চাগাটি গন্ন

্ীগ্রথনাথ বিশী

0138০71 |] 0] || ||| || |

সুলয--৩৭ প্রথম সংস্করণ--১৩৬২

গ্রচ্ছদপট £ গ্রুব সেন

প্রকাশক :_ প্রীগোপালদাস মহুমদার, ডি, এম, লাইব্রেরী ৪২নং কর্ণয়ালিম স্ট্রীট, কলিকাতা

মুদ্রাকর ? হার. চা ঘোষ, গ্ঠামনুদদর প্রি টং ওয়ার্কস্‌ ২৬নং কর্ণওয়ালিস ট্রাট. কলিক্াা

চাশ্পাা্টি *্পচ্ত্য সিপাহি-যুদ্ধের কাহিনী

চাপাটি গল্প সিপাহিগখ কর্তৃক সঙ্কেতরূপে চাপাটি পদ্মফুল ব্যবহৃত হইত--. তাই বইথানার নাম চাপাটি পদ্ম।

পুর্বকথা

এই গ্রন্থের গল্পগুলি সিপাহিবিদ্রোহ ঘটিত। প্রথম গল্পটি কাল্পনিক। রবীন্দ্রনাথের গোরা উপন্যাসের গোৌরার জন্মবৃতস্ত আছে-_তাহাই উপজীব্য পরিবেশ কাল্পনিক নয়। বাকি এগারটি গল্প এই অর্থে এতিহাসিক যে সিপাহিবিদ্রোহের কোন না কোন গ্রন্থে গল্লাস্কুরগুলি পাইয়াছি। কেবল নানাঁসাহেব গল্পটিতে কিছু স্বাধীনতা লইয়াছি। কিন্ত ক্ষেত্রেও পরিবেশ কাল্পনিক নয়। এক বিন্দু ইতিশাসের সহিত এক কলসী কল্পন! মিশ্রিত করিলে আর যাই হোঁক গ্রতিহাসিক গল্প স্থষ্ট হয় না। ইতিহাস গল্প দুয়ের মর্যাদা রক্ষা করিয়া কলম চালনা কঠিন, সবর পারি নাই, সবর পারা যায় না। রতিহাসিক গল্পে এঁতিহাসিক চরিত্র অঙ্কন গৌণ, মুখ্য এ্তিহাসিক পরিবেশ রচন1। গ্রন্থে তাহা! কতদূর সার্থক হইয়াছে সে বিচারের ভার এ্তিহাসিকগণের উপরে।

সিপাহিবিদ্রোহ প্রসঙ্গে মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ বিদেশীগণ কতৃক লিখিত। কাজেই অনুমান অনুচিত নয় যে সমন্ত বিবরণ সিপাহিপক্ষের গ্রতিকৃলে ঝু কিয় আছে। ভারতের বিভিন্ন সামস্ত রাজ্যের দপ্তরথানায় ভারতীয়গণ কর্তৃক লিখিত সমসাময়িক বিবরণ থাকা অসম্ভব নয়। পামস্ত রাজ্য লোপ পাইবার পরে দপ্তরথানাগুলি ভারত রাষ্ট্রের আয়ত্ত হইয়াছে এখন খুজিয়া পাতিয়া বিদ্রোহ-বিবরণ আবিষার করিলে, প্রকাশ করিলে ইংরাঁজের অনুকূলে কাঁত নৌকাখান! ভারসাম্য লাভ করিলেও করিতে পারে। তথন ইতিহাস গল্প দুয়েরই চেহারায় বদল হওয়া অসস্ভব

হইবে না।

সিপাহিবিদ্রোহের কাহিনী সামান্য যেটুকু পড়িয়াছি তাহাতে কিছু শিক্ষা লাভ করিয়াছি বলিয়! মনে হয় কিন্তু তাহা প্রকাশের ক্ষেত্র গ্রশ্থ নয়। বারাস্তরে স্থুযোগ পাইলে সে কথ! বলিবার ইচ্ছা রহিল।

অধ্যাপক শ্রীগ্রতুলচন্ত্র গুপ্তের উৎসাহ অযাচিত গ্রন্থথণ এগুলি রচনার একটি প্রধান কারণ। তিনি ভাল করিপাছেন কিনা তিনিই জানেন, আমি তো! খণ হ্বীকাঁর করিয়া রাখি।

সেই শিশুটি রর

জেমি গ্রীনের আত্মকথা

কোকিল

ছিন্ন দলিল

গুলাব সিংএর পিস্তল ১, ছায়া-বাহিনী

মড রঃ

কথ চি? 8৫৪

নানাসাহেব প্রায়শ্চিত্ত রক্তের জের অভিশাপ

১৮ ৩7৭ 6৫ ৬১

৬৯

উপ্রভ্ভজ্নত্দ্র গুঞ্

বল কক্মজ্লে-_ তব গ্রন্থাগার থেকে বহু গ্রন্থ চেখে চেখে গল্পগুলি করেছি বাহির | সেই গল্লাস্কুরগুলি আকাশে মস্তক তুলি বিদ্যা মোর করিছে জাহির সিপাহি যে ক্ষেপেছিল অসি তার মেপেছিল ইংরাঁজের অসির সহিত। পুরাতন সে কাহিনী ইতিরস প্রবাহিনী মন মোর করেছে মোহিত ভারতের মাঠে বাঁটে কত নাট্য কত নাটে যুগে যুগে ঘটেছে এমন সব তার নাহি বুঝি তবু সেই স্ব খুঁজি পুঁথির পাতায় ঘোরে মন ঘটন।-উপলগুলি খু'টে খু'টে নেয় তুলি কত জন কত প্রয়োজনে মনের মতন ক'রে সাজাইয়৷ থরে থরে নবরূপে সে কাহিনী ভনে অর্থনীতিকের দল রহস্যের খোঁজে তল নিয়মের শিকল নামায়ে। টাকার শন্থুক গতি মাপিতে অভ্যন্ত অতি মনোরথ হেঁসেলে থামায়ে সবজাস্ত! রাজনীতি সর্বগ্রাসী আত্মগ্রীতি ছুই হাতে কোলে টানে ঝোল। দলনারায়ণে তুষি আছে নিজ মনে খুশী যত্রতত্র গোলে হরিবোল না শিখে পণ্ডিত তার! ব্রিগুণে মগ্ডিত তার! কিবা সর্ব গুণের পশরা বিধাতার ধরে তল বুদ্ধিতে বিচ্ছেদে চুল বিশ্বে ভাবে দলের থসড়া

ইতিহাস হেট মাথে ব'সে রয় "ূন্ধ পাতে কেব! তার পাতে দেয় দই

অপরের বাড়। ভাত তার। যে বাড়ায় হাত সোলাসে গরজ্ে হৈ হৈ

অর্থনীতি রাজনাতি “অশ্বখামা ততো! ইতি, বলে, “গজ? রেখে দেয় হাতে

দেই গজকাঠি দ্বার! বিশ্বের প্রবাহ তারা মেপে চলে দিবসে বরাতে

আকাশে দেখিলে মেঘ ছুটে আসে বাধুবেগ প্রত্যাশিয়! বৃষ্টির পশলা

সিপাহি বিদ্রোহ মাঝে (নিক্ষমায় খই ভাজে) সপিয়াছে গরম মশলা

পুরাণে কাস্ন্দি মথি, তোলে নব তত্ব অতি যত্র তত্র নূতন অছিলা

ভারতীয় কি ইংরাজ নগণ্য হয়েছে অজ আমি দেখি মানষের লীলা

যে মানুষ দেশে কালে বিশ্ববিধাতার ভালে রচিয়াছে নূতন নয়ন

তারি হাসি অশ্রু নিয়ে «মনের মাধুরী” দিয়ে বুনি আমি বাতজ্ময় বসন

দ্বুরে থেকে তবু কাছে কাঁব চিরদিন আছে কল্পনায় রচি ছায়াপথ

কাছে থেকে তবু দূরে কবি রহে স্থরপুরে ব্বপ্রে-রচ1 বাত্তব জগণ্

যখন সে হাটে ঘোরে মন-ঘুড়ি উধ্বে” ওড়ে সত] ছাড়ে ভাবের লাটাই।

কু ভুবুর্বীর মতো তুলে আনে মুক্তা যত

সে-সিন্ধুর তীর তল নাই

।৬/০

ছু'নৌকায় পা যে তার মাঝে বহে খরধার কবি-ব্রত বিষম কঠিন

লোঁকে তাই নাহি বোঝে৷ বুথ তার অর্থ খোজে অবশেষে বলে অর্থহীন

সারদাঁর টকশালে তাঁর অর্থ নেয় ভালে সযঘতনে নব চিহ্ন লিখি

পাই নি মোহর টাকা তবু ঝুলি নহে ফাকা জুটিয়াছে আধুলি সিকি

কবি নহে জলচর নহে সে যে স্থলচর খোঁজে সে যে আকাশের ডাঙ1

জালের খোটাঁর পরে বসে থাঁকে মৌন ভরে ধ্যানপ্রজ্ঞ যেন মাছরাও?

মাছটি লাঁফালে পরে ছুটে গিয়ে টু'টি ধরে পাখনায় নাহি লাগে জল।

[7:5০819350 বগলে কেউ পেষ়ালায় তোলে ঢেউ কেহ শুধু করে কোলাহল

কেহ বলে এতো সোজা চালাকি গিয়েছে বোঝা পক্ষীবেশে ওট] যে বুভোয়।।

দেখ জিভে ঝরে জল তবু লক্ষ্য অচপল আমাদের হাতের মোয়া

এই মতো কত জনে কত চিন্তা করে মনে ইতিমধ্যে বই কাঁটে উই

বাজারে করিয়া দেন৷ হ'ল গৃহসজ্জা কেন! ঝড়ে গেল ঘরের যে টুই

বইয়ের কপালখানি মনে মনে খুব জানি বুবিয়াছি খাঁন ষাট লিখে

প্রথম মুদ্রণে বটে প্রায়শঃ নির্বাণ ঘটে অভ্যাস হলনা তৰু শিখে

॥০

যাই হোক যাহ। পাই আধখানা তব ভাই ইথে নাহি হবে অগ্রতুল।

জোটে যদি পুর্ণচন্দ্ আধখান! তব, সনদ করিও না হবে মোর ভুল

২২২৩-১১-৫৫

সেই শিশুটি

কৃষ্ণদয়লবাবু তাহার বাংলো বাড়ীর বারান্দায় অধীরভাবে পায়চারি করিতেছিলেন। একবার ট্াঁড়ান, একবার চলেন, কখনে। বা একখান! বেতের চৌকির উপরে বসেন, কখনো বা বারান্দার প্রান্তে রাস্তার ধারে গিয়া াড়াইয়া শিষ দিতে থাকেন, আবার ফিরিয়া ড্রয়িং রুমের দরজার পর্দা তুলিয়া দেখেন, কিন্তু কিছুতেই ভরসা পান ন, মুখে বিরক্তির চিহ্ন ক্রমে স্ফুটতর হইয়া! ওঠে অবশেষে যখন তিনি ভিতরে যাইতে উদ্ভত হইয়াছেন, এমন সময়ে ভিতরের দিক হইতে একজন দামী আসিয়া বলিল--মেম সাহেব বললেন তিনি আজ বেড়াতে যাবেন না !

কৃষ্ণদয়ালবাবু ইংরাজি কায়দায় বলিয়া উঠিলেন--হুম্ঃ এবং হাতের ছড়িখানা চৌকির উপরে রাখিয়া দিয়া হন হন করিয়া! ভিতরে চলিয়া গেলেন

কৌতুহলী দাসী একবার ভিতরে যাইতে পা! বাড়াইয়াছিল, বোধ করি সাহমে কুলাইল না, ফিরিয়া আসিয়া! বারান্দার সম্মুখে যে বড় নিম গাছটা ছিল তাহারই ছায়াতে দাড়াইল।

দাীটির বয়স খুব বেশি হইবে তো পঁচিশ বছর, শ্যামবর্ণ, মুখে গোটা কয়েক বসন্তের দাগ, হিন্দন্থানী ধরণে রভীন শাড়ী পরিহিত, উপরির মধ্যে গায়ে একটি শেমিজ। সে বাংলা বলে বটে কিন্তু হিনদু- স্থানীর মুখের বাংলা, কিছু বাঁকা

এমন সময়ে ডুয়িং রুমের ছুটি ভিন্ন কণ্ঠে সংলাপ শ্রুত হইল, দাসী উৎকর্ণ হইয়া উঠিল।

-_বেড়াতে যাবে না কেন শুনি

--শেমিজ পরে, জুতো পায়ে দিয়ে মেম সাহেব সেজে জামার বেড়াতে যেতে ভালো লাগে না।

চাপাটি পদ্ন

_-জুতো পায়ে দিলে, শেমিজ পরলেই মেম সাহেব হ'য়ে যায়? আর তা৷ ছাড়া মেম সাহেবর! খাটো কিসে?

--খাটো। বলছি নে, মেম সাহেবের মতে। মেম সাহেব থাকুক, হিছুর মতে। হিছু থাকুক

--দেখো, তোমার অত হিছুয়ানি এখানে চলবে না

অপর ইহার কোন উত্তর করিল না। উত্তর না পাইয়া কৃষ্ণদয়ালবাবুর কণ্ঠ উত্তেজিত হইয়। উঠিল, বলিল--নাঃ তোমাকে কাশী থেকে এখানে এনে অবধি আমার শাস্তি নেই। সাহেব সুবোকে যে একদিন নিমন্ত্রণ করে খাওয়াবো, তোমার হিছুয়ানির জন্য তার উপায় নেই। এখন দেখছি চাকরির উন্নতির আশা তো৷ নেই-ই, এবারে চাকরিট। ন! যায়।

--চাঁকরি রাখতে গেলে মেম সাহেব সাজতে হবে নাকি?

একশ বার হবে। নবাবী আমলে মেয়েরা বিবি সেজেছে, এখন কোম্পানীর আমলে মেম সাহেব সাজবে। যে-সময়ের যে-রীতি

তার পর একটু থামিয়! কৃষ্ণদয়ালবাবু বলিতে আরম্ভ করিলেন,_- মনে নেই সেদিন বগি করে ফিরবার সময়ে ডানিয়েল সাহেবের সঙ্গে দেখা। তিনি কত খুশীহলেন! বললেন-_মুখার্জি, তুমি জেনান। মানো না দেখছি, বড় সন্তুষ্ট হলাম এই বলে সাহেব, মেম সাহেব তোমার সঙ্গে হ্যাণ্ড শেক করলেন।

-মনে আবার নেই। ফিরে এসে সান ক'রেও সারারাত গ! ঘিন-ঘিন ক'রে মরি

--আহা, ফিরে এসে না হয় প্লান করো, গঙ্গাজল স্পর্শ কারো, নিষেধ করছে কে?

--ভাষায় কর নি, ভাবে করেছ। আমাকে জব্দ করবার জন্যই তুমি খুষ্টান মেয়েটাকে বাড়ীতে এনে রেখেছ কেন হিছু দাসী কি মিলতো। না?

--লছমিয়া তো তোমার পুজোর ঘরে যায় না, রান্না ঘরে যায় না।

-_বাঁড়ীতে থাকে তো, উঠোনে চলাফেরা করে তো

চাপাটি পদ্ম

-হিছু দাসী কি ওদের মতো কাজ জ্ঞানে? তা ছাড়া সাহেব মেম বাড়ীতে এলে ওর! আদব কায়দ! সব জানে গুণের আদর করতে

হবে তো। --এখন সাহেবরা তোমার গুণের আদর করলে হয়।

কথাটা! যে ভাবেই কথিত হোক কৃষ্ণদয়ালবাবু অন্যভাবেই গ্রহণ করিলেন, বলিলেন--সাহেবদের মতে। গুণের আদর করতে জানে কে? আমি ওদের সঙ্গে বসে খান! খাই, বগি হাকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াই, বাড়ীতে খুষ্টান দাসী রাখি এসব জানবার পর থেকে অল্প ক'মাসের মধ্যে আমার ছুটে! পলিফট' মানে দ্বার উন্নতি হয়েছে পরেশ এখনে। সেই জুনিয়ার গ্রেডে ঘষড়াচ্ছে।

কৃষ্চদয়ালবাবু স্ত্রীকে জানিতেন বলিয়াই বুঝিলেন যে তর্কে পরাস্ত করিয়া কাজ আদায় কর! সম্ভব হইবে না, তাই কথস্বরে এবারে একটু অনুরোধমিশ্রিত আবদারের রস সঞ্চারিত করিয়া বলিলেন-_-সপ্তাহে এই রবিবারটাতেই যা বেড়াবার শ্ুযোগ। যাও লক্ষীটি চট করে কাপড় বদলে এসো; দেরী হলে সাহেবরা গির্জায় চলে যাবে, তখন কারুর সঙ্গে আর দেখা হবে না।

অন্পক্ষ নিরুত্তর, বোধ করি সে কাপড় বদলাইতেই গেল।

কৃষ্ণদয়ালবাবু বাহিরে আমিতেছিলেন, ফিরিয়া গিয়া হাকিয়া বলিলেন-_নন্দি, তোমার নৃতন জুতোজোডাটা পরতে ভূলে! না যেন, ম্যাজিস্ট্রেটের মেমের পায়ের নমুনা দেখে কিনেছি

উদ্যোগপর্ব একপ্রকার সমাধা করিয়া কৃষ্দদয়ালবাবু বারান্দায় চৌকিটার উপরে বসিলেন, অপশজ্িয়মান দাসীর উদ্দেশে বলিলেন, লছমিয়াঃ কোচম্যানকে শীগগীর গাড়ী জুতে আনতে বলে!

এই বলিয়া! তিনি একটি সিগারেট ধরাইলেন, বড়ই পরিশ্রান্ত হইয়। পড়িয়াছিলেন। তিনি কি ভাবিতেছিলেন জানি না, হয়তো ভাবিতেছিলেন, আজকার মতো! কোনক্রমে তো! জোড়াতালি দিয়া চলিয়া গেল, এমন করিয়া আর কতদিন চলিবে

কৃষ্ণদয়ালবাবু সংসারের রহস্য জানিলে বুঝিতে পারিতেন, এমনি

চাপাটি পদ্ম

করিয়াই চালাইতে হইবে কারণ মানুষের জীবন একটি অন্তহীন জোড়া- তালির মালিকা।

কৃষ্ণদয়াল মুখুজ্জে এটোয়া শহরে কমিশারিয়েট দপ্তরে কাজ করেন। প্রথম প্রবেশের সময়ে তিনি কনিষ্ঠ কেরাণীর দলে ছিলেন কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই নান। উপায়ে, যাহার কিছু কিছু নিজ মুখেই তিনি ব্যক্ত করিয়াছেন, কৃষ্ণদয়ালবাবু কমিশারিয়েট দপ্তরের দেশীয় চাকুরেদের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করিয়া বসিলেন।

“ইহার প্রথম স্ত্রী একটি পুত্র প্রদব করিয়া যখন মারা যান তখন ইহার বয়স তেইশ বছর। মাতার মৃত্যুর কারণ বলিয়া রাগ করিয়া ছেলেটিকে তাহার শ্বশুরবাড়ী রাখিয়া! কৃষ্*দয়াল প্রবল বৈরাগ্যের ঝেঁণকে একেবারে পশ্চিমে চলিয়া যান এবং ছয় মাসের মধ্যেই কাশী- বাসী সার্বভৌম মহাশয়ের পিতৃহীনা৷ পৌত্রী আনন্দময়ীকে বিবাহ করেন। পশ্চিমে কৃষ্খদয়াল চাকরির জোগাড় করিলেন এবং মনিবদের কাছে নাঁন! উপায়ে প্রতিপত্তি করিয়া লইলেন ইতিমধ্যে সার্বভৌমের মৃত্যু হইল, অন্য কোন অভিভাবক না৷ থাকাতে স্ত্রীকে নিজের কাছে আনিয়াই রাখিতে হইল। ইতিমধ্যে যখন পিপাহীদের মিউটনি বাঁধিল--»

এবারে লছমিয়ার বদলে রামদীন আদিল, বলিল, হুজুর, কোচম্যান লোক নেহি আয়! হ্যায়

--কেও ?

--মালুম নেহি হুজুর শুনতা শহরমে হল্লা। হো। রহ! হায়।

--হল্লা ! কিস্ক! হল্লা ?

--কেয়। জান্তা হুজুর সিপাহী লোক হল্প। কিয়! থা।

রামদীন সরলভাবে বলিলে সব কথাই স্বীকার করিতে পাঁরিত।

চাপাটি পদ্ম

সিপাহীদের অসন্তোষের ভাব তাহার অজ্ঞাত থাকিবার বিষয় নয়। বস্তুতঃ যাহাদের উপর সিপাহীদের ভার এবং দেশের শাসনভার ন্যস্ত ছিল তাহার! ছাড়। আর সবাই আসন্ন ঝটিকার খবর রাখিত কৃষ্দদয়ালবাবুর এসব খবর জানিবার কথা নয়, বিশেষ তাহার বাংলে। শহরের বাহিরে নদীর ধারে। তীহার বাড়ীর উত্তরে “সিভিল লাইন? বা সাহেবপাড়া, তার পরে শহর

সিপাহীদের হল্লার কথ! যতটুকু তিনি বিশ্বাম করিলেন তাহাতেই তাহার মুখ শুকাইয়া গেল। তিনি কাঠ হইয়া বসিয়। রহিলেন। মনেকক্ষণ পরে সন্বিং ফিরিয়। পাইলেন, বলিলেন--রামর্দীন, একবার খব্র নিয়ে আসতে পারো?

কিন্তু কোথায় রামদরীন। সে অনৃষ্য হইয়াছে। কিন্তু কষ্ট করিয়। খবর সংগ্রহের প্রয়োজন আর ছিল না, খবর সশবে আপিয়া পৌছিল।

হঠাৎ শহরের দিক হইতে একযোগে অনেকগুলি বন্দুকের আওয়াজ উঠিল, তার পরেই জনতার কোলাহল তারপর হইতে কোলাহল বন্দরকের আওয়াজের আর বিরাম রহিল নাঁ। কৃষ্ণদয়ালবাবুর এমন সাহস হইল না যে একটু নড়িয়৷ চড়িয়! খবর সংগ্রহ করেন, কিন্ত তার প্রয়োজনও ছিল না, বারান্দায় বঙসিয়! যাহা! দেখিতে পাইলেন কমি- শারিয়েটের হেড ক্লার্কের প্রাণ শুকাইয়। দিবার পক্ষে তাহাই যথেষ্ট

কৃষ্ণদয়া লবাবু দেখিতে পাইলেন যে, সিভিল লাইনের অন্তর্গত সাহেবদের বাংলোগুলি জলিতেছে, আর ইতস্ততঃ সিপাহীরা কেউ বা দেশী পোষাকে, কেউ বা সরকারী পোষাকে ঘোরাফিরা করিতেছে এটোয়াতে সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হুইয়া গিয়াছে।

“এটোয়াতে স্থিত নয় সংখ্যক নেটিভ ইনফ্যাটটি, বিদ্রোহ করিল (ইংরাজ) মহিলা বালক-বালিকাদের লইয়া সাহেব অফিসারগণ গোয়ালিয়রের অভিমুখে যাত্রা করিয়া বরপুরা! নামে একটি থানাতে নিরাপদে পৌছিল, তাহাদের সঙ্গে রহিল সেই সব দেশীয় সৈন্য যাহার! বিদ্রোহে যোগ দিতে অস্বীকার করিয়াছিল। এটোয়া বিধ্বস্ত হইল, -

চাপাটি পদ্ম

ট্রেজারি লুষ্টিত হইল, জেলখানা হইতে কয়েদীর! মুক্ত হইল, অরাজ- কতার বিভীষিকা আরম্ভ হইয়া গেল।”

কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়। কৃষ্ণদয়ালবাবু ব্িয়। আছেন এমন সময়ে পিছনে পদশব্ধ শুনিয়া লাফাইয়া উঠিলেন, ফিরিয়। দেখিলেন--ওঃ তুমি

গোলমাল শুনিয়া আনন্দময়ী বাহিরে আসিয়াছেন, তাহার গায়ে বেড়াইতে যাইবার কাপড়।

--কি হয়েছে ?

--কেমন করে জানব কি হয়েছে রামদীন বলছিল সিপাহীর! নাকি ক্ষেপে উঠেছে।

--সিপাহীরা ক্ষেপতে যাবে কেন?

--সে কথা সিপাহীর! জানে রামদীনও জানতে পারে।

কোথায় সে?

--ছিল তো এখানেই।

_-একবার দেখি কোথায়, এই বলিয়া আনন্দময়ী যেমনি বারান্দা হইতে -নামিতে গিয়াছেন, কৃষ্ণদয়াল লাফাইয়া গিয়। তাহার হাত ধরিলেন, না, না, ওদিকে যেও না।

--কেন এত ভয় কিসের ?

--সিপাহীরা যে ক্ষেপেছে।

--দেশী লোককে কিছু বলবে না।

--আরে বাঙালীদের ওর! ছোট সাহেব মনে করে, খুব বলবে

ভীত স্বামীর ভয়কে আর বাড়ানে। নিশ্রয়োজন মনে করিয়। আনন্দময়ী রামদীনের অনুসন্ধানে ক্ষান্ত হইলেন, তার বদলে ডাকিলেন, লছমিয়!

লছমিয়া নিকটেই কোথাঁও ছিল, আসিল, তাহার মুখ শুষ্ক, সে আনন্দময়ীর পায়ের কাছে বারান্দার উপর বসিয়া! পড়িল। আনন্দময়ী শুধাইলেন--কিছু জানিস ?

সে বাঁক! বাংলায় যাহা বলিল, তাহার মর্ম এই যে, এখান হইতে

চাপাটি পদ্ল

যাহ! দেখিয়াছে শুনিয়াছে তাহার বেশি জানে না। পরে বলিয়!। উঠিল, আমাকে আস্ত রাখবে না।

কেন?

আমি যে খুষ্টান।

_তুই খৃষ্টান হলেও দেশী লোক, তাছাড়া খৃষ্টান কি তোর গায়ে লেখা আছে ?

_আছে মা, আছে। খৃষ্টান ছাড়া আর শেমিজ পরে কে?

--তবে ছেড়ে ফেল গে।

--তোমারও তে। পরনে শেমিজ

_-আমার জন্য ভাবিস নে।

তাহাদের কথাবার্তা শুনিয়া কৃষ্ণদয়াল ভাবিলেন লছমিয়ার যুক্তি একেবারে ভিত্তিহীন নয়। তিনি ভাবিতেছিলেন চামড়ার খাতিরেই বাঘট! বাঘ, চামড়। খুলিয়া! লইলে শিয়াল কুকুরের সঙ্গে তাহার প্রভেদ কোথায়? গাঁওয়ার সিপাহীর। পোষাক দেখিয়াই যদি জাতি নির্ণয় করে তবে শেমিজ কোটপ্যাণ্ট কাহারও বাঁচিবার উপায় নাই, অতএব-_

--লছমিয়ার কথাট। নিতান্ত মন্দ নয়।

-কেন?

_গীওয়ার নিপাহী শেমিজ দেখলে ক্ষেপে উঠতে পারে।

_-তবে তো। তোমার কোট পাণ্টলুন আগে ছাড়া দরকার

_আমি তো ছাড়বোই--এই বলিয়া তিনি সবেগে ভিতরে প্রস্থান করিলেন, বলিয়া গেলেন, তোমরাও আর দেরী করো না।

দাসী ত্বরিত পদে প্রভুর দৃষ্টান্ত অন্থুদরণ করিল !

আনন্দময়ীর ও্ঠপ্রান্তে ক্ষুদ্র একটুখানি হাসির আভাস দেখ। দিল, তিনি অধব্যক্ত স্বরে বলিলেন,--ওদিকে সিপাহীরা ক্ষেপেছে এদিকে দেখছি বাঙালী বাবুও ক্ষেপে উঠল।

অন্তঃপুরে এতক্ষণে না জানি কি কাণ্ড ঘটিতেছে দেখিবার জন্য তিনি প্রস্থান করিলেন।

সে রাত্রে মুখুজ্জে পরিবারের কাহারো আহার হইল না। আর ঘুম, শুধু সে পরিবারে কেন, সে রাত্রে নিদ্রা শহরেই পদার্পণ করিল না। সারারাত্রি শহরময় যে কাণ্ড চলিল ভারতবর্ষের ইতিহাসে তাহার তুলন বিরল! সময়টা জ্যৈষ্ঠ মাস, নিদারুণ খরার সময়; যেখানে একটি অগ্রিশ্কুলিঙ্গ পড়িতেছে লঙ্কাকাণ্ড ঘটিতেছে। বাঁশের গিরা ফাটিতেছে ফটাপ; গাঢ ধোয়ার কুগুলী ভেদ করিয়া প্রকাণ্ড একটি অগ্নিময় জিহ্বা আকাশে প্রসারিত হইয়া যায়ঃ সঙ্গে সঙ্গে জনতার উল্লাসের আর একটি শব্দময় জিহ্ব। তাহার প্রতিস্পধণ করে। জানলার ধারে বসিয়া মুখুজ্জে দম্পতি দেখিতেছে অনুরে--ক্ষণে আলো! ক্ষণে আধারে ঠাহর হয় না ঠিক কত দূরে, অসংখা ছায়ামূতি রহিয়! রহিয়া ভান্বর হইয়া উঠিতেছে, দেখিতেছে অগ্নিবলয় ক্রমেই স্ফীত হইয়। চলিয়াছে, বৈশ্বানরের রক্ত-অশ্বের একি ভয়াবহ অশ্বমেধ লীলা ; শুনিতেছে ওখানে প্রচণ্ড কোলাহল, অথচ এখানে স্বপ্নময় অস্বাভাবিক এক নৈঃশব্য; তাহারা অভিভূতের ন্যায়, স্তম্তিতের হ্যায়, মুটের হ্যায় একাপনে বলিয়া প্রহর যাপিতে লাগিল। বাড়ীতে চাকর, দারোয়ান, কোচম্যান, চাপরাশিতে অনেকগুলি প্রাণী, কিন্ত কোথায় তাহার! সব ! কেবল লছমিয়া পাশের ঘরটিতে প্রভু-দম্পত্তির মতোই ভীতিবিহ্বল হইয়া বসিয় আছে। ক্রমে কালরাত্রি প্রভাত হইল সে কি প্রভাত, সে কি দৃশ্ঠ, গ্রলয়-রাত্রির অবসানে সূর্য উদিত হইলে বোধ করি জগতের এইরূপ ভগ্রদা। গকট হয় !

ভোর হুইলে আনন্দমমী ব্বামীর জন্ত চা তৈয়ারী করিয়া দিলেন! কিন্তু তার পরেই মুস্কিল আহার্য না থাকিবার মধ্যেই : চাল, ডাল, তেল, স্থুন অবশ্য আছে, কিন্তু তরিতরকারি মাছ? এদিকে চাকর দারোয়ানেরও দেখা নাই। কৃষ্ণদয়াল বিশ্মিত হইলেন, তাহারা গেল কোথায়? বিদ্রোহ, বিপ্লব ইত্যাদি সম্ন্ধে তত্বজ্ঞান থাকিলে তিনি

চাপাটি পঞ্প

বুঝিতে পারিতেন যে, ঝড় উঠিলে গাছের ফল পড়ে, ফল কুড়াইতে লোক ছুটিয়। যায়, বিদ্রোহ ঘটিলে তাহার বাস্তব ফল কুড়াইবারও তেমনি লোকের আবশ্যক হয়

অগত্যা কিছু তরিতরকারি সংগ্রহের আশায় কৃষ্জরয়ালবাবু বাহির হইলেন খাঁনিকট। আসমিয়। সিভিল লাইনের মধ্যে গ্রবেশ করিলেন কিন্তু একি দৃশ্য। দগ্ধ বাংলোগুলার তণ্ত প্রাচীর চারটা শুন্ে হাত তুলিয়া! দণ্ডায়মান, এমন সারি নারি বাংলোর প্রাচীরগুলা স্থাবর বলিয়াই বোধ করি আছে -আর কিছুই নাই। জানালা, দরজা, খাট, চৌকি, আলমারি, আসবাবপত্র সমস্ত অপস্থত | যাহা লওয়। সম্ভব হয় নাই তাহা ভগ্নাবস্থায় ছড়াছড়ি যাইতেছে অকিঞ্চিংকর জঙ্গম পদার্থ এখনো যাঁ ছু'চারটি আছে, বিদ্রোহের বাস্তব ফল লাভেচ্ছুগণ নিজেদের মধ্যে কাড়াকাড়ি করিয়া তাহ সরাইতেছে। আইন শৃঙ্খলার লেশমাত্রও কোথাও নাই। কৃঞ্খদয়ালবাবু ভাবিলেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একি পরিবর্তন। কোম্পানীর সরকারের উপরে তাহার মতে। লোকের অটল বিশ্বাস, সেই বিশ্বাস টলিয়া যাওয়াতে নিজেকে তিনি ভারকে ব্দ্রচ্যুত গ্রহের মতো বোধ করিতে লাগিলেন। তিনি আর চলিতে পারিলেন না, কেন বাহির হুইয়াছিলেন তাহাও মনে পড়িল ন? তিনি যন্ত্রবৎ ফিরিয়া আসিলেন। দগ্ধ বাংলোগুলার শুম্ত প্রাচীর- গুলার মতোই তাহার অবস্থা এখন নিরর্৫থক |

সন্ধ্যার সময় মুখুজ্জে দম্পতি ঘরের মধ্যে বসিয়া আছেন এমন সময় লছমিয়! ঢুকিল। আনন্দময়ী শুধাইলেন-_লছমিয়৷ কি খবর?

--তেওয়ারি এসেছিল

তেওয়ারি বাড়ীর অন্ততম চাঁকর।

--কাল থেকে কোথায় ছিল?

_ লছমিয়া সে ওশ্সের উত্তর দেওয়া! আবশ্যক মনে করিল না) বলিল, মাইজি, কি হয়ে গেল।

স্কেন রে?

চাপাটি পদ্স ১৩

--দানিয়েল সাহেব গুলি লেগে মরলো হিউম সাহেব আর আর গোরা লোগ, বিবিলোগ সব পলাইল।

--কার কাছে শুনলি ?

--তেওয়ারি বল্লে।

_-আর কি বল্ল?

_-বল্ল যে কোম্পামীর মুন্তুক খতম হইয়ে গেল

--এবার কার মুন্তুক হ'ল।

বাদশার. দিল্লীর বাদশার

এতক্ষণ কৃষ্জদয়ালবাবু শ্রোতামাত্র ছিলেন, কিন্তু সংলাপ রাজ- ফ্রোহিতার সীমানায় প্রবেশ করিয়াছে দেখিয়া তিনি বলিলেন--ওসব বাক্তে কথ রাখ.।

--তেওয়ারিটা গেল কোথায় ?

_-সিপাহী লোগ দিল্লী চলছে তেওয়ারিভি দিল্লী যাইছে।

কষ্দয়ালবাবু নিক্ষল আক্রোশে ভাবিতে লাগিলেন চব্বিশ ঘণ্টা আগে হইলেও তিনি তেওয়ারিকে দেখিয়া লইতেন। বহু দিনের বাঙালী সংস্কার কয়েকটি শব্দ সমন্বয়ে তাহার অন্তরে ঝঙ্কার দিয়া উঠিল--ঘত সব ছোট লোকের আস্প্ধ৭।

এমন সময়ে ঘরের বাহিরে একটি অস্ফুট আর্তনাদ উঠিল। রাত্রি তখন অতীত প্রহর

স্তিমিত-আলোক গৃহের মধ্যে চাপা গলায় মুখুজ্জে দম্পতি কথা বলিতেছিলেন। কৃষ্ণদয়াল শুধাইলেন-_-কি হ'ল?

আনন্দময়ী বলিলেন--একটি ছেলে, বেশ ফুটফুটে আর বেশ সবল।

--কিস্ত আপদ এখন রাধি কোথায়?

১১ চাপাটি পদ্ম

_ প্রসূতির অবস্থা ভালো! নয়, বোধ হয় টিকবে না।

--বলো কি, কিন্তু তার আগেই আমাদের না নিকেশ হতে হয়।

-কেন?

কেন, বোঝো না? সিপাহীর৷ খবর পেলে কি আর আমাদের আস্ত রাখবে?

--ভাগ্যি ভালো যে আজ তোমার পশ্চিম চাকর-দারোয়ানগুলো নেই, থাকলে জানাজানি হয়ে যেতো

--কিস্ত লছমিয়া৷ তো আছে !

--আরে সে যে স্ত্রীলোক স্ত্রীলোক কি স্ত্রীলোকের এমন বিপদে সাড়া না দিয়ে পারে লছমিয়াকে কাগর কোন ভয় নেই।

»-কিস্তু মেয়েটা এখানে এলো কোথা থেকে কিছু শুনেছ ?

--ওর। আইরিশম্যান না এমনি কি বলছিল।

-হ্থ্য আয়ারল্যাণ্ডের লোককে আইরিশম্যান বলে

-_-ওর স্বামী পান্রী। ওরা থাকতো শিকোয়াবাদে, অনেককাঁল সেখানে ছিল, সেখানেই হিন্ৃস্থানী শিখেছে, বেশ হিন্দী বলতে পারে।

--কি বলল? |

_শিকোয়াবাদের সিপাহীরা ক্ষেপে উঠলে ওরা স্বামী-্ত্রীতে পালিয়ে এটোয়া আসবে বলে রওনা হয়। ওদের ধারণ ছিল, এখানে গোলযোগ ঘটে নি।

--তারপরে ?

-আজ বিকালবেল। পিপাহীরা ওর স্বামীকে হত্যা করে। মেয়েটা কোন রকমে লুকিয়ে নদী বরাবর চলতে আরম্ত করে, সন্ধ্যাবেলায় আমাদের বাড়ীর কাছে এসে বসে পড়তে বাধ্য হয়, আর. চলবার শক্তি ছিল না। মেয়েটা বারবার বলছিল, তোমরা আশ্রয় না৷ দিলে পথে পড়ে মরতে হত

--এখন কি করছে ?

--ও বুঝতে পেরেছে যে, ওর আর বেশি সময় নেই, ওর স্বামী

চাঁপাটি পক্স ১২

নাকি ওকে ডাকছে। বলছে কোন রকমে ছেলেটাকে তোমরা রক্ষা করো

দাড়াও আগে আমরা রক্ষা পাই

--কে আর জানছে? আছে তো গোয়াল ঘরে।

যারা জানবার ঠিকই জানবে।

এমন সময়ে লছমিয়া ঘরে ঢুকিয়া আনন্দময়ীকে কি যেন বলিল কুষ্ণদয়াল ব্যস্তভাবে শুধাইলেন--আবার কি হল?

--যা আশঙ্কা করেছিলাম, তাই হয়েছে

কুষ্ণদয়াল চমকিয়! উঠিলেন-_-কেউ খবর পেয়েছে নাকি ?

__নী, মেয়েটা মারা গেছে।

-যাক, একটা আপদ তে! চকলো ভগবান !

কৃষ্ণদয়ালের মাতা লোকের মুখে ভগবানের নাম শুনিয়াই বুঝিতে পারা উচিত, তাহার উদ্বেগের গুরুত্ব কি বিষম |

তিনি শুধাইলেন--কিস্তু এখন মৃতদেহটা নিয়ে কি করবে ?

--যা করবার আমর! করছি তুমি চুপ করে থেকো

- ছেলেটা ?

__দ্ুমুচ্ছে। তার জন্যে তোমার ভাবন। নেই।

এই বলিয়া আনন্দময়ী লছমিয়াকে লইয়া বাহির হইয়া গেলেন

কৃষ্ণদয়াল কতক্ষণ একল ছিলেন, সে জ্ঞান বোধ করি তাহার ছিল না। যখন সম্বথিৎ হইল, কানে শুনিলেন দেয়ালের ঘড়িতে তিনটা বাজিতেছে আর চোখে দেখিলেন সম্মুখে সিক্তবসনা আনন্দময়ী

--একি কাপড় ভিজলে। কি করে ?

_লছমিয়া আর আমি ধরাধরি করে নিয়ে গিয়ে দেহটা নদীতে ভাঙিয়ে দিলাম তাই একটা ডুব দিতে হল।

»-যাঁক, বাঁচিয়েছ। এখন ছেলেটাকে নিয়ে কি করি?

-সে আমি দেখবো তুমি একটু শোও দেখি।

--আর কি শোবার সময় আছে। বাইরে এতক্ষণে বোধ করি আলো হয়েছে।

১৩ চাপাটি পদ্ম

-তবে থাকো, আমি আমি বলিয়! আনন্দময়ী প্রস্থান করিতে উদ্ধত হইলেন, তখনি আবার ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন, দেখো, কেউ যদি কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে, সব অস্বীকার করবে

যদি তল্লাসী করতে চায়?

বাধা দিও না, একে একে সব ঘরগুলে। দেখিয়ে দিয়ো

_-কিস্ত--

__কিন্ত আমি বুঝবো, তোমার চিন্তা নেই।

এই বলিয়। তিনি প্রস্থান করিলেন

আনন্দময়ীর আশঙ্কাই বুঝি সত্য হয়! কারণ ঠিক পর মুহ্ুতেই সম্মুখে একদল লোকের পদশব্দ শ্রুত হইল এবং সঙ্গে সঙ্গে একটা নাকাড়া বাজিয়! উঠিল। নাকাড়ার শব্দ থামিলে একজন নকীব তারস্বরে হাকিল--.

খাল্ক-ই-খুদ মুল্কৃ-ই-বাদশা হুকৃম্ই-সিপাহী

নকীব থামিলে দরজায় পড়িল, মুখাজিবাবু, মুখাজিবাবু। মুখাজিবাবু ঘরের মধ্যে বসিয়া পলকে প্রলয় গণিতেছিলেন, পাছে দরজ। ভাঁডিয়া ঢুকিয়া পড়ে অথচ দরজ। খুলিবারও সাহস নাই, তাই মাঝামাৰি রফা করিয়া জানল! খুলিয়। হিন্দিতে শুধাইলেন--কি বাবা সব।

অপর পক্ষ হইতে হিন্দিতে বলিল- দরজা খুলুন আমরা সংবাদ পেয়েছি যে আপনার বাড়ীতে এক ফিরিঙ্গি মেয়ে আশ্রয় নিয়েছে

কৃষ্ণদয়াল ইতস্তত কারতেছেন, দরজ। খুলিবেন কিনা, এমন সময়ে পিছন হইতে আনন্দময়ী বলিলেন, দরজ। খোলো, তারপরে চাপা গলায় বলিলেন, কোন ভয় নেই।

কৃষ্ণদয়াল দরজা খুলিয়া দিলেন, একসঙ্গে চার পাঁচজন সিপাহী ভিতরে প্রবেশ করিল। তাহাদের একজন বলিল-আমরা বাণী তল্লাসী করবে

চাপাটি পদ্প ১৪

সনিবীময়ী অগ্রসর হইয়া আসিয়া বলিলেন, বেশ তে। এসো

আনন্শ্নয়ীকে দেখিয়া সিপাহীরা সন্ত্রম প্রকাশ করিল, বলিল, মাইজি স্লোম। কিন্ত তাহাদের সন্কল্প লিল না। তখন আনন্দময়ী আগে আগে চলিলেন, পিছনে চলিল্‌ সিপাহীরা, সকলের পিছনে চলিলেন কুষ্ণদয়ালবাবু। তখন মনে মনে নিশ্চয় তিনি ভগবানের নাম করিতেছিলেন। কারণ দিপাহীদের ভাবগতিকে বুঝিয়া লইয়া- ছিলেন যে, হিউম সাহেবের প্রতাপের দিন গত হইয়াছে

আনন্দময়ী একে একে ঘরগুলি দেখা ইতেছেন।

--এই দেখো শোবার ঘর।

--এই আর একটা শোবার ঘর।

--এই ঘরে বাক্স পেঁটরা থাঁকে।

"এই যে খাবার ঘর, তার পাশেই ভাড়ার ঘর। ন।; না, বাধ! নেই ভিতরে এসে দেখো

দিপাহীর। আর ভিতরে আদিল না, বাহির হইতে উকি মারিয়া মাত্র দেখিল।

-মাইজি, ওটি কিসের ঘর?

- গোয়াল ঘর। চলো ওদিকে যাই।

_ দেখলে তো, আর বৈঠকখান। ঘর তো গোড়াতেই দেখেছ আর তো বাপু কোন ঘর নেই।

দিপাহীর। বুঝিল ভূল সংবাদ পাইয়াছিল।

একজন সিপাহী শুধাইল, মাইজি ঘরটি তো দেখালেন না।

-_ভুল হয়েছিল বাপু ওটি আমার পুজোর ঘর, ওখানে ঠাকুর আছে ; চলে দেখবে।

সিপাহীরা! জিভ কাটিয়া বলিল, শরম ক! বাৎ হ্যায় মাইজি

তারপর কৃষ্ণদয়ালের দিকে তাকাইয়1 যাহা! বলিল, তাহার মমার্থ হইতেছে--যদিচ বাঙালীবাবুরা আচার বিচার মানে না, খাস্তাখা্ বিচার করে না, তাহাদের একরকম খৃষ্টান বলিলেই হয়, তবু ঠাকুরঘরে ফিরিঙ্গিকে স্থান দিবে ইহা একেবারেই অবিশ্বাস্য

১৫ চাপাটি পদ্ধ

অতঃপর সিপাহীর! মুখুজ্ছে দম্পতিকে, বিশেষভাবে আনন্দময়ীকে সেলাম করিয়! বিদায় হইয়া গেল।

তাহারা নিরাপদজনক দূরত্বে চলিয়া গেলে কৃষ্ণদয়াল শুধাইলেন, ছেলেটাকে কি করলে ? নদীতে ভাঙিয়ে দিয়েছ নাকি ?

আনন্দময়ী বলিয়। উঠিলেন, ষাট, ষাট, অমন কথা বলতে নেই

তবে কোথায় ?

স্পদেখবে এসো

স্বামীকে সঙ্গে করিয়া লইয়া গিয়া! ঠাকুরঘরে দরজ! খুলিলেন, কৃষ্ণদয়াল দেখিতে পাইলেন, আনন্দময়ীর আরাধ্য দেবতা শ্্রীগৌরাঙ্গ- মৃতির পায়ের কাছে লছমিয়ার কোলে শুইয়। নবজাতক নিশ্চিন্ত মনে আঙ,ল চুষিতেছে !

কৃষ্দয়ালের মনে হইল, তিনি এক অসম্ভব স্বপ্ন দেখিতেছেন।

তিন চারদিন পরের ঘটনা কানপুর হইতে একদল বৃটিশ সৈন্ এটোয়াতে আসিয়া পৌছিয়াছে ;ঃ এটোয়। এখন শান্ত; আইন শৃঙ্খলা আবার প্রতিষ্টিত হইয়াছে পথের মোড়ে লাল পাগড়ি এবং ইতস্তত; লালকোর্তা দেখিয়া কৃষ্ণদয়ালের সাহম যে-পরিমাণে বাড়িয়াছে, ভগবদ্ভক্তি সেই পরিমাণে কমিয়াছে, কৃষ্দদয়াল বুঝিতে পারিয়াছেন যে, ভগবান সাময়িক মাত্র আর হিউম সাহেব বা তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিই চিরকালীন আশ্রয়

কৃষ্ণদয়ালবাবু আনন্দময়ীতে কথোপকথন হইতেছিল।

কৃষ্ণদয়াল বলিলেন-- তোমার ধর্ম তো। গেল।

আনন্দময়ী বলিলেন-__যিনি ধর্ম দিয়েছেন তিনিই বাছাকে দিয়েছেন

--এখন আচার বিচারের কি হবে?

--এবারে বিচার করে আচার করবো

- আমার বিচারে কি বলে জানো? শুধু তোমার জাত যায়নি, তোমার ঠাকুরস্দ্ধ অপবিত্র হয়েছেন।

চাপাটি পদ্ম ১৬

--উনি যে প্রেমের অবতার উনি জাত বিচার করেন না বলেই বাছাকে আশ্রয় দিয়ে রক্ষা করেছেন। নইলে সাধ্য ছিল কি সেদিন ওকে সিপাইদের হাত থেকে রক্ষ। করি।

__বেশ, বেশ, তোমার গৌরাঙ্গের পোস্ুপুত্রের নাম রেখো “গোরা”, ওতে ওর পিতৃকুলের পরিচয়টাও থেকে যাবে

--সে দেখা যাবে।

-_ দেখো, যে কথা বলতে এসেছিলাম ।॥ ওকে পাত্রীদের হাতে দিয়ে দিই।

_কেন? নইলে শেষে বিপদে পড়বো সরকারের কাছে জবাবদিহিতে পড়তে

হবে, চাকরি যাবে। এখনো সব স্বীকার করে পান্রীর হাতে দেওয়া ভালো

অচিরজাত সেই শিশুকে পান্দ্রীর হাতে দিতে হইবে এই আশঙ্কায় স্বভাবতঃ সহিষণুতাময়ী আনন্দময়ী আবেগে কাপিতে লাগিলেন, তাহার চোখ দরিয়া জল গড়াইয়া পড়িতে লাগিল, তিনি আর স্থির হইয়া থাকিতে পারিলেন না, কম্পিত কণ্ঠে বলিতে লাগিলেন_-“তোমার তো মনে আছে ছেলে হবার জন্য আমি কি-না! করেছি, যে-যা বলেছে তাই শুনেছি, কত মাছুলি, কত মন্ত্র নিয়েছি, সে তো তুমি জানই। একদিন স্বপ্নে দেখলুম যেন সাজি ভ'রে টগর ফুল নিয়ে এসে ঠাকুরের পুজো করতে বসেছি, এক সময়ে চেয়ে দেখি সাজিতে ফুল নেই, ফুলের মতো! ধবধবে একটি ছোট্ট ছেলে ; আহা, সে কি দেখেছিলুম, সে কি বলবো, আমার ছুই চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগলো, তাকে তাড়াতাড়ি কোলে তুলে নিতে যাবো আর ঘুম ভেডে গেল। তার দশদিন ন৷ যেতেই তো ওকে পেলুম, সে আমার ঠাকুরের দান, সে কি আর কারো যে আমি কাউকে ফিরিয়ে দেবো আর জন্মে তাকে গর্ভে ধারণ করে বোধ হয় অনেক কষ্ট পেয়েছিলুম, তাই আজ সে আমাকে ম। বলতে এসেছে কেন, পাদ্রীকে দিতে যাবো কেন? পান্রী কি ওর মা-বাঁপ»

১৭ চাপাটি পপ

না, ওর প্রাণরক্ষা করেছে 1.""তুমি বাই বলো, এছেলে যিনি আমাকে দিয়েছেন, তিনি স্বয়ং যদি না নেন, তবে প্রাণ গেলেও আর কাউকে নিতে দিচ্ছি নে।”

মাতৃহ্ৃদয়ের এই ন্বসমুখখ দাবীর বিরুদ্ধে কি বলিবেন ভাবিয়া ন। পাইয়া কৃষ্দয়াল নিবাক হুইয়। রহিলেন।

জেমি গ্রীনের আত্মকথ।

আজ যে কাহিনী বলিতে বপিয়াছি তাহা! জীবনীও বটে, ইতিহাসও বটে ; তারও চেয়ে কিছু বেশি, ইহ! মনোরম চিত্তাকর্ষক একটি গল্প এমন কত-শভ গল্পের ভাঙ! টুকরা হিন্দৃস্থানের মাঠময় ছড়াইয়! পড়িয়। আছে কে তাহার সন্ধান রাখে। কেহ সেগুলি সংগ্রহ করিলে, যত করিয়া বিন্যস্ত করিলে ভারতজোড়া উপন্যাসের সৌধ হইতে পারে। তেমন শিল্পসাধ্য আমার নাই, আমি ছোট টুকরা সংগ্রহ করিয়াছি এই কাহিনী-খগুটি এমনই অসাধারণ যে, ইহার উপরে কারিগরি করিবার প্রয়োজন নাই, যেমন আছে তেমনি পাঠকের সম্মুখে ধরিতেছি, ইহার অসামান্ততা নিতান্ত অনবধানীর পক্ষেও অগ্রাহা করা কঠিন।

দিপাহীবিদ্রোহের সময়। সিপাহীবিদ্রোহকে রাজনীতিকগণ নব্য ভারতের প্রথম জাতীয় চিত্ববিক্ষেপ বলিয়া বর্ণন1 করেন, সব এতিহাসিক ইহার সে দাবী সমর্থন করেন না। এঁতিহাসিকগণের মতে সিপাহী- বিদ্রোহকে সচেতন জাতীয় আন্দোলন বা গণবিক্ষোভ বল1 চলে না। বিশেষজ্ঞগণের তর্ক-বিতর্কের হুর্গম মতসঙ্কটে প্রবেশের ক্ষমতা আমার নাই, সে প্রয়োজনও বোধ করি নাই। ইহা নব্য ভারতের প্রথম জাতীয় চিত্তবিক্ষেপ না হইলেও হইতে পারে, কিন্তু ইহা যে মুঘল ভারতের শেষ রাষ্ত্ীয় চিত্তবিক্ষেপ তাহাতে সন্দেহ নাই। নিপাহী- বিদ্রোহের অধিকাংশ নেতার কার্ধকলাপ এই মতেরই সমর্থক তবে ব্যতিক্রম আছে। আজ ধাহার কথা৷ বলিতে বনিয়াছি তিনি এক ব্যতিক্রম

ইংরাজি-শিক্ষিত সম্তরান্ত বংশজাত এই যুবক সচেতন প্রয়াসে কোম্পানী রাজত্ব উৎখাত করিবার আকাজক্ষ করিয়াছিলেন এবং তাহার আকাজ্ষা আংশিক ফলিয়াছিল ইংরাজ ভারত ত্যগ করে নাই, কিন্তু সিপাহীবিদ্রোহের পরিণামে কোম্পানীর রাজত্বের সত্যই অবসান ঘটিয়াছিল। দীর্ঘ ভূমিকা নিশ্রায়োজন, ইহার আত্মকথা শুনিলে নব্য ভারতবাসী তাহাকে মুহূর্তে আপনার কথা বলিয়। বুঝিতে পারিবে

কথারস্ত

১৮৫৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাস। স্যার কলিন ক্যাম্পবেলের অধীনে বৃটিশ সৈন্য লখনৌ অধিকার করিতে চলিয়াছে। কানপুর হইতে লখনৌ চল্লিশ মাইল পথ। বৃটিশ সৈন্য কানপুরে গ্গ। পার হইয়া লখনৌ মুখে উত্তর দিকে যাত্রা করিয়াছে বৃটিশ বাহিনীর অগ্রগামী দলের ঘণাটি আলমবাগ লখনৌ শহরের উপক্, তিন মাইল দক্ষিণে কানপুর হইতে আলমবাগ পর্যস্ত ভূখণ্ড বৃটিশ পদাতিক, অশ্বারোহী, গোলন্দাজ প্রভৃতির চলাচলে ব্যস্ত। মাঝখানে উনাও শহর | এখানে একটি বড় ঘাঁটি। এখানে অনেক তাবু পড়িয়াছে, কিছুদূরে অস্থায়ী বাজার বসিয়! গিয়াছে, সৈম্তবাহিনী তাবু গাড়িলে যেমন বাজার বমে তেমনি এই কাহিনীর দুইজন নায়ক, প্রথম নায়ক ফরবেস-মিচেল, ৯৩ নম্বর হাইল্যাগ্ডার রেজিমেন্টের একজন সাজেপ্ট, প্রধান নায়ক গুবোক্ত যুবক ফরবেস- মিচেল শহরের একটি বাড়িতে আশ্রয় লইয়াছে। সন্ধ্যা আসন্ন

সে একাকী বসিয়। আপন মনে ভাবিতেছিল--

আশ্চর্য লোকটা! জেমি গ্রীন, যেমন নুপুরুষ, তেমনি সুবেশ, তেমনি সুশিক্ষিত | ওকে কেক বিক্রি করতে দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম কোন সন্ত্রান্ত বংশের ছেলে অভাবে পড়ে ফিরিঅলার কাজ করছে। কিন্তু লোকটা! বললে কি না দে ইংরেজ, নাম জেমি গ্রীন। ওর ইংরেজী ভাষ৷ আর উচ্চারণ শুনে অবিশ্বাস করা কঠিন, কোন দেনী লোককে এমন ইংরেজি বলতে শুনি নি। কেবল যে ব্যাকরণ শুদ্ধ তা নয় ভাষার মারপ্যাচ সব জানে আর উচ্চারণ ! বই পড়ে তে উচ্চারণ শেখা যায় না। প্রথমে সন্দেহের বশে জিজ্ঞাস। করলাম, যুদ্ধের সময়ে কত অভিসন্ধি নিয়ে কতলোক আসে, জিজ্ঞাসা করতেই হয়--পাশ ঠিক আছে তো? সে অমনি পকেট থেকে পাশ বের করে বল্ল, সাজেপ্ট সাহেব পরীক্ষা করে নাও, খোদ ব্রিগেডিয়ার এড্রিয়ান হোপ সাহেবের হাতের অক্গর কিনা।

চাপাটি পদ্প

তাই তো বটে। ব্রিশ্রেডিয়ার হোপ ৯৩ নম্বরের কনে, তীর হস্তাক্ষর সবাই চেনে !

কিন্তু এখানে কেন ?

কি করবে! সাহেব, যেখানে রুটি সেখানে জুটি

সবই যেন বুঝলাম কিন্তু এমন ইংরেজি শিখলে কোথায় ? তুমি তো ইংলগ্ডে যাও নি। |

সাহেব আমরা ছুপুরুষের ফৌজী মেস খানসামা আমার বাবা ছিল ৮২ নম্বর রেজিমেন্টের খানসামা, পরে আমিও কিছুদিন ছিলাম। ত'রপরে রেজিমেপ্টটা পাঞ্জাবে চলে গেলে আমি আর যাই নি।

তারপরে একটু হেসে বলল, সাহেব গ্রামার-স্কুলে আর ইংরেজি ভাষার কতটুকু শেখা বায়? ওখানে ইংরেজি সরস্বতীর তে গাউনপর। মৃতি। ভাষ। শিখতে হয় তে৷ ফৌজী মেস। দেখি সাহেব কাগজগুলে।।

বিলাতী কাগজ, এতে তোমার দরকার কি?

সাহেব, যে দেশ বাপের জন্মে দেখলাম ন। তার খবর জানতে বড্ড ইচ্ছে করে।

খবরের কাগজগুলো৷ নিয়ে উল্টে পান্টে লোকট। ষেন গোগ্রাসে গিলতে লাগলে।

এমন সময়ে ঘরের বাইরে গোলমাল শুনে তাকিয়ে দেখি জেমি গ্রীনের কেকের বাক্সবাহী চাকরটার সঙ্গে ফৌজী লোকদের বচস। আন্ত হয়েছে। :

এমন বীভৎস চেহারার লোক আগে দেখি নি। জেমি গ্রীন যেমন সুপুরুষ, লোকটা তেমনি পাঁষগাকৃতি, জুটেছে ভালো, দেবদূতের সঙ্গে শয়তান

লোকটা বলছে ফৌজী আদমিরা কেক খেয়েছে, এখন দাম দিতে নারাজ।

আমি কিছু বলবার আগেই জেমি গ্রীন বলে উঠল, ভাইসব, ঠা ঠাট্টা, কিন্ত কেক খেয়ে দাম ন! দেওয়া বোধ করি হাইল্যান্তী ঠাট্টা

সবাই হো হে! করে হেসে উঠলো। | ব্যাপারট 'তখনি মিটে পেল

২১ চাপাটি পদ্ম

'শুধোলাম, জেমি গ্রীন এই বস্তীর্টকে সংগ্রহ করলে কোন্‌ জাহান্নাম থেকে? কোন্‌ দিন তোমাকেই খুন করবে, যা চেহারা। সাহেব, জাহান্নাম কি আর দূরে কোথাও আছে। কানপুরে ওকে পেলাম। সব লোক তো এসব মেহনতী কাজে আসতে চায় না। লোকট! খুব খাটিয়ে শরীরটাঁও মজবুত, কখনো অন্ুুখ-বিস্বথ করতে দেখি নি। ওর পরিচয় কি? তো৷ বলে ইংরেজ। ইংরেজ? এমন পাক। আবলুশের রং হল কি করে? ওর মা নেটিভ খৃষ্টান বাপ? নাম বলতে পারে না, একটি তো নয়। একটি নয়? না, রেজিমেন্টের সবাই, মায় খানসাম। অবধি সেই গৌরব দাবী করে থাকে। ছু'জনেই হেসে উঠলাম নাম? মিকি। আচ্ছা সাহেব এবারে আমি 'টাটকা তাজা কেক? হাকতে হাকতে জেমি গ্রীন মিকি বিদায় হ'য়ে গেল। ফরবেস-মিচেলের চিন্তাস্থত্র মাঝে মাঝে ছিন্ন হ'য়ে যাচ্ছিল কামানের আওয়াজে উত্তর দক্ষিণ ছুই দিক থেকেই আসছিল কামানের শব্দ, সমান দূরত্ব তাই সমান অস্পষ্ট। উত্তরে আলমবাগে জেনারেল উদ্টামের কামানের ধ্বনি, আর দক্ষিণে স্যার রবার্ট নেপি- য়ারের কামানের আওয়াজ কানপুরে কিন্ত তার আজকার অভিজ্ঞতা এমনি অভিনব যে চিন্তার ছিন্ন ত্র তখনই জোড়া লেগে বাচ্ছিল, আর মে কেবলি ভাবছিল-_-আশ্চর্য লোকটা জেমি গ্রীন।

এমন সময়ে অদূরে 'গোয়েন্দা', “গোয়েন্দ' রব শুনতে পেলাম রবের সঙ্গে আজকাল খুব পরিচিত হয়েছি। যেখানে বৃটিশবাহিনী সেখানে চারদিক থেকে ঝীকে ঝাঁকে গোয়েন্দা এসে হাজির হয়, কিছু- ক্ষণের মধ্যেই কাছাকাছি যত গাছ আছে সেগুলোর ডালে তাদের মূতদেহ ঝুলতে থাকে অবশ্য আমাদের গোয়েন্দাদেরও অবস্থা হয় বুঝতে পারি ! ছুই পক্ষের মধ্যে লড়াই যে-ভাবে চলছে তাঁকে কশাইগিরি ছাড়া কি বল! যায়। ছুই পক্ষই সমান নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে, না আছে বাছ না আছে বিচার।

গোয়েন্দা! গোয়েন্দ। !

শব্দ এবার আমার ঘরের দরজায় এসে উপস্থিত হওয়ায় কৌতৃহলী হয়ে বাইরে বেরুলাম। বেরিয়ে দেখি--একি? ষে জেমি গ্রীন আর মিকি?

ষে পাহারাওয়াল৷ ওদের বেঁধে নিয়ে এসেছিল বল.লে--এরা লখনৌর বেগমের গোয়েন্দা ছু'জনেই মুসলমান কর্নেল সাহেব বিচার করেছেন, কাল ভোরে ওদের লটকিয়ে দেওয়া হবে। কর্নেল সাহেবের হুকুম আজ রাতটা ওর! আপনার জিম্মায় থাকবে

আবার মনে হ'ল আশ্চর্য গর লোকট। জেমি গ্রীন।

ওর! মুসলমান শুনবামাত্র কয়েকজন সৈম্য বলে উঠল, নিয়ে এস তো বাজার থেকে খানিকটা শুওরের মাংস, হতভাগ! ছুটোর মুখে গুজে দি, জাহান্নামে যাবার আগে বস্তটার ব্বাদ পেয়ে যাক, কখনে! তে? পায় নি।

আমি বল্লাম, সাবধান, বন্দী আমার জিম্মায়। যে ওরকম অসভ্যতা করবে তার চাপরাশ উদ্দি খসিয়ে নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করবে |

আমার কথা শুনে লোকগুলোর উৎসাহ দমে গেল; যে যার কাজে চলে গেল। জেমি গ্রীন আর মিকিকে ঘরের মধ্যে তুললাম

২৩ চাপাটি পদ্ম

অপমানের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ায় শ্রী আমাকে ধন্যবাদ দিল, বলল, সাজেন্ট সাহেব, অনেক ধন্যবাদ, খোদা তোমার ভালে। করবেন।

সে আরও বললে,--গ্রেপ্তার হ'বার পরে মনের মধ্যে অনেকখানি আগুন নিয়ে এখানে এসেছিলাম তোমার সদয় ব্যবহারে তার কতক নিভ.ল ! লালমুখো ইংরেজের কাছে এরকম ব্যবহার প্রত্যাশা করি নি। আরও একবার আর একজন ইংরেজের কথায় মনে এমনি ভাবের উদয় হয়েছিল

মে একটি ঘটনার উল্লেখ করলে।। সে বলল, কানপুরে গঙ্গার উপরে বৃটিশ যে নৌকোর পুল বানিয়েছে তার রক্ষার জন্যে নিকটবতা একটা! শিবমন্দির ধ্বংস কর! আবশ্যক হ'য়ে পড়ল। কনে'ল নেপিয়ার যখন সেই মন্দিরটা উড়িয়ে দেবার আয়োজন করেছে তখন একদল ব্রাহ্মণ এসে বলল-_হুজুর মন্দিরট। রক্ষা করুন

নেপিয়ার বলল, দেখো, তোমাদের স্পষ্ট করে একটা কথা বলি। তার আগে বলে নিই যে, মন্দিরটার উপরে আমাদের রাগের কোন কারণ নেই, তবে পুল রক্ষার জন্য ওটা ধ্বংস কর! দরকার কিন্ত তাতেও ন। হয় মন্দিরটা ছেড়ে দিতে পারি যদি তোমর! আমার প্রশ্নের মতা উত্তর দাও

নেপিয়ার বলল,--কিছুর্দিন আগে বিবিঘরে বহু ইংরাজ স্ত্রীলোক বালকবালিকাকে হত্যা কর! হয়েছে তখন তোমরা সকলেই এখানে ছিলে। তোমাদের মধ্যে এমন একজনও কি আছে যে তাদের বাঁচাবার চেষ্টা করেছিলে? এমন একজনও কি আছে যে তাদের হ'য়ে ছুটে কথা বলেছিলে, বলেছিলে অসহায় নারী শিশু হত্যা করা পাপ? যদি তোমরা বলে। যে হা আমি বলেছিলাম, সিপাহীপক্ষ শোনে নি, তাতেই আমি খুশী হ'ব--মন্দির বেঁচে যাবে। ব্রাহ্মণের দল মুখ নীচু ক'রে চলে গেল। কি আর বলবে নেপিয়ার হুকুম করলেন, বারুদে আগুন দেওয়। হ'ল--গুম, মন্দিরের ভাণ্া। ইট কাঠ আকাশে লাফিয়ে উঠল

চাপাটি পদ্স ২৪

সে বলল, আমি তখন ক্ীছেই দাড়িয়ে ছিলাম, সব শুনলাম, সব দেখলাম মনে মনে নেপিয়ারকে প্রশংসা করলাম

তারপরে আমার দিকে তাকিয়ে গ্রীন বলল,--সাজেন্ট, তোমার কথায় আজ আমার ফালির আসামীর মনটা শাস্ত হ'ল। খোদার কাছে শাস্তভাবে যেতে পারবে, গিয়ে আবার তোমার ভাল করবার জন্য আরজি করবে।

তার এই ধন্যবাদের বদলে আমি তার হাতের বাঁধন খুলে দিতে আদেশ করলাম সে খুশী হ'য়ে নমাজ পড়তে লাগল। অবশ্য পাষগুদর্শন মিকির বাঁধন খুলে দিতে সাহস করি নি, আর সে বোধ করি নমাজ পড়বার জন্তে ব্যস্তও ছিল না। সে এক পাশে মুখ গৌঁজ ক'রে বসে খুব সম্ভব মনে মনে আমার মুগুপাত করছিল

ওর নমাজ পড়া শেষ হলে আমি একজন পাহারাওয়ালাকে বাজার থেকে একজন মুনলমান হোটেলওয়ালাকে ডেকে আনতে বল্লাম। হোটেলওয়ালা এলে বল্লাম, এরা ছুজন বা খেতে চায় দাও, আমি খরচ দেবে

হোটেলওয়ালা! বল্ল, সে কি কথা সাহেব! এই ফাসির আসামীরা মুসলমান, আজ তাঁদের খানা জুগিয়ে দাম নেবো? আর আপনি ষদি দিতে পারেন তা আমরা কি দিতে পারি নে? নী, দাম দেওয়৷ চলবে না।

জেমি গ্রীন বেশ তৃপ্তির সঙ্গে খান খেয়ে আয়েস করে তামাক টেনে স্থির হয়ে বসঙ্গে আমি তাঁকে বললাম, জেমি গ্রীন, তোমাকে শিক্ষিত ভদ্রবংশজাত ব্যক্তি বলে মনে হয় তুমি গোয়েন্দাগিরি করতে গেলে কেন? নিশ্চয় এই হীন বৃত্বির সঙ্গে অনেক ক্ষোভ আর অনেক রহস্য জড়িত সরলভাবে তোমার জীবনকথ। আমাকে বলো-- আমি লিখে আমাদের দেশের কাগজে ছাপবে। |

খুব উপকার হবে সাহেব, কারণ লগুন এডিনবরায় আমার পরিচিত বন্ধুবান্ধব আছে।

লগ্তন এডিনবরায়? তোমার বন্ধু?

হ৫ চাপাটি পন্ম

বিন্ছে? আমার জীবনকথা শুনলে বিস্ময়ের নিরসন

হবে। আমার বন্ধুরা আমাকে গোয়েন্দা বলে জানবে এর চেয়ে ছুঃখের আর কি হ'তে পারে ?

তুমি কি গোয়েন্৷। নও?

সাধারণত গোয়েন্দা বলতে ষ। বোঝায় আমি ত1 নই, তবে আমি সিপাহীপক্ষের লোক বটে। আমার জীবনকথা শুনলে বুঝতে পারবে কেন আমি কোম্পানীর চাকুরে হয়েও বিদ্রোহীপক্ষে যোগ দিলাম ! বুঝতে পারবে কোন্‌ ক্ষোভ, কোন্‌ জাল আমাকে চাকুরির মায়! ছাড়িয়ে এমন আত্মনাশের পথে টেনে আন্লো। আর বুঝতে পারবে কি না জানি নে, এই জ্বালা, এই ক্ষোভ, কেবল আমার একার নয়, আমার মতো! ইংরাজি-শিক্ষিত অনেকেরই সাহেব একটা! ভবিষ্যদ্বাণী করছি, আসন্ন মুত্যুকালে বোধ করি ভবিষ্যতের জানলা দরজ। একটু ফাক হয়ে যায়, যেদিন ইংরাজি-শিক্ষিত লোকে তোমাদের প্রতি বিরূপ হবে সেদিন তোমাদের হিন্দুস্থানের মসনদ টলবে। গোয়ার সিপাহীদের সাধ্য কি সে আসন টলায়। দেশময় আজ যেকাণ্ড চলেছে হচ্ছে পুরনে। হিন্দুস্থানের অস্তিম বিকার ; ঝড় কেটে গেল; কিন্তু যে ঝড়ে তোমাদের হিন্দুস্থান ছাড়া করবে, তার কেন্দ্র হচ্ছে বেরিলি কলেজের মতো নয়া তালিম। সেদিনকার সেই ঝড়ের আকর্ষণে তামাম হিন্দৃস্থান উল যায়েঙ্গে তখন জানবে তোমাদের আসন টলল। বোধ করি সেদিন ভালে করে জানবারও অবকাশ পাবে না, সমস্ত এক লহ্মায় হুড়মুড় করে ধনে পড়বে

সে যখন এই কথাগুলো বলছিল মমি স্থির করেছিলাম আজ রাতট। জেগেই কাটাবো। প্রথমত তার কাহিনী শোনবার কৌতুহল, দ্বিতীয়ত ভ্রেগে থাকলে . চোখের উপরে রেখে তাকে খানিকটা মুক্ত রাখতে পারবো নয় তো হাত পা বেঁধে ফেলে রাখতে হয়। তাই সারারাত্রি জাগবার উদ্দেশ্যে স্থির হয়ে বসলাম বললাম, জেমি গ্রীন, আমার কৌতৃহল ক্রমেই বাড়ছে, বলো, তোমার নাম, ধাম, বংশপরিচয়, পূর্ব বৃত্তাস্ত কি?

চাঁপাঁটি পদ্ম ২৬ সে শুরু করলে

আমার নাম মহম্মদ আলি খা, রোহিলখণ্ডের এক অতি সন্ত্াস্ত মুসলমান জায়গীরদার পরিবারে আমার জন্ম আমি বেরিলি কলেজ থেকে পাশ করে বেরিয়ে রুড়কি ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজে প্রবেশ করি। সেখানকার শেষ পরীক্ষায় আমি প্রথম হলাম, দেশী ইংরেজ সব ছাত্রের চেয়ে অনেক বেশী নম্বর পেয়েছিলাম এবারে প্রশ্ন হল-- এখন কি করবো? চাঁকুরিতে ঢুকবো কি? বাবা বললেন যে, কোম্পানীর চাকুরী গ্রহণ করো তিনি বললেন, রাজত্ব কোম্পানীর, এখন মান সম্মান টাকাকড়ি কোম্পানীর চাকুরিতে। কোম্পানীর চাকুরি নাও।

তাই নিলাম, কোম্পানীর ফৌজী এঞ্জিনীয়ারিং বিভাগে প্রবেশ করলাম। সেই থেকে আমার পরীক্ষা আরম্ভ হল। ভাগ্যের কি লীলা এঞ্জিনীয়ারিং বিভাগের জমাদার নিযুক্ত হলাম আমি আর আমার উপরওয়াল। হল এক ইংরেজ, বিলেতে থাকলে যে মিস্ত্রী ছাড়। আর কিছু হতে পারতো! না। কেন এমন হল? না! আমি দেশী লোক। আমার গুণপন। যতই হোক একজন আকাট মূর্খ ইংরেজের উপরে ওঠবার আমার শক্তি হল না। আর সে লোকটার কি দস্ত আর অবহেলা! প্রতি মুহূর্তে সে বুঝিয়ে দিত যে সে ইংরেজ আর আমি নেটিভ। অল্পদিনেই আমার মন বিষাক্ত হয়ে উঠল প্রথমে তার উপরে, তারপরে কোম্পানীর ব্যবস্থার আর তার রাজত্বের উপরে ! সাহেব, আজ যে পথে আমায় দেখেছ সে পথে টেনে এনেছে কে? লোকটার মত দম্ভী ইংরেজ। কেবল আমার একলার অভিযোগ নয়--আমার মত ইংরেজী-শিক্ষিত সমস্ত ভারতীয়েরই অভিযোগ তবে সকলে হয়তো অসন্তোষ প্রকাশ করে না, হয়তো সুযোগ পায় না, হয়তো সাহস পায় না। কিন্তু তাই বলে যদি ধরে নাও যে তারা স্থখে আছে তবে মস্ত ভূল করবে। জলের চাপে বাধ কি একদিনে ভাঙে? চাপ প্রতি মুহুতে” পড়ছে, ঠিক কখন ভাঙ্গবে তা কে বলতে পারে। বিদ্রোহ সেই বাধভাঙার তাণ্ডব এইজন্যেই বলেছিলাম

২৭ চাপাটি পদ্প

ষে কোম্পানীর মসনদ টলবে যখন ইংরেজিশিক্ষিত দেশী লোক বিদ্রোহ করে বসবে কোম্পানী যদি ইংরেজি শিক্ষা না দিত দেশে কখনো বিদ্রোহ হত না! তোমাদের প্রদত্ত শিক্ষাই বিকৃত হয়ে উঠে একদিন তোমাদের দেশ ছাড়া করবে আজ কি সেই দিন এসেছে?

এই বলে কিছুক্ষণ মহম্মদ আলি খা চুপ করে বসে রইলো» তারপরে আবার আরস্ত করলো-_

বাবা সব অবস্থ। শুনে চাকুরী ছেড়ে দিতে উপদেশ দিলেন কোম্পানীর চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে চলে এলাম। আবার প্রশ্ন হল এখন কি করি? চলঙ্গাম লখনৌর দিকে, নবাব নসরুদ্দিনের সরকারে চাকুরী নেবার আশায়। লখনৌ গিয়ে শুনলাম নেপালের মন্ত্রী জঙ্গ বাহাছুর গোরখপুরে এসেছেন, তিনি শীঘ্রই বিলাত যাবেন, 'ন একজন ইংরেজি-জান। সেক্রেটারী তীর কাছে গিয়ে দরখাস্ত করলাম, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলে খুশী হয়ে আমাকে সেক্রেটারী নিষুক্ত করলেন। চললাম ইংলগ্ডে। সেখানকার একটি ঘটনায় সাহেব তুমি নিশ্চয় কৌতুহল অন্থুভব করবে। এডিনবরায় জঙ্গ বাহাছবরকে অভ্যর্থন৷ করবার যে আয়োজন হয়েছিল তার মধ্যে ছিল ৯৩ নম্বর হাইল্যাণ্ডের রেজিমেন্ট ! তখন কে জানতে। যে তাদেরই একজনের উপরে ভার পড়বে আমার জীবনের শেষ রাত্রি পাহারা দেবার।