাজা রামমোহন, স্বামী বিিবকান্দ, ভগ্নী নিষেদিতা আদিব দেশাম্ম বোধের কথা কচিৎ কানে মাসতি। বাংলার মনোজগতে স্বাধীনতাব বাণী ছিল ক্ষীণ অস্পষ্ট

৯০৩ সালে ইংলগ্তের যুবরাজ যখন দেশবাসী প্রজাদের দর্শন দিতে এলেন, শিক্ষক মহাশয় আমাদেব মত শিশু ছাত্রদের ময়দানে মার্চ করিষে নিয়ে গেলেন। রৌদ্র দগ্ধ হয়ে একটী কবে কমল! নেবু খেতে পেলাম ক্ষুধা তৃষ্ঃ মেট।তে তাবন্ববে শু্ধ গলায় চেঁচাতে হ'ল “লঙ. লিভ আওয়ার গ্রেসিয়াস্‌ প্রিন্স” বরাতে পুনরায় মাচ করিয়ে নিয়ে গেল ময়দানে বাজী পোড়ান দেখতে কাউকে বলতে শুনিনি, দেশ পরাধীন কেন? ইংরেজ কেন বা কেমন করে দেশ, শাসণ করে ?

তবু মনে হয়, দেশবাসীর মনের অগোচরে স্বাধীনতার নীক্ত

নি:সগ

স্বপ্ত ছিল য! মাঝে মাঝে প্রকাশ পেয়েছিল সিপাহী যুদ্ধে, নীল বিপ্রোহে, সাহিত্যে, কবিতায় সঙ্গীতে পরাধীনত। অন্যায় অত্যাচারের বিরদ্ধে মনে কখনও কখনও বিদ্রোহভাবষ জেগে উঠত, এমন মানুষও দেখ। গেছে, কিন্তু তার সংখ্য। ছিল অত্যন্ত কম

ইংরেজের ফিরিঙ্গির (এলো ইগ্ডিয়ান ) মধো ভাল লোক একেবারে ছিল না, একথা বলি না, কিন্তু অধিকাংশের ব্যবহারের মধ্যে থাকত অসহ্য গুদ্ধত্য পথিক পথে নিশিচ্তে চলেছে, হঠাৎ ধাকা খেল ব। গায়ে ছড়ির আঘাত পড়ল, দেখ। গেল গোর! সৈন্য বা ফিরিঙ্গী দেশী পথচাবীর অপমানে আত্মপ্রসাদ লাভ করে চলে যাচ্ছে৷

সমাজ ধন্মের নামে অপমানকর প্রথার বিকদ্ধেও বিক্ষোভ কম জাগত না। মানুষে মানুষে অধিকার ভেদে মন ক্ষুব্ধ হত। তখন বিদ্রোহের বাণী কেউ শোনায়নি, তবু শিশু মনে স্ত্প্ত আত্মসম্মানযোধ প্রতিবাদে জেগে উঠত। একটি ছোট্ট ঘটনায় তার কিছু হয়ত প্রকাশ হবে। প্রাইমারী স্কুলে অন্নপূর্ণী পুজায় একটা পদ্ণর আড়ালে দেবীর ভোগ হচ্ছে। শিশু স্বলভ ওৎস্থক্যে সে দিকে যাচ্ছিলাম, পণ্ডিত মশায় নিষেধ করলেন কারণ জিজ্ঞাসা করায় উত্তর পেলাম. শুদ্রের ভোগ দেখা নিষেধ সোজা প্রশ্ন করলাম, ছেলের দৃষ্টিতে মায়েব ভোগ অশুদ্ধ হয়, কেমন কথা! সে দাগ কত গভাব ভাবে লেগেছিল, তার প্রমান শিশুকালের এই তুচ্ছ কথাটা আজও ভুলতে পারিনি এই শাস্বীয় আচারের পুভাব,

নিঃসঙ্গ

তীব্রতায় কিছু হাস পেলেও আজও দেশে লুপ্ত হয়নি এই সকল অকল্যাণের কৃত্রিম ভেদ দেশ থেকে কষে লোপ পাষে জানি না।

তবে কাজে নিয়ন বর্ণে বিদ্রোহ ভাবের অপেক্ষা হযত উচ্চ বর্ণের উদ রতার বেশী প্রয়োজন চৈতন্যের জন্ম উচ্চ বর্ণে, কিন্ত তার মত সমাজ বিপ্লবী কজন এসেছেন। সে দিনও যে শরৎ বাবু সাহিত্যেব মধ্যদিয়ে সমাজেব মুখোস খুলে দিয়ে গেলেন, তারও জন্ম উচ্চ বর্ণে। আজ যে জাতিভেদ এক জাতি

গঠণে অন্তরায়, তার সার্থকতা কোথায়, বুঝিনা ভারতে অনেক কিছু আছে য। মহান, কিন্তু যা মন্দ ছুবলতার কারণ, তা৷ এড়িয়ে গেলে চলবে কেন? নহিলে আমরা এতকাল পরাধীন ছিলাম কেন? দ্বিজ-শিশু পৈতা পবে জন্ময় না, যেমন ধনীর শিশু সোনার ফুলে ভূমিষ্ঠ হয় না, সবাই আসে মানব-শিশু রূপে

আরও একটা ক্ষুদ্র ঘটনার কথা না বলে পারি না।

স্কুলে নিয়ম ছিল প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারলে সাজা হযে ক্লাসের সকল ছেলেই একটী প্রশ্েব উত্তর দিতে পারল না, শুধু আমার উত্তর সঠিক হ'ল। ভুকুম হ'ল, সকল ছাত্র ফ্াড়িয়ে থাকে আমি একধার থেকে তাদের কান মুলে দোষ। তারা আমার সহ পাগী, ভাই ! শুধু বুদ্ধি কম বেশী বলে সাজ হবে কেন! অন্যায় আমার দ্বারা হযে না। এই কথা ধলায় অবাধ্যতার অপরাধে ছুহাতে থান ইট নিয়ে “চেয়ার বসার সাজা পেতে হল। শরীর ছিল ছূর্বল, একটু পরেই কাপতে কাপতে পড়ে গেলাম জ্ঞান হয়ে দেখি শিক্ষক হাওয়া

নিঃসঙজ

করছেন, ছেলেরা উদ্দিগ্ন মুখে চেয়ে আছে। ভাবি, শিক্ষক মহাশয় কত ভালবাসতেন, তবু ওই অন্যায় সাজ। দিয়ে ছিলেন কেন ? উত্তর খু'জে পাই না মেধাধী ছাত্র দিয়ে অমেধাবীদের অবমাননা করা হযে, যেমন উচ্চ জাঁতি বিশেষ স্ুযিধা ভোগের অধিকারী থাকবে, ধনীর সন্তান গরীষ ছেলেদের ভাই ষলে ভাবষে না। সব অন্যায় কি করে সহা হয়?

জীবনের এমনি ছোট ছোট ঘটনা না লিখে পানি না। নিজের পরিচয় দিতে নয়, লিখি শুধু একটা সাধারণ বাঙালী ছেলের কথ। | বাঙ্গলার মনেব আকাশে অতি ক্ষীণ যে আলোক দেখ দিতেছিল, ক্রমে, বিরুদ্ধ শক্তির চাপে স্তিমিত না হয়ে কেমন করে বাঙ্গলাব ক্রমে ভারতের কত মনে সে আলো ভ্বালিয়ে দিলে

রুশ জাপানে যুদ্ধ হ,ল, অতিকায় রুশিয়া পরাজিত হল জাপানীরা পোর্ট আর্থার দখল করল 1 বেঁটে এসিয়াবাসী বৌদ্ধ জাপানী, আমাদের মত মাছ ভাত মূল খায়, তাব কাছে দৈত্যাকাৰ শ্বেতকায় রুশিয়ানদের হাব হতে ভাবলাম, আমরা একদিন ইংরেজদের হারাতে তাড়াতে পারব | ছিলাম এমন আশা- বাদী। ১৯০৪ সালে বুটিশরাজ বাংলা দ্বিখপ্ডিত করল তারই প্রতিবাদে জেগে উঠল বিদেশী বয়কট্‌, স্বদেশী আন্দোলন বন্দেমাতরম্‌ মন্ত্র নেতৃত্ব নিলেন সুরেন্দ্র ব্যানাজ্সি, বিপিন পাল। কলেজ ক্কোয়ারে বক্তৃতা করতেন লিয়াকৎ হোসেন আদি স্নেকালের স্মরণীয় দেশ ভক্তগণ

নিঃসঙ্গ

যে ইংলগ্ড বাংলার চরখা তাত ধ্বংস করে এই দেশটাকে ল্যাঙ্কাসায়ারে প্রস্তুত কাপড়ের বাজারে পরিণত করেছিল, সেই ইংলগু তার বাজার হারাতে স্থুরু করল দেশে স্বদেশী মিল চলল। জাতীয় ব্যাংক, জাতীয় শিক্ষাপরিষদ আদি প্রতিষ্ঠিত হল

১08 আত্নেন্তি সমিতি

“পুণ্যে পাপে ছুঃখে স্থখে পতনে উথানে

মান্গষ হইতে দাও তোমার সম্ভানে

হে নেহান্ত বজগ ভূমি”

রবীন্দ্রনাথ

তখন আমার বাব বৎসর বয়স। নন্দদা আমায় নিয়ে গেলেন বহুবাজার ভরদ্বাজের মাঠে খেলাৎ চন্দ্র শাখা স্কুলের প্রাঙ্গনে “আত্মোন্নতি” সমিতিতে এর ইতিহাসের কিছু বিপিনদার কাঁছে শুনেছিলাম বাকী কথা বলবেন বলেছিলেন, কিন্তু সে বলা আর হয়নি। তাই যেটুকু শুনেছি, এখানে বললে, আশা করি অপ্রাসঙ্গিক হবে না।

আত্তবোন্নতি সমিতি প্রথম স্থাপিত হয়েছিল, মধ্য কলিকাতায় ওয়েলিংটন স্কোয়ারের উত্তর-পুর্ব কোনে, যেখানে খেলাৎ চন্দ্র ইন- স্টিট্যুসন ছিল, সেই বাড়ীতে প্রথম উদ্দেশ্ট ছিল, রামায়ণ, মহা- ভারত, গীতা, চণ্ডী, ম্যাজিনি গ্যারিবল্ডি চরিত ইত্যাদি ধর্মাত্বক দেশাত্মক পুস্তক পাঠ তার আলোচনার মাধ্যমে মানসিক অনুশীলন তখন পথে ফিরিঙ্গিরা অত্যাচার, অপমান করত, আত্মমধ্যাদা রক্ষণ প্রতিবিধান শুধু মানসিক উন্নতিতে

নিঃসঙ্গ

অসম্ভব বলে সভ্যদের মনে হল, অন্তর মনের সঙ্গে শরীর চারও প্রয়োজন কম নয়। লর্ড নামে এক ফরাসীকে পাওয়া গেল বক্সিং শিক্ষক রূপে ইংরেজ ফিরিঙজ্গিদের উপর ছিল তার জাতিক্রোধ, তাই সে বাঙ্গালীদের আপন ছাত্র করে নিলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে মনে পড়ে সতীশ মুখাজী, হরিশ শিকদার, ভূষনেশ্বর সেন রাধারমন দাস নিষারণ ভট্টাচাধ্য রাধাকুমুদ ধাবুর নাম কিছু শিক্ষার পর ফিরিঙ্গিদের সঙ্গে মারামারি হলে, তাদেরই মার খেয়ে পালাতে হস্ত বাঙ্গালীর জাতীয় আত্মসন্মাম রক্ষা পেত। পরে বিপিন দা, প্রভাস দা, ইন্দ্র দা আদি অনেকে যোগদান করে সমিতিৰ নৃতন প্রাণ সধণার করেন আমি যখন সমিতির সভ্য হই, তখন ওয়েলিংটন স্কোয়ার থেকে সমিতি খেলা চন্দ্রের শাখা স্কুলে যৌবাজারে স্থানান্তরিত হয়েছে প্রথম ধৈকালে যখন সেখানে উপস্থিত হলাম, দেখি কয়েকজন বালক যুধক, তাদের অনেকে বাশেব বড় লাঠি ঘোরাচ্ছে বা পরম্পর মারের খেলা খেলছে কেউ কেউ হাতে গ্লাভস পরে পরস্পব বক্সিং লড়ছে, কেউ ছোরা খেলছে, ডন বৈঠক দিচ্ছে, কেউ বা কুস্তি লড়ছে। পূর্ধ্বে এক মহরমে মুসলমান ছেলেদের লাঠি ঘোরান দেখতাম, ভাবতাম, কি বীরত্ব! বাঙালী হিন্দুর ছেলের! লাঠি ঘোরায় এটা যেন অবিশ্বাস্য ছিল। আমিও প্রতিদিন সমিতিতে গিয়ে সকল রকল ব্যায়াম ক্রীঢা কৌশল আয়ত্ব করতে লাগলাম, ভবিষ্যতে অনাগত যুদ্ধের সৈনিক হবার প্রাথমিক প্রস্তরতির জন্য |

নিঃসঙ

বিপিন দা বলেন, বাঙালীর নামে ভীরুতার, অপবাদ ছিল। ব্লকম্যানের ভূগোলে লেখা আছে বালী ডোসাইল জাতি আর অভিধানে ডোসাইল মানে লেখা, নীরহ, যেমন গরু, ভেড়া, ছাগল ইত্যাদি। তার মনে সেই যে দাগ লেগেছিল, সে দাগ জীবনে মুছল না সে দিন তরূণ মনে প্রতিজ্ঞ! জাগল, বাডালীকে বলিষ্ঠ হতে হবে, সাহসী হতে হবে, কবি দিজেন্ত্র লাল যেমন বলে গেছেন, “আমর! ঘুচাব মা তোর কালিমা, মানুষ আমরা নহি মেষ।” বিপিন দ। আজীবন নিজে সেই মানুষ ছিলেন আর তার সব চেয়ে বড় দান, অগণিত সেই দেশপ্রেমী মানুষ যাদের গঠন করে দিয়ে গেছেন, যারা সারা ভারতে বাঙাল! দেশের জন্য সম্মানের আসন স্থজন করেছে আজও বাঙালী অনেক পশ্চিমাদের মত অর্থ সম্পদে ধনী হতে পারেনি, সত, শুধু অর্থসঞ্চয়ের পারদণিতা একট জাতের আদর্শ থাকে কিনা, গভীর সন্দেহের বিষয় কিন্ত যে জাতের ত্যাগ আছে, সাহস আছে, দেশের জন্য কুচ্ছ সাধন রণ করতে যে জাতে মানুষের অভাব হয় না, সে জাতের আসন কারূর নীচে নয়।

আশুদা ছিলেন লাঠির ওস্তাদ প্রভাস দা শেখাতেন ছোরা খেল। জুজুৎম্থ, রাজমোহনদ। ঘিপিনদ। ছিলেন বক্সিংএর অশেষদা ছিলেন পাতারের শিক্ষক প্রতি রবিবার সকলে বাবু ঘাটে সীতার শিখতাম। খেলার মধ্যে ঢাপসা কপাটী ছিল প্রিয়। ওতে পয়সা খরচ ছিল না, খালি গায়ে মালকোচ। বেঁধে নেমে গেলেই হ'ল।

নিঃসজ &

পয়সা তখন কোথায় পাব! আমরা অধিকাংশ ছিলাম গরীব বাঙ্গালী ছেলে কিন্তু আনন্দ বা দেহ গঠনের পক্ষে এই বিন। পয়সার খেলাগুলি কিছু কম উপযোগী ছিল না। আজকাল খেলার আনন্দ আয়োজন অর্থব্যয় সাপেক্ষ এটা দরিদ্র দেশের পক্ষে ভাল কি? এসব ব্যয় বুল খেলার কতট সাধারণের আয়ত্বের মধ্যে আর কতটা ধনী বিদেশীয়দের অনুকরণে গ্রহণ কর! হয়েছে, এটা ভাববার বিষয়। জাতীয় খেল। শুধু ধনীদের জন্ হতে পারে না। আজ দেশ রক্ষণের আয়োজনে সাধারণ লোকের মধ্যে যে দেহচচ্চার প্রয়োজন, যা সৈনিক হলে কাঁজে লাগতে পারে, তা৷ দেখতে পাই না। লক্ষ লক্ষ লোক বহু অর্থব্যয়ে খেলা দেখে আনন্দ উপভোগ করতে যায়। দুঃখ নাই। কিন্তু নিজেদের দৈহিক অনুশীলন কোথায় ? কাল যদি দেশ শত্রর দ্বারা আক্রান্ত হয়, শুধু মাহিন। করা সৈনিকদের দিয়ে দেশ রক্ষ। সম্পূর্ণ সম্ভব হতে পারে কিন! সে বিষয় যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে।

রোগা শরীর, সমিতির কল্যাণে, পেশীবছল হয়ে উঠল্‌, স্বাস্থ্যের হল যথেষ্ট উন্নতি। বার্ণহাডি নামে একজন জার্মীণ মনম্বী বলেছিলেন, বলিষ্ঠ জাতি গঠন করে ড্রিল মাষ্টার স্কুল মাষ্টার, একজন গড়ে শারীরিক শক্তি অপরে গড়ে মানসিক সকল উন্নতির ভিত্তি হল ছুটি। দুর্বলত৷ নিরবুদ্ধিতার উপর নৈতিক বা আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব নয় ইতিহাসে দেখি

১০ নিঃলছ

মুষ্টিমেয় বিদেশী এসে আমাদের দেশ জয় করল, প্রতিরোধের জন্য লোকের না ছিল শক্তি, না ছিল চেষ্টা। কিন্তু নেপোলিয়ন যখন মক্কোর অবরোধ করেছিল, ফরাসী ইম্পিরিয়ল আমি ধবংস করতে বাঁধ। মাহিনার সৈন্যদের অপেক্ষা] সাধারণ রুশদের গেরিল। বাহিনীর কম কৃতিত্ব ছিল না। সেদিনও হিটলারেরও অজেয় বাহিনীর পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল অধিকাংশ গেরিল। রুশদের আক্রমণে ভারতের মুক্তি সংগ্রামে শুধু নেতাজীর জাতীয় বাহিনী নয়, শুধু সংঘবদ্ধ অহিংস কংগ্রেসী শক্তি নয়, জন সাধারণের সাহু শক্তি গেরিল। বাহিনীর মত সাম্রাজ্য ধ্বংসে কম কাজ করেনি। তাই মনে হয়, অনুশীলন, যুগান্তর আত্মোন্নতি আদি সমিতির মত আজ ম্বাধীন ভারতেও যদি সর্বত্র দেহ মন গঠনের উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে ছেয়ে যায় তবে দেশ তাতে অনেক এগিয়ে যাবে। কিছু না হলেও, ভবিষ্যাতে যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা যদি নাও আসে, তবু স্বাস্থ্য সম্বদ্ধে দেহের অনেক উন্নতি হবে। দুচারট] লোকের পেশী দেখে কত উন্নতির মাপকাঠি পাওয়া যায়, জানি না, যদি জনগণের সাধারণ ভাবে উন্নতি না হয়। অল্প জনের অতি উন্নতির চেয়ে বহু লোকের স্বল্লোন্নতি বাঞ্ছনীয়।

সমিতির প্রতি প্রবল আকর্ষণ অনুভব করতাম, এমনকি পরীক্ষাদিনেও ব্যায়ামের জন্য উপস্থিতির ব্যতিক্রম হত না। মধ্যে মধ্যে বাধা পেতাম বাবার কাছে, যখন লাঠির আঘাঞ্জে

নিঃসঙ ১১

মাথার ফোল] জায়গাট] দেখে ফেলতেন। বলতেন, কোন্দিন মাথ। ফাটাবে, লাঠি ন! খেলে শুধু ব্যায়াম কর। শুধু ব্যায়ামে শরীরে পেশীগঠন হতে পারে, সত্য, কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সৈনিকের আত্মরক্ষা আক্রমণাত্মক সকল রকম অনুশীলন ন| করলে চরম উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে কেমন করে! বন্দুক ধরে হোক, লাঠি ঘুরিয়ে হোক, ইংরেজ তাড়িয়ে দেশের স্বাধীনতা আনতে হবে! দেশ অপেক্ষা করে থাকতে পারে ন]। তখন মায়ের শরণাপন্ন হয়ে বলতাম, মাথা বাঁচিয়ে সাবধানে চলব, বাবাকে বল, যেতে দিতে শেষ সাবধানতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, চোখের জল, মুখে হাসি নিয়ে ছুটে যেতাম সমিতিতে অবশ্য সেদিন থেকে দেহ যে অক্ষত থাকত, সে কথা বলতে

পারৰ না। হেমচন্দ্রের কবিতায় পড়তাম, “বজরে সিঙ্গা বাজ এই রবে সবাই স্বাধীন বিপুল ভবে সবাই জাগ্রত মানের গৌরবে ভারত শুধু ঘুমায়ে রয় ।£ তখন সার। দেহ মনে যেন বৈদ্যুতিক শিহরণ জাগত

আবার যখন পড়তাম, এই কথা বলি মুখে সিঙ্গ তুলি শিখরে দাড়ায়ে গায়ে নামাবলি নয়ন জ্যোতিতে হানিল বিজলী বদনে ভাতিল অতুল আভা!”

১২ নিঃসঙ্গ

তখন মানস পটে কল্পনায় উত্তামিত হত স্বামী বিবেকানন্দের শান্ত সমাহিত সৌম্য বীরের রূপ। মনে উদয় হত শিবজী- গুরু রামানন্দের মুত্তি। মনে সর্বাধিক প্রভাব বিস্ত/র করেছিল খষি বঙ্কিমচন্দ্র বই গুলি, তার রাজসিংহ? দেবী চৌধুরাণী, আনন্দমঠ | বালক মনে স্বপন দেখতাম, অশ্বার্ট! শান্তি, ভবানন্দ, জীবানন্দ, সত্যানন্দ ঠাকুরের পাশে তলোয়ার ঘুরিয়ে ইংরেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, আর মুখে বলছি “হরে মুরারে, বন্দেমাতরম্”। স্বপন দেখতাম, ইংরেজদের আরাবল্লী গিরি সঙ্কটে অবরোধ করেছি, তার! শুধু একখানি জাহাজ ভিক্ষা চ।ইছে এদেশ ছেড়ে ইংলগ্ডে ফিরে যাবার জন্য | “তোমরা তোমাদের দেশ শাসন কর, আমরা আমাদের দেশ শাসন করি, এই হ'ল ভগবানের ইচ্ছা, আর কখনও আমাদের দেশ শাসন করতে এসে! না” এই কথা বলে তাদের সে প্রার্থন! মজুর করছি

টডের রাজস্থানের রাজপুত বীরত্ব কাহিনী পড়তে বিশেষ ভাল লাগত মেবারের বীরত্ব গাথ! পড়তাম কবি দ্বিজেন্দ্র লালের গান গাহিতাম,

“মেবার পাহাড় শিখরে তাহার রক্ত নিশান ওড়ে না আর ॥১

রাণ! প্রতাপের লে কঠোর ছুঃখ বরণ, সেই বনে জঙ্রলে পর্বতে কন্দরে ভ্রাম্যমান জীবন, সে ঘাসের বীজের রুটা খাওয়া, তার সেই প্রিয় অশ্ব চৈতকের মৃত্যু, সে সকল অপূর্ব

নিঃসজ ১৩

কাহিনীতে মন ছুলে উঠত। দুঃখও হ'ত, এই বীরত্বের সজে যদি তাদের থাকত একতা, এক জাতিত্ব, ভারতের ইতিহাস হ'ত অন্যরূপ। একত্ব, জাতিত্ববিহীন বীরত্ব কোনও কাজে লাগেনি।

তারপর সেই মহারাষ্ট্রবীর রাজধি ছব্রপতি শিবজীর নেতৃত্বে গৈরিকপতাকা তলে তীদ্রধী ছুর্জয় সাহসী সে মহারাষ্ট্রজাতির উত্থান কথা পড়তাম। রমেশ দত্তের মহারাষ্টু জীবন প্রভাত, জীবন সন্ধ্যা পড়তে পড়তে চোখে জল ভরে আসত, বুক ফুলে ফুলে উঠত ভাবতাম, কোথায় গেল সেই সর্বভারতীয় মহারাষ্ট্রের কল্পনা বড় বড় রাজা, মহারাজার উত্থান হ'ল, পতন হ'ল, কঠোর সাধন] থেকে বিলাসিতা ভোগের পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হ'ল। এক জনের যখন সর্বনাশ হচ্ছে, অপর জন শঁ্রুকেই হয়ত সহায়তা করছে বা নিলিপ্ত ভাবে জাতি ভায়ের পরাজয় দেখছে, দেশ চলে যাচ্ছে বিদেশীর কবলে শিখ জাতি জেগে উঠল, এল রণজিত সিং গুরু গোবিন্দ, আবার তার! ঘুমিয়ে গেল। পর্তুগীজ এল, ফরাসী এল, ইংরেজ এল, এলন। ভারতের এক জাতিত্ব। ক্রমে সারা দেশ হয়ে গেল বিভক্ত আত্ম বিস্মৃত অচেতন ইংরেজের দাস।

পড়ানোর জন্য আমাদের কোনও গুহ শিক্ষক ছিল না। স্কুলের পড়া নিজেই তৈরী করতাম, তবে বাবা, সারাদিনের কম”ক্লান্তির পরেও, পড়াতেন তিনি মহাভারত রামায়ণ পড়াতে ভাল বাসতেন। তাকে “আপনি” বলতাম না, “ভুমি”

১৪ নিঃস

বলতাম সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মত। যখনই জীবনে কোনও দুরূহ সমস্যার সম্মুখীন হ'তাম, তিনি গীতার মর্মবাণী বুঝিয়ে দিতেন, তোমার কম” তুমি করে যাবে, কে কি বলল, কি ফল ফলল সেটা! বড় কথা নয়। তীকে মনে হত “ছুঃখেষু অনুদ্িগ্রমনাঃ স্থথেষু বিগত স্পৃহাঃ বীতরাগ ভয়ঃ ক্রোধ,

মাথা নত না করে অন্যায়ের প্রতিরোধ করার প্রেরণ। পেয়ে ছিলাম, প্রথম তার কাছে। মা যখন মারা গেলেন, তখন আমার বয়স তের। পরে বাবা, মা বাঝ। ছুয়েরই স্থান নিয়েছিলেন

বাড়ী ছিল মেসের মত। পুরাতন এক ঝি ছিল, ছোট থেকে তার হাতে মানুষ হয়েছিলাম, তাই আমাদের “তুই? বলত প্রচুর স্সেহ করত। পরিচ্ছদে ছিলাম অত্যন্ত সরল বাড়ীতে প্রায়ই জুতা ব্যবহার হ'ত না জামা গায়ে উঠত না| শীত বোধ হলে কাপড়ের খুট বা কৌচার অংশ গায়ে জড়িয়ে নিতাম শয্যার জন্য একটা শতরঞ্চিই হ'ত যথেষ্ট, বয়স স্বাস্থ্যের গুণে হাতে মাথা রেখেই গভীর ঘুমে সারা রাত কেটে যেত। ভোগ বিলাস পছন্দ করতাম না, তার জন্য সঙ্গতিও ছিল কম!

ভগবান দেবদেবীতে বিশ্বাস ভক্তি ছিল গভীর। সকলের অপেক্ষা অধিক ভাল লাগত মহাদেবকে অন্যান্য দেবদেবীকে স্পর্শ করতে পেতাম ন! কিন্তু মহাদেবকে স্পর্শে বাধা নাই, যেন নিতান্ত আপন

দাদার] মাছ মাংস খেত না ধর্ম সংস্কারে নয়, অহিংসার

নিঃসজ ১৫

জন্য।. একদিন মেজদা কাট। কই মাছের কষ্ট দেখে কেঁদে মাকে বলে, মা আমি মাছ খাবন।। ওদের কষ্ট হয়না? মেজদার বয়স তখন সাত বসরের অধিক নয়। সেই. থেকে মেজদা] আজীবন আর মাছ মাংস খায় নি। আমি দেখাদেখি নিরামিশাষী হয়েছিলাম বাইশ বগসর বয়সে যখন জেলে যাই, প্রায় ততদিন পর্যান্ত। জীবের কষ্ট আমিও সহা করতে পারতাম না। এটা জীবে প্রেম বা ছুর্বলতা, বুঝি না। কতদিন ভেবেছি, হিং বিপ্লবে শুধু মরা নয়, মানুষ মারার প্রয়োজন আছে পথ আমাকে কেমন করে আকর্ষণ করল! কতিপয় দেশের শক্র নিধন করে দেশের কোটী কোটা লোকের মৃতবৎ দুর্বহ জীবন থেকে উদ্ধার পূর্ণ তর করে তোলার মধ্যে যে হত্যার প্রয়োজন, তাতে নিষ্ঠুরতা শান হয়ে যায়। কয়েক জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বছ জীবনের পথ খুলে যায়। মন গেয়ে উঠত, “সবাই স্বাধীন, সবাই প্রধান, ভারত শুধুই ঘুমায়ে রয়।”» আশ! হত, বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মনের হুর্বলতা, কোমলতা হ্রাস পেয়ে ক্রমশ সবল নির্মম হয়ে উঠতে পারব।

সমিতির কয়েকজন সভ্য নিয়ে আমরা একটী সেবাদল গঠন করে ছিলাম কারুর অস্তরখ করলে, পালা করে রাত্রি- জাগরণ সেবারভার নিতাম। পল্লীতে যদি কেউ ভিথারী ভোজন করাত, সেচ্ছাসেবক রূপে দলবদ্ধ ভাবে সে কাজে সহায়তা করতাম।

১৬ নিঃস

প্রতি শনিবার সমিতিতে আলোচন! সভা বসত। প্রথম যেদিন যোগ দিই, রামায়ণ সম্বন্ধে কথা হচ্ছিল। তখন আমি তের বশসরের বালক, সভাপতি কর্তৃক অনুরুদ্ধ হয়ে যখন উঠলাম, আমার পাছুট। থর থর করে কাপতে লাগল সারা দেহ ঘামে ভিজে গেল। কোনওরূপে বলে ফেললাম, রাবণ মৃত্যু সময় বলেছিল, সৎকর্ম করতে বিলম্ব করোনা অসগকম' স্থগিত রেখো ত'র বাসন! ছিল, স্বর্গের সিঁড়ি গড়ে দেবে, কিন্তু সেট! আর হ'ল না। কিন্তু সীতা হরণরূপ অপকর্ম করতে এক মুহুর্ত বিলম্ব ব1 দ্বিধা! করলে না। তাতে নিজে মরল, স্বর্ণ লঙ্কাও ধবংস হ'ল। বলা শেষ করে বসতে সভাপতি সতীশ যুখাজা মহাশয়ের প্রশংসায় মনে সে কী আনন্দ!

সেখানে শুনতাম বিলাতে ভারতের শক্র বর্জন, উইলীকে হত্য। করে ধিং ংড়ার আত্মদান কথা, বীর সভারকরের কাহিনী? পড়তাম স্থুইজারল্যাণ্ড হতে প্রকা কাশিত ম্যাডাম কামার “ইনডিপেগ্ডেন্প _পুত্রিকার_ দেশ প্রেমের - দৃপ্তবাণী।, ব্রহ্মাবান্ধব বান্ধব উপাধ্যায়ের 'সন্ধ্যা” পড়তাম, মায়ের মুক্তির জন্ত সরল, ভাষায় সে কী উত্তেজন! না স্গ্ি করত!

সমিতির দাদাদের কাছে ন্মেহ পেতাম খুব, কিন্তু সে ন্নেহে কোমলতায় বিশেষ সিক্ত ছিল না, বরং ছিল নিম'মতায় কঠোর বক্সিং শেখাতে বিপিনদ মুখে মারলেন ঘুষি, ঠোট কাটল, রক্ত পরল বুকের উপর টেনে নিয়ে আদর করে বল- লেন, “দেখ, একটু মার না খেলে শক্ত হবি কি করে ? ময়দানে

নিঃসজ ১৭

বিপিনদার সঙ্গে চলেছি, সমুখে কাদাজলভর! নালা, একটু ঘুরে গেলে শুশ্বস্থান দিয়ে যেতে পারি, বিপিনদা বলে উঠলেন, নালাটা লাফিয়ে পেরিয়ে যাঃ না হয় কাদায় পড়বি, নহিলে চিরজীবন সাহসের সঙ্গে বিপদের সম্মুখীন ন৷ হয়ে পাশ কাটাবার বদ অভ্যাস হয়ে যাবে, ভীরু হয়ে যাবি। লোকে বলে, ওটা স্ববুদ্ধির পরিচয় নয়, সময় সময় এর জন্য বিপদেও পড়িনি তাও নয়, তবু তার সেই বন্ুকাল পূর্বের শিক্ষার প্রভাব জীবনে ক্ম পড়ে নি। বহুবাজার ছুর্গাপিথুরী লেনের বাড়ীর দেওয়ালের বালী খস। ছোট্ট ঘরটীতে বসে তার কাছে দেশাত্ম বোধের কত কথা শুনতাম। বীর পিংলে বিদেশী অত্যা্ারী ম্যাজিস্ট্রেট র্যাগুকে পুনায় গুলি করে ফাসিকাঠে মৃত্যু বরণ করল। পড়তাম সখারাম গণেশ দেউস্বরের দেশের কথা, ম্যাজিনি, গারিবল্ডি কাভুর সন ইয়েৎসেন ইত্যাদির জীবনী, অশ্বিনী বাবুর ভক্তিযোগ | বিপিনদার মধ্যে যোগ যাগ অনুষ্ঠানিক ধমপালন, বা যাকে আমর সাধারণতঃ আধ্যাত্সিকত! বলি, তার বিশেষ কিছু দেখতাম না। অনেকে ভাবতেন, আধ্যাত্মিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত নহিলে দেশাত্ম জীবন অসম্ভব। কিন্তু তার জীবনে দেখতাম, দেশের শত্রু নাশ কি করে হবে, দেশের বন্ধন কি করে ঘুচবে, দেশের পরাধীনতার কালিম] কিভাবে মুছবে, তাকে জড় বাদ বল! যাক, আধ্যাত্মিকতা বলা যাক-_সার1 জীবনের অনুক্ষণ, তার সকল দেহ সকল মন এই সাধনায় দিয়ে গেছেন। আমাদের অনেক কিছু ছিল, কিন্ত বিপিনদার দেশ ছাড়া কিছুই

১৮ নিঃসল

ছিলনা আত্মা আছে কিনা, হ্বর্গ, মুক্তি, আছে কিনা, জানিন|। কিন্তু এট। জানি দেশের তরে তার সমগ্র জীবন দান আদর্শ, তাকে যার! দেখেছে তাদের মর্মে ম্মেবিরাজ করছে যারা তার স্পর্শে আসেনি বা দেশের ভবিষ্যতে যে মান্গষ আসছে, তাদের অন্তরের মধ্যে আমাদের বিপিনদ! বিরাজ করবে। দেশের মঙ্গলের নিষ্ঠার আলো নিভে যাবে ন1। ভারতের রাত্রীয় মুক্তির জন্য এই রকম কয়েকটা মহামানবের আবির্ভাব হয়েছিল, ধাদের কেহ কেহ হয়ত ইতিহ।সের পাতায় অন্ভ্াত থেকে যাবেন, কিন্তু দেশের জীবন ধারায় তাদের আদর্শ, আত্মার মত বিরাজ করবে প্রবাহিত হবে ভবিষ্যতের পানে তাই শরগুচন্দ্র বলেছিলেন, বাংলাদেশে বিপিন গাঙ্গুলীকে যে চেনে নাসে যেন নিজেকে বাঙ্গালী বলে আত্মপরিচয় ন! দেয়। -_ দেখেছি প্রভাসদ1 (১) কে। যেমন বুদ্ধিদীপ্ত প্রশস্ত কপাল তেমনি উদার হৃদয় প্রফেসারি করে, যা উপার্জন করতেন, তার অধিকাংশ দিতেন সমিতির কাজে মলঙ্গার আত্মোন্নতির যে শাখা! সমিতি ছিল, তাতে চালক ছিলেন, অনুকুূলদা, গিরিনদা, কালী দাস বোস, নরেন ব্যান্যাজি ইত্যাদি দেশপ্রেমের এক একটা জ্বলন্ত প্রতীক। ছিলেন অনুকূলদা, (২) সদা হাশ্যমুখ দুর্জয় সাহসী, ছিলেন গিরিনদা (৩) অগাধ পাঞ্চিত্যের সহিত তীত্ববুদ্ধি, যেন এযুগের চাখক্য | ইন্দ্রদাকে (8) বড় ভাল লাগত তাকে দেখে মনে হত আনন্দমঠের সন্তানদের

নিঃসজ ১৯

মত যার! কোনও গভীর বনে বন্দুক কামান বোম। আদি যুদ্ধান্ত প্রস্তুত করছে তিনি তাদের একজন, ইন্দ্রদা আমাকে সেথায় নিয়েগিয়ে দেশমাতার সেবার স্রযোগ দেবেন কি! তিরিশে আশ্বিন, রাখিবন্ধন, সকালে গঙ্গান্নান করে হাতে রাখি বেঁধে প্রোসেসনে গান গাইলাম, “আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে”। গাইলাম, «আমর! সাতকোটা ভাই, সাতকোটী বোন, আমরা নয় কম, বল ভাই বন্দেমাতরম্‌ দুপুরে অরন্ধন বলে দুধ চিড়া খেলাম। বৈকালে ফের প্রোসেসনে বেরুল।ম, গাকিলাম। “যায় যাবে জীবন চলে মায়ের কাজে জগত মাঝে বন্দেমাতরম্‌ বলে ।” (১) রিপন কলেজের ইংরাজীর অধ্যাপক শ্রীপ্রভাদ চন্দ্র দে, থাকতেন মধ্য কলিকাতায় গোবিন্দ সরকার লেনে (২) শ্রীমন্গকুল মুখার্জির বাস ছিল মলঙ্গ! বহুবাজার (৩) শ্রীগিরীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাস ছিল মলঙ্গায় পরে বৌবাজার স্কুলের ছিলেন প্রধান শিক্ষক | , (৪) শ্রীইক্রনাথ নন্দী কর্ণেল নন্দীর পুত্র, বাস ছিল মধ্য কলিকাতা! কলেজ গ্রীটে (৫) শ্রীকালীদাস বোস, বাস ছিল মলঙ্গায়, এখন কাশীতে ধাকেন। দুই চক্ষু অন্ধ (৬) ৬শ্রীনরেন্ত্র নাথ বন্দ্যোপাধায়, বাস ছিল মলঙ্গায়, পরে দেশ সেবক রূপে ছিলেন বীরভূষে |

২০ নিঃসজ

বাগবাজ্ঞারে পশুপতি বোসের বাড়ীতে সভা হল জাতীয় ফেডারেসানের ঠাদা উঠল। আমাদের পকেট ভ্তি পাথর কুচিতে, সারকুলার রোডের রেললাইনের ধার হতে সংগ্রহ করা পুলিস যদি গুলি চালায়, বেয়নেট চার্জ করে, আমর সেই পাথর ছুঁড়ে লড়ব। সার দিনের ক্লান্তিতে অবসন্ন দেহে আবার চিড়া 'খেয়ে শুয়ে পড়লাম, তন্দ্রাচ্ছন্ন কে তখনও মৃদু স্বরে

গাইছি।

“মার্ক জনম আমার জন্মেছি ম। এই দেশে

ঘুমিয়ে স্বপন দেখছি, বুটিশের খড়েগ দ্বিখপ্ডিতা রুধীরাপ্নুত মা, বঙগজননী, রাজ রাজেশ্বরী স্থন্দরী মাতা নয়, আমার ছুঃখিনী বাংল। ম।, সিদ্ধ শ্যামল মুখ, ছুই চোখে অশ্রুধার|

অশেষদ1 রাজমোহনদা সাতার শেখাতেন। কিন্তু প্রতি রবিবারে গামছায় প্রচুর ভিজে ছোলা কিছু নুন আদা বেঁধে হেঁটে বাবু ঘাট যেতাঁম। দুই তিন ঘণ্টা সীতার কেটে ইডন উদ্ভানে গাছতলায় বসে বে পরিমান ছোল! খেতাম, একট। ছোট ঘোড়ার পক্ষেও তা নেহা কম হ'ত না। সীতার সেখানর পদ্ধতি ছিল অদ্ভুত। প্রথম রাজমোহনদ পেটের নিচে হাত দিয়ে ডুবজলে নিয়ে ছেড়ে দিলেন। যত হাত পা ছুড়ি, জল খেয়ে ফেলি, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, রাজমোহনদ কিছুতেই ধরেন না | কিন্ত্র এইরূপে তিন দিনে সাতার শিখিয়ে দিলেন। রাজমোহন দা] বললেন এরকম না হলে শিখতে অনেক দিন লাগত

নিঃসজ ২১

নৌকা বাওয়া শেখবার জন্য বড়বাজার ঘাটে নৌকা ভাড়া নেওয়া হ'ল। একজন মাঝি ছাড়া কেউ রহিল না, সে বসে রহিল, আমরাই ড় বেয়ে হাল ধরে খড়দায় গেলাম। সেখানে নোঙর বেঁধে একটা বাগানে খিচুণী পাক করে সকলে খাওয়া গেল। সে অমুতের আস্বাদ কিসের জন্য বলতে পারি ন1। তবে নুন ঝাল ঠিক পরিমিত থাকত কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ। কিন্তু তার মধ্যেও মধ্যে, মধ্যে, মনে আঘাত আসত সনাতনীদের দিক থেকে আমাদেরই টিকি পৈতাধারী একজন আলাদ] পাক করে খেলেন, একজাত হয়ে একত্রে থেতে কিছুতেই রাজি হলেন না। বুঝি না ভারতে একি অভিশাপ! একই দেশমাতার সন্তান, একসঙ্গে শত্রুর বিরুদ্ধে আমরা লড়তে পারি, একত্রে মরতে পারি, আহত হলে দেহের একই লাল রক্তের অত একধারায় মিলতে পারে, কিন্তু হাড়ি ছয়! ছুয়ির সংস্কারের প্রাচীর আমাদের এক জাতি হতে দেবেনা। এই নিজেকে এক বিভিন্ন উচ্চ স্তরের মানুষ অপরকে অধম ভাবার মধ্যে আধ্যাত্মিকতার ছল্মা বরণে মিথ্য। কুসংস্কারে কেউ দশ্তপুর্ণ নয়, কে বলতে পারে ! অবশ্য অধিকাংশ বন্ধুর মন এই পার্থক্য ভাব বা জাত্যাভিমান থেকে যে মুক্ত ছিল, এইটাই ভবিষ্যতের আশা, হয়ত ভারত এক দিন এই জাতিভেদের কুসংস্কার থেকে মুক্ত হতে পারবে। শুনেছি, আলাউদ্দিন থিলিজি সেদিন যুদ্ধে জয় লাভ করতে ন| পেরে সন্ধ্যায় রাজপুত ছাউনির দিকে হতাশ ভাবে তাকিয়ে সহচরকে

২২ নিঃসঙ্গ

জিজ্ঞাসা করলে, ওদিকে অতগুলি ধুয়ার কুণগুলি উঠছে কেন। বিভিন্ন জাতির অন্ন বিভিন্ন চুলায় পাক হচ্ছে শুনে বলে উঠল, তবে আমার নিরাশ হবার কারণ নাই। এরা একত্রে লড়তে, মরতে এসেছে কিন্তু এত ভেদ ! এই কুসংক্কারে সারা ভারতে জাতীর দেহে যে ফাটল ধরে আছে, তার মধ্যে যে ছুর্বলতার সম্ভাবনা, সেদিকে আমাদের অনেকেই দেখেও দেখতে ৮ান না। কোনকালে এর কি বিশেষ প্রয়োজনীয়তা ছিল জানি না, কিন্ত আজকের দিনে এর কোনও অর্থ আছে কি! এক ভারতীয় মুসলমান সেদিন আমায় জিজ্ঞাস! করল, ভাই আমি যদি হিন্দু হই, আমার কি জাত হবে, আমার ছেলে মেয়ের বিয়ে হবে কার মেয়ে ছেলের সঙ্গে মনে ভাবলাম, হয়ত আরও যে সকল মুসলমান হিন্দু হবে, তাদের সঙ্গে, কিন্তু একথ! মুখে বলতে পারলাম না৷ সামাজিক হস্কার দ্রুত সাধন করা কঠিন, কথ! মানি, কিন্তু আমাদের গতি এতই মন্থর, এই দুর্বলতার ফাকে সর্বনাশ যদি আবার আসে, প্রায়শ্চন্ত থেকে রেহাই পাব না। এই সনাতনী কুসংস্কার আমাদের “এক জাতি এক প্রাণ” হয়ে ভারতের গান গাইতে দেবে না। বুদ্ধ, চৈতন্য, গান্ধী আরও কত জন ভারতের চেতনায় নাড়া দিয়ে গেছেন, তবু উচিত মত পরিবর্তন আজও আনেনি, ভারত খগুনের মহা প্রায়শ্চিত্তের পরেও জন সেবা ছিল আমাদের কম-সূচি শিক্ষার অঙ্গ। গ্রহণে

২৩ নিঃসজ

বা যোগে ষ্টেশনে নদীর ঘাটে যাত্রীদের ভীড় হত, আমরা স্বেচ্ছাসেবকরূপে জনতার সেবা করতাম। জন্য স্বদেশী ছেলেরা জনগণের স্নেহের প্রশংসার পাত্র ছিল। সে বহুদিন পূর্বের কথা মনে পড়ে, বড়দা, মেজদা আমি, তিন ভায়ে রাত্রে সিয়ালদহ ফ্টেসনে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করছি তখন আমার বয়স চৌদ্দ হবে। মাল পত্র বহে যাত্রীদের গাড়ীতে তুলে দিচ্ছি। এক স্ত্রীলোক, তার ছেলেকে পাচ্ছিল না, ভীড়ে হারিয়ে গেছে, আমাকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে সেকি কান্না, পুত্রহার। মায়ের বুকের সে স্পর্শ বড় মিগি লাগলেও তাকে বলতে হল, আমি তার ছেলে নয়। ভূল ভাঙ্গতে আরও কান্না তার ছেলেকে খুজে বার করে দেওয়। হ'ল। রাত্রি প্রায় তিন্টায় বাড়ী ফিরিনি বলে বাবা চিন্তিত হয়ে ষ্টেশনে মিত্র মহাশয় নামক স্বেচ্ছাসেবকদের যিনি নায়ক ছিলেন তাকে আমাদের তিন ভায়ের বিবরণ দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, বলতে পারেন তারা কোথ।? নায়ক উদার হান্যে বাবাকে বললেন, আপনার তিন ছেলে ভলান্টিয়ার! আপনি সৌভাগ্যবান পিতা, ভাৰছেন কেন, নিশ্চিন্ত মনে বাড়ী যান। তার উন্নত বলিষ্ঠ দেহের রূপ এখনও মনে আছে যদিও পুর] নামটি ভুলে গেছি।

দেশ বলতে দেশের জনসাধারণ, চাষী বা যারা কায়িক পরিশ্রম করে খায়, তাদের ততটা মনে হ'ত না, গরীব মুসলমানদের দেশের লোক বলে ভাবতেই পারতাম না, দেশের

২৪ নিঃসঙ্গ

লোক বলতে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত লোকেদের কথা মনে জেগে উঠত। আনন্দ মঠে যেমন আছে এক মাতৃমুতির কল্পন। | বাস্তবের দৃষ্টিতে ভক্তির রঙ থাকত। দেশমা ৩1 শুধু অন্ন বস্ত্র মাটিছাড়া আরও কিছু কল্পনা এক মুসলমান রাজ মিস্ত্রি পল্লীর কোনও এক বাড়ীওলার কাজ করে টাকা পাঞ্জনি, খুব তাগাদা করছিল 'ভদ্রলোককে ছোটলোকে অপমান করে ভেবে সেই রাজমিস্্রির দাড়ীট] বাঁ-হাতে ধরে মোচড় দিয়ে তাকে ফেলে দিলাম। মে গরীব বুদ্ধমুখের ভীত চাহনি, লে দুঃখের দাগ, মন থেকে আজও মোছেনি। কেন অমন করে ছিলাম ! সে কাজ করে পারিশ্রমিক চেয়েছে, হয়ত গরীব বলেই ভদ্রলোকের কাছে টাকা পাচ্ছে না, আমার উচিত ছিল তার পরিশ্রমের মূল্য আদায় করে দেওয়া! এই আমাদের দৈহিক শক্তির সদ্‌ ব্যবহার! আজ কত রিক্সাওয়ালা, ঠেল। গাড়ীর কুলী বা ঝকা মুটেদের পথে ঘাটে অপমানিত হতে দেখি, শুনি তারা ভদ্রলোকের? সম্মান জানে না, আমার সেই পুরাতন অপ-বীরত্বের কথ। মনে পড়ে যার

পূজায় অষ্টমীর দিনে প্রাতে দেখা প্রতিমার সমুখে প্রণাম করে দীক্ষায় বসলাম একজন তীক্ষ ছোর! দিয়ে বুকের মাঝখানে অল্প চিরে দিতে একটু রক্ত বেরুল। বেলপাতায় সেটুকু মাখিয়ে দেবীর পায়ে অঞ্জলি দিয়ে বললাম, মা! আমার দেহ প্রাণ তোমার সেবায় উৎসর্গ হল। ওই দেবাই যেন দেশ মাতা।

নিঃসজ ২৫

সন্ধ্যায় সমিতির প্রাঙ্গনে বীরাষ্টমী উত্সব। সভ'নেত্রী এলেন শ্রীমতী সরলা দ্রেরী চৌধুর!ণী, শুভ্র সিক্ষের সাড়ী পরিহিত দেবী রাণীর মত হুংকার সমেত কত বড় লাঠির খেলা, কত বীরত্ব ব্যগ্ক তীক্ষ ধার তলোয়ার ঘোরান, বাক্সিং ফেন্লিং কুচকাওয়াজ দেখান হল, মনে হল, দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের জন্য প্রস্ততি আর অসম্পূর্ণ নাই, ঝাঁপ দিয়ে পড়লেই হয়। আমাদের অহিনদা (১)যখন সত্যানন্দ ঠাকুরের রূপে, মা যাছিলেন সেই পূর্বের রাজরাজেশ্বরীরূপ বর্ণনা করে বলতে লাগলেন, “দশভুজ1 দশ প্রহরণধারিণীং, আবার যখন ম। যা হয়েছেন “কালী? ! বলে আতম্বরে চেঁচিয়ে উঠলেন, তখন অন্তরে অন্তরে আমাদের সেকি শিহরণের দোল। লাগল, আজও ভুলিনি।

রাজ। স্থবোধ মল্লিকের ওয়েলিংটন স্কোয়ারের বাস ভবনে শিবজি উত্সব হল মার্থাজার সোর্ড খেলা, শিশির ঘোষ আশুদার বড় লাঠির মারের খেল! লাঠির স্ারবন্ধী ড্রিল, যেন দুই দল পরস্পর যুদ্ধ করছে রাত্রি পষন্ত কঙ কি ক্রীড়। কৌশলের প্রদর্শন হল। সভাপতি জমিদার পা'লচৌধুরী মহাশয় তার বাহুর পেশী দেখালেন, এসব দেখে বালক মনে ভাবতাম, ইংরাজের সাধ্য নাই দেশ পরাধীন রাখতে পারে। সভা শেষে আমাদের মলঙ্গ পল্লীর ছুর্গদা গাইলেন |

“আমায় দে ম! অসি।

সম্তানে অক্ষম ভেবে বল মা আর কত সবে

আধে বদনে শুধু নীরবে বসি।

২৬ নিঃসজ

যুগে যুগে মাগো তুমি। রণ সাজে সাজায়ে সমরে সন্তানে কত দিয়েছ মা পাঠায়ে আজ দেখে হৃদি বিদরে, বল মাগো কি করে অধোবদনে শুধু নীরবে বসি ।” সভাপতি মহাশয়ের অনুরোধে আর একখানি গান গাওয়া হ'ল, তার কয় ছত্র মনে পড়ে। “যদিও জনণী শাণিতে আমার কিছুই তোমার হবে তবুও গো মা পারি তা ঢালিতে এক বিন্দু তব কলঙ্ক খালিতে মিটাতে তোমার যাতন। আমায় বলোন' গাহিতে বলোন!। একি নয়নের জল হতাশের শ্বাস মিছে কথা শুধু ছলন11” পল্লীর এক গৃহস্থেব মা ছিলেন কাশীতে, তাকে আনবার লোক নাই, শেষে আমাকে যেতে হ'ল। ছুটি কম্মল. দুই খানি ধুতি কামিজ নিয়ে কাশী পৌছে পাণ্ার বাড়ী খুঁজে বার করলাম। কিন্তু পাণ্ড! মহাশয় স্থানাভাবের অজুহাতে থাকতে দিলেন না। তখন আমার বয়স ষোল দশাশ্বমেধ ঘাটে পুটুলী রেখে স্নান করলাম, দোকানে কিছু খেয়ে একটি ছেলেকে পথ প্রদর্শকরূপে সঙ্জে নিয়ে এল|ম রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে | বড়দ! বরাবর চাদ তুলে সেথাম় পাঠিয়ে দিত। অধ্যক্ষ ডাক্তার চারু

নিঃসজ ২৭

বাবু আমকে তাই সাদরে স্থান দিলেন আত” রোগীদের সেবা পরিচধ্যা করব। পনেরটি দিন অভিনব অভিজ্ভতায় কাটল। একটি বাঙ্গালী মেয়ে ছিল, তার কোমর থেকে পা পধ্যস্ত বিকলাঙ্গ, শুধু বসে শুয়ে দিন রাত্রি কাটাতে হ'ত। গভীর অনুকম্পায় মন ভরে যেত। গম্ভীর মুখে বলতাম, পর- মাত্মার চিন্তায় সময় কাটাতে সে ম্লান হাসত, হয়ত আমার উপদেশের মিথ্য। গান্তীষ্যে। আর একটি রোগীর মৃত্যু দেখলায়। সেই প্রথম দেখা, কেমন করে প্রলাপের মধ্য দিয়ে জীবন প্রদীপ ধীরে ধীরে নিভে এল হাসপাতালে ধীরেন্দ্র নামে এক ব্যক্তি জুটেছিল, সে তার বিধবা মা, ছোট বোনদের শিরাশ্রয় ফেলে রেখে ঠাকুরের কৃপা মুক্তি সন্ধানে চলেছে কাশীতে কয়েকদিন থেকে সে যাবে হরিদ্বারে, কর্ম- যোগ ছেড়ে জ্ঞান যোগের আকর্ষণে তাকে বললাম, মানুষের সেবা করন। কেন, চাও ভগবান মিলবে, সে বলল, ভগবানের কৃপা প্রথম লাভ হলে তবে মানুষের সেবার অধিকারী হওয়া যায়। তার কথা সেদিন বুঝিনি, আজও এমন কথ। শুনি, বুঝি বলে মনে হয় না। পনের দিন পর বুড়ীকে নিয়ে কলকাতায় ফিরলাম

মধ্য কলিকাতার ছেলে ইটের গাঁজার মধ্যে বড় হলেও, প্রকৃতির শোভায় কম অনুভূতি জাগত না। মনে ভাবি, হয়ত অভাবের জন্তই আকর্ষণ বেশী। ছুটির দিনে নিস্তব ছপুরে বাড়ীর ছাদে প্রাচীরের ছায়ায়, শুয়ে আকাশের নীলিমার পানে

২৮ নিঃসল

তাকিয়ে থাকতাম। দেখতাম চিলগুলির সাবলীল ভেসে যাওয়া, নিকটস্থ আম গাছে কত বুলবুলি আসত, মধ্যে মধ্যে তাদের ডাক কানে আস্ত। ময়দানে কোমল ঘাসের উপর শুয়ে গড়াভাম, বুকে যেন তাদের আলিঙ্গনের স্পর্শ পেতাম, কানে যেন শুনতাম তাদের অস্পষ্ট ভাষা। দিদির অস্থখে শিমুল- তলায় যেতে হয়েছিল ম্যাটিক পরীক্ষার পর দীর্ঘ অবকাশে বুর্দিন থেকে ছিলাম। 'আমিই হলাম সেথায় অভিভাবক | সঙ্গে ছিল চয়নিক।। অবসর থাকত প্রচুর আর মন থাকত প্রাকৃতিক কবিতার আবেষ্টনে